নো ল্যান্ডস সং (তথ্যচিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নো ল্যান্ডস সং
পরিচালকআয়াত নাজাফি
প্রযোজকঅ্যান গ্রঞ্জ
গুন্টার হানফগার্ন
রুভেন রেচ
তেরেসা রেন
রচয়িতাআয়াত নাজাফি
শ্রেষ্ঠাংশেসারা নাজাফি
পারভিন নাজামি
সায়েহ সোদাফী
এলিস কেরন
জেনি চেরহালl
এমেল ম্যাথলুথি
মুক্তি
দৈর্ঘ্য৯১ মিনিট
দেশ
  • জার্মানি
  • ফ্রান্স
  • ইরান
ভাষা

নো ল্যান্ডস সং (তথ্যচিত্র) ( ফার্সি: آواز بی‌سرزمین‎‎ /Âvâz-e Bi--Sarzamin) ২০১৪ সালের ইরানী তথ্যচিত্র যা, আয়াত নাজাফি দ্বারা লিখিত এবং পরিচালিত হয়। এতে অভিনয় করেন- সারা নাজাফি, পারভিন নামাজি, সায়েহ সোদাফী, ইমেল মাথলুথি, এলিস কেরন এবং জিয়ানি কারতাল।

সারসংক্ষেপ[সম্পাদনা]

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানে নতুন শাসনব্যবস্থায় নারীদের পুরুষদের সামনে প্রকাশ্যে একাকী গান গাইতে নিষেধ করে।[১][২] [ক] এ চলচিত্রটি সেন্সরশিপ ও সাংস্কৃতিক বিধি, ধর্মীয় আদেশ এবং আইনি নিষিদ্ধতাকে অমান্য করে। ছবিতে দেখা যায়, সারা নাজাফি নামে একজন তরুণ সুরকার মহিলা একক গায়কদের জন্য একটি কনসার্ট আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়।[১][২] নাজাফি অন্যদের তালিকাভুক্ত করা শুরু করে। পারভিন নাজামি ও সায়েহ সোদাফী যোগ দেয়। নামাজি ও সোদেফি প্যারিস থেকে তিনজন মহিলা গায়ককে আমন্ত্রণ জানান। তারা হলেন এলিস ক্যারন, জেনি চেরহাল এবং ইমেল ম্যাথলুথি। তাদের অভিপ্রায় হচ্ছে তেহরানে ঘোষিত অনুষ্ঠানে একক শিল্পী হিসেবে একসাথে অভিনয় করা। যেমন ইরানি চলচ্চিত্র উৎসবে সংগীত সহযোগিতার নামে ফ্রান্স ও ইরানকে একত্রিত করে একটি "মিউজিক্যাল সংযোগ" পুনরায় চালু করার কথা বলা হয়েছিল।[১][২] তথ্যচিত্রটি প্রশ্ন উত্থাপন করে যে, নারীরা বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই শ্রোতাদের সামনে একসাথে পাশাপাশি গান গাইতে সফল হবে কিনা? তারা তাৎক্ষণিকভাবে একটি আকর্ষণীয় নাটক তৈরি করে। যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আরও প্রশ্নবিদ্ধ।[১][২][৪] বলা হয়ে থাকে যে, মুভিটি সরকারের অপপ্রচারের প্রতিষেধক ছিল। নাজাফি দাবি করেন "নারীর কণ্ঠ বিলীন হয়ে যাচ্ছে একে রক্ষা করতে হবে"।[৫]

প্রসংশা[সম্পাদনা]

নো ল্যান্ডস সং ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। কিছু পর্যালোচনা:

দ্য গার্ডিয়ান : এটি "সাহসী" চলচ্চিত্র এবং উদ্যোগ।[৬] দুর্ভাগ্যক্রমে, সরকারী নিপীড়ন থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রমাণ করেছিল যে, হার্ড লাইনাররা মহিলাদের দ্বারা পারফরম্যান্স ও ব্যাকিং গান নিষিদ্ধ করেছিল।[৬]

দ্য হলিউড রিপোর্টার : 'লেটস ডু অ্যা শো' সিনেমার চেয়ে অনেক বেশি পর্যালোচক এটিকে আকর্ষণীয়, প্রাণবন্ত এবং ক্ষমতায়নকারী মনে করেন। যদিও এর শেষ অংশ সন্দেহ জনক। ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা হল যে, মহিলারা পুরুষ শ্রোতাদের সামনে গান গাইতে পারবে না, কেননা এতে যৌন উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে।"আয়াত নাজাফির তথ্যচিত্র ইরানে একজন মহিলার গানের অধিকারের লড়াই নিয়ে তৈরী।" [৭]

মিডল ইস্ট মনিটর : ফ্যাসিং ইয়েন্ডলেস বেরিয়ার্স নামে গ্রুপটি তার প্রতিবাদী কণ্টে বিজয়ীর মতো লড়াই করে। তারা কামার-অল-মলুক ভাজিরির অনুপ্রাণিত হয়ে গান করছে। যিনি ১৯২৪ সালে হিজাব ছাড়া পুরুষদের সামনে বের হয়েছিলেন।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস : চলচ্চিত্র নির্মাণে স্পষ্টতই সাহস দেখানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলে, এ চলচিত্রটি ইন্টারন্যাশনাল নেস্টার অ্যালমেনড্রোস পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। এটি "নারীদের প্রতি ইরান সরকারের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে।[৪]

বৈচিত্র্য : চলচ্চিত্রটি একটি "গ্রিপিং ডকুমেন্টারি" এবং "একটি সূক্ষ্ম তলাযুক্ত, বহু স্তরের [চলচ্চিত্র]।" "ছবিটি প্রায় তিন বছর ধরে চলে। এটি অনুপ্রেরণামূলক, আলোকিত, দর্শক বান্ধব "বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক ছবি, সাফল্য পাওয়া উচিত।[৮]

মনোনয়ন ও পুরস্কার[সম্পাদনা]

ছবিটি এক ডজনেরও বেশি চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে, ও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। পেয়েছে অনেক পুরস্কার যেমন

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব
বছর উৎসব পুরস্কার বিজয়ী ফলাফল
২০১৪ মন্ট্রিল ওয়ার্ল্ড চলচ্চিত্র উৎসব[৯][১০] সেরা তথ্যচিত্র আয়াত নাজাফি বিজয়ী
নূর ইরানি চলচ্চিত্র উৎসব[১][১০] সেরা তথ্যচিত্র পরিচালক আয়াত নাজাফি বিজয়ী
ডক লাইপজিগ[৯][১০] তরুণ জুরি পুরস্কার আয়াত নাজাফি বিজয়ী
গিজান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব[৯][১০] সেরা ডকুমেন্টারি আয়াত নাজাফি বিজয়ী
২০১৫ মিডল ইস্ট নাউ উৎসব[১১] শ্রোতা পুরস্কার আয়াত নাজাফি বিজয়ী
প্যারিসে মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব[৯][১০] বিশেষ জুরি ফ্লিউরি মেরোগিস আয়াত নাজাফি বিজয়ী
আচতুং বার্লিন[১২] বিশেষ উল্লেখ পুরস্কার নির্মূল আয়াত নাজাফি বিজয়ী
ক্রাকো চলচ্চিত্র উৎসব[১০][১৩] স্পেশিয়াল ডু জুরি ডকফিল্ম মিউজিক উল্লেখ করুন আয়াত নাজাফি বিজয়ী
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ চলচ্চিত্র উৎসব[৫][৯][১০] নেস্টার আলমেনড্রোস মূল্য আয়াত নাজাফি বিজয়ী
Unabhängiges Filmfest-Osnabrück শান্তি চলচ্চিত্র পুরস্কার আয়াত নাজাফি বিজয়ী
ভারজিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চলচ্চিত্র উৎসব[১০] শ্রোতা পুরস্কার আয়াত নাজাফি বিজয়ী
আন্তর্জাতিক লোকসংগীত চলচ্চিত্র উৎসব - কাঠমান্ডু[১০] সেরা দীর্ঘ চলচ্চিত্র পুরস্কার আয়াত নাজাফি বিজয়ী
বীর ডুইনো আন্তর্জাতিক ডকুমেন্টারি ফিল্ম[১৪] নারী অধিকারের সেরা চলচ্চিত্র আয়াত নাজাফি বিজয়ী

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

টীকা
  1. "Since 1979, Iran has banned women from singing solo in public. The year marked the beginning of the Islamic Revolution and the start of a clampdown on Iranian society. Composer Sara Najafi and her female singer friends are determined to challenge this. They decide to organise a concert in the heart of Iran – its capital Tehran, inviting French and Tunisian female artists to take part. The concert is a celebration of the female voice – something that has been silenced for over 35 years."[৩]
উদ্ধৃতি
  1. "No Land's Song"। Noor Iranian Film Festival। ২১ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  2. "Synopsis"nolandssong.com। ১৫ জানুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১১ 
  3. Purkiss, Jessica (২০ মার্চ ২০১৫)। "No Land's Song: The women whose voice will not be silenced"Middle East Monitor। ১২ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৯, ২০১৫ 
  4. Sreedhar, Anjana (২২ জুন ২০১৫)। "Solo Act: Iranian musician fights for women's rights to perform in public"The New York Times। ২ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৬ 
  5. "No land's Song"Human Rights Watch। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ "No land's Song". Human Rights Watch. Retrieved 9 February 2016.
  6. Petridis, Alexis (১৫ মার্চ ২০১৫)। "Rocking the casbah: the gig of a lifetime that put Iranian women back on stage"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  7. DeFore, John (জুলাই ১৭, ২০১৫)। "No Land's Song': Film Review"The Hollywood Reporter। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৬ 
  8. Simon, Alissa (২০ অক্টোবর ২০১৫)। "Film Review: 'No Land's Song'"Variety। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  9. "International Film Festival Signe de Nuit"। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১২, ২০১৬ 
  10. "Unabhängige FilmFest Osnabrück" (German ভাষায়)। ২৩ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১২, ২০১৬ 
  11. "FESTIVAL WINNERS"middleastnow.it। ১৫ জানুয়ারি ২০১৫। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  12. "No Land's Song"achtungberlin.de। ১৫ জানুয়ারি ২০১৫। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  13. "Awards 2015-Krakowski"krakowfilmfestival.pl। ১৫ জানুয়ারি ২০১৫। ৪ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১১ 
  14. "Awards"nolandssong.com। ১৫ জানুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জানুয়ারি ২০১১