নিরাপদ পানির উৎস থেকে দূরে থাকা পরিবারগুলিতে পানি সরবরাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

দক্ষিণ আফ্রিকার চাইল্ড লেবার প্রোগ্রাম অফ অ্যাকশন বক্তব্য হলো, নিরাপদ পানির উৎস থেকে দূরে পরিবারগুলোর কাছে পানির বিতরণে পাইলট প্রকল্প চালানো উচিত। দ্যা সার্ভে অফ এ্যাক্টিভিটিস অফ ইয়াঙ পিপলের ১৯৯৯ সালে চালান জরিপ থেকে জানা যায় যে, দক্ষিণ আফ্রিকায় শিশুশ্রমের খুবই সাধারণ একটা অংশই হল পানি কিংবা জ্বালানী দূর থেকে বয়ে নিয়ে আসা। দক্ষিণ আফ্রিকার অংশীদারদের পরামর্শে উদ্ভূত চাইল্ড লেবার প্রোগ্রাম অফ অ্যাকশনের এই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, যেহেতু অনেক দূর থেকে পানি আনার বিষয়টি বিপদজনক আর ব্যপক, এটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করা উচিত।

চাইল্ড লেবার প্রোগ্রাম অফ অ্যাকশনের মত অনুসারে, এই কাজটিকে শুধুমাত্র শিশুশ্রম হিসেবে দেখা উচিত নয়, যেখানে শিশুশ্রম এমন একটি শব্দকে বোঝায় যা দিয়ে ধারনা হয় যে, কেউ কেউ শিশুদের দিয়ে সাধারন কিছু কাজ করিয়ে নিচ্ছে। গরীব পরিবারদের আসলে কত দূরে থেকে পানি আনতে হবে তার উপর খুব সামান্যই নিয়ন্ত্রন থাকে। এবং প্রায়ই তাদের শিশুদেরকে পানি টেনে আনতে বলা ছাড়া আর কোন বিকল্প থাকে না।

অতএব, দেশের অংশগ্রহণকারীরা বলছেন যে, পানি টেনে আনাকে বরং শিশু কাজের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা উচিত, এবং ২০০৮ সালের মধ্যে সমস্ত পরিবারে সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে পানি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

এই ধরনের পরিবারগুলিতে পানি পৌঁছে দিয়ে, কিছু শিশুদের পানি সংগ্রহে যে অতি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয় তা থেকে পরিত্রান পেতে পারে। যার ফলে স্কুলে পড়াশোনা এবং অন্যান্য ক্রিয়াকলাপের জন্য তারা আরও বেশি সময় পেতে পারে। এর ফলে এ কাজের সঙ্গে জড়িত বিপদগুলোও হ্রাস পায়।

তদনুসারে, প্রোগ্রাম টুয়ার্ডস দ্য এলিমিনেশন অব দ্য ওয়রস ফর্মস অফ চাইল্ড লেবার (টিইসিএল) প্রোগ্রামটি, চাইল্ড লেবার প্রোগ্রাম অফ অ্যাকশনের সূচনা করে। ডায়নাকন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং হিউম্যান সায়েন্সেস রিসার্চ কাউন্সিলকে পাইলট প্রকল্পগুলির গবেষণা এবং ডিজাইন শুরু করতে বলা হয় যেখানে দূরবর্তী এলাকায় জল সরবরাহস বিষয়টিও মূলধারায় যুক্ত করতে বলা হয়। সামগ্রিক প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল ঘটনাটি তদন্ত করা, পাইলট প্রকল্প ডিজাইন এবং পরিচালনা করা এবং এই ধরনের এলাকায় পানি সরবরাহে সহায়তা করার জন্য নীতি তৈরি এবং বাস্তবায়ন করা।

এই প্রকল্পটি নিম্নলিখিত পর্যায়ে পরিচালিত হয়েছিল:

পর্যায় ১: গবেষণা এবং নকশা[সম্পাদনা]

এই পাইলট প্রকল্পের গবেষণা এবং নকশা তৈরীর পর্যায়ে তিনটি প্রক্রিয়া রয়েছে:

  • সংশ্লিষ্ট পাইলট প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীদের, নীতি ও শিক্ষা সামগ্রীর পরিবেশগত নির্নয়ের মূল লক্ষ্য:
    • (ক) স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ এবং বিশ্লেষণের প্রতিবেদন;
    • (খ) প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত জরিপ এবং গুণগত গবেষণার বিশ্লেষণ সহ শিক্ষা সামগ্রীর জরিপ;
    • (গ) প্রকল্পের সম্ভাব্য বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত স্থান, যেখানে তারপর একটি শুরু করার জন্য প্রারম্ভিক অধ্যয়ন (বেসলাইন স্টাডি) করা যায়; এবং
    • ঘ) প্রকল্পটি কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে বিষয়ে প্রাথমিক পরামর্শ। এই প্রতিবেদনটি শীঘ্রই এই [লিঙ্ক] এ পাওয়া উচিত;
  • বেজলাইন অধ্যয়নঃ প্রতিটি নির্বাচিত প্রার্থী সাইটের মধ্যে, চূড়ান্ত বাছাইকৃত সাইটকে অবহিত করা এবং পাইলট প্রকল্পের নকশায় সহায়তা করা;
  • প্রতিটি নির্বাচিত সাইটে পাইলট প্রকল্পের জন্য নকশা করা।

পর্যায় ২: পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন[সম্পাদনা]

পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, ২০০৫ সালের আগস্ট মাসের কাছাকাছি সময় থেকে প্রারম্ভিক (বেসলাইন) অধ্যয়ন করা হয়েছে এমন দুটি সাইটে পাইলট প্রকল্প চলবে।

পর্যায় ৩: নীতি উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন[সম্পাদনা]

পাইলট নকশা তৈরী এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে নীতি তৈরি করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলি যেমন সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলি বিবেচনার পর গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলি গ্রহণ করার জন্য তৈরী হতে পারে, তাদের জন্য বাজেটিং সহ পরিচালন ব্যবস্থাগুলি কার্যকর করবে। এই পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প বন্ধ করা হবে, অথবা সরকারী বিভাগ, সংস্থা বা এনজিওদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানগুলি প্রকল্পের সাথে জড়িত

  • শ্রম বিভাগ, চাইল্ড লেবার প্রোগ্রাম অফ এ্যাকশনের প্রধান বিভাগ হিসাবে কাজ করবে
  • প্রাদেশিক ও স্থানীয় সরকার বিভাগ
  • পানি ও পর্যটন বিষয়ক বিভাগ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  • দক্ষিণ আফ্রিকার চাইল্ড লেবার প্রোগাম অফ এ্যাকশনের সর্বশেষ সংস্করণ এই ওয়েব পাতায় পাওয়া যেতে পারে।