নাসিমা আস-সাদাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নাসিমা আল-সাদাহ (এছাড়াও আল-সাদা বা আল-সাসা, আরবি: نسيمة السادة; জন্ম ১৩ আগস্ট ১৯৭৪)[১] একজন শিয়া মানবাধিকার বিষয়ক লেখক[২] এবং সৌদি আরবের পূর্ব প্রদেশ কাতিফের "বিশৃঙ্খল শিয়া-সংখ্যাগরিষ্ঠ" এর সক্রিয় কর্মী।[৩] তিনি অনেক বছর ধরে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কাতিফে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার, নারীঅধিকার এবং শিয়া সংখ্যালঘুদের অধিকারের জন্য প্রচারণা চালিয়েছেন।[৪] তিনি ২০১৫ সালের সৌদি আরবের পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কিন্তু তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। [৩][৫] সাদাহ এবং আরেক জন বিশিষ্ট কর্মী সমর বাদাউইকে ৩০ জুলাই, ২০১৮ তারিখে সৌদি কর্তৃপক্ষ "সক্রিয় কর্মী, আলেম এবং সাংবাদিকদের" বিরুদ্ধে ব্যাপক "সরকারী অভিযানে" গ্রেপ্তার করে।

পটভূমি[সম্পাদনা]

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর মতে, সৌদি সংবাদ ওয়েবসাইট জুহাইনার কলাম লেখক এবং ভাষ্যকার হিসেবে সাদাহ মানবাধিকার সম্পর্কে লিখেছেন- বিশেষ করে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সহ নারী অধিকার— সৌদি আরবের সৌদি জাতীয়তা আইন এবং নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে জাতিসংঘের প্রচারণা। অন্যান্য নারী অধিকার কর্মীদের মতো সাদাহও পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা এবং গাড়ি চালানোর অধিকার বিলুপ্ত করার জন্য প্রচারণা চালায়। [২][৬] একজন পুরুষ আত্মীয়ের সম্মতি ছাড়া, মহিলাদের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না।[২]

ওইমেন২ড্রাইভ[সম্পাদনা]

২০১২ সালে নাসিমা আল-সাদাহ পূর্ব প্রদেশের দাম্মাম আদালতে অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের ট্রাফিক বিভাগের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন" যা "চাকার পিছনে যাওয়ার" বৃহত্তর প্রচারণার অংশ এবং আরব বসন্তের ২০১১-১২ সৌদি আরব বিক্ষোভের সময় আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণকারী প্রচারণা চালানোর জন্য নারীদের পুনরুজ্জীবিত করে। মানাল আল-শরীফ এবং সমর বাদাউই ইতোমধ্যে একই ধরনের মামলা দায়ের করেছেন।[৭] ২০১৮ সালের জুন মাসে সৌদি আরবে মহিলাদের গাড়ি চালানোর অধিকার দেওয়া হয়েছিল।[৮]

গ্রেফতার[সম্পাদনা]

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ),[৪] ৩০ জুলাই, ২০১৮ তারিখে সাদাহ এবং সমর বাদাভি, উভয় বিশিষ্ট এক্টিভিস্টকে সৌদি কর্তৃপক্ষ "এক্টিভিস্ট, আলেম এবং সাংবাদিকদের" বিরুদ্ধে "সরকারী অভিযানে" গ্রেপ্তার করে, যার মধ্যে সৌদি পুরুষ-অভিভাবকত্ব বিরোধী প্রচারণার অনেক কর্মীও রয়েছে।[২][৯] ২০১৮ সালের মে থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি র মধ্যে, "সৌদি আরবে বেশ কয়েকজন নারী মানবাধিকার রক্ষাকারীসহ কমপক্ষে ১৫ জন মানবাধিকার কর্মীকে বিনা অভিযোগে আটক করা হয়েছে।"[১০] অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (এআই) জানিয়েছে, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নাসিমা আল-সাদাকে ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে বিনা অভিযোগে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে আল-মাবাহিথ কারাগারে নির্জন কারাগারে রাখা হয়।[১০] এর আগে তাকে রিয়াদের আল-হা'ইর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।[১]

মুক্তি[সম্পাদনা]

২০২১ সালের জুন মাসে, কারাগারের সাজা শেষ করার পর তাকে সমারন বাদউইর সাথে মুক্তি দেওয়া হয়। [১১]

বিচার[সম্পাদনা]

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, সমর বাদাভি এবং নাসিমা আল-সাদাহ সহ দশজন নারী অধিকার কর্মীর বিচার ১৩ মার্চ, ২০১৯ থেকে শুরু হয়েছে।[১২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "نسيمة السادة"ALQST Organization for Supporting Human Rights (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২১  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "alqst" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  2. "Saudi Arabia arrests two more women's rights activists: rights group"Reuters। Dubai। আগস্ট ১, ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ৬, ২০১৮ 
  3. Cynthia Gorney (১২ ডিসেম্বর ২০১৫)। "In a Historic Election, Saudi Women Cast First-Ever Ballots"National Geographic। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  4. "Saudi Arabia: Two more women human rights activists arrested in unrelenting crackdown"Amnesty International। আগস্ট ১, ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ৬, ২০১৮Nassima al-Sada has campaigned for civil and political rights, women’s rights and the rights of the Shi’a minority in the Eastern Province of Saudi Arabia for many years. She stood in municipal elections in 2015, but was banned from participating. She has also campaigned for the right of women to drive and for the end of the repressive male guardianship system. Nassima al-Sada was also subject to a travel ban prior to her detention.  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "amnesty_2018" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  5. "Two disqualified as first Saudi women begin campaign for election"The Guardian/AFP। ২৯ নভেম্বর ২০১৫। ২৯ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৫ 
  6. "On International Women's Day, CPJ highlights jailed female journalists"Committee to Protect Journalists। মার্চ ৮, ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১৫, ২০১৯ 
  7. Mezzofiore, Gianluca (১৩ নভেম্বর ২০১২)। "Saudi Arabia: Women's Activist Nassima al-Sadah Sues Interior Ministry over Female Driving Ban"International Business Times (IBT)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৯ 
  8. Forrest, Maura (আগস্ট ৭, ২০১৮)। "Who are the women at the centre of Canada's diplomatic spat with Saudi Arabia?"National Post। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১৫, ২০১৯ 
  9. "Saudi crown prince is throwing women in jail for speaking up"। Washington Post। আগস্ট ৪, ২০১৮। 
  10. "Saudi Arabia: Saudi Activist held in Solitary Confinement: Nassima al-Sada"। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  11. "Saudi Arabia releases two women activists, says rights group"Reuters। ২০২১-০৬-২৭। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৬-২৭ 
  12. "Trial begins for 10 Saudi women's rights activists as journalists are barred from court -"The Washington Post। মার্চ ১৪, ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১৫, ২০১৯