দ্য লায়ন, দ্য উইচ অ্যান্ড দ্য ওয়াড্রোব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দ্য লায়ন, দ্য উইচ অ্যান্ড দ্য ওয়াড্রোব
দ্য লায়ন, দ্য উইচ অ্যান্ড দ্য ওয়াড্রোব.jpg
বইয়ের প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ
লেখকসি. এস. লিউইস
অঙ্কনশিল্পীপউলিন বেইনিস
প্রচ্ছদ শিল্পীপউলিন বেইনিস
দেশযুক্তরাজ্য
ভাষাইংরেজি
ধারাবাহিকদ্য ক্রনিকলস্ অব নার্নিয়া
ধরনশিশু সাহিত্য, কল্প-উপন্যাস
প্রকাশকজিওফ্রি ব্লিস
প্রকাশনার তারিখ
১৬ই অক্টোবর ১৯৫০
মিডিয়া ধরনমুদ্রণ, ই-বুক
ওসিএলসি৭২০৭৩৭৬
এলসি শ্রেণীPZ8.L48 Li[১]
পরবর্তী বইপ্রিন্স ক্যাস্পিয়ান:দ্য রিটার্ন টু নার্নিয়া 

দ্য লায়ন, দ্য উইচ অ্যান্ড দ্য ওয়াড্রোব সি. এস. লিউইস রচিত শিশুদের জন্য একটি কল্প-উপন্যাস যেটি জিওফ্রি ব্লিস কর্তৃক ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয়। দ্য ক্রনিকলস্ অব নার্নিয়া ধারার এটিই প্রথম প্রকাশিত বই।[২] অন্য সবগুলোর মত এই বইটিরও অলঙ্করণ করেন পউলিন বেইনিস।[১][৩] উপন্যাসটি কথাবলা মহাকাব্যিক প্রানীদের জগত নার্নিয়াকে কেন্দ্র করে রচিত। যেখানে একশ বছর ধরে তীব্র শীতের মধ্যে হোয়াইট উইচ নামের এক জাদুকরী রাজত্ব করছে।

সারসংক্ষেপ[সম্পাদনা]

১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অন্যসব শিশুদের মত চার ভাইবোন – পিটার পেভেনসি, সুজান পেভেনসি, এডমন্ড পেভেনসি ও লুসি পেভেনসি লন্ডন ছেড়ে গ্রাম এলাকার দিকে পালাতে বাধ্য হয় এবং তারা ডিগোরি কাইর্কি নামে এক প্রফেসরের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। প্রফেসরের বাড়িতে ঘুরতে ঘুরতে লুসি একটি জাদুর আলমারির খোঁজ পায় যা নার্নিয়া নামক জাদুর দেশে সংযোগ স্থাপন করে। লুসি আলমারিতে প্রবেশ করে এবং নার্নিয়া গিয়ে পৌঁছায় যেখানে একটি ল্যাম্পপোস্টের নিচে মি. টামনাস নামে এক ফনের সাথে তার প্রথম দেখা হয়। টামনাস লুসিকে তার ঘরে চা খাওয়ার আমন্ত্রন জানায় আর লুসিও রাজি হয়ে যায়। পরে মি. টামনাস স্বীকার করে যে, সে লুসিকে আতিথেয়তা প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানায়নি বরং লুসিকে হোয়াট উইচের কাছে ধরিয়ে দেওয়াই তার আসল উদ্দ্যেশ্য ছিল। হোয়াইট উইচ নার্নিয়া শাসন করে এবং তার কারনেই নার্নিয়াতে সবসময় শীতকাল বিরাজ করে। আর সে নার্নিয়ার সকল অদিবাসীদের আদেশ দিয়েছে কোন মানুষকে নার্নিয়ায় দেখামাত্রই ধরিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু লুসির সাথে কথা বলার পর মি. টামনাসের উদ্দেশ্য বদলে যায় আর সে লুসিকে পালাতে সাহায্য করে এবং আবার সেই ল্যাম্পপোস্টের নিচে নিয়ে আসে।

লুসি আলমারি থেকে বেরিয়ে আসে এবং লক্ষ্য করে বাস্তব জগতে তার অনুপস্থিতিতে মাত্র কয়েক মূহুর্ত সময় অতিবাহিত হয়েছে। আর সে যখন তার অন্য ভাইবোনদের আলমারি আর নার্নিয়ার কথা জানায় তারা কেউই তার কথা বিশ্বাস করে না।

কিছুদিন পর লুকোচুরি খেলার সময় লুসি আবার ঐ আলমারি দিয়ে নার্নিয়ায় প্রবেশ করে। কিন্তু এবার তার ভাই এডমন্ড তাকে অনুসরন করে। সেখানে এডমন্ডের এক মহিলার সাথে দেখা হয় যে নিজেকে নার্নিয়ার রানী বলে পরিচয় দেয়। যখন মহিলাটি জানতা পারে এডমন্ড একজন মানুষ এবং তার দুই বোন এবং এক ভাই আছে তখন সে এডমন্ডকে তাদের সবাইকে তার প্রাসাদে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে আর এর পরিবর্তে সে প্রতিজ্ঞা করে এডমন্ডকে সে নিজের রাজ্যের উত্তরাধিকরী করবে। লুসি আর এডমন্ড যখন আলমারি থেকে একসাথে বেরিয়ে আসে তখন এডমন্ড বুজতে পারে লুসি যে হোয়াইট উইচের কথা শুনেছে আর তার সাথে দেখা হয়েছে তারা মুলত একজনই আর নার্নিয়াতে যাওয়ার কথা অন্য ভাইবোনদের সামনে সে অস্বিকার করে। লুসির নার্নিয়া ভ্রমণের কথা ছেলেমানুষি মনে করে পিটার আর সুজান তা প্রফেসরকে জানালে আশ্চর্যজনকভাবে সেও লুসির পক্ষ নেয়। কিন্তু শিঘ্রই আলমারিতে লুকাতে গিয়ে চার ভাইবোনের সবাই একসাথে নার্নিয়ায় প্রবেশ করে। লুসি তাদের মি. টামনাসের গুহায় নিয়ে যায় কিন্তু তারা একে এলোমেলো অবস্থায় পায় এবং জেডিসের (হোয়াইট উইচ) একটি বিজ্ঞপ্তি দেখে যাতে লেখা মানুষকে সাহায্য করার জন্য টামনাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মি. বিভার নামে এক কথা বলা জন্তু তাদের দেখতে পায় এবং তাদের বন্ধুত্ব করে। তারা বিভারের সাথে তার আবাসস্থলে যায় এবং সেখানে মিসেস বিভার তাদের একটি ভবিষ্যদ্বাণীর কথা জানায়। ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী আদমের দুই পুত্র ও ইভের দুই কন্যা কেইর প্যারাভালের চার সিংহাসনে আরোহণ করবে এবং হোয়াইট উইচের ক্ষমতা তাদের নিকট পরাভূত হবে। আসলান, মহান সিংহ এবং নার্নিয়ার ন্যায়সঙ্গত রাজা অনেকদিন এখানে অনুপস্থিত থাকার পর আবার ফিরে এসেছে। এদিকে এডমন্ড অন্যদের নজর এড়িয়ে হোয়াইট উইচের প্রাসাদে গিয়ে পৌছায়। হোয়াইট উইচ পূর্বে যাদের পাথরে রুপান্তর করেছে তাদের মূর্তিতে প্রাসাদটি ভর্তি ছিল। হোয়াইট উইচ এডমন্ডকে একা দেখে এবং আসলানের আগমনের কথা শুনে প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হযে উঠে। অন্যান্য বন্দিদের সাথে এডমন্ডকেও সে কারাগারে অটকে রাখে। এদিকে মি. বিভার যখন বুজতে পারে এডমন্ড তাদের সাথে প্রতারণা করেছে তখন সাথে সাথেই তারা আসলানের সাহায্য পাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টোন টেবিলের দিকে যাত্রা করে। তাদের যাত্রাপথে তারা লক্ষ্য করে নার্নিয়ার ওপর হোয়াইট উইচের জাদুর প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে। ফাদার ক্রিস্টমাস (যে শত বছর ধরে নার্নিয়ায় ক্রিস্টমাস দেখেনি) জাদুর উপহার বিভার ও চার ভাইবোনের নিকট আগমন করে। সে পিটারের জন্য একটি তলোয়ার, সুজানের জন্য সাহায্য প্রার্থনার জন্য শিঙ্গা আর তীর ও ধনুক এবং লুসির জন্য চাকু ও নিরাময়ি তরল উপরহার দেয়। বরফ গলে যায় এবং শীতেরও সমাপ্তি ঘটে। আসলান পেভেনসি ভাই বোনদের ও বিভারকে তার স্টোন টেবিলের নিকটবর্তী তার শিবিরে স্বাগত জানায় এবং এডমন্ডকে হোয়াইট উইচের কবল থেকে উদ্ধারের জন্য একটি দলকে আদেশ দেয়। এডমন্ডকে উদ্ধারের পর হোয়াইট উইচ আসলানের সাথে কথা বলতে চায় এবং তাকে জানায় সময়ের শুরু থেকে গভীর জাদুর নিয়মানুসারে এডমন্ডের প্রতারণার কারণে তাকে হত্যা করার অধিকার তার রয়েছে। আসলান একান্তভাবে তার সাথে বৈঠকে বসে এবং একটি সমঝোতায় আসে। বৈঠক থেকে বেরিয়ে হোয়াইট উইচ তার পূর্বের দাবি থেকে সরে আসে। ঐদিন সন্ধ্যায় আসলান গোপনে স্টোন টেবিলের দিকে যাত্রা করে। লুসি ও সুজান প্রথমে তাকে গোপনে অনুসরণ করলেও পরে সে তাদের সঙ্গে নেয় এবং তাদের বলে এরপর যা ঘটতে যাচ্ছে তাতে কোনভাবেই হস্তক্ষেপ না করে। হোয়াইট উইচের সাথে সমঝোতা অনুযায়ী এডমন্ডের জীবনের বদলে আসলান তার নিজের জীবন উত্‍সর্গ করে এবং এডমন্ডের পরিবর্তে তাকে হত্যা করা হবে। স্টোন টেবিলে পৌছানোর পর হোয়াইট উইচ আসলানকে বেঁধে ফেলতে ও তার কেশর কেটে ফেলার আদেশ দেয়। এরপর সে আসলানকে হত্যা করে এর এসবকিছু লুসি ও সুজান ঝোপের আড়াল থেকে প্রত্যক্ষ করে। আসলানকে হত্যার পর হোয়াইট উইচ বিজয় নিশ্চিত মনে করে তার সৈন্যদের নিয়ে যুদ্ধে অগ্রসর হয়। সুজান ও লুসি সারারাত আসলানের মৃতদেহের কাছেই থেকে যায়। তারা আসলানকে বাধনমুক্ত করতে চাইলে ইঁদুরেরা দড়ি কেটে তাদের সাহায্য করে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে স্টোন টেবিল ভেঙ্গে যায় আর আসলান পুনরায় জীবিত হয়ে ওঠে। সুজান ও লুসিকে সে বলে সময়ের শুরু থেকে গভীর জাদুর নিয়ম বিষয়ে হোয়াইট উইচ অজ্ঞ ছিল। নিয়ম অনুসারে প্রতারকের স্থলে নিষ্পাপ কারো মৃত্যু হলে স্টোন টেবিল ভেঙ্গে যাবে আর মৃত্যুও তার রাস্তা পরিবর্তন করবে। সুজান ও লুসিকে তার পিঠে নিয়ে আসলান হোয়াইট উইচের প্রাসাদের দিকে যাত্রা করে এবং সকল পাথরের মূর্তিকে পুনরায় জীবিত করে। এদিকে পিটার ও এডমন্ড হোয়াইট উইচের বিরুদ্ধে নার্নিয়ান সৈন্যদের নিয়ে যাত্রা করে।এডমন্ড হোয়াইট উইচের জাদুর কাঠি ভেঙ্গে তাকে আরও নার্নিয়ানকে পাথরে রুপান্তর করা থেকে প্রতিরোধ করে, কিন্তু সে নিজে খুব খারাপভাবে জখম হয়। আসলান ফিরে আসে আগে পাথর হওয়া নার্নিয়ানদের নিয়ে। নার্নিয়ানরা হোয়াইট উইচের সৈন্যদের প্রতিহত করে আর আসলান হোয়াইট উইচকে হত্যা করে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে সে যাদের পাথরে পরিণত করেছিল আসলান তাদের ওপর তার শ্বাস ফেলে ফলে তারাও পুনরায় জীবন ফিরে পায়। আর লুসি এডমন্ডকে দিয়ে শুরু করে আহত সৈন্যদের ক্ষত সারানোর জন্য তার জাদুর নিরাময়ি তরল ব্যবহার করে। পেভেনসি ভাইবোনেরা কেইর পারাভালের রাজা রানী হিসেবে সিংহাসনে আরোহন করে আর আসলান আগের মতই নিরুদ্দেশ হয়। নানিয়ায় এক স্বর্ণযুগের সূচনা হয় এবং নার্নিয়ার অধিবাসীরা তাদের নতুন রাজা রানীর অধিনে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। পনের বছর পর চার শাসক জঙ্গলে এক ইচ্ছা পূরণের হরিণকে তাড়া করে। সেখানে তারা একটি ল্যাম্পপোস্ট আবিষ্কার করে এবং অনুভব করে এটা তারা পূর্বেও কোথাও দেখেছিল। শীঘ্রই তারা হাটতে হাটতে আলমারির মধ্য দিয়ে প্রফেসরের বাড়িতে পূর্বের শিশু অবস্থায় আগের সেই পোশাক পরিহিত অবস্থায় ফিরে আসে। নার্নিয়ায় বহু বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও বাস্তব জগতে সময়ের কোন পরিবর্তনই হয়নি। পেভেনসিরা প্রফেসরকে সব কিছু জানালে সে বলে নার্নিয়ায় এটা কোন মানুষের প্রথম ভ্রমণ না আর শেষও ভ্রমণও নয়।

চরিত্র তালিকা[সম্পাদনা]

পেভেনসি ভাইবোন

লন্ডনে বড় হয় আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গ্রামের দিকে পালাতে বাধ্য হয়। তারাই গল্পের চার প্রধান চরিত্র।

  • লুসি পেভেনসি পেভেনসিদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ এবং কিছু ক্ষেত্রে গল্পের প্রাথমিক প্রধান চরিত্র। চার ভাইবোনের মধ্যে সে-ই প্রথমবার নার্নিয়ায় প্রবেশ করে। প্রথমবার লুসি তার অন্য সহদোরদের এই ব্যাপারে বললে সকলেই তাকে অবিশ্বাস করে। পিটার ও সুজান এটিকে তার শিশুসুলভ আচরন মনে করলেও এডমন্ড এ বিষয় নিয়ে তাকে উত্যক্ত করে।সে নার্নিয়ার রানী লুসি দ্য ভ্যালিয়েন্ট।
  • এডমন্ড পেভেনসি পেভেনসিদের মধ্যে দ্বিতীয় কনিষ্ঠ। অন্য ভাইবোনদের সাথে তার সম্পর্ক তেমন ভালো না। তার মধ্যে মিথ্য বলা ও তার থেকে ছোট শিশুদের উত্যক্ত করার বাজে অভ্যাস রয়েছে। নার্নিয়ায় তার সাথে প্রথমবার হোয়াইট উইচের দেখা হয়। সে এডমন্ডকে টার্কিশ ডিলাইট ও পানীয় খেতে দিয়ে তার আর মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে ফাঁদে ফেলে। ক্ষমতা ও অশেষ জাদুর খাবারের হোয়াইট উইচের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফলে সে তার ভাইবোনদের সাথে প্রতারণা করে। কিন্তু পরে সে তার সকল কর্মকান্ডের জন্য অনুতপ্ত হয়। হোয়াইট উইচকে পরাজিত করতে আসলানকে সাহায্য করার পর সে সিংহাসনে আরোহন করে এবং আসলান তার নামকরন করে এডমন্ড দ্য জাস্ট।
  • সুজান পেভেনসি ভাইবোনদের মধ্যে দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ। নার্নিয়া যাওয়ার পূর্বে সে এর অস্তিত্ব সম্পর্কে বিশ্বাস করেনি। স্টোন টেবিলে আসলানের আত্মত্যাগের সময় সুজান লুসির সাথে আসলানের যাত্রাপথে তার সঙ্গী হয় এবং দুর থেকে আসলানের নিহত হওয়া প্রত্যক্ষ করে। আসলানের সম্মানার্থে তার মৃতদেহ থেকে মুখবন্ধ সরিয়ে দেয়। আসলানের পুনারায় জীবিত হওয়ার পর সে আসলানের সাথে হোয়াইট উইচের প্রাসাদে যায় যেখানে আসলান পাথরের মূর্তিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনে এবং তাদের নিয়ে যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তন করে। সে নার্নিয়ার রানী এবং সুজান দ্য জ্যান্টল নামে পরিচিত।
  • পিটার পেভেনসি ভাইবোনদের মধ্যে বয়সে সবার বড়। সে তার সকল ভাইবোনদের খেয়াল রাখে এবং এডমন্ডকে প্রায়ই তার আচরনের জন্য তিরস্কার করে। পিটার প্রথমে নার্নিয়া সম্পর্কে লুসির কথা অবিশ্বাস করে, কিন্তু পরে তার মন পরিবর্তন করে যখন সে এটি স্বচক্ষে দেখতে পায়। সে মউগ্রিমকে হত্যা করে আর সাহসিকতার সাথে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়। সে নার্নিয়ার রাজা এবং পিটার দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট নামে পরিচিত।

গ্রামের আশ্রয়স্থল

পেভেনসিরা যে বাড়িতে আশ্রয় নেয় তার মালিক এক প্রফেসসর। চাকরেরা বাড়িটির দেখাশুনা করে এবং বহু ঐতিহাসিক প্রায়ই বাড়িটি সফরে আসে।

  • প্রফেসর একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক যে পেভেনসিদের তার নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। সে-ই সবার প্রথমে বিশ্বাস করে যে, লুসি নার্নিয়া নামে কোন জাদুর জগতে ভ্রমণ করেছে এবং সে অন্যদের যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে লুসি কিছুই বানিয়ে বলছে না। উপন্যাসটি থেকে বোঝা যায় প্রফেসর নার্নিয়া সম্পর্কে অনেক কিছুই জানে।
  • মিসেস ম্যাকরেডি প্রফেসরের জন্য তার বাড়ির দেখাশুনো করে এবং কেউ সফরে এলে তাদের বাড়িটি ঘুরিয়ে দেখায়। প্রফেসর যখন ঘরে থাকে তখন সেখানে তারই কর্তৃত্ব চলে। পেভেনসিরা তাকে ভয়ের চোখেই দেখত। শিশুদের সাথে সে খুব একটা বেশি অভ্যস্ত ছিল না। তাই পেভেনসিদের আচার আচরনের ব্যাপারে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করাসহ তাদের সাথে কঠোর আচরন করত।

নার্নিয়ানস

নার্নিয়ার জাদুর জগতে কথা বলা জন্তু ও পৌরাণিক জীবের বসবাস।

  • আসলান, এক সিংহ হল নার্নিয়া এবং অন্যসব জাদুর দেশের ন্যায়সঙ্গত রাজা। এডমন্ডকে রক্ষা করার জন্য নিজের জীবন উত্‍সর্গ করে, যদিও পরে আবার জীবিত হয়। সে নার্নিয়ার অভিকভাবক।
  • হোয়াইট উইচ নার্নিয়ার স্বঘোষিত রানী, যার জাদুর প্রভাবে নার্নিয়ায় সবসময় শীত বিরাজ করে। সে তার বিরুদ্ধাচারনকারীদের পাথরে পরিণত করে দেয়। ভবিষ্যদ্বাণী ছিল "আদমের দুই পূত্র ও ইভের দুই কন্যা (অর্থাত্‍ মানুষ দুই পুরুষ এবং মহিলা) হোয়াইট উইচকে পরাজিত করবে এবং নার্নিয়া শাসন করবে।" আর এ ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূর্ণতায় হোয়াইট উইচ ভীত ছিল। তাকে অধিকাংশ সময় হোয়াইট উইচ নামে ডাকা হলেও তার আসল নাম জেডিস। সি. এস. লিউইস পরে আরেকেটি বই লেখেন যাতে তার বিস্তারিত পরিচয় তুলে ধরা হয়।
  • টামনাস, একজন ফন, নার্নিয়ায় যার সাথে লুসির প্রথম দেখা হয় (লুসি তাকে মিস্টার টামনাস বলে ডাকে)। কোন মানুষকে দেখামাত্র ধরিয়ে দেওয়ার জন্য হোয়াইট উইচের আদেল উপেক্ষা করে লুসির সাথে সে বন্ধুত্ব করে এবং তাকে পালাতে সাহায্য করে। কিন্তু এডমন্ড যখন হোয়াইট উইচকে বলে দেয় যে, সে লুসিকে কোন এক ফনের কথা বলতে শুনেছে তখন হোয়াইট উইচ টামনাসকে গ্রেফতার করে আর তাকে পাথরে পরিণত করে। কিন্তু পরে আসলান তাকে পুনরায় জীবিত করে।
  • মিস্টার এবং মিসেস বিভার, তারা দুজনই টামনাসের বন্ধু। তারা পিটার, সুজান ও লুসিকে আতিথেয়তা প্রদান করে ও আসলানের কাছে নিয়ে যায়।
  • এক বামুণ হোয়াইট উইচের অনুগত ছিল এবং তার হয়ে কাজ করত। বইয়ে তার কোন নাম উল্লেখ করা না হলেও এই উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে তাকে গিনাব্রিক নামে ডাকা হয়, যেখানে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যায়।
  • মউগ্রিম (অধিকাংশ আমেরিকান সংস্করণে ফেনরিস আল্প নামে পরিচিত) এক কথা বলা নেকড়ে যে হোয়াইট উইচের গুপ্ত পুলিশের প্রধান হিসেবে কাজ করে। হোয়াইট উইচ তাকে পেভেনসিদের আটক করতে পাঠায়। সে সুজানকে হত্য করার চেষ্টা করলে সুজান পালাতে সমর্থ হয় আর শিঙ্গায় ফুঁক দিলে পিটার সাহায্যের জন্য আসে আর মউগ্রিমকে হত্যা করে।
  • রাম্বলবাফিন এক দানব যাকে হোয়াইট উইচ পাথরে পরিণত করে এবং সে আসলান কর্তৃক পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়। সে হোয়াইট উইচের প্রাসাদের দরজা ভাঙ্গে আর আসলানের উদ্ধারকৃত নার্নিয়ানদের বের হতে সাহায্য করে এবং হোয়াইট উইচের অনেক সৈন্যকে হত্যা করে।

রচনা[সম্পাদনা]

দ্য লায়ন, দ্য উইচ অ্যান্ড দ্য ওয়াড্রোব উপন্যাস রচনার অনুপ্রেরণা হিসেবে লিউইস "ইট অল বিগান উইথ এ পিকচার" নামে একটি প্রবন্ধের কথা উল্লেখ করেন:[৪]

ইটস অল বিগান উইথ এ পিকচার প্রবন্ধে এক ফনকে বরফাবৃত জঙ্গলে ছাতা ও ব্যাগ বহন করতে দেখা যায়। ষোল বছর বয়স থেকেই এই ছবিটি আমার মনে গেঁথে যায়। আমার বয়স যখন চল্লিশ তখন একদিন নিজেকে বললাম: 'এটা নিয়ে একটা গল্প তৈরী করা যাক।'

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাত্‍সীদের লন্ডনে বোমা হামলার কারণে অনেক শিশুই লন্ডন ছেড়ে গ্রাম এলাকার দিকে পালাতে বাধ্য হয়। ১৯৩৯ সালের ২রা সেপ্টেম্বর মার্গারেট, মেরি ও ক্যাথরীন নামে তিন স্কুল পড়ুয়া শিশু[৫][৬] অক্সফোর্ড শহরের কেন্দ্র থেকে তিন মাইল পূর্বে রাইসিংহার্স্ট এর দ্য কিল্ন্স এ লিউইস এর বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করে। লিউইস পরে বলেন তাদের সাথে বসবাসের এই অভিজ্ঞতা তাকে এক নতুন উপলব্ধি দেয় এবং সেপ্টম্বরের শেষের দিকে [৭] তিনি শিশুদের জন্য একটি নতুন গল্প লিখতে শুরু করেন যা অন্য একটি পান্ডুলিপির অংশ হিসেবে টিকে রয়েছে:

এই বইটি অ্যান, মার্টিন, রোজ এবং পিটার নামে চার শিশুকে নিয়ে। এখানে সর্বকনিষ্ঠ পিটারই প্রধান চরিত্র। বায়ুপথে হামলার ফলে তারা সকলেই লন্ডন ছাড়তে বাধ্য হয়। তাদের বাবা যুদ্ধে চলে গিয়েছিল এবং মায়ের যুদ্ধে কিছু কাজ ছিল। চার শিশুকে তাদের মায়ের পরিচিত এক প্রফেসরের বাড়িতে থাকতে পাঠানো হয়, যে খুব বৃদ্ধ এবং গ্রামে একাই বাস করে।[৮]

লিউইস গল্পটি কতটুকু লেখা সম্পন্ন করেছিলেন তা অজানাই থেকে যায়। রজার ল্যানসিলিন গ্রীন মনে করেন লিউইস হয়তো গল্পটি লেখা সম্পন্ন করেছিলেন। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে শিশুদের গল্প সম্পর্কে লেখা এক চিঠিতে লিউইস বলেন: "আমি নিজে একটি চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কিন্তু বন্ধুদের সার্বভৌম রায়ের কারণে আমি এটি নষ্ট করে ফেলি যা খুবই খারাপ।"[৯]

কাহিনীতে আলমারির মধ্যে দিয়ে নতুন জগতে প্রবেশ করার পরিকল্পনা লিউইসের মাথায় আসে ১৯৪৬ সালে, যখন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The lion, the witch and the wardrobe; a story for children" (first edition). Library of Congress Catalog Record.
    "The lion, the witch and the wardrobe; a story for children" (first U.S. edition). LCC record. Retrieved 2012-12-09.
  2. "Lewis, C. S. (Clive Staples)1898–1963". WorldCat. Retrieved 2012-12-09
  3. "Bibliography: The Lion, the Witch and the Wardrobe". ISFDB. Retrieved 2012-12-09.
  4. Lewis (1960). "It All Began with a Picture". Radio Times. 15 July 1960. In Hooper (1982), p. 53.
  5. Ford, p. 106.
  6. "Of Other Worlds", by C. S. Lewis". Huntington. Retrieved 2014-12-24.[পূর্ণ তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে
  7. Edwards, Owen Dudley (2007). British Children's Fiction in the Second World War. p. 129. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৪৮৬-১৬৫০-৩.
  8. Green, Roger Lancelyn, and Walter Hooper (2002). C. S. Lewis: A Biography. Fully Revised and Expanded Edition. p. 303. আইএসবিএন ০-০০-৭১৫৭১৪-২.
  9. Lewis (2004 [1947]). Collected Letters: Volume 2 (1931-1949). p. 802. আইএসবিএন ০-০৬-০৭২৭৬৪-০. Letter to E. L. Baxter dated 10 September 1947.