টিন টাইটান্স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
টিন টাইটান্স
TeenTitansLogo.jpg
ধরণ অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার
সুপারহিরো
কমেডি-ড্রামা
নির্মাতা গ্লেন মুরাকামি
উন্নয়নকারী ডেভিড স্ল্যাক
কণ্ঠ প্রদানকারী
  • গ্রেগ সাইপস
  • স্কট মেনভিল
  • কারি পেইটন
  • তারা স্ট্রং
  • হিনডেন ওয়ালশ
কণ্ঠ প্রদানকারী পাফি আমিয়ুমি
উদ্বোধনী থিম "টিন টাইটান্স থিম", পরিবেশনায় পাফি আমিয়ুমি
কম্পোজার
  • ক্রিস্টোফার কার্টার
  • মাইকেল ম্যাককুশন
  • লোলিতা রিটম্যানিস
প্রস্তুতকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র
মূল ভাষা ইংরেজি
মৌসুমের সংখ্যা
পর্বের সংখ্যা ৬৫ (+ ১ অনলাইন)
নির্মাণ
নির্বাহী প্রযোজক
  • স্যান্ডার শোয়ার্ৎজ
  • কার্টুন নেটওয়ার্কের জন্য:
  • স্যাম রেজিস্টার
  • ট্র্যাম উইগজেল
  • টড কেসি
প্রযোজক
  • গ্লেন মুরাকামি
  • লিন্ডা এম. স্টাইনার
  • ব্রুস টিম (মৌসুম ১-২)
দৈর্ঘ্য ২১-২৩ মিনিট
প্রোডাকশন কোম্পানি ডিসি এন্টারটেইনমেন্ট
ওয়ার্নার ব্রাদার্স অ্যানিমেশন
পরিবেশক ওয়ার্নার ব্রাদার্স টেলিভিশন
সম্প্রচার
মূল চ্যানেল কার্টুন নেটওয়ার্ক
দ্য ডব্লিউবি
ছবির ফরম্যাট
  • ১০৮০আই (এইচডিটিভি)
মূল প্রদর্শনী জুলাই ১৯, ২০০৩ (২০০৩-০৭-১৯) – সেপ্টেম্বর ১৫, ২০০৬ (2006-09-15)
ক্রমধারা
উত্তরসূরী টিন টাইটান্স গ!
বহিঃসংযোগ
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

টিন টাইটান্স (ইংরেজি: Teen Titans) একটি মার্কিন অ্যানিমেটেড টেলিভিশন সিরিজ। এ সিরিজটির নির্মাতা গ্লেন মুরাকামি এবং এ শোটি একই নামের ডিসি কমিকসের চরিত্রসমূহের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি প্রধানত ১৯৮০-এর দশকের প্রথম দিকে মার্ভ উলফম্যান এবং জর্জ পেরেসের নিউ টিন টাইটান্স কমিক বই সিরিজের কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।

টিন টাইটান্স ২০০৩ সালের ১৯ জুলাই কার্টুন নেটওয়ার্কে প্রথম প্রচারিত হয়। এটি কিডস ডব্লিউবিতেও প্রচারিত হয়। প্রাথমিকভাবে শুধু চারটি মৌসুম নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু সিরিজটির জনপ্রিয়তার কারণে কার্টুন নেটওয়ার্ক পঞ্চম আরেকটি মৌসুম নির্মাণের নির্দেশ দেয়। শোটির শেষ আধঘণ্টার পর্ব "থিংস চেঞ্জ" প্রচারিত হয় ২০০৬ সালের ১৬ জানুয়ারি। পরবর্তীতে টিন টাইটান্স: ট্রাবল ইন টোকিও নামে একটি টিভি চলচ্চিত্র নির্মিত হয় যা প্রচারিত হয় ২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। এ চলচ্চিত্রটি দ্বারা সিরিজটি শেষ করা হয়।

টিন টাইটান্স কার্টুন নেটওয়ার্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রশংসিত সিরিজগুলোর মধ্যে অন্যতম। সিরিজটি তার চরিত্রের গঠন এবং গুরুগম্ভীর ধাঁচের জন্য পরিচিত। সিরিজটি তার চলাকালীন সময়ে তিনটি অ্যানি পুরস্কার ও একটি মোশন পিকচার সাউন্ড এডিটরস পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। সিরিজটির স্পিন-অফ মিডিয়ার মধ্যে আছে কমিক, ডিভিডি, ভিডিও গেম, মিউজিক অ্যালবাম এবং সংগ্রহযোগ্য খেলনা। কার্টুন নেটওয়ার্কের সহযোগী চ্যানেল বুমেরাং-এ সিরিজটি পুনরায় প্রচারিত হয়েছে। ২০১৩ সালে শোটির একটি রিবুট নির্মিত হয়, যার নাম টিন টাইটান্স গ!

মূল ধারণা[সম্পাদনা]

চরিত্রসমূহ[সম্পাদনা]

টিন টাইটানরা বাম হতে ডানে:
সাইবর্গ, রবিন, বিস্ট বয়, স্টারফায়ার এবং রাবেন

টিন টাইটান্স-এর কাহিনী গড়ে উঠেছে একটি সুপারহিরো দলের প্রধান পাঁচজন সদস্যকে নিয়ে: রবিন, টিন টাইটানদের বুদ্ধিমান ও যোগ্য দলনেতা; স্টারফায়ার, তামারান গ্রহ থেকে আগত বিচিত্র ও কৌতূহলী রাজকন্যা; সাইবর্গ , একজন অর্ধেক মানব/অর্ধেক যন্ত্রমানব যে তার শক্তি ও প্রযুক্তিগত কৌশলের জন্য পরিচিত; রাবেন, সমান্তরাল জগৎ অ্যাজারাথ থেকে আসা একজন কাঠখোট্টা মেয়ে, যে অন্ধকার শক্তি ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ব্যবহার করে; এবং বিস্ট বয়, একজন কম বুদ্ধিসম্পন্ন হাস্যরসাত্মক চরিত্র যে নানা ধরনের প্রাণীতে রূপান্তরিত হতে পারে। তারা বাস করে টাইটান্স টাওয়ার-এ, যেটি একটি বড় 'T' আকৃতির স্থাপনা। টাওয়ারটিতে বসবাসের জন্য স্থান, একটি কমান্ড সেন্টার এবং নানারকম প্রশিক্ষণ সুবিধা রয়েছে। টাওয়ারটি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত কাল্পনিক জাম্প সিটিতে একটি দ্বীপের ওপর স্থাপিত।

দলটির কাজ শহরের সবরকম অপরাধ এবং অনৈতিক কার্যক্রম দমন করা। এর সাথে তাদের নিজেদের কৈশোর, পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সীমাবদ্ধতাও সামলে চলতে হয় তাদেরকে। তাদের প্রধান শত্রু স্লেড হলো ডিসি কমিক্সের ভিলেন ডেথস্ট্রোক-এর একটি নতুন রূপ। পুরো সিরিজে দলটি বেশ কিছু সহযোগী ও বন্ধুর সান্নিধ্য লাভ করে; যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রথম মৌসুমে আকুয়াল্যাড এবং দ্বিতীয় মৌসুমে টেরা (যে ঐ মৌসুমের কাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ)। অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে আছে দ্বিতীয় মৌসুমে স্পিডি, হটস্পট এবং উইল্ডেবিস্ট ও তৃতীয় মৌসুমে বাম্বলবি এবং মাস ই মেনোস (যারা আকুয়াল্যাড, স্পিডি ও বাম্বলবি-এর সাথে একত্রে 'টাইটান্স ইস্ট' গঠন করে)। পঞ্চম মৌসুমে ডিসি ইউনিভার্সের অন্যান্য হিরোদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অনেকে ব্রাদারহুড অব ইভিল-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে টাইটানদের সাথে যোগ দেয়।

গোপন পরিচয়[সম্পাদনা]

বেশিরভাগ সুপারহিরো টেলিভিশন সিরিজ হতে টিন টাইটান্স ব্যতিক্রম, কারণ এতে চরিত্রগুলো সবসময় তাদের সুপারহিরো পরিচয় ধরে রাখে। তাদের অন্য কোনও গোপন পরিচয়ের আভাস খুব কমই দেয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে কমিকে রাবেন, সাইবর্গ, স্টারফায়ার, বিস্ট বয় এবং টেরার কোনও গোপন পরিচয় নেই (স্টারফায়ার নামটি তার তামারানিয়ান নামের অনুবাদ, সাইবর্গের আসল নাম সাধারণ মানুষের জানা, বিস্ট বয়ের প্রাকৃতিক রূপ সহজেই বুঝে ফেলা যায় এমন, এবং রাবেন ও টেরার ইচ্ছাকৃতভাবেই কোনও আলাদা পরিচয় গ্রহণ না করা)।

টিন টাইটানদের দলনেতা রবিনের আসল পরিচয় কী, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। সিরিজটিতে তার আসল পরিচয় ডিক গ্রেসন হওয়ার বেশ কিছু আভাস দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে আছে "ফ্র্যাকচারড" পর্বে রবিনের ভিন্ন জগতের প্রতিরূপ ল্যারি, যার আসল নাম নসইয়ার্গ কিড (Nosyarg Kcid, ইংরেজি "Dick Grayson" নামটির বানান উল্টে লেখা); "হাউ লং ইজ ফরএভার?" পর্বে দেখানো ভবিষ্যত রবিনের নাইটউইং পরিচয় গ্রহণ করা (যেটি মূল ডিসি কাহিনীতে গ্রেসনের গৃহীত পরিচয়); এবং "হন্টেড" পর্বে রবিনের স্মৃতিতে রাবেন প্রবেশ করার সময় দেখানো দু'জন দড়াবাজিকরের সার্কাসের দড়ি দেখে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য (গ্রেসনের অ্যাক্রোব্যাট বাবা-মার মৃত্যুই তার রবিন হওয়ার মূল কারণ)। ব্যাটম্যান-এর কাহিনীর সাথে অন্যান্য সম্পর্কের মধ্যে আছে "দি অ্যাপ্রেন্টিস, পার্ট টু" পর্বের দু'টি প্রসঙ্গ, যখন স্লেড রবিনকে বলেন যে তিনি রবিনের "বাবার মতো হতে [পারবেন]", যার উত্তরে রবিন বলে "আমার একজন বাবা আছে" (যার পরেই উড়ন্ত বাদুড়ের দৃশ্য দেখানো হয়) এবং ওয়েন এন্টারপ্রাইজেস-এর নাম লেখা একটি দালানের ছাদে একটি যুদ্ধের দৃশ্য।

— গ্লেন মুরাকামি, ড্রইং ইনস্পিরেশন: অ্যান ইন্টারভিউ উইথ গ্লেন মুরাকামি, এপ্রিল ২০০৪[১]

চরিত্রগুলোর গোপন পরিচয় উল্লেখ না করার নীতি পঞ্চম মৌসুমে ভেঙে ফেলা হয়, যখন ডুম প্যাট্রল-এর সদস্যরা বিস্ট বয়কে তার আসল নাম 'গারফিল্ড' বলে সম্বোধন করে (যদিও টাইটানরা তার পরেও তাকে বিস্ট বয় নামেই ডাকে)। "গো" পর্বে টাইটানরা বিস্ট বয়কে তার মুখোশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে এবং সে বলে যে সেটি তার আসল পরিচয় ঢেকে রাখে, কিন্তু রাবেন বলে যে সবুজ ত্বক, চোখা কান ও দাঁত থাকার কারণে তার "ঢেকে রাখার মতো কোনও গোপন রহস্য নেই"।

পর্বসমূহ[সম্পাদনা]

প্রতিটি মৌসুমেই একটি নির্দিষ্ট কাহিনীধারা রয়েছে যা দলের নির্দিষ্ট একজন টাইটানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। স্টারফায়ার প্রধান দলের একমাত্র সদস্য যাকে কেন্দ্র করে কোনও মৌসুম তৈরি হয়নি।

মৌসুম /
মৌসুমের কেন্দ্রীয় টাইটান
পর্বসংখ্যা প্রথম প্রচার ডিভিডি মুক্তির তারিখ
রবিন ১৩ ২০০৩ ফেব্রুয়ারি ৭, ২০০৬[২]
টেরা ১৩ ২০০৪ সেপ্টেম্বর ১২, ২০০৬[২]
সাইবর্গ ১৩ ২০০৪ এপ্রিল ১০, ২০০৭[৩]
রাবেন ১৩ ২০০৫ নভেম্বর ২০, ২০০৭[৪]
বিস্ট বয় ১৩ ২০০৫-২০০৬ জুলাই ২২, ২০০৮[৫]
চলচ্চিত্র স্টারফায়ার ২০০৬ ফেব্রুয়ারি ৬, ২০০৭

বাতিলকরণ[সম্পাদনা]

২০০৫ সালের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে টাইটান্সটাওয়ার.কম বিবৃত করে যে ষষ্ঠ মৌসুম নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, এবং ভক্তদেরকে বলা হয় এ শোটির প্রতি তাদের সমর্থন কার্টুন নেটওয়ার্ককে জানাতে।[৬] এ খবরটি বের হওয়ার কয়েকদিন পরেই কার্টুন নেটওয়ার্ক কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে শোটি বাতিল হওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়।[৭] আকুয়াল্যাডের কণ্ঠদাতা উইল হুইটনের মতে শোটি বাতিল করার পেছনে হাত ছিল ওয়ার্নার ব্রাদার্স ফিচার অ্যানিমেশনের নতুন নির্বাহী কর্মকর্তাদের, যাঁরা শোটির ষষ্ঠ মৌসুম নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত নেন।[৮] সিরিজের কাহিনী সম্পাদক রব হোজি হুইটনের বিবৃতি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন যে সিদ্ধান্তটি ওয়ার্নার ব্রাদার্সের নয়, কার্টুন নেটওয়ার্কের ছিল এবং কখনওই ষষ্ঠ মৌসুম নিয়ে কোনও পরিকল্পনা ছিল না।[৯]

শেষ পর্ব প্রচারের পরে ওয়ার্নার ব্রাদার্স অ্যানিমেশন টিন টাইটান্স: ট্রাবল ইন টোকিও নামে একটি চলচ্চিত্রের ঘোষণা দেয়। চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার হয় সান ডিয়েগো কমিক-কন ইন্টারন্যাশনাল-এ এবং প্রথম প্রচারিত হয় কার্টুন নেটওয়ার্কে ২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। চলচ্চিত্রটি দ্য ডব্লিউবিতে প্রচারিত হয় ২০০৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এবং ডিভিডিতে মুক্তি পায় ২০০৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি।

ডিসি নেশন শর্ট এবং রিবুট[সম্পাদনা]

২০১২ সালে কার্টুন নেটওয়ার্কে ডিসি নেশন প্রোগ্রামিং ব্লকের কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য কার্টুন ছবির মধ্য দিয়ে শোটির একটি পরিবর্তিত নতুন রূপের প্রচার শুরু হয়। নিউ টিন টাইটান্স নামে কার্টুনগুলোর প্রচার শুরু হয় ২০১২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। এ কার্টুনগুলোতে টাইটানদের "চিবি" রূপ উপস্থাপন করা হয়, এবং মূল শো-এর প্রধান কণ্ঠাভিনেতারা এখানে পুনরায় তাঁদের চরিত্রসমূহের কণ্ঠ প্রদান করেন।[১০]

মূল সিরিজটির একটি স্পিন-অফ হিসেবে টিন টাইটান্স গ!-এর নাম ঘোষণা করা হয়, যার সাথে টিন টাইটান্স সিরিজ এবং নিউ টিন টাইটান্স শর্টগুলোর কাহিনীর দিক থেকে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক নেই।[১১] নতুন সিরিজের প্রচার শুরু হয় ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল।[১২]

অন্যান্য মাধ্যমে[সম্পাদনা]

  • ডিসি সুপার হিরো গার্লস-এ পেইটন, সাইপস এবং ওয়ালশ তাঁদের নিজ নিজ চরিত্র সাইবর্গ, বিস্ট বয় এবং স্টারফায়ারর কণ্ঠ প্রদান করেন।
  • টিন টাইটান্স-এর চরিত্রগুলোর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যেমন রাবেনের সাধারণ মন্ত্র "অ্যাজারাথ, মেট্রিয়ন, জিনতোস" এবং "দ্য বিস্ট উইদিন" পর্বে বিস্ট বয়ের নেকড়েমানবের রূপ পুনরায় দেখানো হয় জাস্টিস লিগ ভার্সেস টিন টাইটান্স নামক অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রে।

ডিসি মূলধারার ওপর প্রভাব[সম্পাদনা]

টিন টাইটান্সকে কখনওই ডিসি অ্যানিমেটেড ইউনিভার্স বা দ্য ব্যাটম্যান অ্যানিমেটেড সিরিজের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি। প্রযোজক ব্রুস টিম বলেছেন যে এ সিরিজটির সঙ্গে জাস্টিস লিগ আনলিমিটেড-এর কোনও ক্রসওভার ঘটবে না। স্পিডি চরিত্রটি, যার প্রথম আবির্ভাব "উইনার টেক অল" পর্বে, পরবর্তীতে জাস্টিস লিগ আনলিমিটেড-এও উপস্থিত হয়, যেখানে তার পোশাকের নকশা টিন টাইটান্স-এর মতই থাকে ও অভিনেতাও (মাইক আরউইন) একই থাকে (যদিও তাকে কিছুটা বয়স্ক দেখানো হয়)। এ শোতে কিড ফ্ল্যাশের কণ্ঠ দিয়েছেন মাইকেল রোজেনবাউম, যিনি জাস্টিস লিগ আনলিমিটেড-এ ফ্ল্যাশের কণ্ঠ দিয়েছিলেন। সিরিজটির উত্তরসূরি টিন টাইটান্স গ!-তে ব্যাটম্যানের কয়েকটি উপস্থিতি আছে, কিন্তু তার কোনওটিতেই তাঁর কোনও সংলাপ নেই। ডিসি নেশনের নিউ টিন টাইটান্স-এর "রেড এক্স আনমাস্কড" নামের পর্বে ব্যাটম্যান এবং আলফ্রেড পেনিওর্থ দু'জনেই উপস্থিত হন। টিন টাইটান্স গ!-এর দ্বিতীয় মৌসুমের "লেট'স গেট সিরিয়াস" পর্বে ইয়াং জাস্টিস দলের আকুয়াল্যাড (যার কণ্ঠ দিয়েছেন কারি পেইটন), সুপারবয় এবং মিস মার্শান উপস্থিত হয়।

এক্স-মেন: এভোলিউশন এবং ব্যাটম্যান: দি অ্যানিমেটেড সিরিজ-এর মত সিরিজটি সিরিজের মূল অনুপ্ররণা যে কমিক থেকে পাওয়া সে কমিককে প্রভাবিত করেছে, যাদের মধ্যে আছে: ডিসির ৫২ কাহিনীতে বিস্ট বয়ের সিরিজের মতো বেগুনি ও কালো রঙের পোশাক পরিধান করা এবং পরবর্তীতে সিরিজের ধারালো কান ও দাঁত নিয়ে উপস্থিত হওয়া,[১৩] টাইটান্স টুমরো কাহিনীতে ভবিষ্যতের সাইবর্গের বর্মের ধরন অ্যানিমেটেড সিরিজের সাইবর্গের মত হওয়া,[১৪] ওয়ান ইয়ার লেটার কাহিনীতে রাবেনের তার অ্যানিমেটেড সিরিজের পোশাক ধারণ করা, ৫২ এবং ফাইনাল ক্রাইসিস সিরিজে মাস এবং মেনোস চরিত্রগুলোর উপস্থিতি,[১৫] অ্যানিমেটেড সিরিজের চরিত্রের সঙ্গে মেলানোর জন্য জোতো চরিত্রটির "হটস্পট" হিসেবে পুনঃনামকরণ,[১৬] এবং টাইটানদের সবচেয়ে সাম্প্রতিক কমিক সংস্করণের সাথে ভিলেন সিন্ডারব্লকের একটি যুদ্ধে উপস্থিত হওয়া।[১৭]

মিডিয়া[সম্পাদনা]

কমিকস[সম্পাদনা]

টিন টাইটান্স গ! কমিক সিরিজটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। এ সিরিজটিতে টিন টাইটান্স-এর কাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য কাহিনী উপস্থাপন করা হয়। সিরিজটির বেশ কিছু সংখ্যার কাহিনীর সঙ্গে টিভি সিরিজটির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সিরিজটির লেখক ছিলেন জে. তোরেস এবং নিয়মিত শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন টড নক এবং ল্যারি স্টাকার। সিরিজটিতে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মোট ৫৫টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

খেলনা[সম্পাদনা]

টিন টাইটান্স অ্যানিমেটেড সিরিজের ওপর ভিত্তি করে বানদাই কিছু অ্যাকশন ফিগার বাজারজাত করে। এদের মধ্যে ছিল ১.৫ ইঞ্চির "কমিক বুক হিরো" মিনিফিগার, ৩.৫ ইঞ্চির অ্যাকশন ফিগার (যার মধ্যে ছিল "টিন টাইটান্স লঞ্চ টাওয়ার প্লেসেট", "টিন টাইটান্স কমান্ড সেন্টার", "ব্যাটলিং মেশিনস", "টি-ভেহিকলস", "টি-সাব ডিলাক্স ভেহিকলস"), ৫ ইঞ্চির অ্যাকশন ফিগার, ৬.৫ ইঞ্চির নরম সুপার-ডি খেলনা এবং ১০ ইঞ্চির ফিগার। খেলনায় উপস্থাপিত চরিত্রগুলোর মধ্যে ছিল টিন টাইটান্স দলের মূল সদস্যরা, টাইটান্স ইস্ট এবং বেশ কিছু সহযোগী ও শত্রু।[১৮][১৯]

প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

যদিও সিরিজটির প্রতি প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র, পরবর্তীতে বছরগুলোতে সিরিজটি তুলনামূলক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লাভ করে। সিরিজটির প্রচারের প্রথম দিকে নির্বাহী প্রযোজক এবং কার্টুন নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি স্যাম রেজিস্টার শোটির ধরন সম্পর্কিত সমালোচনার জবাব দেন, যেটি ছিল রবিনের "কুল" হওয়া সম্পর্কে মুরাকামির বক্তব্য খণ্ডনকারী:

— স্যাম রেজিস্টার, সিবিআর নিউজ-এর সাক্ষাৎকার, ৮ মে, ২০০৪

অবশ্য, যদিও সিরিজটির নির্মাতারা বলেছেন যে কমবয়সী শিশুরাই ছিল দর্শকদের মধ্যে সিরিজটির প্রধান লক্ষ্য, টিন টাইটান্স গ! লেখক জে. তোরেস বলেছেন যে শোটির অগ্রগামিতা এবং গুরুগম্ভীর বিষয়বস্তু সবরকমের দর্শকের কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে:

— জে. তোরেস, গ্লেন ক্যাডিগান রচিত টাইটান্স কম্পানিয়ন ২[২০]

২০০৯ সালে আইজিএন টিন টাইটান্সকে ৮৩তম সেরা অ্যানিমেটেড সিরিজ হিসেবে আখ্যায়িত করে।[২১] ২০১৪ সালে ওয়াচমোজো.কম টিন টাইটান্সকে বাতিল হয়ে যাওয়া ষষ্ঠ সেরা কার্টুনের খেতাব প্রদান করে।[২২]

পুরস্কার এবং মনোনয়ন[সম্পাদনা]

২০০৫ অ্যানি পুরস্কার
  • অ্যানিমেটেড টিভি প্রযোজনায় সেরা স্টোরিবোর্ডিং (মনোনয়নপ্রাপ্ত)
২০০৪ অ্যানি পুরস্কার
  • অ্যানিমেটেড টিভি প্রযোজনায় সেরা সঙ্গীত (মনোনয়নপ্রাপ্ত)
  • অ্যানিমেটেড টিভি প্রযোজনায় সেরা স্টোরিবোর্ডিং (মনোনয়নপ্রাপ্ত)
২০০৪ মোশন পিকচার সাউন্ড এডিটর পুরস্কার
  • টেলিভিশন অ্যানিমেশনে সেরা শব্দ সম্পাদনা (মনোনয়নপ্রাপ্ত)

সম্ভাব্য পুন:প্রচলন[সম্পাদনা]

টিন টাইটান্স-এর একটি ষষ্ঠ মৌসুম নির্মাণে কার্টুন নেটওয়ার্ককে রাজি করানোর উদ্দেশ্যে ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর গোপিটিশনে একটি পিটিশন বা গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করা হয়। এ পিটিশনে অনেক ভক্ত স্বাক্ষর করেছেন, যাঁদের মধ্যে আছেন কণ্ঠাভিনেতা তারা স্ট্রং[২৩] এবং গ্রেগ সাইপস,[২৪] যাঁরা যথাক্রমে রাবেন ও বিস্ট বয়ের কণ্ঠদাতা। তাঁরা টুইটারে পিটিশনটির লিংক ভাগ করেন। পিটিশনটি এখনও কার্যকর রয়েছে। চ্যানেলকে রাজি করানোর জন্য আরও কয়েকটি পিটিশন চালু করা হয়েছে। এদের কয়েকটি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে, যাদের মধ্যে সাম্প্রতিকতমটি তৈরি হয়েছে ২০১৬ সালে। এটির লক্ষ্য অ্যাডাল্ট সুইম, যার কারণ অ্যাডাল্ট সুইমের সামুরাই জ্যাককে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত। এ পিটিশনটিতে বর্তমানে ১২২টি স্বাক্ষর রয়েছে। ২০১৩ সালের ১২ জুন সিরিজের লেখক ডেরিক ওয়ায়াট বলেছেন যে ষষ্ঠ মৌসুম ভবিষ্যতে নির্মিত হবে যদি মূল সিরিজের প্রধান অভিনেতারা তাঁদের চরিত্রগুলোতে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য ফিরে আসতে রাজি হন।[২৫] টিন টাইটান্স গ! স্পিন-অফটি শুরু হওয়ার পরে (যাতে মূল কণ্ঠাভিনেতারা তাঁদের নিজ নিজ চরিত্রে কণ্ঠ প্রদান করেছেন) সম্ভাব্য ষষ্ঠ মৌসুম সম্পর্কে কোনও খবর শোনা যায়নি,[২৬] যদিও গ্রেগ সাইপস ভক্তদের চাহিদার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ধারণা করা হয় যে স্পিন-অফ নির্মাণের বিষয়ে কার্টুন নেটওয়ার্কের সবুজ সংকেত দেয়ার কারণ হলো তারা মূল সিরিজটির আরেকটি মৌসুম নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য নিজেদেরকে রাজি করাতে চায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Walko, Bill (এপ্রিল ২০০৪)। "Drawing Inspiration: An Interview with Glen Murakami"। TitansTower.com। সংগৃহীত মার্চ ৯, ২০১৩ 
  2. "Teen Titans: The Complete First Season DVD-Video"। dvdempire.com। সংগৃহীত এপ্রিল ২৪, ২০০৭ 
  3. "Teen Titans: The Complete Third Season DVD-Video"। dvdempire.com। সংগৃহীত এপ্রিল ২৪, ২০০৭ 
  4. "Teen Titans: The Complete Fourth Season DVD-Video"। dvdempire.com। সংগৃহীত আগস্ট ১৭, ২০০৭ 
  5. "Teen Titans: The Complete Fifth Season DVD-Video"। dvdempire.com। সংগৃহীত এপ্রিল ২, ২০০৮ 
  6. "Titanstower.com - your source for everything titans"। সংগৃহীত জানুয়ারি ২২, ২০১৭ 
  7. Teen Titans' Sixth Season Looks Unlikely, Titans Tower Monitor blog post, November 15, 2005
  8. Wil Wheaton's Radio Free Burrito Episode 4। Titansgo.net। আসল থেকে আগস্ট ১৩, ২০০৬-এ আর্কাইভ করা।  interview transcript
  9. "Live Chat with Rob Hoegee [Transcript]"। Titansgo.net। আসল থেকে ডিসেম্বর ৯, ২০০৬-এ আর্কাইভ করা। 
  10. "Return of the TeenTitans – Teen Titans Video"IGN। ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১২। সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৩ 
  11. Goldman, Eric (জুন ৮, ২০১২)। "Teen Titans Returning With New Full Length Episodes"। IGN। সংগৃহীত জুন ১৫, ২০১২ 
  12. "Teen Titans Reimagined for Cartoon Network this Spring in 'Teen Titans Go!'" (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)। DC Comics। মার্চ ১৩, ২০১৩। সংগৃহীত মে ২৬, ২০১৩ 
  13. "Preview image - Teen Titans 76"। Newsarama.com। অক্টোবর ২০০৯। আসল থেকে জুলাই ২৩, ২০১১-এ আর্কাইভ করা। 
  14. "Titans East"। Comicvine.com। আসল থেকে অক্টোবর ৫, ২০১১-এ আর্কাইভ করা। 
  15. Final Crisis #1. DC Comics.
  16. Teen Titans #38. DC Comics.
  17. Titans (vol. 2) #17. DC Comics.
  18. "Teen Titans Merchandise"। Titans Tower। আসল থেকে ২০১২-০৭-১৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ডিসেম্বর ২৬, ২০১১ 
  19. "Titans Go! Toys & Games"। Action Figure Insider। সংগৃহীত ডিসেম্বর ২৬, ২০১১ [অকার্যকর সংযোগ]
  20. Cadigan, Glen। "J. Torres – Adapting the Animated Antics of the Teen Titans"। Titans Companion 2। TwoMorrows Publishing। পৃ: ২১৬। আইএসবিএন 1-893905-87-X 
  21. "83, Teen Titans"। IGN। জানুয়ারি ২৩, ২০০৯। সংগৃহীত জানুয়ারি ২৪, ২০০৯ 
  22. "Top 10 Best Cartoons That Got Cancelled"। WatchMojo.com – YouTube এর মাধ্যমে। 
  23. "tara strong on Twitter"। সংগৃহীত জানুয়ারি ২২, ২০১৭ 
  24. "Greg Cipes on Twitter"। সংগৃহীত জানুয়ারি ২২, ২০১৭ 
  25. "Twoo - Meet New People"। সংগৃহীত জানুয়ারি ২২, ২০১৭ 
  26. Goldman, Eric (জুন ৮, ২০১২)। "Teen Titans Returning With New Full Length Episodes"। সংগৃহীত জানুয়ারি ২২, ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]