ব্যাটম্যান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ব্যাটম্যান
Batman Lee.png
প্রোমোশনাল আর্ট, ব্যাটম্যান #৬০৮ (অক্টোবর ২০০২, দ্বিতীয় মুদ্রণ)
পেনসিল ছবি: জিম লি
রং: স্কট উইলিয়ামস
প্রকাশনার তথ্য
প্রকাশক ডিসি কমিকস
প্রথম আবির্ভাব ডিটেকটিভ কমিকস #২৭
(মে ১৯৩৯)
নির্মাতা বব কেন (ধারণা)
বিল ফিঙ্গার[১] (ডেভেলপার)
কাহিনীর তথ্য
ব্রুস ওয়েন
দলের অন্তর্ভুক্তি ব্যাটম্যান পরিবার
জাস্টিস লিগ
ওয়েন এন্টারপ্রাইজেস
ব্যাটমেন অব অল নেশনস
ব্যাটম্যান ইনকর্পোরেটেড
আউটসাইডার্স
অংশীদারিত্ব রবিন
ব্যাটগার্ল
সুপারম্যান
জেমস গর্ডন
নাইটউইং
ক্যাটওম্যান
হান্ট্রেস
গ্রিন অ্যারো
ওয়ান্ডার ওম্যান
জাতানা
ব্লুবার্ড
উল্লেখযোগ্য ছদ্মনাম
  • ম্যাচেস ম্যালন[২]
  • স্যার হ্যামিংফোর্ড গ্রে
  • মর্ডেকাই ওয়েন
  • লেফটি নক্স[৩]
  • দ্য ইনসাইডার
  • মিনিটম্যান[৪]
  • ডার্ক নাইট
  • দ্য কেপড ক্রুসেডার
ক্ষমতা
  • চৌকস পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তা
  • শক্তি
  • ক্ষিপ্রতা
  • শারীরিক কসরৎ দেখানোর ক্ষমতা
  • মার্শাল আর্টিস্ট
  • দড়াবাজিকর
  • ক্রীড়াবিদ
  • ধূর্ত পলায়নবিশারদ
  • তীক্ষ্ণ গোয়েন্দা
  • তীরন্দাজ
  • খালি হাতে লড়াই করার ক্ষমতা
  • অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার
  • গোপনে ও চুপিচুপি ঢোকার ক্ষমতা
  • অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা
  • প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান
  • আশ্চর্য পর্যবেক্ষণী শক্তি
  • বিশ্বের সেরা গোয়েন্দা/অপরাধ সমস্যার সমাধানকারীর মর্যাদা
  • রণকৌশল রচনার ব্যাপারে সর্বোচ্চ দক্ষতা
  • বিপুল সম্পত্তি ও অপরাধীর ব্যাপারে তথ্যের সংরক্ষক
  • অসাধারণ স্মৃতিশক্তি
  • প্রশিক্ষিত কম্পিউটার হ্যাকার
  • সুদক্ষ ছদ্মবেশধারী

ব্যাটম্যান যুক্তরাষ্ট্রের ডিসি কমিকস হতে প্রকাশিত কমিক বইয়ের একটি কাল্পনিক সুপারহিরো চরিত্র। এ চরিত্রটির স্রষ্টা শিল্পী বব কেন ও লেখক বিল ফিঙ্গার[৫][৬] এ চরিত্রটির আবির্ভাব হয় ডিটেকটিভ কমিকস #২৭ (মে ১৯৩৯) সংখ্যায়। প্রথমে চরিত্রটির নাম ছিল "ব্যাট-ম্যান"। এ চরিত্রটি আরও কিছু নামে পরিচিত যেমন "দ্য কেপড ক্রুসেডার", "দ্য ডার্ক নাইট", "ওয়ার্ল্ডস গ্রেটেস্ট ডিটেকটিভ" ইত্যাদি।[৭]

ব্যাটম্যানের গোপন পরিচয় হলো ব্রুস ওয়েন, যিনি একজন মার্কিন বিলিয়নেয়ার, শিল্পপতি এবং ওয়েন এন্টারপ্রাইজের মালিক। ছোটবেলায় তাঁর বাবা থমাস ওয়েন ও মা মার্থা ওয়েনকে আততায়ীর হাতে নিহত হতে দেখার পর তিনি অপরাধীদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ গ্রহণ করেন। তিনি নিজে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ও শারীরিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন। অপরাধ নির্মূল করার জন্য তিনি বাদুড় থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর রূপ সৃষ্টি করেন।[৮] ব্যাটম্যান কাজ করেন কাল্পনিক গথাম সিটিতে। তাঁর সাহায্যকারী হিসেবে কিছু চরিত্র বিদ্যমান; যেমন তাঁর গৃহপরিচারক আলফ্রেড পেনিওর্থ, পুলিশ কমিশনার জেমস গর্ডন এবং ব্যাটম্যানের সঙ্গী রবিন। বেশিরভাগ সুপারহিরোর মত ব্যাটম্যানের কোনও অতিমানবীয় ক্ষমতা বা সুপারপাওয়ার নেই। তার বদলে তিনি তাঁর বুদ্ধি, শারীরিক শক্তি, মার্শাল আর্টের দক্ষতা, অনুসন্ধানী ক্ষমতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিপুল ধন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অপরাধ জগতে তাঁর প্রচলিত ভীতি কাজে লাগিয়ে লড়াই করেন। ব্যাটম্যানের শত্রুতালিকায় অনেক পরিচিত নাম বিদ্যমান, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাটম্যানের চিরশত্রু জোকার

১৯৩৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হবার পরপরই ব্যাটম্যান বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তার পরের বছর ব্যাটম্যান নামে তাঁর নিজের কমিক বই প্রকাশিত হয়। পরের দশকগুলোতে চরিত্রটিকে নানাভাবে উপস্থাপন করা হয়। ১৯৬০ এর দশকে তৈরি ব্যাটম্যান টেলিভিশন সিরিজের জনপ্রিয়তা ব্যাটম্যান চরিত্রটির ওপর নানাভাবে প্রভাব ফেলে। অনেক লেখক চরিত্রটিকে তার অন্ধকার মূলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যার শুরু হয়েছিল ১৯৮৬ সালে ফ্র্যাংক মিলারের দ্য ডার্ক নাইট রিটার্নস প্রকাশের মধ্য দিয়ে। ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ব্যাটম্যান লাইভ-অ্যাকশন ফিল্মগুলোর সাফল্য সাধারণ মানুষের মধ্যে চরিত্রটির জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সাহায্য করে।[৯]

একজন সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে ব্যাটম্যান চরিত্রটি রেডিও হতে টেলিভিশন ও ফিল্ম পর্যন্ত নানা মাধ্যমে এবং নানান ধরনের খেলনা ও ভিডিও গেমে এসেছে। এ চরিত্রটি মনোবিদদের নজরেও এসেছে, যাঁদের অনেকেই চরিত্রটির মনস্তত্ব বোঝার চেষ্টা করেছেন। ২০১৫ সালে ফ্যানসাইডেড ব্যাটম্যানকে তাদের "কমিক বইয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ৫০ সুপারহিরো" তালিকায় এক নম্বরে স্থান দিয়েছে[১০] এবং ব্যাটম্যান র‍্যাংকার-এর "সর্বকালের সেরা কমিক বইয়ের সুপারহিরো" তালিকায় প্রথম হয়েছে।[১১] ২০১১ সালে ব্যাটম্যান আইজিএন-এর "সর্বকালের সেরা ১০০ কমিক বুক হিরো" তালিকায় দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে।[১২] কেভিন কনরয়, ব্রুস গ্রিনউড, পিটার ওয়েলার, অ্যান্থনি রুইভিভারজেসন ও'মারা প্রমুখ বিভিন্ন অ্যানিমেটেড অ্যাডাপশনে চরিত্রটির কণ্ঠ দিয়েছেন। টেলিভিশন ও ফিল্মে ব্যাটম্যান চরিত্রে অভিনয় করেছেন লুইস উইলসন, রবার্ট লোয়ারি, অ্যাডাম ওয়েস্ট, মাইকেল কিটন, ভ্যাল কিলমার, জর্জ ক্লুনি, ক্রিশ্চিয়ান বেল এবং বেন অ্যাফ্লেক

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রকাশনা ইতিহাস[সম্পাদনা]

সৃষ্টি[সম্পাদনা]

১৯৩৯ সালের শুরুর দিকে, অ্যাকশন কমিকস-এ সুপারম্যানের সাফল্য ন্যাশনাল কমিকস পাবলিকেশনস (পরবর্তীতে ডিসি কমিকস)-এর সম্পাদকদের উদ্বুদ্ধ করেছিল তাদের বইগুলোতে আরো সুপারহিরো চরিত্র আনতে। সে কারণে বব কেন সৃষ্টি করেছিলেন "দ্য ব্যাট-ম্যান"।[১৩] তাঁর সহযোগী বিল ফিঙ্গার বলেছেন যে "Kane had an idea for a character called 'Batman,' and he'd like me to see the drawings. I went over to Kane's, and he had drawn a character who looked very much like Superman with kind of ... reddish tights, I believe, with boots ... no gloves, no gauntlets ... with a small domino mask, swinging on a rope. He had two stiff wings that were sticking out, looking like bat wings. And under it was a big sign ... BATMAN".[১৪] বাদুড়ের ডানার মতো কেপটির ধারণা দিয়েছিলেন বব কেন, যিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তাঁর ছোটবেলায় দেখা লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা অর্নিথপ্টারের ছবি থেকে।[১৫]

ফিঙ্গার চেয়েছিলেন চরিত্রটিকে একটি সাধারণ ডমিনো মাস্কের পরিবর্তে একটি কাউল দিতে, তার সাথে ডানার বদলে কেপ এবং গ্লাভস; তিনি আরো সুপারিশ করেছিলেন আসল কস্টিউম থেকে লাল অংশগুলি বাদ দিতে।[১৬][১৭][১৮][১৯] ফিঙ্গার বলেছেন যে তিনি চরিত্রটির গোপন পরিচয় হিসেবে ব্রুস ওয়েন নামটি তৈরি করেছিলেন: "Bruce Wayne's first name came from Robert Bruce, the Scottish patriot. Wayne, being a playboy, was a man of gentry. I searched for a name that would suggest colonialism. I tried Adams, Hancock ... then I thought of Mad Anthony Wayne."[২০] তিনি পরবর্তীতে বলেছেন যে তাঁর সাজেশনগুলো লি ফকের জনপ্রিয় কমিক স্ট্রিপ চরিত্র দ্য ফ্যান্টম দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, যে চরিত্রটির সাথে কেনও পরিচিত ছিলেন।[২১]

কেন এবং ফিঙ্গার ব্যাট-ম্যানের চেহারা, ব্যক্তিত্ব, পদ্ধতি এবং অস্ত্রসম্পর্কিত বেশিরভাগ বিষয়ের জন্য প্রেরণা পেয়েছিলন ১৯৩০-এর দশকের তৎকালীন সংস্কৃতি থেকে।[২২] দ্বৈত পরিচয়ের সম্ভ্রান্ত একজন হিরো হিসেবে ব্যাটম্যানের পূর্বসূরি পাওয়া যায় দ্য স্কারলেট পিম্পারনেল (ব্যারনেস এমুস্কা ওর্চি, ১৯০৩) এবং জরো (জনস্টন ম্যাককালি, ১৯১৯)-তে। তাদের মতোই, তিনি তাঁর বীরত্বপূর্ণ কাজ করতেন গোপনে, সন্দেহ এড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষের অভিনয় করতেন এবং তাঁর কাজ চিহ্নিত করে রাখতেন একটি বিশেষ মার্কা দিয়ে। কেন বলেছেন যে চরিত্রটির ওপর দ্য মার্ক অব জরো (১৯২০) এবং দ্য ব্যাট হুইসপার্স (১৯৩০)-এর মতো ফিল্মের প্রভাব ছিল। ফিঙ্গার ডক স্যাভেজ, দ্য শ্যাডো, ডিক ট্রেসি এবং শার্লক হোমস-এর মতো কিছু চরিত্র থেকে প্রেরণা পেয়ে তাঁর চরিত্রটিকে একজন অভিজ্ঞ অনুসন্ধানকারী বানিয়েছিলেন।[২৩][২৪]

তাঁর ১৯৮৯ সালের আত্মজীবনীতে, কেন ব্যাটম্যানের সৃষ্টিতে ফিঙ্গারের অবদান সম্পর্কে বলেছেন:

One day I called Bill and said, 'I have a new character called the Bat-Man and I've made some crude, elementary sketches I'd like you to look at.' He came over and I showed him the drawings. At the time, I only had a small domino mask, like the one Robin later wore, on Batman's face. Bill said, 'Why not make him look more like a bat and put a hood on him, and take the eyeballs out and just put slits for eyes to make him look more mysterious?' At this point, the Bat-Man wore a red union suit; the wings, trunks, and mask were black. I thought that red and black would be a good combination. Bill said that the costume was too bright: 'Color it dark grey to make it look more ominous.' The cape looked like two stiff bat wings attached to his arms. As Bill and I talked, we realized that these wings would get cumbersome when Bat-Man was in action, and changed them into a cape, scalloped to look like bat wings when he was fighting or swinging down on a rope. Also, he didn't have any gloves on, and we added them so that he wouldn't leave fingerprints.[২১]

স্বর্ণযুগ[সম্পাদনা]

পরবর্তী সৃষ্টির কৃতিত্ব[সম্পাদনা]

কেন চরিত্রটির মালিকানা দিয়ে দিয়েছিলেন, যার বদলে তিনি পেয়েছিলেন সব ব্যাটম্যান কমিকে একটি বাধ্যতামূলক বাইলাইন। এ বাইলাইনে প্রথমে "Batman created by Bob Kane" লেখা থাকত না; শুধু প্রতিটি গল্পের প্রথম পৃষ্ঠায় তাঁর নাম লেখা থাকত। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে কমিক বইয়ে তাঁর নাম আসা বন্ধ হয়ে যায়, তাঁর বদলে প্রতিটি গল্পের লেখক এবং শিল্পীদের নাম ছাপা হতে থাকে। ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে, যখন জেরি সিগেল এবং জো শুস্টার সুপারম্যান তৈরির জন্য তাঁদের নামের সাথে "created by" শিরোনাম পেতে শুরু করেন, আর উইলিয়াম মোল্টন মার্সটনও ওয়ান্ডার ওম্যান চরিত্রটির জন্য বাইলাইন লাভ করেন, ব্যাটম্যানের কাহিনীগুলোতে অন্যান্য নামের সাথে "Created by Bob Kane" কথাটি যোগ হয়।

ফিঙ্গার একইরকম স্বীকৃতি পাননি। যদিও ১৯৪০-এর দশক থেকে তিনি ডিসির অন্যান্য কাজের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, ১৯৬০-এর দশকে তিনি ব্যাটম্যান লেখার জন্য নামমাত্র স্বীকৃতি পাওয়া শুরু করেন; উদাহরণস্বরূপ, ব্যাটম্যান #১৬৯ (ফেব্রুয়ারি ১৯৬৫)-এর চিঠিপত্র পাতায় সম্পাদক জুলিয়াস শোয়ার্টজ তাঁর নাম দেন রিডলারের স্রষ্টা হিসেবে, যে ব্যাটম্যানের নিয়মিত শত্রুদের একজন। কিন্তু ফিঙ্গারের চুক্তির কারণে তাঁর কাছে শুধু তাঁর রাইটিং পেজ রেট থাকে, কোনও বাইলাইন নয়। কেন লিখেছেন, "Bill was disheartened by the lack of major accomplishments in his career. He felt that he had not used his creative potential to its fullest and that success had passed him by."[২০] ১৯৭৪ সালে ফিঙ্গারের মৃত্যুর সময় পর্যন্তও ডিসি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিঙ্গারকে ব্যাটম্যানের সহস্রষ্টা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

জেরি রবিনসন, যিনি সে সময় ফিঙ্গার এবং কেনের সাখে স্ট্রিপটিতে কাজ করেছিলেন, স্বীকৃতি ভাগ করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কেনের সমালোচনা করেন। ২০০৫ সালে দ্য কমিকস জার্নাল-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ফিঙ্গার তাঁর অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না:

Bob made him more insecure, because while he slaved working on Batman, he wasn't sharing in any of the glory or the money that Bob began to make, which is why ... [he was] going to leave [Kane's employ]. ... [Kane] should have credited Bill as co-creator, because I know; I was there. ... That was one thing I would never forgive Bob for, was not to take care of Bill or recognize his vital role in the creation of Batman. As with Siegel and Shuster, it should have been the same, the same co-creator credit in the strip, writer, and artist.[২৫]

যদিও কেন প্রথমে চরিত্রটি সৃষ্টির পেছনে ফিঙ্গারের অবদান অস্বীকার করেছিলেন, ১৯৬৫ সালে ভক্তদের কাছে লেখা একটি খোলা চিঠিতে তিনি বলেন যে "it seemed to me that Bill Finger has given out the impression that he and not myself created the ''Batman, t' [sic] as well as Robin and all the other leading villains and characters. This statement is fraudulent and entirely untrue." কেন নিজেও ফিঙ্গারের স্বীকৃতি না পাওয়ার ব্যাপারে মন্তব্য করেন। "The trouble with being a 'ghost' writer or artist is that you must remain rather anonymously without 'credit'. However, if one wants the 'credit', then one has to cease being a 'ghost' or follower and become a leader or innovator."[২৬]

১৯৮৯ সালে, কেন একটি সাক্ষাৎকারে ফিঙ্গারের অবস্থার কথা স্মরণ করেন:

In those days it was like, one artist and he had his name over it [the comic strip] — the policy of DC in the comic books was, if you can't write it, obtain other writers, but their names would never appear on the comic book in the finished version. So Bill never asked me for it [the byline] and I never volunteered — I guess my ego at that time. And I felt badly, really, when he [Finger] died.[২৭]

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডিসি এন্টারটেইনমেন্ট ঘোষণা দেয় যে ফিঙ্গার পরিবার এবং ডিসির মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর ২০১৬ সালের সুপারহিরো ফিল্ম ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান: ডন অব জাস্টিস এবং গথাম টিভি শো-এর দ্বিতীয় মৌসুমে ব্যাটম্যানের সৃষ্টিতে তাঁর অবদানের জন্য ফিঙ্গার স্বীকৃতি লাভ করবেন।[৫] ব্যাটম্যানের স্রষ্টা হিসেবে ফিঙ্গার কমিক বইয়ে প্রথমবারের মতো স্বীকৃতি পান ২০১৫ সালের অক্টোবরে ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন এটারনাল #৩ এবং ব্যাটম্যান: আর্কহ্যাম নাইট জেনেসিস #৩-এর মধ্য দিয়ে। কমিকে তাঁর এ স্বীকৃতি লেখা আসে "Batman created by Bob Kane with Bill Finger" হিসেবে।[৬]

শুরুর সময়[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যানের প্রথম আবির্ভাব, ডিটেকটিভ কমিকস #২৭ (মে ১৯৩৯); প্রচ্ছদশিল্পী বব কেন

ব্যাটম্যানের প্রথম গল্প, "দ্য কেস অব দ্য কেমিক্যাল সিন্ডিকেট", প্রকাশিত হয়েছিল ডিটেকটিভ কমিকস #২৭ (মে ১৯৩৯)-এ। ফিঙ্গার বলেছেন, "ব্যাটম্যান প্রথমে লেখা হয়েছিল পাল্প স্টাইলে",[২৮] আর এ প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায় শত্রুদের খুন বা জখম করার পর ব্যাটম্যানের অনুশোচনা প্রদর্শনে। ব্যাটম্যান একটি সফল চরিত্র হিসেবে প্রমাণিত হন, এবং ১৯৪০ সালে তিনি তাঁর নিজের নামের কমিক লাভ করেন। এছাড়া তিনি ডিটেকটিভ কমিকস-এও নিয়মিত আসা শুরু করেন। সেসময় ডিটেকটিভ কমিকস ছিল সর্বাধিক বিক্রীত এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রকাশনা সংস্থা; ব্যাটম্যান এবং কোম্পানিটির অন্য বড় হিরো, সুপারম্যান, ছিল এ সাফল্যের মূল কারণ।[২৯] এ দু'টি চরিত্রকে পাশাপাশি দেখা গিয়েছিল ওয়ার্ল্ড'স ফাইনেস্ট কমিকস-এর প্রধান আকর্ষণ হিসেবে, যেটির নাম প্রথমে ছিল ওয়ার্ল্ড'স বেস্ট কমিকস যখন এটি ১৯৪০ সালে প্রথম বের হয়েছিল। জেরি রবিনসন এবং ডিক স্প্র্যাংসহ আরও কয়েকজন স্রষ্টা এ সময়ে স্ট্রিপে কাজ করেছিলেন।

প্রথম কিছু ব্যাটম্যান স্ট্রিপের সময়ে চরিত্রটিতে কিছু বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয় এবং ব্যাটম্যানের শৈল্পিক বর্ণনা বিবর্তিত হয়। কেন বলেছেন যে ছয়টির ইস্যুর মধ্যেই তিনি চরিত্রটির চোয়াল আরও দৃঢ় এবং চরিত্রটির পোশাকের কানগুলো আরও লম্বা করে এঁকেছিলেন। "About a year later he was almost the full figure, my mature Batman", কেন বলেন।[৩০] ব্যাটম্যানের ইউটিলিটি বেল্ট প্রথম আবির্ভূত হয়েছিল ডিটেকটিভ কমিকস #২৯ (জুলাই ১৯৩৯)-এ। তার পরেই #৩১ (সেপ্টেম্বর ১৯৩৯)-এ এসেছিল বুমেরাং-এর মতো ব্যাটারাং এবং প্রথম বাদুড়ের মতো দেখতে যান, ব্যাটপ্লেন। চরিত্রটির শুরুর কাহিনী প্রকাশিত হয় #৩৩ (নভেম্বর ১৯৩৯)-এ একটি দু'পৃষ্ঠার গল্পে, যেটি ব্যাটম্যানের চিন্তাশীল রূপটিকে প্রতিষ্ঠিত করে, যে চরিত্রটি তাঁর বাবা-মার মৃত্যু দ্বারা চালিত হন। ফিঙ্গারের লেখা এ গল্পে একজন কমবয়সী ব্রুস ওয়েন ছিনতাইকারীর হাতে তাঁর বাবা-মার মৃত্যু হতে দেখেন। কয়েকদিন পর, তাঁদের কবরে, তিনি শপথ করেন যে "by the spirits of my parents [I will] avenge their deaths by spending the rest of my life warring on all criminals"।[৩১][৩২][৩৩]

প্রথম দিকের ব্যাটম্যানের পাল্প-অনুপ্রাণিত উপস্থাপনা শিথিল হতে শুরু করে ডিটেকটিভ কমিকস #৩৮ (এপ্রিল ১৯৪০) থেকে যখন ব্যাটম্যানের সঙ্গী রবিনকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।[৩৪] ফিঙ্গারের পরামর্শে রবিনকে আনা হয়, কারণ ব্যাটম্যানের একজন "ওয়াটসন" দরকার ছিল যার সাথে তিনি কথা বলতে পারতেন।[৩৫] কেনের একাকী ব্যাটম্যান পছন্দ হলেও এ চরিত্রটির কারণে বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়, এবং এতে "ছোট সাইডকিক" সৃষ্টির আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।[৩৬] একক স্পিন-অফ সিরিজ ব্যাটম্যান-এর প্রথম ইস্যুটি উল্লেখযোগ্য ছিল কারণ এতে ব্যাটম্যানের প্রধান দু'জন শত্রু জোকার এবং ক্যাটওম্যান-এর আবির্ভাব ঘটেছিল। এতে এমন একটি গল্পও ছিল যেখানে ব্যাটম্যান কিছু দৈত্যকে গুলি করে হত্যা করেন। সে গল্পটির কারণেই সম্পাদক হুইটনি এলসওর্থ নিয়ম করেন যে চরিত্রটি আর কখনও খুন করবে না বা কোনও প্রকারের বন্দুক ব্যবহার করবে না।[৩৭]

১৯৪২ সালের মধ্যেই ব্যাটম্যান কমিকের লেখক ও শিল্পীরা ব্যাটম্যানের কাহিনীর প্রধান বিষয়গুলোর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিলেন।[৩৮] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের বছরগুলোতে, ডিসি কমিকস "adopted a postwar editorial direction that increasingly de-emphasized social commentary in favor of lighthearted juvenile fantasy"। এই পরিবর্তনটি স্পষ্ট দেখা যায় যুদ্ধের পরবর্তী ব্যাটম্যান কমিকগুলোতে; ১৯৪০ সালের প্রথম দিকের স্ট্রিপগুলোর "নিরানন্দ এবং ভয়ংকর জগত" থেকে বের হয়ে ব্যাটম্যান একজন সম্মানী নাগরিক হিসেবে আবির্ভূত হন যিনি একটি "উজ্জ্বল এবং রঙিন" পরিবেশে বাস করতেন।[৩৯]

রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জ যুগ[সম্পাদনা]

১৯৫০-এর দশক এবং ১৯৬০-এর দশকের শুরু[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যান ছিল অল্প কিছু সুপারহিরো চরিত্রের একজন যাদেরকে নিয়ে গল্প ১৯৫০-এর দশকে এ ধরনটির প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমে আসার পরও নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছিল। সুপারম্যান #৭৬ (জুন ১৯৫২)-এর "দ্য মাইটিয়েস্ট টিম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড" গল্পে ব্যাটম্যান প্রথমবারের মতো সুপারম্যানের সঙ্গে দলবদ্ধ হন এবং তাঁরা একে অপরের গোপন পরিচয় আবিষ্কার করেন।[৪০] এ গল্পটির সাফল্যের পর ওয়ার্ল্ড'স ফাইনেস্ট কমিকসকে নতুন করে সাজানো হয় যাতে এর আগ পর্যন্ত চলতে থাকা ব্যাটম্যান এবং সুপারম্যানের আলাদা গল্পগুলোর বদলে এতে উভয় চরিত্রকে একসাথে বিষয় করে গল্প থাকে।[৪১] এ চরিত্রগুলোর দলবদ্ধ হওয়া ছিল "a financial success in an era when those were few and far between"।[৪২] ১৯৮৬ সালে বইটি বাতিল হওয়া পর্যন্ত এ সিরিজটি চলতে থাকে। ১৯৫৪ সালে মনোবিজ্ঞানী ফ্রেডরিক ওয়ার্থামের সিডাকশান অব দি ইনোসেন্ট বইটি প্রকাশের পরে কমিক বই শিল্প নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তখন যেসব বইয়ের সমালোচনা করা হয়েছিল ব্যাটম্যান কমিকগুলো তার মধ্যে অন্যতম। ওয়ার্থামের বক্তব্য ছিলো যে কমিকে দেখানো অপরাধগুলো বাচ্চারা অনুকরণ করার চেষ্টা করে, এবং এসব কাজ আগামী প্রজন্মের নৈতিকতা নষ্ট করে। ওয়ার্থাম ব্যাটম্যান কমিকগুলোর সমালোচনা করেন সেগুলোর সমকামী চরিত্রের জন্য এবং বলেন যে ব্যাটম্যান এবং রবিনকে প্রেমিকযুগল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।[৪৩] ওয়ার্থামের সমালোচনার কারণে ১৯৫০-এর দশকে জনগণের মধ্যে শোরগোল সৃষ্টি হয়, যার কারণে পরবর্তীতে কমিকস কোড অথরিটি প্রতিষ্ঠিত হয়, যে কোডটির বর্তমানে আর ব্যবহার নেই। যুদ্ধ-পরবর্তী বছরগুলোতে একজন "উজ্জ্বলতর ব্যাটম্যান" বানানোর প্রবণতা কমিকস কোড সৃষ্টির পর আরও বৃদ্ধি পায়।[৪৪] বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে ব্যাটম্যান এবং রবিন সমকামী- এ ধারণা খণ্ডন করার জন্য ১৯৫৬ সালে ব্যাটওম্যান এবং ১৯৬১ সালে বারবারা গর্ডন-এর আগের ব্যাট-গার্ল-কে সৃষ্টি করা হয়। এর পর থেকে কাহিনীগুলোর ধরন আরও অতিরঞ্জিত এবং হালকা হয়।[৪৫]

১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে, ব্যাটম্যানের কাহিনীগুলো ধীরে ধীরে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীভিত্তিক হতে থাকে, যেটি এ ঘরানার অন্যান্য ডিসি চরিত্রের সাফল্য অনুকরণ করার জন্য করা হয়েছিল।[৪৬] ব্যাটওম্যান, এস দ্য ব্যাট-হাউন্ড এবং ব্যাট-মাইট-এর মত কিছু নতুন চরিত্র তখন সৃষ্টি করা হয় । ব্যাটম্যানের কাহিনীতে তখন প্রায়শই অদ্ভুত রূপান্তর বা আজব মহাকাশের প্রাণী আবির্ভূত হত। ১৯৬০ সালে দ্য ব্রেভ অ্যান্ড দ্য বোল্ড #২৮ (ফেব্রুয়ারি ১৯৬০)-এ ব্যাটম্যান জাস্টিস লিগ অব আমেরিকার একজন সদস্য হন এবং সে বছর শুরু হওয়া বেশ কয়েকটি জাস্টিস লিগ কমিক সিরিজে আবির্ভূত হন।

"নিউ লুক" ব্যাটম্যান এবং ক্যাম্প[সম্পাদনা]

১৯৬৪ সালের মধ্যেই ব্যাটম্যানের কাহিনীর বিক্রি বিস্ময়করভাবে কমে যায়। বব কেন বলেছেন, এ ঘটনার ফলে ডিসি ব্যাটম্যানকে একেবারে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছিল।[৪৭] এর প্রেক্ষিতে সম্পাদক জুলিয়াস শোয়ার্টজকে ব্যাটম্যানের কাহিনীর দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করেন, যার শুরু হয় ১৯৬৪ সালের ডিটেকটিভ কমিকস #৩২৭ (মে ১৯৬৪)-এর মধ্য দিয়ে, যেটিকে বলা হচ্ছিল একটি "নিউ লুক"। শোয়ার্টজ পরিবর্তনগুলো আনেন ব্যাটম্যানকে আরও সামসময়িক করার জন্য, এবং গল্পগুলোকে আরও গোয়েন্দাভিত্তিক করার জন্য। তিনি চরিত্রটিকে উন্নত করার জন্য শিল্পী কারমাইন ইনফান্তিনোকে ডেকে আনেন। ব্যাটমোবিলকে নতুন রূপ দেয়া হয়, এবং ব্যাটম্যানের পোশাক পরিবর্তন করা হয় যাতে বাদুড়ের চিহ্নের পেছনে একটি হলুদ বৃত্তাকার ক্ষেত্র থাকে। মহাকাশের প্রাণী, সময় পরিভ্রমণ এবং ১৯৫০-এর দশকের চরিত্র যেমন ব্যাটওম্যান, এস এবং ব্যাট-মাইটকে সরিয়ে ফেলা হয়। ব্রুস ওয়েনের গৃহপরিচারক আলফ্রেডকে মেরে ফেলা হয় (যদিও তার মৃত্যু দ্রুতই বাতিল করা হয়) এবং ওয়েন পরিবারের একজন আত্মীয় আন্ট হ্যারিয়েটকে আনা হয় ব্রুস ওয়েন এবং ডিক গ্রেসন-এর সাথে বাস করার জন্য।[৪৮]

১৯৬৬ সালে শুরু হওয়া ব্যাটম্যান টেলিভিশন সিরিজ চরিত্রটির ওপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল। এ সিরিজটির সাফল্য কমিক বইয়ের বিক্রি বৃদ্ধি করে, এবং ব্যাটম্যান-এর প্রায় ৯ লক্ষ কপি বিক্রি হয়ে যায়।[৪৯] সিরিজের কিছু বিষয় যেমন ব্যাটগার্ল চরিত্রটি এবং সিরিজটির ক্যাম্প ধরন কমিকে নিয়ে আসা হয়। সিরিজটির কারণে আলফ্রেড চরিত্রটিও ফিরে আসে। যদিও কমিকস এবং টিভি শো উভয়ই কিছু সময়ের জন্য সাফল্য লাভ করেছিল, ক্যাম্প ধরনটি একসময় অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং ১৯৬৮ সালে শোটি বাতিল করে দেয়া হয়। এরপর ব্যাটম্যান কমিকগুলো আবার জনপ্রিয়তা হারায়। জুলিয়াস শোয়ার্টজ বলেছেন, "When the television show was a success, I was asked to be campy, and of course when the show faded, so did the comic books."[৫০]

১৯৬৯ সাল থেকে লেখক ডেনিস ও'নিল এবং শিল্পী নিল অ্যাডামস চেষ্টা করেন ব্যাটম্যানকে টিভি সিরিজের ক্যাম্প ধরন থেকে চরিত্রটির অন্ধকার মূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার।[৫১] ও'নিল বলেছেন যে তাঁর ইচ্ছে ছিল "simply to take it back to where it started. I went to the DC library and read some of the early stories. I tried to get a sense of what Kane and Finger were after."[৫২]

ও'নিল এবং অ্যাডামস একসাথে প্রথম কাজ করেন "দ্য সিক্রেট অব দ্য ওয়েটিং গ্রেভস" গল্পে (ডিটেকটিভ কমিকস #৩৯৫, জানুয়ারি ১৯৭০)। খুব অল্প কাহিনীতেই ও'নিল, অ্যাডামস, শোয়ার্টজ এবং ইংকার ডিক জিওর্ডানো একত্রে কাজ করেছিলেন, প্রকৃতপক্ষে সত্তরের দশকে এঁদের অন্যান্য স্রষ্টাদের সাথে আলাদা আলাদাভাবে কাজ করানো হয়েছিল; কিন্তু তারপরও তাঁদের কাজের প্রভাব ছিল "ট্রিমেন্ডাস"।[৫৩] জিওর্ডানো বলেন: "We went back to a grimmer, darker Batman, and I think that's why these stories did so well ..."[৫৪] যদিও ও'নিল এবং অ্যাডামসের কাজ ভক্তদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছিল, তাতে পড়তে থাকা বিক্রির পরিমাণ বেশি বৃদ্ধি পায়নি; একইরকম ঘটনা ঘটেছিল লেখক স্টিভ ইঙ্গলহার্ট এবং পেন্সিলার মার্শাল রজার্স-এর ডিটেকটিভ কমিকস #৪৭১-৩৭৬ (আগস্ট ১৯৭৭ – এপ্রিল ১৯৭৮)-এর ক্ষেত্রেও, যে কাহিনীগুলোর প্রভাব ছিল ১৯৮৯ সালের ছবি ব্যাটম্যান-এর ওপর এবং যা থেকে ব্যাটম্যান: দি অ্যানিমেটেড সিরিজ বানানো হয়েছিল, যেটি শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে।[৫৫] এর পরও সত্তর এবং আশির দশকের মধ্যে বিক্রি কমতে থাকে, এবং ১৯৮৫ সালে তা ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।[৫৬]

আধুনিক যুগ[সম্পাদনা]

দ্য ডার্ক নাইট রিটার্নস[সম্পাদনা]

ফ্র্যাংক মিলার-এর সিরিজ দ্য ডার্ক নাইট রিটার্নস (ফেব্রুয়ারি–জুন ১৯৮৬) চরিত্রটিকে তার অন্ধকার মূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, পরিবেশ এবং টোন উভয় দিক দিয়েই। এই বইয়ে একজন ৫৫ বছর বয়সী ব্যাটম্যানের কথা বলা হয় যিনি একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যতে অবসর থেকে ফিরে আসেন। দ্য ডার্ক নাইট রিটার্নস অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করে এবং এরপর থেকে চরিত্রটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনীগুলোর মধ্যেও অন্যতম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।[৫৭] এই সিরিজটি চরিত্রটির জনপ্রিয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।[৫৮]

সে বছর ডেনিস ও'নিল ব্যাটম্যানের কমিকের সম্পাদকের দায়িত্ব পান এবং ডিসির কাহিনী পরিবর্তনকারী মিনিসিরিজ ক্রাইসিস অন ইনফিনিট আর্থস-এর পর ব্যাটম্যানকে উপস্থাপনের ভিত্তি গড়ে তোলেন। ও'নিল কাজ করছিলেন এই ভেবে যে তাঁকে নেওয়া হয়েছিল চরিত্রটিকে ঢেলে সাজানোর জন্য এবং তার কারণে তিনি এর আগ পর্যন্ত চলে আসা টোনের বদলে বইগুলোতে এক ভিন্ন মাত্র আনার চেষ্টা করেন।[৫৯] তাঁর এ চেষ্টার একটি ফল ছিল ব্যাটম্যান #৪০৪–৪০৭ (ফেব্রুয়ারি–মে ১৯৮৭)-এর ইয়ার ওয়ান কাহিনী, যাতে ফ্র্যাংক মিলার এবং শিল্পী ডেভিড মাজুকেলি চরিত্রটির শুরুর কাহিনী নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। ১৯৮৮ সালের ৪৮ পৃষ্ঠার একক কমিক ব্যাটম্যান: দ্য কিলিং জোক এর মাধ্যমে লেখক অ্যালান মুর এবং শিল্পী ব্রায়ান বোল্যান্ড এ উপস্থাপনাটি চালিয়ে যান, যে গল্পে জোকার কমিশনার গর্ডন-এর মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য গর্ডনের মেয়ে বারবারাকে পঙ্গু করে দেয়, এবং তার পরে কমিশনারকে অপহরণ এবং অত্যাচার করে, শারীরিক ও মানসিক দু'ভাবেই।

ব্যাটম্যান কমিক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১৯৮৮ সালে যখন ডিসি কমিকস একটি নম্বর তৈরি করে যাতে পাঠকরা কল করে দ্বিতীয় রবিন জেসন টড-এর জীবিত বা মৃত থাকা বিষয়ে ভোট দিতে পারত। মাত্র ২৮টি ভোটের ব্যবধানে ভোটাররা জেসনের মৃত্যু হওয়া নির্ধারণ করে।[৬০]

নাইটফল[সম্পাদনা]

১৯৯৩ সালের নাইটফল কাহিনীটি একজন নতুন শত্রু বেনকে পরিচয় করিয়ে দেয়, যে ব্যাটম্যানকে তাঁর সহ্যের সীমায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে মারাত্মকভাবে চোটগ্রস্ত করে। জ্যাঁ-পল ভ্যালি, যে আজরাইল নামেও পরিচিত, ব্রুস ওয়েন সেরে ওঠার সময় ব্যাটম্যানের দায়িত্ব পালন করে। লেখক ডগ মোয়েঞ্চ, চাক ডিক্সন এবং অ্যালান গ্র্যান্ট নাইটফল-এর সময় ব্যাটম্যানের গল্পগুলোতে কাজ করেছিলেন, এবং নব্বইয়ের দশকজুড়ে অন্যান্য ব্যাটম্যান ক্রসওভারগুলোতেও অবদান রেখেছিলেন। ১৯৯৮-এর ক্যাটাক্লিজম কাহিনীটি ১৯৯৯ সালের নো ম্যান'স ল্যান্ড-এর আগের কাহিনী হিসেবে কাজ করে। নো ম্যান'স ল্যান্ড এক বছর ধরে ব্যাটম্যানের গল্পগুলোতে চলেছিল, যাতে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত একটি গথাম সিটির কাহিনী বলা হয়েছিল। নো ম্যান'স ল্যান্ড শেষ হওয়ার পর ও'নিল সম্পাদকের থেকে সরে দাঁড়ান এবং তাঁর জায়গা নেন বব শ্রেক

আরেকজন লেখক যিনি ব্যাটম্যান কমিক সিরিজের মধ্য দিয়ে খ্যাতি লাভ করেন, হলেন জেফ লোব। তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী টিম সেলের সাথে তিনি দু'টি মিনিসিরিজ লিখেছিলেন (দ্য লং হ্যালোউইন এবং ডার্ক ভিক্টরি) যেগুলো ব্যাটম্যানের প্রথম দিকের একটি সংস্করণকে উপস্থাপন করেছিল যিনি তাঁর সকল শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছিলেন (বিশেষ করে টু-ফেস, যার পেছনের কাহিনী লোব নতুন করে লিখেছিলেন) এবং একই সাথে হলিডে এবং হ্যাংম্যানের মত সিরিয়াল কিলারদের রহস্য উদ্ঘাটন করছিলেন। ২০০৩ সালে লোব শিল্পী জিম লির সাথে প্রধান ব্যাটম্যান বইয়ের জন্য ব্যাটম্যান: হাশ নামে আরেকটি রহস্যগল্পের ওপর কাজ করেছিলেন। বারোটি ইস্যুর গল্পটিতে ব্যাটম্যান এবং ক্যাটওম্যান দলবদ্ধ হয়ে ব্যাটম্যানের পুরো শত্রুদলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তাদের সাথে থাকে আপাত পুনর্জীবিত জেসন টড, এবং তারা রহস্যময় সুপারভিলেন হাশ-এর পরিচয় বের করার চেষ্টা করে। যদিও হাশ চরিত্রটি পাঠকদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়, কাহিনীটি ডিসির জন্য সাফল্য বয়ে আনে। যেহেতু কাহিনীটি ছিল প্রায় এক দশকের মধ্যে জিম লি-এর প্রথম নিয়মিত কমিক বইয়ে কাজ, কাহিনীটি ব্যাটম্যান #৫০০ (অক্টোবর ১৯৯৩)-এর পর প্রথমবারের মতো ডায়মন্ড কমিক ডিস্ট্রিবিউটরস-এর বিক্রির তালিকায় এক নম্বর স্থানে উঠে আসে এবং জেসন টডের উপস্থিতি লেখক জুড উইনিককে সুযোগ করে দেয় ব্যাটম্যান-এ লেখক হিসেবে নিয়মিত কাজ করার। এরপরই বের হয়েছিল আরেকটি একাধিক ইস্যু নিয়ে কাহিনী আন্ডার দ্য হুড, যেটি চলেছিল ব্যাটম্যান #৬৩৭ থেকে #৬৫০ পর্যন্ত।

অল-স্টার ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন[সম্পাদনা]

২০০৫ সালে ডিসি প্রকাশ করে অল-স্টার ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন যেটি ছিল ডিসি ইউনিভার্সের বাইরের কাহিনী নিয়ে একটি একক কমিক সিরিজ। ফ্র্যাংক মিলারের লেখা ও জিম লির আঁকা সিরিজটি ডিসি কমিকসের জন্য বাণিজ্যিক সাফল্য বয়ে আনে,[৬১][৬২] যদিও এর লেখা ও নিষ্ঠুরতা প্রদর্শনের জন্য এটি সমালোচকদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিল।[৬৩][৬৪]

২০০৬ সাল থেকে ব্যাটম্যান এবং ডিটেকটিভ কমিকস-এর নিয়মিত লেখক হন গ্র্যান্ট মরিসন এবং পল ডিনি। গ্র্যান্ট মরিসন ব্যাটম্যানের কাহিনীর কিছু বিতর্কিত বিষয় আবার চরিত্রটির মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। মরিসনের কাজ উৎকর্ষে পৌঁছায় "ব্যাটম্যান R.I.P."-এর মধ্য দিয়ে, যাতে ব্যাটম্যান ভয়ংকর "ব্ল্যাক গ্লাভ" সংস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করেন, যে সংস্থাটি ব্যাটম্যানকে পাগল করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করত। "ব্যাটম্যান R.I.P." থেকে জন্ম হয় ফাইনাল ক্রাইসিস-এর (যেটিও মরিসনের লেখা), যাতে ডার্কসাইড-এর হাতে ব্যাটম্যানের দৃশ্যত মৃত্যু হয়। ২০০৯ সালের মিনিসিরিজ ব্যাটম্যান: ব্যাটল ফর দ্য কাউল-এ ওয়েনের প্রাক্তন শিষ্য ডিক গ্রেসন নতুন ব্যাটম্যান হয়, এবং ওয়েনের ছেলে ডেমিয়েন নতুন রবিন হয়।[৬৫][৬৬] ২০০৯ সালের জুনে জুড উইনিক ব্যাটম্যান লেখার কাজে ফিরে আসেন, এবং গ্র্যান্ট মরিসনকে তাঁর নিজের সিরিজ দেওয়া হয়, যার নাম ছিল ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন[৬৭]

২০১০ সালের কাহিনী ব্যাটম্যান: দ্য রিটার্ন অব ব্রুস ওয়েন-এ ব্রুসকে দেখা যায় ইতিহাসের মধ্য দিয়ে পরিভ্রমণ করে বর্তমান সময়ে ফিরে আসতে। যদিও তিনি আবার ব্যাটম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তিনি গ্রেসনকেও ব্যাটম্যান থাকার অনুমতি দেন। ব্রুস তাঁর অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যেটি ব্যাটম্যান ইনকর্পোরেটেড-এর মূল কাহিনী। ডিসি কমিকস পরবর্তীতে ঘোষণা দেয় যে ব্যাটম্যান, ডিটেকটিভ কমিকস এবং ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন-এর প্রধান চরিত্র হবে গ্রেসন, অন্যদিকে ব্রুস প্রধান চরিত্র হিসেবে থাকবেন ব্যাটম্যান ইনকর্পোরেটেড-এ। এছাড়াও, ব্রুস চলমান অন্য একটি সিরিজ, ব্যাটম্যান: দ্য ডার্ক নাইট-এও উপস্থিত হন।

দ্য নিউ ৫২[সম্পাদনা]

২০১১ সালের সেপ্টেম্বেরে নিউ ৫২ রিবুটের অংশ হিসেবে ব্যাটম্যানসহ ডিসি কমিকসের সব সুপারহিরো বই বাতিল করে দেওয়া হয় এবং #১ ইস্যু দিয়ে নতুন করে শুরু করা হয়। ব্রুস ওয়েন এখানে একমাত্র ব্যাটম্যান এবং তিনি উপস্থিত হন ব্যাটম্যান, ডিটেকটিভ কমিকস, ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন এবং ব্যাটম্যান: দ্য ডার্ক নাইট গল্পগুলোতে। ডিক গ্রেসন আবার নাইটউইং-এর কাজে ফিরে যায় এবং নিজের নামে চলমান সিরিজে উপস্থিত হয়। নতুন পাঠকদের আকৃষ্ট করার জন্য অনেক চরিত্রের ইতিহাস উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দেয়া হলেও ব্যাটম্যানের ইতিহাস প্রায় একইরকম থাকে। "লেভিয়াথান" কাহিনীটি সম্পূর্ণ করার জন্য ২০১২–২০১৩ সালে ব্যাটম্যান ইনকর্পোরেটেড আবার শুরু করা হয়। নিউ ৫২-এর শুরু থেকেই স্কট স্নাইডার ব্যাটম্যানের গল্পের লেখক হিসেবে কাজ করে এসেছেন। তাঁর প্রথম বড় গল্প ছিল "নাইট অব দি আউলস", যেখানে ব্যাটম্যান মুখোমুখি হয় কোর্ট অব আউলস-এর, একটি গোপন সংস্থা যেটি গথামকে অনেক বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। দ্বিতীয় কাহিনীটি ছিল "ডেথ অব দ্য ফ্যামিলি", যেখানে জোকার গথাম শহরে ফেরত আসে এবং একইসাথে ব্যাটম্যান পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের ওপর আক্রমণ করে। তৃতীয় কাহিনীটি ছিল "ব্যাটম্যান: জিরো ইয়ার", যেটিতে নিউ ৫২-এর ব্যাটম্যানের শুরুর কাহিনী নতুন করে দেখানো হয়। এর পরই বের হয় ব্যাটম্যান #০ (জুন ২০১২), যেটিতে চরিত্রটির প্রথম বছরগুলোতে আলোকপাত করা হয়। ২০১৫ সালের কনভারজেন্স ইভেন্টের আগে শেষ কাহিনীটি ছিল এন্ডগেম, যেখানে জোকার গথাম সিটিতে এন্ডগেম ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার পর ব্যাটম্যান ও জোকারের মধ্যে শেষ যুদ্ধ দেখানো হয়। কাহিনীটি শেষ হয় ব্যাটম্যান এবং জোকারের আপাত মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

ইস্যু #৪১ থেকে কমিশনার জেমস গর্ডন ব্রুসের জায়গা নেন নতুন এক মেকা-ব্যাটম্যান হিসেবে, যেটি প্রথম আসে ফ্রি কমিক বই দিবসের বিশেষ কমিক ডাইভারজেন্স-এ। কিন্তু দ্রুতই আবিষ্কৃত হয় যে ব্রুস ওয়েন জীবিত আছেন। তবে তিনি তাঁর ব্যাটম্যান হিসেবে জীবনের প্রায় সব স্মৃতি হারিয়ে ফেলেন এবং আলফ্রেডের কাছ থেকে জানার পর তাঁর শুধু তাঁর ব্রুস ওয়েন হিসেবে জীবনের কথাই মনে থাকে। ব্রুস ওয়েন জীবনে আনন্দ খুঁজে পান এবং তাঁর গার্লফ্রেন্ড জুলিকে প্রপোজ করেন, কিন্তু মি. ব্লুম জেমস গর্ডনকে চোটগ্রস্ত করে গথাম সিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং একটি পার্টিকেল রিঅ্যাক্টরকে শক্তি দিয়ে একটি "অদ্ভুত তারা" সৃষ্টি করে শহর ধ্বংস করে ফেলার হুমকি দেন। ব্রুস ওয়েন একসময় তাঁর ব্যাটম্যান হওয়ার সত্য আবিষ্কার করেন। সবসময় হাসতে থাকা একজন অপরিচিত লোকের সাথে কথা বলার পর তিনি আলফ্রেডকে জোর করেন তাঁর মাথায় ব্যাটম্যানের স্মৃতি প্রবেশ করানোর জন্য, কিন্তু এতে তাঁর ব্রুস ওয়েন থাকার স্মৃতি হারিয়ে যায়। তিনি ফিরে আসেন এবং জেমস গর্ডনকে সাহায্য করেন মি. ব্লুমকে হারাতে ও রিঅ্যাক্টরটি বন্ধ করে দিতে। গর্ডন তাঁর কমিশনারের চাকরি ফিরে পান, এবং সরকারের ব্যাটম্যান প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।[৬৮]

২০১৫ সালে ডিসি কমিকস প্রকাশ করে দ্য ডার্ক নাইট III: দ্য মাস্টার রেস, যেটি ফ্র্যাংক মিলারের দ্য ডার্ক নাইট এবং দ্য ডার্ক নাইট স্ট্রাইকস অ্যাগেইন-এর সিক্যুয়েল।[৬৯]

ডিসি রিবার্থ[সম্পাদনা]

২০১৬ সালের জুনে ডিসি রিবার্থ দ্বারা ডিসি কমিকসের সব কমিক বই নতুন করে শুরু করা হয়। ব্যাটম্যান রিবুট করে ফেলা হয় একটি একক ইস্যু দিয়ে এবং তা প্রতি দুই মাস অন্তর বের হতে থাকে, যা শুরু হয় ব্যাটম্যান ভলিউম ৩, #১ (জুন ২০১৬) দিয়ে। সিরিজটির লেখক ছিলেন টম কিং, এবং ছবি এঁকেছিলেন ডেভিড ফিঞ্চ এবং মিকেল জেনিন। ব্যাটম্যান সিরিজটিতে নতুন দু'জন ভিজিল্যান্টিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, গথাম এবং গথাম গার্ল। ডিটেকটিভ কমিকস তার আসল নম্বরের ধারা পুনরায় শুরু করে জুন ২০১৬-এর #৯৩৪ দিয়ে, এবং সিরিজটির নিউ ৫২-এর ভলিউম ২ ভলিউম ১-এ যোগ করে দেয়া হয়।[৭০] লেখক চতুর্থ জেমন টাইনিয়ন এবং শিল্পী এডি ব্যারোস এবং আলভারো মার্তিনেজ কাজ করেছেন ডিটেকটিভ কমিকস #৯৩৪-এ, এবং সিরিজটিতে প্রথমে টিম ড্রেক, স্টেফানি ব্রাউন, ক্যাসান্দ্রা কেইনক্লেফেস-কে নিয়ে একটি দল আবির্ভূত হয়, যার নেতৃত্বে ছিল ব্যাটম্যান ও ব্যাটওম্যান

চরিত্রায়ন[সম্পাদনা]

ব্রুস ওয়েন[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যানের গোপন পরিচয় হলো ব্রুস ওয়েন, একজন ধনী মার্কিন শিল্পপতি। ছোটবেলায় ব্রুস তাঁর বাবা থমাস ওয়েন ও মা মার্থা ওয়েনের হত্যাকাণ্ড স্বচক্ষে দেখেছিলেন, যা থেকেই তাঁর মনে অপরাধীদের প্রতি বিদ্বেষ জেগে ওঠে এবং তিনি তাঁর ব্যাটম্যান রূপটি সৃষ্টি করেন। তিনি বাস করেন তাঁর নিজের বাড়ি ওয়েন ম্যানরে, যেটি গথাম সিটির বাইরের অংশে অবস্থিত। ওয়েন মানুষের সন্দেহ এড়ানোর জন্য একজন ধনীর বখে যাওয়া সন্তানের অভিনয় করেন।[৭১][৭২] তিনি তাঁর অলাভজনক ওয়েন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নানারকম জনহিতকর কাজে সহযোগিতা করেন।[৭৩] সাধারণত উচ্চবংশের মহিলাদের সাহচর্যে তাঁকে দেখা যায়, যা নিয়ে পত্রিকায় অনেক আলোচনা হয়। যদিও ব্রুস ওয়েনের রোমান্টিক জীবনযাপনই বেশিরভাগের দৃষ্টিগোচর হয়, তিনি বেশিরভাগ সময় অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকেন।[৭৪]

ব্যাটম্যান ও সুপারম্যানের লেখকগণ এ দু'টি চরিত্রের মধ্যে অনেক সময়েই তুলনা ও পার্থক্য করেছেন। এ উপস্থাপনা নির্ভর করেছে লেখক, কাহিনী ও সময়ের ওপর। গ্র্যান্ট মরিসন[৭৫] বলেছেন যে দু'জন হিরোই "একই ধরনের বিষয়ে বিশ্বাস করে" যদিও তাদের বীরত্বের প্রদর্শনীর মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। তাঁর মতে এ দু'জনের আসল পরিচয়ের মধ্যেও একই রকম বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। ব্রুস ওয়েন এবং ক্লার্ক কেন্টের অবস্থান ভিন্ন সামাজিক শ্রেণীতে: "ব্রুসের চাকর আছে, ক্লার্কের আছে বস।" টি. জেমস মাসলারের বই আনলিশিং দ্য সুপারহিরো ইন আস অল ব্রুস ওয়েনের জীবনে ও অপরাধের সাথে যুদ্ধে তার বিপুল সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে।[৭৬]

আধুনিক গল্পগুলো ব্রুস ওয়েনের উড়নচণ্ডী ও ফুর্তিবাজ রূপটিকে বাহ্যিক রূপ হিসেবে দেখায়[৭৭] (পোস্ট-ক্রাইসিস সুপারম্যানের বিপরীত, যার ক্লার্ক কেন্ট পরিচয়টি তার প্রকৃত পরিচয়, এবং সুপারম্যান পরিচয়টি বাহ্যিক)।[৭৮][৭৯] ব্যাটম্যানের মনস্তত্ব সম্পর্কিত ব্যাটম্যান আনমাস্কড নামের এক টেলিভিশন তথ্যচিত্রে আচরণ বিষয়ক বিজ্ঞানী বেনজামিন কার্নি বলেছেন যে ব্যাটম্যানের ব্যক্তিত্ব পরিচালিত হয় ব্যাটম্যানের মধ্যে থাকা মনুষ্যত্ব দ্বারা, যে "Batman, for all its benefits and for all of the time Bruce Wayne devotes to it, is ultimately a tool for Bruce Wayne's efforts to make the world better"।

উইল ব্রোকার তাঁর বই ব্যাটম্যান আনমাস্কড-এ বলেছেন, "the confirmation of the Batman's identity lies with the young audience ... he doesn't have to be Bruce Wayne; he just needs the suit and gadgets, the abilities, and most importantly the morality, the humanity. There's just a sense about him: 'they trust him ... and they're never wrong."[৮০]

চরিত্রটি সৃষ্টির সময় কিছু বিশেষ কারণে "ব্রুস ওয়েন" নামটি পছন্দ করা হয়। স্রষ্টা বিল ফিঙ্গারের মতে, "Bruce Wayne's first name came from Robert Bruce, the Scottish patriot. Wayne, being a playboy, was a man of gentry. I searched for a name that would suggest colonialism. I tried Adams, Hancock ... then I thought of Mad Anthony Wayne."[৮১]

ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যানের চরিত্রের প্রধান দিকগুলো হলো "ধন; শারীরিক শক্তি; অনুসন্ধানী দক্ষতা এবং অবসেশন"[৮২] ভিন্ন ভিন্ন ক্রিয়েটিভ টিম কাজ করার কারণে সময়ের সাথে ব্যাটম্যান কমিক বইয়ের কাহিনীর ধরন পাল্টেছে। ডেনিস ও'নিল বলেছেন যে সম্পাদনার প্রথম দিকে চরিত্রের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল না: "Julie Schwartz did a Batman in Batman and Detective and Murray Boltinoff did a Batman in the Brave and the Bold and apart from the costume they bore very little resemblance to each other. Julie and Murray did not want to coordinate their efforts, nor were they asked to do so. Continuity was not important in those days."[৮৩]

ব্রুস ওয়েনের চরিত্রের চালক হিসেবে কাজ করে তাঁর বাবা-মায়ের মৃত্যু ও তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। বব কেন এবং বিল ফিঙ্গার ব্যাটম্যানের পেছনের কাহিনী নিয়ে আলোচনা করেন এবং ঠিক করেন যে "নিজের চোখের সামনে বাবা-মাকে খুন হতে দেখার চেয়ে দুঃসহ কিছুই নেই"।[৮৪] তাঁর ট্রমা সত্ত্বেও তিনি ব্যাটম্যান হিসেবে গথাম সিটিতে অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বিজ্ঞানী হতে [৮৫][৮৬] এবং নিজেকে শারীরিক গঠন নিখুঁত করতে মনস্থির করেন,[৮৫][৮৬] যে আইডিয়াটি আসে অপরাধীদের মন সম্পর্কে তাঁর ধারণা হতে।[৮৫][৮৬]

ব্যাটম্যানের চরিত্রের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাঁর ভিজিল্যান্টির রূপ; তাঁর মা-বাবার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যে অরাজকতা শুরু হয়েছিল, তা থামাতে তাঁকে নিজেকেই অনেক সময় আইন ভাঙতে হয়। যদিও ভিন্ন ভিন্ন লেখক চরিত্রটিকে ভিন্ন ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন, ব্যাটম্যানের উৎপত্তির কাহিনীর মূল বিষয়গুলো কমিকগুলোতে কখনওই পরিবর্তিত হয় নি।[৮৭] চরিত্রটির মূল কাহিনী থেকেই চরিত্রটির বৈশিষ্ট্যসমূহের সৃষ্টি, যেসব বৈশিষ্ট্য চরিত্রটির অনেক কাহিনীতেই পরিলক্ষিত হয়।[৮২]

ব্যাটম্যানের গল্পগুলোতে অনেক সময়ই ব্যাটম্যান অন্যান্য চরিত্রসমূহ দ্বারা একজন ভিজিল্যান্টি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফ্র্যাংক মিলার চরিত্রটিকে বলেছেন "একটি ডায়োনাইজিয়ান অবয়ব, অরাজকতার বিরুদ্ধ একটি শক্তি যে প্রত্যেকের জন্য আলাদা আইন মানে"।[৮৮] লড়াইয়ে সহায়তা পাবার জন্য ব্যাটম্যান বাদুড়ের পোশাক পরিধান করে স্বেচ্ছায় একটি ভীতিকর পরিচয় সৃষ্টি করেন,[৮৯] যে ভয় অপরাধীদের নিজেদের অপরাধবোধ থেকেই আসে।[৯০] মিলারকে প্রায়শই বলা হয় ব্যাটম্যানের চরিত্রে অ্যান্টিহিরোইক বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনার কারিগর,[৯১] যেসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আছে নৃশংসতা, অত্যাচারের বাসনা এবং চরমভাবাপন্ন আচরণ। পঞ্চাশের দশকে ব্যাটম্যানের মূল চরিত্রে পরিবর্তন আনা হয়, যখন বর্তমানে বিলুপ্ত কমিক বুক নীতির প্রচলন হয়; এবং ডিসির সম্পাদক হুইটনি এলসওর্থ প্রচলন করেন এক নতুন ব্যাটম্যান যাঁর মধ্যে ছিল নৈতিকতা যা তাঁকে খুন করা থেকে দূরে রাখে।[৯১] মিলারের ব্যাটম্যান আসল স্বর্ণযুগের চরিত্রটির অনেক কাছাকাছি গিয়েছিল, যিনি প্রয়োজনে খুন করতে পারতেন।[৯২]

অন্যান্য[সম্পাদনা]

প্রাক্তন রবিন ডিক গ্রেসন দু'বার ব্যাটম্যানের ভূমিকা পালন করেছে। সে ব্যাটম্যান ছিল খুব অল্প সময়ের জন্য যখন ওয়েন ১৯৯৩ সালের নাইটফল কাহিনীতে বেনের দেওয়া মেরুদণ্ডের চোট থেকে সেরে উঠছিলেন। সে আবার ব্যাটম্যান হয় ২০০৯ সালের একটি কমিক বইয়ে যখন ওয়েনকে মৃত বলে সবাই ধরে নিয়েছিল। ২০১০ সালে ওয়েন ফিরে আসার পরও সে দ্বিতীয় ব্যাটম্যান হিসেবে কাজ চালিয়ে গিয়েছিল। ডিসির ২০১১ সালের কাহিনী রিবুটের অংশ হিসেবে ফ্ল্যাশপয়েন্ট ক্রসওভার ইভেন্টের পর গ্রেসন নাইটউইংয়ের কাজে ফিরে যায়।

আইজিএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মরিসন বলেছেন যে ডিক গ্রেসনকে ব্যাটম্যান এবং ডেমিয়েন ওয়েনকে রবিন হিসেবে দেখানোটা ছিল ব্যাটম্যান ও রবিনের মধ্যকার সাধারণ সম্পর্কের "রিভার্স", যাতে ছিল "a more light-hearted and spontaneous Batman and a scowling, badass Robin"। মরিসন ব্যাটম্যানের নতুন চরিত্রায়নের পেছনের কারণ বলতে গিয়ে বলেন: "Dick Grayson is kind of this consummate superhero. The guy has been Batman's partner since he was a kid, he's led the Teen Titans, and he's trained with everybody in the DC Universe. So he's a very different kind of Batman. He's a lot easier; He's a lot looser and more relaxed."[৬৫]

সময়ের সাথে আরও অনেকেই ব্যাটম্যানের দায়িত্ব নিয়েছে, অথবা ব্রুসের অনুপস্থিতির সময় কাজ করেছে। জ্যাঁ-পল ভ্যালি, যে আজরাইল নামেও পরিচিত, নাইটফল কাহিনীর পর ব্যাটম্যানের ভূমিকা পালন করে। ব্যাটম্যান: এন্ডগেম-এর কাহিনীর পর জেমস গর্ডন একটি যান্ত্রিক পোশাক পরিধান করেন এবং ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ব্যাটম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও, ব্রুস ওয়েনের নিজের ভিজিল্যান্টিজম অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টার ফল ব্যাটম্যান ইনকর্পোরেটেড দলের সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন শহরে আনুষ্ঠানিক ব্যাটম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। অন্যান্য মহাবিশ্ব এবং সম্ভাব্য কিছু ভবিষ্যতের কাহিনীতে অন্য অনেকেই ব্যাটম্যানের ভূমিকা নিয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই ব্রুস ওয়েনের প্রাক্তন শিষ্য।

ক্ষমতা[সম্পাদনা]

দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যানের কোনও অতিমানবীয় ক্ষমতা নেই। তিনি "তাঁর নিজের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, অনুসন্ধানী ক্ষমতা এবং অ্যাথলেটিক দক্ষতা"র ওপর নির্ভর করেন।[৩৪] কাহিনীগুলোতে ব্যাটম্যানকে বলা হয় বিশ্বের সেরা গোয়েন্দাদের একজন এবং বিশ্বের সেরা অপরাধ দমনকারী।[৯৩] ব্যাটম্যানের বুদ্ধিমত্তা চৌকস পর্যায়ের, এবং তিনি ডিসি ইউনিভার্সের সেরা মার্শাল আর্টিস্টদের একজন। তিনি শারীরিকভাবেও পুরোপুরি সক্ষম।[৯৪] তিনি একজন বহুবিদ্যাবিশারদ, এবং ডিসি ইউনিভার্সের খুব কম চরিত্রই তাঁর মতো অগণিত বিষয়ে জ্ঞান রাখে।[৯৫] অপরাধের বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধে সাহায্য করার মতো দক্ষতা অর্জন করতে তিনি সারা বিশ্ব ভ্রমণ করেছেন। সুপারম্যান: ডুমড কাহিনীতে সুপারম্যান ব্যাটম্যানকে গ্রহের সেরা বুদ্ধিজীবীদের একজন বলে আখ্যায়িত করেন।[৯৬] ব্যাটম্যানের অফুরন্ত সম্পদ তাঁকে উন্নত প্রযুক্তি পেতে সাহায্য করে, এবং একজন দক্ষ বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি তাঁর সুবিধেমতো এসব প্রযুক্তি পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যাটম্যান নানা ধরনের মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, যার মধ্যে ছিল ১২৭টিরও বেশি ধরনের মার্শাল আর্ট; যা তাঁকে ডিসি ইউনিভার্সের খালি হাতে লড়াইয়ে সেরাদের একজন করেছে। সুপারম্যানের মতে ব্যাটম্যান হলেন "the most dangerous man on Earth", যিনি গ্র্যান্ট মরিসনের JLA-এর প্রথম কাহিনীতে তাঁর আটক সতীর্থদের বাঁচাতে একা অতিমানবীয় ক্ষমতা সম্পন্ন ভিনগ্রহের প্রাণীদের পুরো একটি দলকে হারিয়েছিলেন।

ব্যাটম্যান প্রচণ্ড শারীরিক ব্যথা নিয়েও কাজ করতে পারেন। তাঁর ওপর টেলিপ্যাথি এবং মাইন্ড কন্ট্রোল-এরও কোনও প্রভাব পড়ে না। তিনি সুনিপুণ ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারেন, কয়েকটি ভাষা জানেন এবং গুপ্তচরগিরিতেও তিনি দক্ষ। তিনি অনেক সময় ম্যাচেস ম্যালন নামের এক দুর্ধর্ষ মাস্তানের পরিচয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। তিনি একজন পলায়নবিশারদ, যে বিদ্যার সাহায্যে তিনি অনেক শক্ত ফাঁদ থেকেও সহজেই বের হয়ে আসতে পারেন।

ব্যাটম্যান একজন জিজ্ঞাসাবাদ বিশেষজ্ঞ এবং তিনি প্রায়ই অপরাধীদের মুখ থেকে তথ্য বের করার জন্য চরম পদ্ধতি অবলম্বন করেন, যেমন দালানের ছাদ থেকে নিচের দিকে কাউকে ঝুলিয়ে রাখা। অনেক সময় তাঁর ভয়-ধরানো বাহ্যিক রূপই সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে তথ্য বের করার জন্য যথেষ্ট হয়। তাঁর শত্রুদের আঘাত করার সুযোগ থাকলেও তিনি ন্যায়বিচারের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন এবং কোনও পরিস্থিতিতেই কারও জীবন নেওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন না। এটিই ব্যাটম্যানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তাঁর এ নৈতিকতার জন্য তিনি ডিসি ইউনিভার্সের অনেক হিরোর কাছ থেকে শ্রদ্ধা আদায় করে নিয়েছেন, যে হিরোদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুপারম্যানওয়ান্ডার ওম্যান

শারীরিক এবং লড়াই করার দক্ষতার মধ্যে তিনি অন্যান্য বিষয়েও বেশ পারদর্শী। তিনি একজন লাইসেন্সধারী পাইলট (যা ব্যাটপ্লেন চালানোর সময় কাজে লাগে), এবং তিনি অন্য অনেক যন্ত্রপাতিও চালাতে পারেন। কয়েকটি প্রকাশনায় তিনি জাদুবিদ্যায়ও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

প্রযুক্তি[সম্পাদনা]

ব্যক্তিগত বর্ম[সম্পাদনা]

অপরাধীদের মনে ভয় ধরানোর জন্য ব্যাটম্যানের বর্মযুক্ত পোশাকে বাদুড়ের অবয়ব যুক্ত করা হয়েছে।[৯৭] ব্যাটম্যানের পোশাকের খুঁটিনাটি বিষয় বিভিন্ন সময়, গল্প, মাধ্যম ও শিল্পীভেদে পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো সবসময় একই থেকেছে: একটি কেপ, প্রায় সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা একটি কেপ, বাদুড়ের মতো একজোড়া কান, বুকে একটি বাদুড়ের চিহ্ন এবং কোমরে ইউটিলিটি বেল্ট। ফিঙ্গার এবং কেন প্রথমে ব্যাটম্যানকে একটি কালো কেপ, কালো কাউল ও ধূসর রঙের পোশাক দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে রং করার সময় কালোর সাথে নীল রঙের হাইলাইট দেওয়ার প্রয়োজন হয়।[৯৭] তাই কমিকে পোশাকের রং দেওয়া হয়েছে গাঢ় নীল ও ধূসর;[৯৭] এবং সেই সাথে কালো ও ধূসর। টিম বার্টনের ব্যাটম্যান এবং ব্যাটম্যান রিটার্নস ফিল্মগুলোতে ব্যাটম্যানের পোশাক ছিল সম্পূর্ণ কালো রঙের এবং তার মাঝখানে ছিল একটি হলুদ বৃত্তের ওপর একটি বাদুড়ের চিহ্ন। ক্রিস্টোফার নোলান-এর দ্য ডার্ক নাইট ট্রিলজিতে ব্যাটম্যানের একটি কালো রঙের আধুনিক পোশাক ছিল যার মাঝখানে ছিল একটি কালো রঙের বাদুড়। ডিসি এক্সটেন্ডেড ইউনিভার্সে বেন অ্যাফ্লেক-এর ব্যাটম্যানের পরিধানকৃত পোশাকের সাথে কমিক বইয়ের পোশাকের অনেক মিল রয়েছে, যাতে প্রধান পোশাকটি ধূসর রঙের, আর তার সাথে থাকে কালো রঙের কাউল, কেপ ও বাদুড়ের চিহ্ন।

ব্যাটম্যানের ব্যাটস্যুট তাঁকে শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। এ স্যুটে কেভলার এবং নোমেক্স উভয়েরই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এটি তাঁকে বন্দুকের গুলি এবং অন্যান্য সংঘর্ষের হাত থেকে বাঁচায়। তাঁর গ্লাভস অর্থাৎ হাতমোজা দু'টির মধ্যে তিনটি করে স্ক্যালপ থাকে, যদিও প্রথম দিকে তাঁর গ্লাভসে কোনও স্ক্যালপ ছিল না।[৯৮] চরিত্রটির বাহ্যিক চেহারা, বিশেষ করে কাউলের কান এবং কেপের দৈর্ঘ্য, সবসময়ই শিল্পীর ওপর নির্ভর করে। ডেনিস ও'নিল বলেছেন, "We now say that Batman has two hundred suits hanging in the Batcave so they don't have to look the same ... Everybody loves to draw Batman, and everybody wants to put their own spin on it."[৯৯]

ব্যাটমোবিল[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যানের প্রধান যান হলো ব্যাটমোবিল, যেটিকে দেখানো হয় একটি আকর্ষণীয় কালো গাড়ি হিসেবে। এ গাড়িতে অনেক সময় বাদুড়ের ডানার মত টেইলফিনও থাকে। ব্যাটম্যানের ব্যাটপ্লেন (পরবর্তীতে "ব্যাটউইং") নামে একটি উড়োজাহাজও আছে। এছাড়াও আরও কিছু যানবাহন তাঁর কাছে আছে। প্রকৃতপক্ষে নামের প্রথমে যুক্ত হওয়া "ব্যাট" কথাটি (যেমন ব্যাটমোবিল বা ব্যাটারাং) ব্যাটম্যান নিজে খুব কম ব্যবহার করেন যখন তিনি তাঁর যন্ত্রপাতির কথা বলেন। এটি ঘটেছিল বিশেষ করে তখন, যখন ব্যাটম্যানের কিছু উপস্থাপনা (প্রধানত ষাটের দশকের ব্যাটম্যান টিভি সিরিজ এবং সুপার ফ্রেন্ডস অ্যানিমেটেড সিরিজ) বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে ফেলেছিল। উদাহরণস্বরূপ, ষাটের দশকের টিভি সিরিজটিতে ছিল অন্য অনেক বাদুড়ভিত্তিক যানের মধ্যে ব্যাটবোট, ব্যাট-সাব এবং ব্যাটসাইকেল। টিভি সিরিজটিতে ব্যাটম্যানের কাছে "ব্যাট-" নামযুক্ত আরও অনেক জিনিস ছিল যেমন ব্যাট-কম্পিউটার, ব্যাট-স্ক্যানার, ব্যাট-রাডার, ব্যাট-কাফস, ব্যাট-পন্টুনস, ব্যাট-ড্রিংকিং ওয়াটার ডিসপেন্সার, পোলারাইজড ব্যাট-ফিল্টারযুক্ত ব্যাট-ক্যামেরা, ব্যাট-শার্ক রিপেলেন্ট ব্যাট-স্প্রে এবং ব্যাট-রোপ। "আ ডেথ ইন দ্য ফ্যামিলি" কাহিনীতে বলা হয় যে ব্যাটম্যানের চরিত্রের কারণে "ব্যাট" কথাটি তাঁর নিজের গ্রহণ করার সম্ভাবনা কম। দ্য ডার্ক নাইট রিটার্নস-এ ব্যাটম্যান ক্যারি কেলিকে বলেন যে প্রথম রবিন তার ছোটবেলায় "ব্যাটমোবিল" নামটি প্রথম বলেছিল, কারণ একজন শিশু ব্যাটম্যানের গাড়িকে সেটাই বলত। ২০১১ সালে ডিসি কমিকস তাদের সব কমিক নতুন করে শুরু করার সময় ব্যাটমোবিলকে একটি নতুন রূপ দেওয়া হয় এবং তাতে ভারী বর্ম যোগ করা হয়।

ইউটিলিটি বেল্ট[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যান তাঁর বেশিরভাগ অস্ত্র তাঁর ইউটিলিটি বেল্টের মধ্যে রাখেন। এ বেল্টের মধ্যে নানা ধরনের অস্ত্র ও অনুসন্ধানকাজের জন্য নানা রকমের উপকরণ থাকে। বিভিন্ন সংস্করণে বেল্টটিতে এসব বস্তু রাখা হত আলাদা আলাদা অংশে, অনেক সময়ই ছোট থলে বা চোঙার মধ্যে যেগুলো বেল্টটির চারদিকে সমানভাবে লাগানো থাকত। ব্যাটম্যান অনেক সময়ই একটি যন্ত্র বহন করেন যা থেকে একটি কেবলযুক্ত গ্র্যাপলিং হুক বের হয়ে আসে। এটি তাঁকে দূরবর্তী বস্তুর কাছে যেতে, নিজেকে আকাশে উঠিয়ে নিতে এবং গথাম সিটির এক ছাদ থেকে অন্য ছাদে সহজে যেতে সাহায্য করে। ব্যাটম্যানের অস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম হলো বন্দুক, যেটি তিনি ব্যবহার করতে রাজি হন না, যেহেতু তাঁর বাবা-মার হত্যাকাণ্ডে একটি বন্দুক ব্যবহৃত হয়েছিল।

ব্যাট-সিগনাল[সম্পাদনা]

যখন ব্যাটম্যানকে প্রয়োজন হয়, গথাম সিটির পুলিশেরা একটি বিশেষ সার্চলাইট জ্বালান। এ সার্চলাইটটির লেন্সের ওপরে একটি বাদুড় আকৃতির চিহ্ন থাকে। এ আলোটির নাম ব্যাট-সিগনাল। এটি রাতের আকাশে থাকা মেঘের ওপর একটি বাদুড়ের চিহ্ন তৈরি করে, যা গথামের যেকোনও স্থান থেকে দেখা যায়। এ সংকেতটির উৎস কাহিনী এবং মাধ্যমভেদে অনেকবার পরিবর্তিত হয়েছে।

বেশ কিছু উপস্থাপনায়, বিশেষ করে ষাটের দশকের ব্যাটম্যান টিভি সিরিজে, কমিশনার গর্ডনের কাছে একটি বিশেষ ফোন লাইন থাকে। এটির নাম ব্যাট-ফোন। এ লাইনটি একটি উজ্জ্বল লাল রঙের টেলিফোন সেটের সাথে যুক্ত থাকে (টিভি সিরিজে), যেটি একটি কাঠের পাটাতনের ওপর রাখা থাকে এবং একটি স্বচ্ছ কেকের ঢাকনা দিয়ে ঢাকা থাকে। এটি দিয়ে সরাসরি ব্যাটম্যানের বাসস্থান ওয়েন ম্যানরে যোগাযোগ করা যায়। এ লাইনটি ব্রুস ওয়েনের পড়ার ঘরে একইরকম একটি ফোন এবং ব্যাটকেভে অবস্থিত এক্সটেনশন ফোন উভয়ের সাথেই সংযুক্ত।

ব্যাটকেভ[সম্পাদনা]

ব্যাটকেভ হলো ব্যাটম্যানের গোপন কর্মস্থল, যেটি তাঁর বাসস্থান ওয়েন ম্যানরের নিচে অবস্থিত কয়েকটি সংযুক্ত গুহা নিয়ে গঠিত। এখানে বসে তিনি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চলমান ঘটনার প্রতি লক্ষ্য রাখেন। এখানে তাঁর যানবাহন এবং যুদ্ধের অস্ত্রসমূহও সংরক্ষিত থাকে। কমিক ব্যাটম্যান: শ্যাডো অব দ্য ব্যাট (ইস্যু #৪৫) এবং ২০০৫ সালের ফিল্ম ব্যাটম্যান বিগিনস-এ বলা হয়েছে যে গুহাটি আগে একটি পাতাল রেলপথের অংশ ছিল।

অন্যান্য যন্ত্রপাতি[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যান লড়াই করার কাজে অনেক ধরনের বিশেষায়িত আধুনিক প্রযুক্তির যানবাহন এবং যন্ত্র ব্যবহার করেন, যেগুলো প্রায়ই বাদুড়ের রূপকে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। ব্যাটম্যান ঐতিহাসিক লেস ড্যানিয়েলস ব্যাটম্যানের অস্ত্রসম্ভার সৃষ্টি করার জন্য গার্ডনার ফক্সকে কৃতিত্ব দেন, যার শুরু হয়েছিল ডিটেকটিভ কমিকস #২৯ (জুলাই ১৯৩৯)-এ ইউটিলিটি বেল্ট এবং ডিটেকটিভ কমিকস #৩১ ও #৩২ (সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ১৯৩৯)-এ প্রথম বাদুড়ভিত্তিক অস্ত্র ব্যাটারাং ও "ব্যাটজাইরো" দিয়ে।[৩০]

সহযোগী চরিত্র[সম্পাদনা]

শত্রু ও মিত্রদের সাথে ব্যাটম্যানের মিথস্ক্রিয়া সময়ের সাথে অসংখ্য সহযোগী চরিত্র সৃষ্টি করেছে।[৮২]

শত্রু[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যান নানা ধরনের শত্রুর সঙ্গে লড়াই করেন, যাদের মধ্যে আছে সাধারণ অপরাধী থেকে শুরু করে নিষ্ঠুর সুপারভিলেন। তাদের অনেকের সাথেই ব্যাটম্যানের চরিত্রের মিল রয়েছে। তাদের অনেকের জীবনেই এক কঠিন সময় এসেছে যা তাদেরকে অপরাধজগতের দিকে চালিত করেছে।[১০০] এসব প্রতিদ্বন্দ্বীদেরকে সাধারণত ব্যাটম্যানের "রোগ্‌স গ্যালারি" বলে অভিহিত করা হয়। ব্যাটম্যানের "সবচেয়ে নির্দয় শত্রু" হলো জোকার, একজন নরহত্যাকারী যে ভাঁড়ের মতো সেজে থাকে। সমালোচকদের মতে জোকার হলো ব্যাটম্যানের সবচেয়ে উপযুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী, যেহেতু সে বাহ্যিক এবং ব্যক্তিত্ব উভয় দিক দিয়েই ব্যাটম্যানের বিপরীত; জোকার পাগল মনোভাবসম্পন্ন একজন রঙিন ব্যক্তি, অন্যদিকে ব্যাটম্যান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাবসম্পন্ন একজন অন্ধকারাচ্ছন্ন ব্যক্তি। "অযৌক্তিক বিষয়ের প্রকাশ" হিসেবে জোকার ব্যাটম্যানের বিরুদ্ধ সব বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করে।[৩৮] ব্যাটম্যানের রোগ্‌স গ্যালারিতে থাকা অন্যান্য নিয়মিত শত্রুরা হলো ক্যাটওম্যান (অ্যান্টিহিরোইন, মাঝেমধ্যে ব্যাটম্যানের প্রেমিকা), পেঙ্গুইন, রা'স আল গুল, টু-ফেস, রিডলার, স্কেয়ারক্রো, মি. ফ্রিজ, পয়জন আইভি, হারলি কুইন, বেন, ক্লেফেস, কিলার ক্রক ইত্যাদি।

সাহায্যকারী[সম্পাদনা]

আলফ্রেড[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যানের গৃহপরিচারক, আলফ্রেড পেনিওর্থ, প্রথম আবির্ভূত হয় ব্যাটম্যান #১৬ (১৯৪৩)-তে। সে ব্রুসের অনুগত ভৃত্য এবং অল্প কিছু মানুষের একজন যারা ব্যাটম্যানের আসল পরিচয় জানে। ব্রুসের বাবা-মার মৃত্যুর পর আলফ্রেডই তাঁকে লালনপালন করে এবং তাঁকে খুব ব্যক্তিগতভাবেই চেনে। মাঝেমাঝে তাকে দেখানো হয় ব্যাটম্যানের সাইডকিক এবং ব্রুস ছাড়া ওয়েন ম্যানরের একমাত্র বাসিন্দা হিসেবে। চরিত্রটি ব্যাটম্যান এবং তাঁর সাইডকিকের প্রতি "[lends] a homely touch to Batman's environs and [is] ever ready to provide a steadying and reassuring hand"।[১০০]

"ব্যাটম্যান পরিবার"[সম্পাদনা]

"ব্যাটম্যান পরিবার" কথাটি দিয়ে বোঝানো হয় কয়েকটি চরিত্রকে যারা ব্যাটম্যানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তারা সাধারণত পোশাকধারী ভিজিল্যান্টি যারা ব্যাটম্যানের কাছ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছে অথবা যারা ব্যাটম্যানের অনুমতিতে গথাম সিটিকে কাজ চালায়। এদের মধ্যে আছে বারবারা গর্ডন, কমিশনার গর্ডনের কন্যা, যে ব্যাটগার্ল পরিচয়ে অপরাধ দমনের কাজ করে। একসময় যখন সে জোকারের গুলিতে আহত হয়ে হুইলচেয়ারে আবদ্ধ হয়েছিল, তখন সে ওরাকল নামের এক কম্পিউটার হ্যাকারের পরিচয়ে কাজ করেছিল। এছাড়াও আছে হেলেনা বার্টিনেলি, একটি মব পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য যে ভিজিল্যান্টি হয়ে বেশ কয়েকবার ব্যাটম্যানের সাথে কাজ করেছে, প্রধানত হান্ট্রেস পরিচয়ে এবং কিছু সময়ের জন্য ব্যাটগার্ল হয়ে; এবং ক্যাসান্দ্রা কেইন, পেশাদার খুনি ডেভিড কেইন এবং লেডি শিভার কন্যা, যে বার্টিনেলির পরে ব্যাটগার্ল হয়েছিল।

সাধারণ মানুষ[সম্পাদনা]

লুসিয়াস ফক্স হলেন একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং ব্রুস ওয়েনের ম্যানেজার যিনি তাঁর ক্লায়েন্টের গোপন কাজ সম্পর্কে জানেন। ড. লেসলি থম্পকিনস হলেন ব্রুস ওয়েনের একজন পারিবারিক বন্ধু এবং তাঁর বাবা-মার মৃত্যুর পর তিনি তাঁর পিতৃতুল্য হয়ে ওঠেন। তিনিও ব্রুস ওয়েনের গোপন পরিচয় জানেন। ভিকি ভেল হল একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক যে গথাম গ্যাজেট পত্রিকায় ব্যাটম্যানের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন লেখে। এস দ্য ব্যাট-হাউন্ড হলো ব্যাটম্যানের সারমেয় সঙ্গী যে বিশেষ করে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে কাজ করেছিল।[১০১] এছাড়াও আছে ব্যাট-মাইট, একজন এক্সট্রাডাইমেনশনাল ইম্প যে ব্যাটম্যানকে তার আদর্শ মনে করে।[১০১]

জিসিপিডি[সম্পাদনা]

গথাম সিটি পুলিশে ব্যাটম্যানের একজন সাহায্যকারী হিসেবে কমিশনার জেমস "জিম" গর্ডন প্রথম আবির্ভূত হন ব্যাটম্যানের সাথেই ডিটেকটিভ কমিকস #২৭-এ এবং এরপর থেকেই তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে ওঠেন। তাঁর ভূমিকা অনেকটা শার্লক হোমস-এর গল্পে ওয়াটসন-এর মতো। তিনি ব্যাটম্যানকে সবসময় সাহায্য করার চেষ্টা করেন।

জাস্টিস লিগ[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যান মাঝে মাঝে কিছু সুপারহিরো দল যেমন জাস্টিস লিগ অব আমেরিকা এবং আউটাইডার্স-এর সদস্য হিসেবে কাজ করেন। ব্যাটম্যান অনেক সময়ই তাঁর জাস্টিস লিগের সতীর্থ সুপারম্যানের সাথে একজোট হয়ে কাজ করেছেন, বিশেষ করে ওয়ার্ল্ডস ফাইনেস্ট এবং সুপারম্যান/ব্যাটম্যান সিরিজগুলোতে। প্রি-ক্রাইসিস কাহিনীতে দু'জনকে দেখানো হয়েছে ভালো বন্ধু হিসেবে; কিন্তু বর্তমানে তাঁদের মধ্যে একটি পরস্পর সদ্ভাবপূর্ণ কিন্তু অস্বস্তিকর সম্পর্ক বিদ্যমান, যার প্রধান কারণ অপরাধজগত ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে দু'জনের মতের ভিন্নতা। সুপারম্যান/ব্যাটম্যান #৩ (ডিসেম্বর ২০০৩)-এ, সুপারম্যান বলেন, "Sometimes, I admit, I think of Bruce as a man in a costume. Then, with some gadget from his utility belt, he reminds me that he has an extraordinarily inventive mind. And how lucky I am to be able to call on him."[১০২]

রবিন[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যানের ভিজিল্যান্টি সঙ্গী রবিন অনেক বছর ধরেই একজন ব্যাপকভাবে স্বীকৃত সহযোগী চরিত্র।[১০৩] বিল ফিঙ্গার বলেছেন যে তিনি রবিনকে আনতে চাইছিলেন কারণ "Batman didn't have anyone to talk to, and it got a little tiresome always having him thinking."[১০৪] প্রথম রবিন ডিক গ্রেসন প্রথম আসে ১৯৪০ সালে। সত্তরের দশকে সে বড় হয়ে কলেজে পড়া শুরু করে এবং নাইটউইং নামের হিরো হিসেবে কাজ করা শুরু করে। দ্বিতীয় রবিন জেসন টড আসে আশির দশকে। কাহিনীতে শেষ পর্যন্ত সে মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং জোকারের ঘটানো একটি বিস্ফোরণে মারা যায়, কিন্তু পরবর্তীতে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। সে জোকারের পুরাতন পরিচয় রেড হুড নামের একজন অ্যান্টিহিরো হয় যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না। ব্যাটম্যানের কাহিনীতে আসা প্রথম মেয়ে রবিন ক্যারি কেলি ছিল ফ্র্যাংক মিলারের গ্রাফিক নভেল দ্য ডার্ক নাইট রিটার্নস এবং দ্য ডার্ক নাইট স্ট্রাইকস অ্যাগেইন-এর কাহিনীর ধারায় আসা শেষ রবিন, যে প্রধান কাহিনীধারার বাইরের কাহিনীগুলোতে একজন বর্ষীয়ান ব্যাটম্যানের সাথে লড়াই করেছিল।

প্রধান ধারার কমিকগুলোর তৃতীয় রবিন হল টিম ড্রেক, যে প্রথম এসেছেল ১৯৮৯ সালে। সে পরবর্তীতে তার নিজের কমিক সিরিজ লাভ করে। তার বর্তমান পরিচয় রেড রবিন, যা প্রচলিত রবিন পরিচয়ের একটি ভিন্ন রূপ। নতুন সহস্রাব্দের প্রথম দশকে স্টেফানি ব্রাউন কাজ করে মূল কাহিনীর চতুর্থ রবিন হিসেবে, তার নিজের সৃষ্টিকৃত পরিচয় স্পয়লার এবং পরবর্তীতে ব্যাটগার্ল পরিচয়ে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে।[১০৫] স্টেফানি ব্রাউনের আপাত মৃত্যুর পরে ড্রেক কিছু সময়ের জন্য রবিন হিসেবে কাজ চালিয়ে যায়। ২০০০-এর দশকের শেষ দিকে দায়িত্বটি পায় ডেমিয়েন ওয়েন, যে ব্রুস ওয়েন এবং তালিয়া আল গুল-এর দশ বছর বয়সী পুত্র।[১০৬] ডেমিয়েনের রবিন হিসেবে স্বল্প সময়ের দায়িত্ব শেষ হয় যখন ২০১৩ সালের ব্যাটম্যান ইনকর্পোরেটেড-এর কাহিনীতে চরিত্রটিকে মেরে ফেলা হয়।[১০৭] ব্যাটম্যানের পরের সঙ্গী হল হারপার রো, একজন কমবয়সী মেয়ে যে রবিন নামটি পরিহার করলেও পাখি-সম্পর্কিত নামের ধারাই অনুসরণ করেছিল। ২০১৪ সালে সে ব্লুবার্ড নামে আবির্ভূত হয়। রবিনদের ও তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হলো তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি আছে, যদিও তা প্রাণঘাতী হতে পারবে না। তার পছন্দের অস্ত্র হলো একটি রাইফেল যা থেকে টেজার বের হয়ে আসে।[১০৮] ২০১৫ সালে উই আর রবিন নামে একটি নতুন সিরিজ শুরু হয় যা রবিন পরিচয়ে গথাম সিটিতে অপরাধ নির্মূল করতে লড়াই করা কয়েকজন কিশোরকে নিয়ে আবর্তিত।

ওয়েন পরিবার[সম্পাদনা]

হেলেনা ওয়েন হলো ষাটের দশকের প্রথমদিকে প্রতিষ্ঠিত মাল্টিভার্সের একটি ভিন্ন মহাবিশ্বে (যেখানে স্বর্ণযুগের ঘটনাগুলো ঘটেছিল) ব্রুস ওয়েন এবং সেলিনা কাইল-এর কন্যা।

ডেমিয়েন ওয়েন হল ব্রুস ওয়েন এবং তালিয়া আল গুল-এর পুত্র,[৬৫][১০৯][১১০] এবং সে সূত্রে ব্যাটম্যানের শত্রু রা'স আল গুল-এর পৌত্র।

রোমান্টিক ইন্টারেস্ট[সম্পাদনা]

সময়ের সাথে লেখকেরা ব্রুস ওয়েনের "ফুর্তিবাজ" রূপটিকে নানাভাবে তুলে ধরেছেন। কিছু লেখক তার এ দিকটিকে তুলে ধরেছেন ব্যাটম্যান পরিচয়টিকে লুকানোর জন্য, আবার অন্যরা ব্রুস ওয়েনকে "গথামের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাচেলর" হওয়ার সুবিধা নিতে দেখিয়েছেন। বিভিন্ন প্রকাশনায় ব্রুস ওয়েনকে দেখানো হয়েছে নানা মহিলার সাথে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে। এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক ছিল সেলিনা কাইল[১১১] এবং তালিয়া আল গুল-এর সাথে, যেহেতু এ দু'জনই তাঁর সন্তানের জন্ম দিয়েছিল, যারা যথাক্রমে হেলেনা ওয়েন এবং ডেমিয়েন ওয়েন।

ব্যাটম্যানের কিছু রোমান্টিক সম্পর্ক হয়েছিল সমাজের সম্ভ্রান্ত নারী যেমন জুলি ম্যাডিসন, ভিকি ভেল এবং সিলভার সেইন্ট ক্লাউড-এর সাথে। এছাড়াও ব্যাটম্যানের সম্পর্ক ক্যাথি কেন, সাশা বোর্দোওয়ান্ডার ওম্যান-এর মত সহযোগী এবং ক্যাটওম্যান, জেজেবেল জেট এবং তালিয়া আল গুল-এর মত শত্রুদের সাথেও ছিল।

ক্যাটওম্যান[সম্পাদনা]

ব্যাটম্যানের বেশিরভাগ রোমান্টিক সম্পর্ক স্বল্পস্থায়ী হলেও ব্যাটম্যান এবং ক্যাটওম্যান-এর মধ্যকার আকর্ষণ প্রায় প্রতিটি সংস্করণ ও মাধ্যমেই বিদ্যমান। যদিও ক্যাটওম্যানকে বরাবরই একজন সুপারভিলেন হিসেবে দেখানো হয়েছে, ব্যাটম্যান এবং ক্যাটওম্যান একই লক্ষ্য অর্জনের জন্য একসাথে কাজ করেছে এবং এ দু'জনের মধ্যে রোমান্টিক সম্পর্কও দেখানো হয়েছে।

ষাটের দশকে ডিসি কমিকসের মাল্টিভার্সের ধারণা আসার পর ডিসি স্বর্ণযুগের কাহিনীর ব্যাটম্যান চরিত্রটিকে আর্থ-টু ব্যাটম্যান নামক ভিন্ন জগতের একটি চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ব্যাটম্যানের এ সংস্করণ আর্থ-টু ক্যাটওম্যান সেলিনা কাইলকে বিবাহ করেন (যেমনটি দেখানো হয় সুপারম্যান ফ্যামিলি #২১১-এ)। তাদের হেলেনা ওয়েন নামে একজন কন্যাসন্তান আছে যে হান্ট্রেস পরিচয়ে (আর্থ-টু রবিন ডিক গ্রেসনের সাথে) গথাম শহরকে রক্ষা করে যখন ওয়েন পুলিশ কমিশনার হওয়ার জন্য ব্যাটম্যান পদ থেকে অবসর নেন, যে পদে তিনি থাকেন ব্যাটম্যান হিসেবে একটি শেষ অভিযানে মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত।

আশির দশকের শুরুর দিকের একটি কাহিনীতে সেলিনা ও ব্রুসের মধ্যে একটি সম্পর্ক সৃষ্টি হয়, যে গল্পটির শেষ অংশে সেলিনাকে ব্যাটম্যানকে "ব্রুস" বলে সম্বোধন করতে দেখা যায়। কিন্তু সম্পাদক পরিবর্তনের কারণে সে কাহিনীটি দ্রুত শেষ হয়ে যায়, সে সাথে সে কাহিনীতে ঘটা সমস্ত ঘটনাও। ব্রুস ওয়েন ও সেলিনা কাইল (পোশাকের বাইরে) একটি সম্পর্ক গড়ে তোলে দ্য লং হ্যালোউইন-এ। এ কাহিনীতে সেলিনা ব্রুসকে পয়জন আইভির হাত থেকে বাঁচায়। কিন্তু সম্পর্কটির ইতি ঘটে যখন ব্রুস সেলিনাকে দু'বার মানা করে দেন; একবার ব্রুস হিসেবে ও একবার ব্যাটম্যান হিসেবে। ব্যাটম্যান: ডার্ক ভিক্টরি-তে ব্রুস সেলিনার সঙ্গে দু'টি ছুটি কাটান, যার কারণে সেলিনা তাঁকে ও গথাম সিটি ছেড়ে কিছুদিনের জন্য চলে যায়। "হাশ" নামের বারো-ইস্যুর একটি কাহিনীতে অনেক বছর পর একটি অপেরায় দু'জনের দেখা হয়। তখন ব্রুস মন্তব্য করেন যে তাঁদের মধ্যে ব্রুস ও সেলিনা হিসেবে কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু, "হাশ"-এ ব্যাটম্যান ও ক্যাটওম্যানকে দেখা যায় ব্যাটম্যানের পুরো রোগ্‌স গ্যালারির বিরুদ্ধে একসাথে লড়তে এবং আগের রোমান্টিক সম্পর্ক আবার ফিরিয়ে আনতে। "হাশ"-এ ব্যাটম্যান ক্যাটওম্যানকে তাঁর আসল পরিচয় জানিয়ে দেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Goulart, Ron, Comic Book Encyclopedia (Harper Entertainment, New York, 2004) ISBN 0-06-053816-3
  2. Batman #242 (June 1972)
  3. Detective Comics #846 (Sept. 2008)
  4. Silver Age 80-Page Giant #1 (July 2000)
  5. ৫.০ ৫.১ "DC Entertainment To Give Classic Batman Writer Credit in 'Gotham' and 'Batman v Superman' (Exclusive)"Hollywood Reporter। সংগৃহীত সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৫ 
  6. ৬.০ ৬.১ Sims, Chris (অক্টোবর ২১, ২০১৫)। "Bill Finger Has A Creator Credit On This Week's Batman Comics"। সংগৃহীত অক্টোবর ২১, ২০১৫ 
  7. Fleisher, Michael L. The Encyclopedia of Comic Book Heroes Volume 1 Batman Collier Books 1976 ISBN 978-0-02-080090-3 p. 31
  8. Beatty, Scott (২০০৮)। "Batman"। in Dougall, Alastair। The DC Comics Encyclopedia। London: Dorling Kindersley। পৃ: 40–44। আইএসবিএন 978-0-7566-4119-1 
  9. "The Big Question: What is the history of Batman, and why does he still appeal?"The Independent (London)। জুলাই ২২, ২০০৮। আসল থেকে জুলাই ২৯, ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। 
  10. "50 Greatest Super Heroes In Comic Book History"। FanSided। সংগৃহীত অক্টোবর ১, ২০১৬ 
  11. "Batman – Top 100 Comic Book Heroes"। Ranker। সংগৃহীত অক্টোবর ১, ২০১৬ 
  12. "The Best Comic Book Superheroes of All Time"। IGN Entertainment। আসল থেকে ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৪-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত মে ২৭, ২০১১ 
  13. Daniels, Les. Batman: The Complete History. Chronicle Books, 1999. ISBN 978-0-8118-4232-7, p. 18
  14. Steranko, Jim. The Steranko History of Comics 1. Reading, PA: Supergraphics, 1970. (ISBN 978-0-517-50188-7)
  15. Les Daniels। Batman - The Complete History: The Life and Times of the Dark Knight। পৃ: 18–20। 
  16. Daniels (1999), p. 21, 23
  17. Havholm, Peter; Sandifer, Philip (Autumn ২০০৩)। "Corporate Authorship: A Response to Jerome Christensen"। Critical Inquiry 30 (1): ১৯২। আইএসএসএন 0093-1896ডিওআই:10.1086/380810 
  18. Biography by Joe Desris, in Batman Archives, Volume 3 (DC Comics, 1994), p. 223. ISBN 978-1-56389-099-4
  19. Daniels, Les (১৯৯৯)। Batman: The Complete History। Chronicle Books। পৃ: 21, 23। আইএসবিএন 978-0-8118-4232-7 
  20. ২০.০ ২০.১ Kane, Andrae, p. 44.
  21. ২১.০ ২১.১ Kane, Andrae, p. 41.
  22. Daniels, Les. DC Comics: A Celebration of the World's Favorite Comic Book Heroes. New York: Billboard Books/Watson-Guptill Publications, 2003, ISBN 978-0-8230-7919-3, p. 23.
  23. Boichel, Bill. "Batman: Commodity as Myth." The Many Lives of the Batman: Critical Approaches to a Superhero and His Media. Routledge: London, 1991. ISBN 978-0-85170-276-6, pp. 6–7.
  24. Les Daniels। Batman - The Complete History: The Life and Times of the Dark Knight। পৃ: ৩১। 
  25. Groth, Gary (অক্টোবর ২০০৫)। "Jerry Robinson"The Comics Journal 1 (271): 80–81। আইএসএসএন 0194-7869আসল থেকে ডিসেম্বর ২৪, ২০১৩-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত নভেম্বর ১৮, ২০০৭ 
  26. Comic Book Artist 3. Winter 1999. TwoMorrows Publishing
  27. "Comic Book Interview Super Special: Batman" Fictioneer Press, 1989
  28. Daniels (1999), পৃ. 25
  29. Wright, Bradford W. Comic Book Nation. Baltimore: Johns Hopkins, 2001. ISBN 978-0-8018-7450-5, p. 19.
  30. ৩০.০ ৩০.১ Daniels (1999), পৃ. 29
  31. Bill Finger (লে), Bob Kane (p), Sheldon Moldoff (i). "The Batman and How He Came to Be" Detective Comics 33: 1–2 (Nov. 1939), DC Comics
  32. Detective Comics #33 (Nov. 1939), Grand Comics Database ওয়েবচাইট এ আর্কাইভকৃত ১৮ জানুয়ারি ২০১০
  33. John Jefferson Darowski, "The Mythic Symbols of Batman ওয়েব্যাক মেশিনে অবস্থিত আর্কাইভ কপি" December 2007. Retrieved March 20, 2008. Archived on March 20, 2008.
  34. ৩৪.০ ৩৪.১ Wright, p. 17.
  35. Daniels (1999), পৃ. 38
  36. Daniels (2003), পৃ. 36
  37. Daniels (1999), পৃ. 42
  38. ৩৮.০ ৩৮.১ Boichel, p. 9.
  39. Wright (2001), পৃ. 59
  40. Edmund Hamilton (লে), Curt Swan (p). "The Mightiest Team In the World" Superman #76 (June 1952), DC Comics
  41. Daniels (1999), পৃ. 88
  42. Daniels (1999), পৃ. 91
  43. Daniels (1999), p. 84.
  44. Boichel, p. 13.
  45. York, Christopher (২০০০)। "All in the Family: Homophobia and Batman Comics in the 1950s"। The International Journal of Comic Art 2 (2): 100–110। 
  46. Daniels (1999), পৃ. 94
  47. Daniels (1999), পৃ. 95
  48. Bill Finger (লে), Sheldon Moldoff (p). "Gotham Gang Line-Up!" Detective Comics 328 (June 1964), DC Comics
  49. Benton, Mike. The Comic Book in America: An Illustrated History. Dallas: Taylor, 1989. ISBN 978-0-87833-659-3, p. 69.
  50. Daniels (1999), পৃ. 115
  51. Wright, p. 233.
  52. Pearson, Roberta E.; Uricchio, William. "Notes from the Batcave: An Interview with Dennis O'Neil." The Many Lives of the Batman: Critical Approaches to a Superhero and His Media. Routledge: London, 1991. ISBN 978-0-85170-276-6, p. 18.
  53. Daniels (1999), p. 140.
  54. Daniels (1999), p. 141.
  55. "Batman Artist Rogers is Dead"SciFi Wire। মার্চ ২৮, ২০০৭। আসল থেকে ফেব্রুয়ারি ১, ২০০৯-এ আর্কাইভ করা : "Even though their Batman run was only six issues, the three laid the foundation for later Batman comics. Their stories include the classic 'Laughing Fish' (in which the Joker's face appeared on fish); they were adapted for Batman: The Animated Series in the 1990s. Earlier drafts of the 1989 Batman movie with Michael Keaton as the Dark Knight were based heavily on their work."
  56. Boichel, p. 15
  57. Daniels (1999), pp. 147, 149.
  58. Wright, p. 267.
  59. Daniels (1999), pp. 155, 157.
  60. Daniels (1999), p. 161.
  61. "Diamond's 2005 Year-End Sales Charts & Market Share"। newsarama.com। ২০০৬। আসল থেকে মে ২৫, ২০০৬-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত অক্টোবর ২৬, ২০০৬ 
  62. "July 2005 Sales Charts: All-Star Batman & Robin Lives Up To Its Name"। newsarama.com। ২০০৫। আসল থেকে সেপ্টেম্বর ৭, ২০০৬-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত অক্টোবর ২৬, ২০০৬ 
  63. Review by Iann Robinson, Crave Online ওয়েবচাইট এ আর্কাইভকৃত ১৮ জানুয়ারি ২০১০
  64. Review by William Gatevackes, PopMatters, February 10, 2006 ওয়েবচাইট এ আর্কাইভকৃত ১৮ জানুয়ারি ২০১০
  65. ৬৫.০ ৬৫.১ ৬৫.২ Phillips, Dan (আগস্ট ৮, ২০০৯)। "Grant Morrison's New Batman and Robin"। IGN। আসল থেকে জুন ৯, ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত আগস্ট ৮, ২০০৯ 
  66. George, Richard (মার্চ ১১, ২০০৯)। "Morrison discusses Batman and Robin"। IGN। আসল থেকে মার্চ ৫, ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত আগস্ট ৬, ২০০৯ 
  67. Wilkins, Alasdair (জুন ২৭, ২০০৯)। "Batman Is Reborn ... With A Vengeance"io9। জুন ৩০, ২০০৯-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত আগস্ট ৬, ২০০৯ 
  68. Joshua Yehl (মার্চ ২৩, ২০১৬)। "Batman's Scott Snyder and Greg Capullo on the New Batsuit and Bloom's Identity"IGN 
  69. The New York Times
  70. ""Action," "Detective Comics" Return To Original Numbering For "Rebirth""। ComicBookResources.com। ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬। ""Action Comics'" numbering will pick up with #957 and "Detective" will be at #934. Both series will be released on a twice-monthly schedule, at a $2.99 price." 
  71. Dennis O'Neil Batman: Knightfall. 1994, Bantam Books. ISBN 978-0-553-09673-6
  72. Daniels, 1999[পৃষ্ঠা নম্বর]
  73. Pearson & Uricchio (1991), পৃ. 202
  74. Morrison, Grant (লে). Batman Incorporated v2, 0 (September 2012), DC Comics
  75. Boucher, Geoff (Aug ১৩, ২০১০)। "Batman versus Superman as class warfare? Grant Morrison: 'Bruce has a butler, Clark has a boss'"Los Angeles Timesআসল থেকে অক্টোবর ১৫, ২০১২-এ আর্কাইভ করা। 
  76. T. James Musler. 2006. Unleashing the Superhero in Us All.
  77. Scott Beatty, The Batman Handbook: The Ultimate Training Manual. 2005, Quirk Books, p51. ISBN 978-1-59474-023-7
  78. Aichele, G. (1997). Rewriting Superman. In G. Aichele & T. Pippin (Eds.), The Monstrous and the Unspeakable: The Bible as Fantastic Literature, pp. 75–101. Sheffield: Sheffield Academic Press.
  79. Superman vol. 2, #53
  80. Brooker, Will (২০০১)। Batman Unmasked। NY/London: Continuum International Publishing Group। পৃ: ৩৬৮। আইএসবিএন 978-0-8264-1343-7 
  81. Jim Steranko History of the Comics Volume One[পৃষ্ঠা নম্বর]
  82. ৮২.০ ৮২.১ ৮২.২ Pearson; Uricchio. "'I'm Not Fooled By That Cheap Disguise.'" p. 186.
  83. Pearson; Uricchio. "Notes from the Batcave: An Interview with Dennis O'Neil" p. 23.
  84. Daniels (1999), p. 31.
  85. ৮৫.০ ৮৫.১ ৮৫.২ DETECTIVE Comics #33, November 1939, Bill Finger, Bob Kane
  86. ৮৬.০ ৮৬.১ ৮৬.২ BATMAN #1 Spring 1940,Bill Finger, Bob Kane
  87. Pearson & Uricchio (1991), পৃ. 194
  88. Sharrett, Christopher. "Batman and the Twilight of the Idols: An Interview with Frank Miller". The Many Lives of the Batman: Critical Approaches to a Superhero and His Media. Routledge: London, 1991. ISBN 978-0-85170-276-6, p. 44.
  89. Pearson, p. 208.
  90. Dennis O'Neil, Wizard Batman Special 1998
  91. ৯১.০ ৯১.১ Terrence R. Wandtke। The Amazing Transforming Superhero!: Essays on the Revision of Characters on the Revision of Characters in Comic Books, Film and Television। পৃ: ৯১। 
  92. Alex S. Romagnoli; Gian S. Pagnucci। Enter the Superheroes: American Values, Culture, and the Canon of Superhero Literature। পৃ: ২৭। 
  93. Mike Conray, 500 Great Comicbook Action Heroes. 2002, Collins & Brown. ISBN 978-1-84411-004-9
  94. Greenberger, Robert (২০০৮)। The Essential Batman Encyclopedia। Del Rey Books। আইএসবিএন 0-345-50106-3 
  95. Grant Morrison (লে), Howard Porter (p). "War of the Worlds" JLA 3 (March 1997), DC Comics
  96. Scott Lobdell (লে), Ed Benes and Jack Herbert (p). "Superman: Doomed" Superman 31 (July 2014), DC Comics
  97. ৯৭.০ ৯৭.১ ৯৭.২ Daniels (1999)
  98. Daniels (1999), p. 98.
  99. Daniels (1999), pp. 159–60.
  100. ১০০.০ ১০০.১ Boichel, p. 8.
  101. ১০১.০ ১০১.১ Daniels (1995), p. 138.
  102. Loeb, Jeph (লে), McGuinness, Ed (p), Vines, Dexter (i). "Running Wild" Superman/Batman 3 (December 2003), DC Comics
  103. Boichel, p. 7.
  104. Langley, Travis (২০১২)। Batman and Psychology: A Dark and Stormy Knight। John Wiley & Sons। পৃ: ১৭৯। 
  105. Langley, 180–210
  106. Esposito, Joey (মার্চ ৫, ২০১৩)। "Why Damian Wayne is the Best Robin"। IGN। আসল থেকে মার্চ ১, ২০১৪-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৪ 
  107. Saul, Josh (ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৩)। "DC killing off Batman's 'Boy Wonder' Damian Wayne in new comic book"। The New York Post। আসল থেকে এপ্রিল ২৯, ২০১৪-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৪ 
  108. Franich, Darren (ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৪)। "Batman has a new female sidekick: Meet Bluebird"। Entertainment Weekly Popwatch। আসল থেকে ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৪-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৪ 
  109. Batman #666 (page 2)
  110. Grant Morrison. Batman #676
  111. geek-news.mtv.com/2011/03/22/batman's-top-10-love-interests/[অকার্যকর সংযোগ]