জুননুন মিসরি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জুননুন মিসরি
জন্ম
ছাওবান (ثوبان)

৭৯৬ [১]
মৃত্যু৮৫৯ (বয়স ৬২–৬৩)
জাতীয়তামিশরীয়
পরিচিতির কারণজুননুন মিসরি
পিতা-মাতা
  • ইব্রাহীম (পিতা)
জুননুন মিসরি
কর্মক্ষেত্ররসায়ন,সূফীবাদ
টীকা
তিনি প্রাচীন মিশরীয় লিপির মর্মার্থ বুঝতেন

ছাওবান (আরবি: ثوبان‎‎), যিনি

জীবনী[সম্পাদনা]

জুননুন মিসরি এবং আবুল ফায়জ ইবনে ইবরাহিম নামেও পরিচিত।তিনি মিসরের আখনিম নামক স্থানে ৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি সুফী হিসেবেও পরিচিত।তিনি সদাচার,জ্ঞান পরহেজগারি ও আধ্যাত্মিক পদমর্যাদায় যুগ সেরা ছিল।তিনি তাসাউফ বা সুফীবাদে শ্রেষ্ঠ ছিল।

একদা কিছু লোক খলিফা মুতাওয়াক্কিলের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। খলিফা তাঁকে মিসর থেকে ধরে আনতে আদেশ দেন। খলিফার কাছে এসে তিনি এমন এক হৃদয়গ্রাহী ভাষণ দেন যে এক পর্যায়ে খলিফা কাঁদতে থাকেন এবং তাঁকে সসম্মানে মিসরে ফিরিয়ে নিতে আদেশ দেন। এরপর খলিফার সামনে কখনও ধর্মভীরু লোকদের কথা উঠলেই তিনি কাঁদতেন এবং বলতেন, 'তোমাদের কেউ যখন কোন ধার্মিকের কথা বলে, সে যেন প্রথমেই বলে জুননুন।

জুননুন ছিলেন ফ্যাকাশে রঙের ও হালকা পাতলা গড়নের। তাঁর দাড়ি সাদা ছিল না। সাইদ উসমান বলেন, জুননুন বলেছেন, 'মূল কথা হল চারটি : মহিয়ান তথা আল্লাহকে ভালবাসা, অপর্যাপ্ত তথা দুনিয়াকে ঘৃণা করে, অবতীর্ণ কিতাবের অণুসরণ করা এবং অবস্থা পরিবর্তনের ভয় করা।'

জুননুন আরও বলেছেন, "আল্লাহপ্রেমের নিদর্শন হল চরিত্রে, কর্মে, নির্দেশে ও জীবনাদর্শে তাঁর প্রেমাস্পদের (রাসুলুল্লাহ) অনুসর করা।'

জুননুনকে নিকৃষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, 'যে আল্লহর নৈকট্যলাভের পথ চেনে না, চেনার চেষ্টাও করে না'।

ইউসুফ ইবন হুসাইন বলেন, একদিন আমি জুননুনের মজলিসে ছিলাম। তখন সালিম আল মাগিরিবী এসে বললেন, 'আবুল ফায়জ! আপনার তওবার কারণ কী?' 'সেটা এক বিস্ময়কর ঘটনা। তুমি বুঝবে না।' 'আপনার প্রভুর শপথ! আমাদের বলুন।' তখন জুননুন বললেন, 'একদিন আমি মিসর থেকে কোন এক শহরের উদ্দেশ্যে বের হলাম। পথিমধ্যে এক মরুভূমিতে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম এবং যখন চোখ খুললাম, দেখলাম একটি অন্ধ পাখির ছানা। সে বাসা থেকে পড়ে গিয়েছে। হঠাৎ মাটি দুভাগ হয়ে সেখান থেকে সোনার ও রূপার দুটি থালা বের হয়ে আসলো। একটি থালায় শিম, অন্য থালায় পানি রাখা। পাখিটি একবার এই থালা থেকে খেতে এবং আরেকবার অন্য থালা থেকে পান করতে শুরু করল। আমি তখন নিজেকে বললাম, আমার জন্য এই যথেষ্ট। আমি তওবা করলাম। এরপর আল্লাহ আমাকে গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাঁর দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলাম। '

বাণী[সম্পাদনা]

জুননুন বলেছেন, 'খাদ্যেপূর্ণ পাকস্থলিতে প্রজ্ঞার বসতি নেই।'

তওবাহ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, 'সাধারণ মানুষের তওবাহ হয় পাপ থেকে আর বিশেষ মানুষের তওবাহ হয় অমনোযোগিতা থেকে।'

সাধারণত সুফি পথ পরিক্রমার শুরু হয় তওবা দিয়ে। এজন্য ইমাম কুশায়রী সুফিদের জীবনচরিত অংশে অনেক সুফির তওবা সংশ্লিষ্ট ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

'আরব মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে যাঁরা রসায়নশাস্ত্রের উপর প্রথমদিকে গবেষণা করেন তাদের মধ্যে অন্যতম।তিনি রসায়নের বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করেন।তার লেখায় সোনারুপাসহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থের বর্ণনা পাওয়া যায়।তিনি বিভিন্ন খনিজ সম্পদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছিলেন।এছাড়া ও তিনি মিশরীয় ভাষায় দক্ষ ছিল এমনকি তিনি মিশরীয় সাংকেতিক বর্ণের মর্মার্থ বুঝতেন।তিনি মিশরের আল জিজাহ নামক স্থানে ৮৫৯ খ্রি. ইন্তিকাল করেন।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা,দশম শ্রেণী

আর রিসালাতুল কুসায়রিয়্যাহ

[[ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা নবম ও দশম শ্রেণী]]