জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ
এই নিবন্ধে একাধিক সমস্যা রয়েছে। অনুগ্রহ করে নিবন্ধটির মান উন্নয়ন করুন অথবা আলাপ পাতায় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করুন।
|
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ | |
| সংক্ষেপে | জাকসু |
|---|---|
| গঠিত | ১৯৭২ |
| সদরদপ্তর | জাকসু ভবন |
| অবস্থান | |
দাপ্তরিক ভাষা | বাংলা |
সভাপতি | মোহাম্মদ কামরুল আহসান |
সহ-সভাপতি (ভিপি) | আব্দুর রশিদ জিতু |
সাধারণ সম্পাদক | মাজহারুল ইসলাম |
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) | ফেরদৌস আল হাসান |
| ওয়েবসাইট | জাকসু (দাপ্তরিক ওয়েবসাইট) |
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (সংক্ষেপে জাকসু নামে পরিচিত)[ক] হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ। পূর্বে এটি 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ' নামে পরিচিত ছিল, যেটিকে ২০২৫ সালে পরিমার্জনের মাধ্যমে 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ' নামকরন করা হয়।[১] বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সৎ, মেধাবী এবং দেশপ্রেমিক ছাত্র নেতৃত্ব তৈরির উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালে জাকসু প্রতিষ্ঠিত হয়।[২]
গঠনতন্ত্র
[সম্পাদনা]১। নাম
[সম্পাদনা]সংসদের নাম হবে "জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ"। ইংরেজি নাম হবে "Jahangirnagar University Central Students' Union" (JUCSU) |
ব্যাখ্যা: 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ'-এর সদস্য সে সকল শিক্ষার্থীই হবেন যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের বৈধ সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় যাঁদের প্রত্যক্ষভাবে শিক্ষাদান করে থাকে। এই গঠনতন্ত্রে 'শিক্ষার্থী' বলতে ছাত্র ও ছাত্রী উভয়কেই বোঝানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, নিয়মিত সদস্য না হয়েও পদাধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ যথাক্রমে শিক্ষার্থী সংসদের সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করবেন।
২। উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
[সম্পাদনা]সংসদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হবে:
ক. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
খ. বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে গুণগত বিদ্যাচর্চার সুযোগ গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাগত সুযোগ ও সুবিধা অর্জন করা।
গ. শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক রূপে গড়ে তোলা এবং তাঁদের মধ্যে নেতৃত্বের উন্মেষ ঘটানো।
ঘ. বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশের বাইরের অনুরূপ বিশ্ববিদ্যালয় অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
ঙ. বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া সংক্রান্ত কার্যাবলির আয়োজন ও সংগঠন।
৩। কার্যাবলি
[সম্পাদনা]ক. সংসদ সদস্যদের জন্যে কমনরুম রক্ষণাবেক্ষণ করা। সেখানে দৈনিক সংবাদপত্র, মাসিকপত্র, সাময়িকপত্র পাঠের ব্যবস্থা করা এবং আভ্যন্তরীণ ক্রীড়ার বন্দোবস্ত করবে।
খ. শিক্ষা ও গবেষণামূলক কাজে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা। সৃজনশীলতার বিকাশে সাময়িকপত্র, জার্নাল, বুলেটিন, ম্যাগাজিন ও পত্রপত্রিকা প্রকাশ করা।
গ. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্মিলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। সদস্যদের মধ্যে বক্তৃতা, বিতর্ক, আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা। এ ধরনের কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা।
ঘ. বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
ঙ. আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধি অথবা দল প্রেরণ করা।
চ. বিদ্যায়তনিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের প্রতিনিধি প্রেরণ করা এবং অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো।
ছ. সমাজসেবামূলক কাজ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণমূলক কাজ, বৃক্ষরোপণ, জনকল্যাণধর্মী বক্তৃতা, প্রদর্শনী ইত্যাদি আয়োজনের মাধ্যমে সংসদের সদস্যদের মধ্যে সমাজসেবার উৎসাহ বৃদ্ধি করা।
জ. তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও ডিজিটাল নেটওয়ার্কিং-এর সুযোগ বৃদ্ধিকরণ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
ঝ. শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করা।
ঞ. পেশাজীবনভিত্তিক চিন্তা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কর্মসহায়ক উদ্যোগ গ্রহণ করা।
উল্লিখিত বিষয় বহির্ভূত এমন সকল কাজ সম্পাদন করা যা কার্যকরী সংসদ স্থির করবে এবং সভাপতি অনুমোদন করবেন।
৪। সদস্যপদ
[সম্পাদনা]বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়মিত ও বৈধ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-সংসদের সদস্য বলে গণ্য হবেন। কেবল তারাই ভোটার বলে বিবেচিত হবেন এবং শিক্ষার্থী সংসদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
শর্তাবলি
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষার্থী স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ৬ (৪+২) বছর এবং/অথবা স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ২ (১+১) বছর ধরে অধ্যয় করছেন, কেবল সে সকল শিক্ষার্থীর নাম জাকসু ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে ফার্মেসি বিভাগের স্নাতক (সম্মান) কোর্সের মেয়াদ ৫ বছর হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে (৫+২) ৭ বছর যাবৎ অধ্যায়ন করার অনুমতি রয়েছে। এবং চারুকলা বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণির মেয়াদ ১.৫ বছর হওয়ায় তাদের (২+১) ৩ বছর যাবৎ অধ্যয়ন করার অনুমতি রয়েছে। সে কারণে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীগণ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ৭ বছর এবং চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীগণ স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ৩ বছর মেয়াদ পাবে। পরবর্তী কালে অন্য কোনো বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে স্নাতক/স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাবর্ষের কাল বৃদ্ধি ঘটলে সে ক্ষেত্রেও অনুরূপ সুযোগ প্রযোজ্য হবে।
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এমফিল, পিএইচডি, উইকেন্ড ও ইভিনিং প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ব্যাচের অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের নাম জাকসুর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেনসিং এন্ড জিআইএস-এর শিক্ষার্থীগণ বিশেষায়িত মাস্টার্সে অধ্যয়ন করায় তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেননা। এছাড়া যে সকল শিক্ষার্থী আইবিএ-জেইউতে নিয়মিত কোর্সে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে অধ্যয়ন না করেও মাস্টার্সে (স্নাতকোত্তর) শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে তারা জাকসু নির্বাচনে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।
৫। সংসদের কর্মকর্তাগণ এবং তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য
[সম্পাদনা]৫.১. সভাপতি
[সম্পাদনা]জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদাধিকার বলে সংসদের সভাপতি থাকবেন। তিনি কার্যকরী সংসদ এবং অন্যান্য সংসদ, উপসংসদ যদি কিছু থাকে, ইত্যাদিসহ সংসদ কর্তৃক আয়োজিত সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন। তিনি আরও দেখবেন (১) সংসদ আইন ও বিধি মতো পরিচালিত হচ্ছে কিনা, (২) জরুরি অবস্থায়, অচলাবস্থায় এবং গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পেলে এবং সংসদ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলে তিনি সংসদের সুষ্ঠু কার্যনির্বাহের জন্য সুবিবেচনা মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, (৩) তিনি সকল আইন ও বিধির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিবেন এবং আইন ও বিধির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। কার্যকরী কমিটির কোনো সদস্য কোনো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে বা কর্তব্য পালনে অসমর্থ ব্যর্থ হলে সভাপতি কার্যকরী পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিক্রমে উক্ত সদস্যকে পদচ্যুত করতে পারবেন। কার্যকরী পরিষদে অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে বৃহত্তর স্বার্থে সভাপতি কার্যকরী পরিষদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন আহ্বান করতে অথবা সংসদ চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।[৩]
৫.২ কোষাধ্যক্ষ
[সম্পাদনা]জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদাধিকার বলে সংসদের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর অবর্তমানে উপাচার্য ও সংসদের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যদের মধ্যে থেকে যে-কোনো একজনকে কোষাধ্যক্ষ মনোনীত করবেন। কোষাধ্যক্ষের উপর থাকবে সংসদের অর্থকোষের ভার। তিনি সংসদের বাজেট ও আয়-ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়াদির প্রতি লক্ষ রাখবেন।[৩]
৫.৩ সহ-সভাপতি
[সম্পাদনা]সহ-সভাপতি হবেন সংসদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি সভাপতির অনুপস্থিতিতে সমস্ত সভার সভাপতিত্ব করবেন।[৩]
৫.৪ সাধারণ সম্পাদক
[সম্পাদনা]সাধারণ সম্পাদক সংসদের সকল নথি ও দলিল সংরক্ষণ করবেন। সংসদের পক্ষে সকল ধরনের যোগাযোগ সাধনের দায়িত্ব থাকবে তাঁর। তিনি সংসদ এবং কার্যকরী পরিষদের সভাপতির অনুমতিক্রমে সকল সভা আহ্বান করবেন। কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে সকল অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। তিনি সংসদের হিসাব-নিকাশের নথিপত্র সংরক্ষণ করবেন। তিনি সংসদের এবং কার্যকরী পরিষদের সকল সভার কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধ করবেন।[৩]
৫.৪.১ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী): সাধারণ সম্পাদকের সকল কাজে সহযোগিতা ও সহায়তা করবেন।[৩]
৫.৪.২ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) সাধারণ সম্পাদকের সকল কাজে সহযোগিতা ও সহায়তা করবেন।[৩]
৫.৫ শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক
[সম্পাদনা]তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক স্বার্থ সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন। শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার, আলোচনা ও কর্মশালার আয়োজন করবেন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী সংসদের বিভিন্ন উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।[৩]
৫.৬ পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক
[সম্পাদনা]তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, প্রাণ, প্রকৃতি রক্ষায় কাজ করবেন। পরিবেশ ও প্রকৃতি বিষয়ক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ ও প্রকৃতির সংরক্ষণমূলক কাজ করার জন্য কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক যেসব দায়িত্ব অর্পিত হবে সেসব কাজ সম্পন্ন করবেন।[৩]
৫.৭ সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক
[সম্পাদনা]তিনি সাহিত্য বিষয়ক সভা, আলোচনা অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা ও উৎসবের আয়োজন করবেন। সংসদ থেকে প্রকাশিতব্য বিভিন্ন সাময়িকী, জার্নাল, বুলেটিন প্রভৃতির সম্পাদনা পর্ষদে নির্বাহী হিসেবে কাজ করবেন। সংসদের মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ক কাজে সহযোগিতা করবেন।[৩]
৫.৮ সাংস্কৃতিক সম্পাদক
[সম্পাদনা]কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে তিনি বছরে এক বা একাধিকবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। বছরে এক বা একাধিকবার বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করবেন। সংসদ কর্তৃক ক্যাম্পাস বা ক্যাম্পাসের বাইরে সকল প্রকারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন।[৩]
৫.৮.১ সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক: সাংস্কৃতিক সম্পাদকের সকল কাজে সহযোগিতা ও সহায়তা করবেন।[৩]
৫.৯ নাট্য সম্পাদক
[সম্পাদনা]কার্যকরী পরিষদের অনুমোদনক্রমে তিনি নাট্য-প্রতিযোগিতা ও নাট্যানুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। সংসদ কর্তৃক ক্যাম্পাস বা ক্যাম্পাসের বাইরে সকল প্রকারের নাটক ও নাট্য জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন।[৩]
৫.১০ ক্রীড়া সম্পাদক
[সম্পাদনা]সংসদের কার্যকরী পরিষদের অনুমোদনক্রমে ক্রীড়া পরিষদের সহায়তায় তিনি খেলাধুলার বন্দোবস্ত করবেন। হল ক্রীড়া পরিষদের আওতা বহির্ভূত অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করবেন। তিনি আভ্যন্তরীণ ক্রীড়ার এবং আভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বন্দোবস্ত করবেন।[৩]
৫.১০.১ সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী) ক্রীড়া সম্পাদকের সকল কাজে সহযোগিতা ও সহায়তা করবেন।[৪]
৫.১০.২ সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ) ক্রীড়া সম্পাদকের সকল কাজে সহযোগিতা ও সহায়তা করবেন।[৪]
৫.১১ তথ্য-প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক
[সম্পাদনা]তিনি সংসদের অনুমোদনক্রমে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীগণকে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। তিনি বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মশালা, মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করবেন। তথ্য-প্রযুক্তি সেবা ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে তিনি সহায়ক ভূমিকা পারন করবেন। তিনি জাকসুর ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে জাকসুর উদ্যোগে সম্পন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য ও সংবাদ পরিবেশন করবেন। তিনি কেন্দ্রীয় ও হলে শিক্ষার্থীবান্ধব সেমিনার গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা/রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। বিভিন্ন সময়ে ও উপলক্ষ্যে সংসদের অনুমোদনক্রমে ক্যাম্পাসে বইমেলা ও বইপড়া কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।[৪]
৫.১২ সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক
[সম্পাদনা]তিনি সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থীবৃন্দের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সংসদের অনুমোদনক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। তিনি বুলিং, র্যাগিং, সহিংসতা রোধকল্পে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উৎকর্ষ সাধনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে মানবসম্পদ হিসেবে রূপান্তরকরণের জন্য সংসদের অনুমোদনক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থীদের পেশাজীবনের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংসদের অনুমোদনক্রমে ক্যাম্পাসে জব ফেয়ার, ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার আয়োজন করবেন। বিভিন্ন পেশায় সফল ব্যক্তিদের সাথে শিক্ষার্থীদের মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংসদের অনুমোদনক্রমে বিভিন্ন আয়োজনের ব্যবস্থা করবেন।[৪]
৫.১২.১ সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (নারী) সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদকের সকল কাজে সহযোগিতা ও সহায়তা করবেন।[৪]
৫.১২.২ সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (পুরুষ) সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদকের সকল কাজে সহযোগিতা ও সহায়তা করবেন।[৫]
৫.১৩. স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক
[সম্পাদনা]তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক স্বার্থ সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন। চিকিৎসাসেবা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সংসদ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।[৫]
৫.১৪ পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক
[সম্পাদনা]তিনি শিক্ষার্থীদের পরিবহন ও যোগাযোগ সংক্রান্ত কাজে সংসদ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে সংসদের উদ্যোগে সহায়তা করবেন।[৫]
কার্যকরী সদস্য:
[সম্পাদনা]০৬ (ছয়) জন; এর মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। সংসদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা এবং সংসদ কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।[৫]
৬। কর্মকর্তা নির্বাচন
[সম্পাদনা]সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ ছাড়া সকল কর্মকর্তা এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্য উপরে উল্লিখিত নির্বাচনবিধি অনুসারে সংসদ দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত হবেন।[৫]
৭। কার্যকরী পরিষদ
[সম্পাদনা]ক. সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ), শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক, নাট্য সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ), তথ্য-প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক, সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক, সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (নারী), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (পুরুষ), স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক, পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক এবং কার্যকরী পরিষদের জন্যে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত ০৬ (৩ জন পুরুষ ও ৩জন নারী) সদস্য নিয়ে কার্যকরী পরিষদ গঠিত হবে।[৫]
খ. কার্যকরী পরিষদ সংসদের কার্যাবলির আয়োজন ও নিয়ন্ত্রণের জন্যে দায়ী থাকবেন।[৫]
গ. বাজেটে নেই ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকার অধিক এমন কোনো ব্যয় যদি কোন কর্মকর্তা করতে চান, তবে তার জন্যে কার্যকরী পরিষদের অনুমোদন লাগবে।[৫]
ঘ. সংসদের কর্মচারীদের ছুটি মঞ্জুর করার ক্ষমতা কার্যকরী পরিষদের থাকবে। সংসদ কর্মচারী নিয়োগ, বরখাস্ত, সাময়িক বরখাস্ত করার ক্ষমতা কার্যকরী পরিষদের এর থাকবে।[৫]
ঙ. কার্যকরী পরিষদ প্রতি তিন মাস অন্তত একবার সভায় মিলিত হবে।[৫]
চ. কার্যকরী পরিষদের এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি কোরাম গঠন করবে। মুলতুবি সভার জন্যে কোনো কোরাম দরকার হবেনা।[৫]
ছ. কার্যকরী পরিষদের সভার জন্যে কমপক্ষে তিন দিনের বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। ২৪ ঘণ্টার বিজ্ঞপ্তিতে জরুরি সভা ডাকা যাবে।[৪]
জ. সভাপতির অনুমোদন ছাড়া কোনো সভা অনুষ্ঠিত হতে পারবে না এবং এমন কোনো বিষয় আলোচনা করা যাবে না, যা আলোচনার অন্তত একদিন আগেও সভাপতির গোচরে আনা হয়নি।[৪]
ঝ. কার্যকরী পরিষদের কমপক্ষে ১৪ (চৌদ্দ) জন সদস্যের স্বাক্ষরিত কোনো সভা ডাকার অনুরোধপত্র পাওয়ার তিনদিনের মধ্যে সভাপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে সাধারণ সম্পাদক কার্যকরী পরিষদের সভা আহ্বান করবেন।[৩]
ঞ. সংসদের সাধারণ সম্পাদক কার্যকরী পরিষদেরও সম্পাদক হবেন।[৪]
ট. প্রয়োজনবোধে কার্যকরী পরিষদ উপ-পরিষদ গঠন করতে পারবে। উপ-পরিষদের কার্য-বিবরণী কার্যকরী পরিষদের পরবর্তী সভায় উপস্থিত করতে হবে।[৪]
ঠ. নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার অব্যবহিত পরেই সভাপতি ঘোষণা করবেন কখন বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করবেন। নব-নির্বাচিত কার্যকরী পরিষদ তাদের দায়িত্ব গ্রহণের দশ (১০) দিনের মধ্যেই একটি অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।[৩]
৮। নির্বাচন-বিধি
[সম্পাদনা]ক. প্রার্থিতা: বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করা সাপেক্ষে সংসদে ও যেকেনো নিয়মিত সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ভোট প্রদান করতে পারবে। সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ), শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক, নাট্য সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (নারী), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ), তথ্য-প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক, সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক, সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (নারী), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক (পুরুষ), স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক, পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক এবং কার্যকরী পরিষদের ৬টি (ছয়টি) সদস্য পদে (৩ জন পুরুষ ও ৩জন নারী) নির্বাচনের জন্যে অংশ গ্রহণের যোগ্য। কোনো প্রার্থীই একাধিক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।
খ. নির্বাচন পরিচালনা ও নির্বাচন কমিশন গঠন: বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নির্বাচনের তারিখ ও সময় নির্ধারণ এবং ঘোষণা করবেন। নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে তিনি ডিন, প্রক্টর, প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের সমন্বয়ে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সম্মানিত অধ্যাপক। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন। প্রত্যেক হলে একটি করে নির্বাচন কেন্দ্র থাকবে। একজন শিক্ষার্থী যে হলের সঙ্গে বৈধভাবে সম্পৃক্ত, তিনি সেই হলের নির্বাচন কেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন।
গ. নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব: নির্বাচন কমিশন সংসদে নির্বাচনের সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য দায়ী থাকবেন এবং কমিশনের সভাপতি ভোট গণনার তারিখ, স্থান, কাল স্থির করবেন ও বিজ্ঞাপিত করবেন। কমিশন নির্বাচনের জন্য কমপক্ষে একুশ (২১) দিন আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন।
ঘ. মনোনয়নপত্র: নির্বাচনী কর্মকর্তাগণ সভাপতির বিঘোষিত তারিখ ও সময়ের মধ্যে সংযুক্ত হলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করবেন। নির্বাচন প্রার্থীদের অবশ্যই লিখিতভাবে একজন সদস্যের মনোনয়ন এবং অন্য একজনের সমর্থন লাভকরতে হবে। প্রত্যেক প্রার্থীকেই মনোনয়নের সময় মনোনয়নপত্রে লিখিতভাবে তাঁর সম্মতি জ্ঞাপন করতে হবে।
ঙ. প্রার্থিতা প্রত্যাহার: কোনো প্রার্থী নির্বাচন অনুষ্ঠানের তিন দিন পূর্ব-পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সভাপতির নিকটে লিখিত ও স্বাক্ষরিত দরখাস্ত দ্বারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করতে পারবেন।
চ. মনোনয়নপত্র চূড়ান্তকরণ: নির্বাচন কমিশনের সভাপতি, উপযোগিতা মতো, মনোনয়নপত্র পরীক্ষার তারিখ, স্থান, কাল স্থির ও ঘোষণা করবেন। নির্বাচন কমিশনের সভাপতি মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করবেন এবং আপত্তি সম্পর্কে চূড়ান্ত অভিমত দিবেন। তিনি বিধিসংগত না হওয়ার জন্যে যেকোনো মনোনয়নপত্র বাতিল করতে পারবেন। তাঁর এরকম সিদ্ধান্ত মনোনয়নপত্রের উপর লিখতে হবে, এবং বাতিল করার কারণ বিজ্ঞাপিত করতে হবে। এরকম সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত জ্ঞাপনের একদিনের মধ্যে সভাপতির কাছে আপিল করা যাবে। সংসদ সভাপতির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ছ. ব্যালট গণনা: ব্যালট গণনাকালে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা সশরীরে অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত থাকতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই ভোট কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত এজেন্টদের সম্মুখে ভোট গণনার ব্যবস্থা করবেন। নির্বাচন কমিশনের সভাপতি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করবেন।
জ. নির্বাচন বিষয়ক অভিযোগ ও নিষ্পত্তিকরণ: নির্বাচন সম্পর্কে যেকোনো অভিযোগ ফলাফল প্রকাশের তিন (৩) দিনের মধ্যে সভাপতির কাছে পেশ করা যাবে এবং সংসদ সভাপতি আপিল কমিটির (ডিন, প্রক্টর, প্রভোস্ট সমন্বয়ে গঠিত) মাধ্যমে এ বিষয়ে চৌদ্দ (১৪) দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
ঝ. নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত: নির্বাচনকালীন/ নির্বাচন সংক্রান্ত যে-কোনো বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।[১]
জাকসু নির্বাচন
[সম্পাদনা]১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পরে এখন পর্যন্ত মোট ৮ বার জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পদাধিকারবলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জাকসু -এর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সদস্যরা সরাসরি ভোট দিয়ে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং অন্যান্য পদ নির্বাচন করেন। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে নির্বাচন হয়েছিল।[৬]
জাকসু ভিপি ও জিএস তালিকা
[সম্পাদনা]| ক্রমিক | সাল | ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) | ছাত্র সংগঠন | জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) | ছাত্র সংগঠন |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ১৯৭২ | গোলাম মোর্শেদ | জাসদ ছাত্রলীগ | রোকনউদ্দিন | জাসদ ছাত্রলীগ |
| ২ | ১৯৭৩ | রফিকউল্লাহ | জাসদ ছাত্রলীগ | মোজাম্মেল হক | ছাত্রলীগ |
| ৩ | ১৯৭৪ | এম এ জলিল | দোলোয়ার হোসেন | ||
| ৪ | ১৯৮০ | আজাদ রহমান | আতাউররহমান | ||
| ৫ | ১৯৮১ | মোতাহার হোসেন | সামসুদ্দিন মাসুদ | ||
| ৬ | ১৯৮৯ | এ কে এম এনামুল হক শামীম | ছাত্রলীগ | আজিজুল হাসান চৌধুরী | সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট |
| ৭ | ১৯৯০ | আশরাফ উদ্দিন খান | ছাত্রদল | মোঃ আজগর হোসেন | ছাত্রদল |
| ৮ | ১৯৯১ | মোঃ মনিরুজ্জামান মনির | ছাত্রদল | কে এম রাশেদুল হাসান মাসুম | ছাত্রদল |
| ৯ | ১৯৯২ | মাসুদ হাসানতালুকদার | ছাত্রদল | শামসুল তাবরীজ | ছাত্রদল |
| ১০ | ২০২৫–২৬ | আব্দুর রশিদ জিতু | ছাত্রদল | মাজহারুল ইসলাম | ছাত্রশিবির |
জাকসু নির্বাচন ২০২৫
[সম্পাদনা]১৯৯২ সালে সর্বশেষ জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে দীর্ঘ ৩৩ বছর এই প্রতিষ্ঠানে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নাই। দীর্ঘ দিনের দাবি ও ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৫ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১১ সেপ্টেম্বর জাকসুর ভোট হবে। [৭][৮][৯]
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হল সংসদ নির্বাচনে সর্বমোট ৪৬৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।[১০][৮]
নির্বাচনী তফসিল ২০২৫
[সম্পাদনা]| ক্রম | বিবরণ | তারিখ |
|---|---|---|
| ১ | খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ | ১০/০৮/২০২৫, রবিবার |
| ২ | খসড়া আচরণবিধি প্রকাশ | ১০/০৮/২০২৫, রবিবার |
| ৩ | খসড়া ভোটার তালিকা সম্পর্কে আপত্তি গ্রহণের শেষ তারিখ (স্থান: নির্বাচন কমিশন কার্যালয়) | ১৪/০৮/২০২৫, বৃহস্পতিবার সকাল ৯.০০ টা হতে বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত |
| ৪ | খসড়া আচরণবিধি সম্পর্কে মতামত গ্রহণের শেষ তারিখ (স্থান: নির্বাচন কমিশন কার্যালয়) | ১৪/০৮/২০২৫, বৃহস্পতিবার সকাল ৯.০০ টা হতে বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত |
| ৫ | চূড়ান্ত হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ | ১৭/০৮/২০২৫, রবিবার বিকাল ৪.০০ টা |
| ৬ | চূড়ান্ত আচরণবিধি প্রকাশ | ১৭/০৮/২০২৫, রবিবার বিকাল ৪.০০ টা |
| ৭ | মনোনয়নপত্র সংগ্রহ (স্থান: নির্বাচন কমিশন কার্যালয়) | ১৮/০৮/২০২৫, সোমবার ও ১৯/০৮/২০২৫, মঙ্গলবার সকাল ৯.০০ টা হতে বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত |
| ৮ | মনোনয়নপত্র জমাদান (প্রার্থীকর্তৃক) (স্থান: নির্বাচন কমিশন কার্যালয়) | ১৮/০৮/২০২৫, সোমবার ও ১৯/০৮/২০২৫, মঙ্গলবার সকাল ৯.০০ টা হতে বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত |
| ৯ | মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই | ২১/০৮/২০২৫, বৃহস্পতিবার হতে ২৪/০৮/২০২৫, রবিবার |
| ১০ | খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ | ২৫/০৮/২০২৫, সোমবার বিকাল ৪.০০ টা |
| ১১ | মনোনয়ন পত্রের বৈধতার বিষয়ে এবং বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন গ্রহণ (স্থান: নির্বাচন কমিশন কার্যালয়) | ২৬/০৮/২০২৫, মঙ্গলবার সকাল ৯.০০ টা হতে দুপুর ১২.০০ টা পর্যন্ত |
| ১২ | আপিলের শুনানী (স্থান: নির্বাচন কমিশন কার্যালয়) | ২৭/০৮/২০২৫, বুধবার সকাল ৯.০০ টা হতে দুপুর ২.০০ টা পর্যন্ত |
| ১৩ | আপিলের রায় ঘোষণা (স্থান: নির্বাচন কমিশন কার্যালয়) | ২৭/০৮/২০২৫, বুধবার বিকাল ৪.০০ টা |
| ১৪ | মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ (স্থান: নির্বাচন কমিশন কার্যালয়) | ২৮/০৮/২০২৫, বৃহস্পতিবার সকাল ৯.০০ টা হতে বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত |
| ১৫ | প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ | ২৯/০৮/২০২৫, শুক্রবার বিকাল ৪.০০ টা |
| ১৬ | নির্বাচনী প্রচারণা | ২৯/০৮/২০২৫, শুক্রবার বিকাল ৪.০০ টা হতে ০৯/০৯/২০২৫, মঙ্গলবার রাত ১২.০০ টা পর্যন্ত |
| ১৭ | ভোটগ্রহণ | ১১/০৯/২০২৫, বৃহস্পতিবার সকাল ৯.০০ টা হতে বিকাল ৫.০০ টা পর্যন্ত |
| ১৮ | ভোটগণনা ও ফলাফল ঘোষণা (স্থান: সিনেট হল) (ভোটগণনা শুরুর প্রতি ২ ঘন্টা অন্তর অন্তর ফলাফলের আপডেট প্রকাশ করা হবে) | ১১/০৯/২০২৫, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭.০০ টা থেকে বিরতিহীনভাবে |
টীকা
[সম্পাদনা]- ↑ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ইংরেজি নাম জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (Jahangirnagar University Central Students' Union)-এর সংক্ষিপ্তরূপ জাকসু (JUCSU)।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "সার্কুলার: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের গঠনতন্ত্র"। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "চাকসু নির্বাচন হয়নি ২৪ বছর"। priyo.com। priyo.com। ২২ মে ২০১৭। ৭ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৯।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 "Jahangirnagar University"। www.juniv.edu। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৫।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;:0নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 "Jahangirnagar University"। www.juniv.edu। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "সরকারের দিকে তাকিয়ে জাকসু নির্বাচন!"। prothomalo.com। দৈনিক প্রথম আলো। ১৪ অক্টোবর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৯।
- ↑ "জাকসু নির্বাচন ঘিরে সরগরম জাবি ক্যাম্পাস"। ntvbd.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ আগস্ট ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২৫।
- 1 2 "জাকসু নির্বাচনে ২৫ পদে প্রার্থী ২৭৩ জন"। The Daily Ittefaq। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "জাকসু নির্বাচন ২০২৫ তাফসিল"। www.juniv.edu। ২৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "জাকসু নির্বাচনে ২৫ পদে প্রার্থী ২৭৩ জন"। The Daily Ittefaq। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২৫।