জাপান–ব্রুনাই সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জাপান–ব্রুনাই সম্পর্ক
মানচিত্র Brunei এবং Japan অবস্থান নির্দেশ করছে

ব্রুনাই

জাপান

জাপান–ব্রুনাই সম্পর্ক (মালয়: Hubungan Brunei - Jepun, জাপানি: 日本とブルネイの関係), জাপান এবং ব্রুনাই এর মাঝে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নির্দেশ করে। জাপানের রাজধানী টোকিওতে ব্রুনাইয়ের একটি স্থায়ী দূতাবাস রয়েছে। অপরদিকে ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ান-এ জাপানের একটি স্থায়ী দূতাবাস রয়েছে।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৮৪ সালের ২ এপ্রিল, জাপান এবং ব্রুনাই এর মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ব্রুনাই এবং জাপানের মাঝে অত্যন্ত আন্তরিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। অর্থনৈতিক খাতে এই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি এবং গাঢ়। ব্রুনাইয়ের বাজারে জাপান বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে থাকে। সেগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য হল; মোটর চালিত যানবাহন, অবকাঠামো খাতের যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং গৃহস্থালির বিভিন্ন পণ্য।[২]

অর্থনৈতিক সম্পর্ক[সম্পাদনা]

জাপান-ব্রুনাই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং দ্বৈত করারোপ এড়ানোর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু চুক্তি সাক্ষর হয়।[১][৩][৪]

তেল এবং গ্যাস শিল্পে, ব্রুনাইয়ের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এর ৮২ শতাংশই জাপানের নিকট বিক্রয় করা হয়। এর সাথে, ব্রুনাই প্রতি বছর ৫ মিলিয়ন (৫০ লক্ষ) টনেরও বেশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে রপ্তানি করে। [২]

জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে ব্রুনাইতে বিনিয়োগ করছে। বিনিয়োগকারীরা পেট্রোরাসায়নিক এবং হালাল খাদ্যের জন্য বিনিয়োগে আগ্রহী এবং এসকল ক্ষেত্রে বাণিজ্য করছে।[৫]

বর্তমানে উভয় দেশই নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের খাতে এবং শক্তি সঞ্চয়ের খাতে সমন্বয়ের ব্যাপারে আগ্রহী হয়েছে।[৫][৬] এর পাশাপাশি দুই দেশ, শিক্ষা, কৃষি এবং স্বাস্থ্য খাতে নিজেদের সম্পর্কের প্রসার এবং সম্পর্কের উন্নয়নে অত্যন্ত আগ্রহী।[৭]

নিরাপত্তা সম্পর্ক[সম্পাদনা]

জাপানের প্রধানমন্ত্রী, শিনজো আবে, ২০১৩ সালে ব্রুনাইতে অনুষ্ঠিত আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সম্মেলন, আসিয়ান ডিফেন্স মিনিস্টারস মিটিং প্লাস-এ অংশগ্রহণ করেন। সেই সম্মেলনে তিনি বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তার দেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তিনি দেখানে আরও বলেন, জাপান সবসময়ই নিরাপত্তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তাই জাপান সবসময়ই নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকে। সম্মেলনে তিনি, আসিয়ান এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে জাপানের সুসম্পর্ক থাকার কথা উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে সব দেশের সাথে সম্পর্কের আরও উন্নয়ন করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।[৮]

জাপান এবং ব্রুনাই উভয় দেশই, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণের ক্ষেত্রে, নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় করার অঙ্গীকারের কথা নিশ্চিত করে। এর পাশাপাশি সমুদ্রের নিরাপত্তায় দুই দেশের মধ্যকার সমন্বয় বৃদ্ধির ব্যাপারেও দুই দেশ একমত হয়।[৮][৯][১০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Brunei-Japan Relations"ব্রুনাইয়ের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  2. "Brunei-Japan Trade Relations"রেডিও টেলিভিসিয়েন ব্রুনাই। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। ৮ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  3. "Japan-Brunei Economic Partnership Agreement"জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  4. "AGREEMENT BETWEEN JAPAN AND BRUNEI DARUSSALAM FOR THE AVOIDANCE OF DOUBLE TAXATION AND THE PREVENTION OF FISCAL EVASION WITH RESPECT TO TAXES ON INCOME" (পিডিএফ)জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  5. J.T. Quigley (১৬ জানুয়ারি ২০১৪)। "Kenichi Suganuma"দ্যা ডিপ্লোম্যাট। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  6. Nabilah Haris (১৫ ডিসেম্বর ২০১৩)। "Brunei seeks tie-up with Japan in renewable energy"দ্যা ব্রুনাই টাইমসএশিয়াওয়ান। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  7. "Brunei and Japan uphold strong relations"দ্যা বোর্নিও পোস্ট। ১৪ মে ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  8. "Japan-Brunei Summit Meeting"। জাপানের মন্ত্রিসভা। ১৩ মে ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  9. "Japan, Brunei vow to enhance ties, cooperation"জিনহুয়া নিউজ এজেন্সিগ্লোবাল টাইমস। ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 
  10. আর্নো মায়েরব্রুগার (১৫ ডিসেম্বর ২০১৩)। "Japan, Brunei vow to enhance cooperation"। ইনভেস্টভাইন। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]