জাপানের বার্মা বিজয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাপানের বার্মা বিজয়
মূল যুদ্ধ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধবার্মা অভিযান
British troops destroy equipment and machinery at the Yenangyaung oilfields in Burma before retreating, 16 April 1942. IND989.jpg
১৯৪২ সালের ১ এপ্রিলে ইয়েনাংযাং তৈল ক্ষেত্রে এর দৃশ্য জাপানিদের অভিযানে ধ্বংস হওয়ার পরে
তারিখডিসেম্বর ১৯৪১ - মে ১৯৪২
অবস্থান
বার্মা
ফলাফল

জাপানিদের জয়

অধিকৃত
এলাকার
পরিবর্তন
বার্মার উপর জাপানের কর্তৃত্ব
শান স্টেটের থাই দখল
বিবাদমান পক্ষ

 যুক্তরাজ্য

চীন প্রজাতন্ত্র (১৯১২-১৯৪৯) চীন

 জাপান

 থাইল্যান্ড
সেনাধিপতি ও নেতৃত্ব প্রদানকারী
শক্তি
চীন প্রজাতন্ত্র (১৯১২-১৯৪৯) ৯৫,০০০[১]
ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ৪২,০০০–৪৭,০০০[২]
জাপানের সাম্রাজ্য ৮৫,০০০[২]
বার্মা বেড়েছে ১২,০০০[৩] এবং সর্বোচ্চ ২০,০০০[৪][৫]
থাইল্যান্ড ৩৫,০০০[৬]
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
১০,০০০-৫০,০০০ এরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে

বার্মায় জাপানি আক্রমণ তথা জাপানের বার্মা অভিযান দ্বারা জাপানের বার্মা বিজয় -কে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় থিয়েটার-এর উদ্বোধনী পর্ব বলা যায় যেটি ১৯৪২ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অভিযানের প্রথম বছরে জাপানি সেনাবাহিনী (থাই ফায়াপ আর্মি এবং বার্মিজ বিদ্রোহীদের সহায়তায়) ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং চীনা বাহিনীকে বার্মা থেকে হটে যেতে বাধ্য করে। তারপরেই বার্মায় জাপানি দখল কায়েম হয় এবং একটি নামমাত্র স্বতন্ত্র বার্মিজ প্রশাসনিক সরকার গঠিত হয়।

পটভূমি[সম্পাদনা]

বার্মায় ব্রিটিশ শাসন[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগে বার্মা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। ১৯ শতাব্দীর তিনটি ইঙ্গ-বার্মা যুদ্ধের দ্বারা ক্রমবর্ধমানভাবে দখল এবং সংযুক্তির মাধ্যমে বার্মা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভূক্ত হয়। প্রথমদিকে এটি ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসাবে শাসিত হত। পরে বার্মাকে ভারত শাসন আইন ১৯৩৫ অনুসারে একটি পৃথক উপনিবেশ হিসাবে গঠন করা হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনাকালে বার্মায় যথেষ্ট পরিমাণে অর্থনৈতিক বিকাশ হয়েছিল কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ বার্মিজ সম্প্রদায় ক্রমবর্ধমানভাবে অশান্ত হয়ে উঠছিল।[১৫] তাদের উদ্বেগগুলির মধ্যে একটি ছিল অনেক নতুন নতুন শিল্পের জন্য শ্রমশক্তি হিসাবে ভারতীয় শ্রমিকদের আমদানি করা এবং জমিতে রফতানিযোগ্য ফসলের আবাদ করে গ্রামাঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী সমাজের ক্ষয় হওয়ায় বা ভারতীয় মহাজনদের কাছে বন্ধক হিসাবে সে গুলির ব্যবহার করা হতে থাকায় স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠতে থাকে।[১৬] স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য চাপ ক্রমে বাড়তে থাকে। [১৭] ফলে বার্মা আক্রমণের সময় অনেকে বার্মার ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠা প্রতিরক্ষায় অবদান রাখতে অনিচ্ছুক ছিল এবং তাদের অনেকেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে জাপানিদের সহায়তা করেছিল।

এই সুদূর পূর্বের সম্পত্তি রক্ষার জন্য ব্রিটিশদের পরিকল্পনা জড়িত ছিল কেবল মাত্র ভারতের সাথে সিঙ্গাপুর এবং মালয়ের সাথে সংযোগকারী এয়ারফিল্ড নির্মাণের আগ্রহের সাথে। তারা এই পরিকল্পনায় বিবেচনা করে নি যে জার্মানির সাথে তখন ব্রিটেনও যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। এবার জাপান যখন যুদ্ধে প্রবেশ করে তখন এই সমস্ত সম্পত্তি রক্ষার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় বাহিনী সেখানে উপস্থিত ছিল না। জাপানি হুমকির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা কম ভেবে বার্মাকে তখন সামরিক "ব্যাকওয়াটার" হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল।[১৮]

বার্মা আর্মি -এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল থমাস হাটন এর রেঙ্গুনের সদর দফতর সহ দেশ রক্ষার জন্য হাতে ছিল কেবলমাত্র ১৭ তম ভারতীয় পদাতিক বিভাগ এবং ১ম বার্মা বিভাগ। যদিও চিয়াং কাই-শেক এর অধীনে চীনা জাতীয়তাবাদী সরকারের কাছ থেকে সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়েছিল। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মির সাধারণ শান্তির সময়ের শক্তি ছিল ২০০,২০০। যুদ্ধের সময় সেটিরই বারোগুণেরও বেশি প্রসারিত করার ক্ষমতা ছিল। কিন্তু ১৯৪১ সালের শেষদিকে এই সম্প্রসারণটির প্রকৃত অর্থ ছিল অপ্রতুল অস্ত্র-সজ্জায় সজ্জিত বেশিরভাগ ইউনিট যাদের প্রশিক্ষণও ছিল অনুপযুক্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বার্মায় ভারতীয় ইউনিটের এই জাতীয় প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র-শস্ত্র ছিল মূলত ভারতের পশ্চিমের মরুভূমি অভিযান বা উত্তর পশ্চিম সীমান্তের অভিযানের জন্য প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা যা কোনও ভাবেই জঙ্গলের উপযোগী ছিল না। বার্মা রাইফেলস এর যোদ্ধারা যাঁদের দিয়ে প্রথম গঠন করা হয়েছিল ১ম. বার্মা বিভাগ - তাঁরা মূলত কেবল অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা বাহিনী হিসাবে উঠে এসেছিলেন। এঁরা অনেকে বার্মার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে এসেছিলেন যেমন কারেন। তাঁরা বার্মার সৈন্যদের মধ্যে দ্রুতগতিতে প্রসারিত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। নিত্যনতুন নিয়োগের ফলে তাঁদের মধ্যে সরঞ্জামের অভাবের সাথে সাথে ছিল সমন্বয়েরও অভাব।

মন্তব্য[সম্পাদনা]

  1. Bradford, James. International Encyclopedia of Military History. Routledge, 19 Sep 2006, pg. 221
  2. Facts on File: World War II in the China-Burma-India theater Retrieved 20 March 2016
  3. Bayly and Harper (2005) Forgotten Armies: Britain's Asian Empire and the War with Japan (London: Penguin Books)pp.170
  4. Bayly and Harper, pp.170
  5. Donald M. Seekins, Historical Dictionary of Burma (Myanmar) (Scarecrow Press, 2006), 123–26 and 354.
  6. Reynolds, Bruce E. (১৯৯৪)। Thailand and Japan's Southern Advance, 1940-1945। Palgrave Macmillan US। পৃষ্ঠা 116। আইএসবিএন 978-0-312-10402-3 
  7. Japanese conquest of Burma, December 1941 – May 1942 Retrieved 20 March 2016
  8. McLynn, The Burma Campaign: Disaster into Triumph, 1942–1945, pg. 67.
  9. Air Force Sixtieth Anniversary Commemorative Edition: The Flying Tigers pp. 33 Retrieved 20 March 2016
  10. Allen (1984), p.638
  11. Beevor, Antony (২০১২)। "16"। The Second World War। Weidenfeld & Nicolson। পৃষ্ঠা 309। আইএসবিএন 978-0-316-08407-9 
  12. Tucker, Spencer C. (২০০৩)। The Second World War। Macmillan International Higher Education। পৃষ্ঠা 122। আইএসবিএন 978-0-230-62966-0  (includes 15,000 missing)
  13. Zaloga, Steven. "M3 and M5 Stuart Light Tank 1940–45". Osprey Publishing, 18 Nov 1999. p. 14. According to Zaloga, all but one tank of the two regiments of the 7th Armoured Brigade had been lost.
  14. Black, Jeremy. Air Power: A Global History pp. 108
  15. Allen, pp.13–15
  16. Allen, p.9
  17. Bayly and Harper, pp.81–96
  18. Jackson, pp.387–388

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]