বিষয়বস্তুতে চলুন

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র
সংক্ষেপেএনবিসি (বেসরাকরি)
গঠিত১৯৭২
ধরনসরকারি
আইনি অবস্থাসক্রিয়
সদরদপ্তরগুলিস্তান এলাকা
অবস্থান
যে অঞ্চলে কাজ করে
বাংলাদেশ
দাপ্তরিক ভাষা
বাংলা ও ইংরেজি
পরিচালক
আফসানা বেগম (সাহিত্যিক)
প্রধান প্রতিষ্ঠান
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
ওয়েবসাইটwww.jgk.gov.bd

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র বাংলাদেশের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান যা গ্রন্থ প্রকাশনা ও বিপণন বিষয়ে কাজ করে থাকে। এটি একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা ও প্রশাসন একটি পরিচালনা পরিষদের ওপর ন্যস্ত, সরকারের সংস্কৃতি সচিব যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে পরিচালক হিসেবে অভিহিত করা হয়।

গ্রন্থমনস্ক আলোকিত মানুষ তৈরী করা এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য। এর অভিলক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও দেশজ সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভে সহায়তার উদ্দেশ্যে সারা দেশে গ্রন্থাগার সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধির আলোকিত সমাজ গঠন করা।

এই প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার গুলিস্তানে অবস্থিত এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালযয়ের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত।[] দেশের বেসরকারি পাঠাগারগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা করা এর অন্যতম দায়িত্ব।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

১৯৬০ সালে ইউনেস্কোর সহযোগীতায় তৎকালীন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা বিভাগের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ন্যাশনাল বুক সেন্টার অব পাকিস্তান’ যার একটি শাখা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় স্থাপন করা হয় এবং স্বাধীনতার পর এটিকে ‘জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র বাংলাদেশ’ নামকরণ করা হয় ও পরবর্তীতে, ১৯৮৩ সালে এনাম কমিটির সুপারিশ অনুসারে একে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেয়া হয়।[] ১৯৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৭নং আইন বলে ‘জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র’ আইন প্রণয়ন করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির নতুন নামকরণ ‘জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র’ করে এটিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়।[]

অবস্থান

[সম্পাদনা]

ঢাকার শহরের কেন্দ্রস্থলে গুলিস্তানে গোলাপ শাহ মাজারের বিপরীতে নিজেস্ব ভবনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র অবস্থিত।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

[সম্পাদনা]

এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসাবে বলা হয়েছে[][] -

  1. জ্ঞান ও মননশীলতার উৎকর্ষ সাধনে গ্রন্থ ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করা;
  2. সাহিত্যমনস্ক ও জ্ঞানসমৃদ্ধ জাতি ও সমাজ গঠন করা;
  3. দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেসরকারীভাবে গ্রন্থাগার স্থাপনে জনসাধারনকে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করা;
  4. বেসরকারী গ্রন্থাগারের প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধি করা;
  5. লেখক, কবি ও সাহিত্যিককে তার সৃষ্টিশীলতার বিকাশ ও প্রসার ঘটাতে উদ্বুদ্ধ করা;
  6. পুস্তক বা গ্রন্থ প্রকাশনা শিল্পকে উৎসাহিত ও লাভজনক শিল্পে পরিণত করা;
  7. পুস্তক বা গ্রন্থের প্রকাশ, প্রকাশনা বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা;
  8. বইমেলাকে দেশ ও দেশের বাইরে সর্বস্তরের জনসাধারনের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া;
  9. সর্বসাধারনের মধ্যে লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও তাদের প্রকাশিত পুস্তক বা গ্রন্থের পরিচিতি বাড়ানো;
  10. জনসাধারনকে গ্রন্থ পাঠে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা।

কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

সৃজনশীল প্রকাশনাকে উৎসাহিত করা, পাঠক সৃষ্টি করা, পাঠ সামগ্রীর উপর গ্রন্থপঞ্জি প্রকাশ, গ্রন্থ বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণা পরিচালনা ও প্রতিবেদন প্রকাশ, বইমেলার আয়োজন করা, গ্রন্থাগার সেবার মান উন্নয়ন করা, জনসাধারনের মধ্যে পাঠ সচেতনতা সৃষ্টি করা, প্রকাশণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদান করা, বেসরকারী গ্রন্থাগারকে সহায়তা প্রদান, গ্রন্থাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ প্রদান, গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ে সরকারকে সহায়তা প্রদান, গ্রন্থবিষয়ক সেমিনার ও আলোচনার আয়োজন, প্রভৃতি কার্যসম্পাদনের লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়।[][]

এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর শ্রেষ্ঠ প্রকাশক ও শ্রেষ্ঠ মুদ্রাকর বিষয়ে পুরস্কার প্রদান করে থাকে।[][]

বেসরকারি গ্রন্থাগারের জন্য অনুদান

[সম্পাদনা]

দেশের বেসরকারি পাঠাগারগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা করা জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের অন্যতম দায়িত্ব। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত নির্দিষ্ট সংখ্যক গণগ্রন্থাগারের পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য প্রতি বছর অনুদান প্রদান করে। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের কর্মকর্তাগণ অনুদানপ্রাপ্ত বেসরকারি গ্রন্থাগার পরিদর্শন করে অনুদানের ন্যায্যতা ও সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করে থাকেন।

মহানগর লাইব্রেরি

[সম্পাদনা]

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে প্রায় তিন হাজার চারশত বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট লাইব্রেরি রয়েছে। এটি মহানগর লাইব্রেরি হিসেবে অভিহিত। ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই লাইব্রেরিতে পুস্তক সঞ্চয়ের সংখ্যা ১ লক্ষ ১৮ হাজার। এখানে গ্রন্থপাঠের মনোরম পরিবেশ রয়েছে। মহানগর লাইব্রেরিটি দেশের সর্বস্তরের জনসাধারনের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত। অন্যান্য সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে ফটোকপি সেবা। পত্রিকা পড়ার জন্য রয়েছে আলাদা পত্রিকা পাঠ কক্ষ। এছাড়াও রেফারেন্স সেবার জন্য রয়েছে আলাদা রেফারেন্স সেকশন।

বাংলাদেশের যে কোন বয়সের নাগরিক এ লাইব্রেরির সদস্য হতে পারেন। সদস্য হবার জন্য আগ্রহী ব্যক্তিকে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে সদস্য ফরম সংগ্রহ করে ১ (এক) পাসপোর্ট সাঈজের ছবি বাৎসরিক সদস্য ফিস বাবদ নগদ ১০০/- টাকা (অফেরতযোগ্য) এবং জামানত হিসাবে নগদ ১০০/- টাকা (ফেরতযোগ্য) মোট ২০০/- টাকা প্রদান করতে হয়। এছাড়াও আবেদনকারীকে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধনের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদন ফরমের সাথে সংযুক্ত করতে হয়।[]

সাময়িকপত্র বই

[সম্পাদনা]

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত সাময়িক পত্রের নাম বই। এটি একটি মাসিক পত্রিকা। পুস্তক সমালোচনা প্রকাশ করে ভালো বইয়ের বিপণন বাড়ানো এ পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য। ২০২৫ সালে এ পত্রিকার ৫৩ বর্ষ ২য় সংখ্য প্রকাশিত হয়েছে।[১০]

বইমেলা আয়োজন

[সম্পাদনা]

প্রতি বছর জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র দেশের বিভিন্ন স্থানে বইমেলার আয়োজন করে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের অর্থায়নে এই সব বইমেলা আয়োজন করা হয়। [১১]

মিলনায়তন

[সম্পাদনা]

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে একটি মিলনায়তন রয়েছে যা সভা ও অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেয়া হয়ে থাকে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট বই মেলায় অংশ গ্রহণ

[সম্পাদনা]

প্রতি বছর জার্মানীর ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে যে বিশালাকার আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিক হয় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র তাদের বাংলাদেশের পক্ষে একটি স্টল নিয়ে অংশ গ্রহণ করে।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]


তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "অনিয়মের ঘেরাটোপে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র"দৈনিক যুগান্তর। ৩০ জুন ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  2. "পাঠাগারের পৃষ্ঠপোষকতায় পিছিয়ে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র"দৈনিক শিক্ষা ডটকম। ২৯ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  3. "সংক্ষিপ্ত ইতিহাস"। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  4. 1 2 3 "জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আইন, ১৯৯৫"। আইন ও সংসদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২০ নভেম্বর ১৯৯৫। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  5. "জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য"। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  6. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "তবা১" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  7. "Dam receives National Book Centre Award"দ্য ডেইলি স্টার। দ্য ডেইলি স্টার। ৩ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৯
  8. "Mohiuddin Ahmed"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৯
  9. সদস্য হওয়ার নিয়ম
  10. বিজ্ঞাপন দ্রষ্টব্য
  11. জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]