জন গারফিল্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জন গারফিল্ড
John Garfield - 1942.jpg
১৯৪২ সালে গারফিল্ড
স্থানীয় নাম
John Garfield
জন্ম
ইয়াকব ইউলিয়াস গারফিঙ্কল

(১৯১৩-০৩-০৪)৪ মার্চ ১৯১৩
মৃত্যু২১ মে ১৯৫২(1952-05-21) (বয়স ৩৯)
নিউ ইয়র্ক সিটি, নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যুর কারণকরোনারি থ্রম্বোলিস
সমাধিওয়েস্টচেস্টার হিলস সমাধি
জাতীয়তামার্কিন
জাতিসত্তারুশ
পেশাঅভিনেতা
কার্যকাল১৯৩২-১৯৫১
দাম্পত্য সঙ্গীরবার্টা সাইডমান (বি. ১৯৩৫; মৃ. ১৯৫২)
সন্তানক্যাথরিন গারফিল্ড (১৯৩৮-১৯৪৫)
ডেভিড গারফিল্ড (১৯৪৩-১৯৯৪)
জুলি গারফিল্ড (জ. ১৯৪৬)

জন গারফিল্ড (ইংরেজি: John Garfield; জন্ম: ইয়াকব ইউলিয়াস গারফিঙ্কল, ৪ মার্চ ১৯১৩ - ২১ মে ১৯৫২) ছিলেন একজন মার্কিন অভিনেতা। তিনি মূলত পিতাশ্রেণীয়, বিদ্রোহী ও শ্রমিক শ্রেণীয় কাজ করে প্রসিদ্ধি অর্জন করেন।[১] মহামন্দা সময়কালে নিউ ইয়র্কে দারিদ্রের মধ্যে বেড়ে ওঠা গারফিল্ড ১৯৩০-এর দশকের শুরুতে গ্রুপ থিয়েটারের সদস্য হন। ১৯৩৭ সালে তিনি হলিউডে আসেন এবং ওয়ার্নার ব্রসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর এই স্টুডিওর চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তারকা খ্যাতি লাভ করেন। গারফিল্ড ফোর ডটারস্‌ (১৯৩৮) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে এবং বডি অ্যান্ড সোল (১৯৪৭) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল হাউজ কমিটি অন আন-আমেরিকান অ্যাক্টিভিটিজ (এইচইউএসি) তাকে কমিউনিস্ট হওয়ার অভিযোগ করলে তিনি তাদের অভিযোগ প্রত্যাখান করেন এবং "নাম বলা" থেকে বিরত থাকার কারণে তার চলচ্চিত্র কর্মজীবনে ইতি ঘটে। অনেকে ধারণা করেন এই ঘটনার চাপে তিনি মাত্র ৩৯ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান।[২] মার্লোন ব্র্যান্ডো, মন্টগামারি ক্লিফটজেমস ডিনের মত গারফিল্ডকে পদ্ধতিগত অভিনয়ের পূর্বসূরী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জীবনী[সম্পাদনা]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

গারফিল্ড ১৯১৩ সালের ৪ঠা মার্চ নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের রিভিংটন স্ট্রিটে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মনাম ইয়াকব ইউলিয়াস গারফিঙ্কল। তার পিতা দাভিদ গারফিঙ্কল ও মাতা হান্নাহ রুশ ইহুদি ছিলেন। গারফিল্ড ইড্ডিশ থিয়েটার জেলায় বেড়ে ওঠেন।[৩][৪]

ওয়ার্নার ব্রস.[সম্পাদনা]

গারফিল্ড বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর মাইকেল কার্টিজের ফোর ডটারস্‌ (১৯৩৮) চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পান। এই ছবিতে বিয়োগান্ত তরুণ সুরকার চরিত্রে তার কাজের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। এই কাজের সফলতার পর ওয়ার্নার ব্রস. গারফিল্ডের সাথে তাদের চুক্তি নবায়ন করে এবং তাকে পার্শ্ব চরিত্রের পরিবর্তে তারকা হিসেবে কাজের সুযোগ দেয়। তারা দে মেড মি আ ক্রিমিনাল (১৯৩৯) ছবিতে শিরোনামের উপর তার নাম দেখা যায়। এই সময়ে তিনি "বি" শ্রেণির ব্ল্যাকওয়েল্‌স আইল্যান্ড ছবিতে অভিনয় করেন। ওয়ার্নার ব্রস. তাদের নতুন তারকাকে আর কোন স্বল্প-বাজেটের চলচ্চিত্রে কাজ করানোর পরিবর্তে "এ" শ্রেণির একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ১০০,০০০ মার্কিন ডলার যোগ করে এবং পরিচালক মাইকেল কার্টিজকে নতুন দৃশ্য পরিচালনার জন্য ডাকা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গারফিল্ড কয়েকটি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, তন্মধ্যে রয়েছে লানা টার্নারের বিপরীতে দ্য পোস্টম্যান অলওয়েজ রিংস টুয়াইস (১৯৪৬), জোন ক্রফোর্ডের বিপরীতে হিউমারেস্ক (১৯৪৬), অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র জেন্টলম্যান্‌স অ্যাগ্রিমেন্ট (১৯৪৭)। শেষোক্ত চলচ্চিত্রে তিনি চরিত্রাভিনেতা হিসেবে কাজ করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি বডি অ্যান্ড সোল (১৯৪৭) চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করেন এবং এই কাজের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।[৫]

পুরস্কার ও মনোনয়ন[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

বছর চলচ্চিত্রের শিরোনাম মূল শিরোনাম চরিত্র টীকা
১৯৩৮ ফোর ডটারস্‌ Four Daughters মিকি বোর্ডেন
১৯৩৯ দে মেড মি আ ক্রিমিনাল They Made Me a Criminal জনি ব্র্যাডফিল্ড
ব্ল্যাকওয়েল্‌স আইল্যান্ড Blackwell's Island টিম হেডন
জুয়ারেজ Juarez পোরফিরিও ডিয়াজ
ডটারস্‌ কারেজিয়াস Daughters Courageous গ্যাব্রিয়েল লোপেজ
ডাস্ট বি মাই ডেসটিনি Dust Be My Destiny জো বেল
১৯৪০ ক্যাসল অন দ্য হাডসন Castle on the Hudson টমি গর্ডন বিকল্প শিরোনাম: ইয়ার্স উইদাউট ডেজ
স্যাটারডেস চিলড্রেন Saturday's Children রিমস রোসন
ফ্লোয়িং গোল্ড Flowing Gold জন আলেকজান্ডার / জনি ব্লেক
ইস্ট অব দ্য রিভার East of the River জোসেফ এনরিকো "জো" লরেঞ্জো
১৯৪১ দ্য সি উল্‌ফ The Sea Wolf জর্জ লিচ
আউট অব দ্য ফগ Out of the Fog হ্যারল্ড গফ
ডেঞ্জারাসলি দে লিভ Dangerously They Live ডক্টর মাইকেল "মাইক" লুইস
১৯৪২ টরটিল্লা ফ্ল্যাট Tortilla Flat ড্যানিয়েল "ড্যানি" আলভারেজ
১৯৪৩ এয়ার ফোর্স Air Force সার্জেন্ট জো উইনোকি, অ্যারিয়েল গানার
দ্য ফলেন স্প্যারো The Fallen Sparrow জন "কিট" ম্যাকিট্রিক
থ্যাংক ইওর লাকি স্টার্স Thank Your Lucky Stars স্বয়ং (ক্ষণিক চরিত্রাভিনয়)
ডেস্টিনেশন টোকিও Destination Tokyo উল্‌ফ
১৯৪৪ বিটুইন টু ওয়ার্ল্ডস Between Two Worlds টম প্রায়র
হলিউড ক্যান্টিন Hollywood Canteen স্বয়ং (ক্ষণিক চরিত্রাভিনয়)
১৯৪৫ প্রাইড অব দ্য মেরিনস্‌ Pride of the Marines আল স্মিট
১৯৪৬ দ্য পোস্টম্যান অলওয়েজ রিংস টুয়াইস The Postman Always Rings Twice ফ্র্যাঙ্ক চেম্বারস
নোবডি লিভস ফরেভার Nobody Lives Forever নিক ব্লেক
হিউমারেস্ক Humoresque পল বোরি
১৯৪৭ বডি অ্যান্ড সোল Body and Soul চার্লি ডেভিস
জেন্টলম্যান্‌স অ্যাগ্রিমেন্ট Gentleman's Agreement ডেভ গোল্ডম্যান
১৯৫১ হি র‍্যান আল দ্য ওয়ে He Ran All the Way নিক রোবি অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "অবিচুয়ারি"। ভ্যারাইটি। ২৮ মে ১৯৫২। পৃ. ৫৫।
  2. বিভার, জিম (১৯৭৮)। John Garfield: His Life and Films। ক্র্যানবারি, নিউ জার্সি: A.S. Barnes & Co.। আইএসবিএন 0-498-01890-3 
  3. নট, রবার্ট (২০০৩)। He Ran All the Way: The Life of John Garfield। Hal Leonard Corporation। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৮ 
  4. বিয়াল, হেনরি (২০০৫)। Acting Jewish: Negotiating Ethnicity on the American Stage & Screen। University of Michigan Press। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৮ 
  5. সুইন্ডেল, ল্যারি (১৯৭৫)। Body and soul, the story of John Garfield (ইংরেজি ভাষায়)। মোরো। আইএসবিএন 9780688029074। সংগ্রহের তারিখ ৪ মার্চ ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]