চীনের মহাখাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
চীনের মহাখাল
{{{alt}}}
সুচৌয়ের কছে চীনের মহা খালে নৌযান চলাচল করছে।
নিমার্ণ শুরু সুই সাম্রাজ্য
শুরুর হবার স্থান বেইজিং
শেষ হবার স্থান হাংচৌ
যুক্ত হয়েছে হাই নদী, হুয়াংহো নদী, হুই নদী, ছাং চিয়াং নদী, ছিয়ানথাং নদী
মহাখালের মানচিত্র।

মহাখাল বা বেইজিং-হাংচৌ গ্র্যান্ড খাল (জিং-হান দা ইউনহে) হল বিশ্বের দীর্ঘতম এবং প্রাচীনতম খাল বা কৃত্রিম নদী এবং এটি চীনের একটি বিখ্যাত পর্যটক গন্তব্য।[১] মহাখাল ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত। বেইজিং থেকে শুরু করে এটি থিয়েনচিন এবং হপেই, শানতুং, চিয়াংসুচচিয়াং প্রদেশের হাংচৌ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হুয়াংহো নদী এবং ছাং চিয়াং নদীকে সংযুক্ত করে। খালের প্রাচীনতম অংশটি খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে নির্মিত, তবে খালের বিভিন্ন অংশগুলো প্রথম সুই রাজবংশের সময় সংযুক্ত ছিল (৫৮১-৬১৮ খ্রি.)। ১২৭১-১৬৩৩ সালে রাজবংশগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে খালের পুনঃনির্মাণ করে এবং তাদের মূলধন বেইজিংয়ে সরবরাহ করার জন্য তার রুট পরিবর্তন করে।

মহাখালের মোট দৈর্ঘ্য ১,৭৭৬ কিলোমিটার (১,১০৪ মা)। খালের উচ্চতম স্থানটি ৪২ মিটার (১৩৮ ফুট) উচু, যেটি শানতুং প্রদেশের পর্বতমালায় অববস্থিত।[২] শং বংশের (৯৬০-১২৭৯) সরকারী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী কিয়াও ভিয়ুয়ের দ্বারা ১০ শতকে পাউন্ড লকের উদ্ভাবনের পরে চীনা খালগুলোতে জাহাজগুলোর উচ্চ স্থানে পৌঁছানোর জন্য অসুবিধা হয়নি।[৩] জাপানের সন্ন্যাসী এনিন (৭৯৪-৮৬৪), ফার্সি ইতিহাসবিদ রাশিদ আল-দিন (১২৪৭-১৩১৮), কোরীয় কর্মকর্তা চয়ে বু (১৪৫৫-১৫০৪) এবং ইতালীয় মিশনারি মাত্তেও রিচি (১৫৫২-১৬১০) সহ অনেকেই অতীতে এই খালের প্রশংসা করেছেন।[৪][৫]

ঐতিহাসিকভাবে হুয়াংহো নদীর বার্ষিক বন্যার কারণে খালের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা হুমকির মুখে পড়ে। যুদ্ধকালীন সময়ে শত্রু সৈন্যবাহিনী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হুয়াংহো নদীর উচ্চ জলপ্রাচীরকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করে বন্যা সৃষ্টি করা হয়েছিল। এর ফলে দুর্যোগ এবং দীর্ঘায়িত অর্থনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। অস্থিরতা ও অপব্যবহার সত্ত্বেও গ্র্যান্ড খালটি সুই যুগের পর থেকে চীনের শহুরে জনগোষ্ঠী ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বাজারকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এটি দ্রুত ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহায়তা করেছে এবং চীনের অর্থনীতির উন্নতি করেছে। এই খালের দক্ষিণ অংশ বর্তমান দিনের ব্যপক ভাবে ব্যবহার করা হয় পণ্য পরিবহনে।

উচ্চতা[সম্পাদনা]

যদিও খালটি সাধারণত পাঁচটি নদী ব্যবস্থার জলবিভাজিকা অতিক্রম করে, তবে প্রকৃতপক্ষে এগুলোর মধ্যে উচ্চতারপার্থক্য এত কম যে এগুলো শুধুমাত্র একটি একক জলপথ হিসাবে কাজ করে। খালের তলদেশের উচ্চতা হংকংয়ের সমুদ্রতলের ১ মিটার থেকে ৩৮.৫ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় রয়েছে। বেইজিংয়ে এটি ২৭ মিটারে পৌঁছায়, পাহাড় থেকে পশ্চিমে দিকে খালের জলকে প্রবাহিত করা হয়। বেইজিং থেকে থিয়ানচিনের দিকে, নানউয়াং উত্তর থেকে থিয়ানচিনের পর্যন্ত এবং নানউয়াং দক্ষিণ থেকে ছাং চিয়াং নদী পর্যন্ত জল প্রবাহিত হয়। চিয়াংনান খালের জলতলের উচ্চতা সমুদ্রতল থেকে খুব কমই থাকে (চেনচিয়াং রিজ ছাং চিয়াং নদীর চেয়ে ১২ মিটার বেশি উচু)।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

উদ্ধৃতিসমূহ[সম্পাদনা]

  1. Hutchinson's Encyclopedia, Encarta. Archived 2009-10-31.
  2. Needham, Volume 4, Part 3, 307.
  3. Needham, Volume 4, Part 3, 350–352
  4. Needham, Volume 4, Part 3, 308 & 313.
  5. Brook, 40–51.

উৎস[সম্পাদনা]

  •  চিসাম, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। "China"। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ6 (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা 168। [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলনের তথ্যসূত্রসহ ১৯১১ সালের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা থেকে উইকিপিডিয়া নিবন্ধসমূহে একটি উদ্ধৃতি একত্রিত করা হয়েছে]]
  • Benn, Charles. (2002). China's Golden Age: Everyday Life in the Tang Dynasty. Oxford University Press. আইএসবিএন ০-১৯-৫১৭৬৬৫-০.
  • Bishop, Kevin (1997). China's Imperial Way. Hong Kong: Odyssey.
  • Bowman, John S. (2000). Columbia Chronologies of Asian History and Culture. New York: Columbia University Press.
  • Brook, Timothy. (1998). The Confusions of Pleasure: Commerce and Culture in Ming China. Berkeley: University of California Press. আইএসবিএন ০-৫২০-২২১৫৪-০
  • Carles, W.R. (1900). The Grand Canal of China. Shanghai: Journal of the North China Branch RAS, Vol. 31, pp. 102–115, 1896-1897 volume, but actually published in 1900.
  • Ebrey, Patricia Buckley (1999). The Cambridge Illustrated History of China. Cambridge: Cambridge University Press. আইএসবিএন ০-৫২১-৬৬৯৯১-X (paperback).
  • Fairbank, John King and Merle Goldman (1992). China: A New History; Second Enlarged Edition (2006). Cambridge: MA; London: The Belknap Press of Harvard University Press. আইএসবিএন ০-৬৭৪-০১৮২৮-১
  • Gandar, Dominique (1903). Le Canal Imperial: Etude Historique et Descriptive. Shanghai: Imprimerie de la Mission Catholique. Varietes Sinologiques No. 4.
  • Garnett, J.W. (1907). Report by Mr. J.W. Garnett of a Journey through the Provinces of Shantung and Kiangsu. British Parliamentary Papers, China No.1, CD3500. London: HMSO.
  • Hinton, Harold C. (1956). The Grain Tribute System of China (1845-1911). Cambridge: Harvard University Press.
  • Liao Pin, ed. (1987). The Grand Canal: An Odyssey. Beijing: Foreign Languages Press.
  • Martin, W.A.P. (1897). A Cycle of Cathay.
  • Needham, Joseph. (1986). Science and Civilization in China: Volume 4, Physics and Physical Technology, Part 3, Civil Engineering and Nautics. Taipei: Caves Books, Ltd. আইএসবিএন ০-৫২১-০৭০৬০-০
  • New China News Ltd. (1984). The Grand Canal of China. Hong Kong: South China Morning Post Ltd.
  • Staunton, George (1797). An Authentic Account of an Embassy ...to the Emperor of China.
  • China’s Ancient Lifeline published May 2013 National Geographic magazine
  • 中国运河, 竞放、杜家驹 主编, 金陵书社 1997年; China's Canal, Jing Fang and Du Jiaju eds, Jinling Book Society, 1997.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]