বিষয়বস্তুতে চলুন

চণ্ডীমঙ্গল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাংলার পটচিত্রে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আখ্যান

চণ্ডীমঙ্গল হল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপশাখা। এই শ্রেণির কাব্যগুলিতে দেবী চণ্ডী বা অভয়ার মাহাত্ম্য কীর্তন করা হয়েছে। আদিতে এই চণ্ডী ছিলেন এক লোকদেবী, পরবর্তীকালে পৌরাণিক দেবী চণ্ডী বা দুর্গার সঙ্গে তাঁর অভিন্নতা প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্ভবত আদিতম চণ্ডীমঙ্গল কাব্য রচনার কয়েক শতক পূর্বেই এই একত্ব প্রতিপাদিত হয়েছিল।[] অন্যান্য মঙ্গলকাব্যের ন্যায় চণ্ডীমঙ্গলও "দেবখণ্ড" ও "নরখণ্ড" নামে দুই ভাগে বিভক্ত। "দেবখণ্ড" অংশে সতীপার্বতীর উপাখ্যান পাওয়া যায় এবং এই আখ্যান মূলত সংস্কৃত পুরাণ সাহিত্যের অনুসারী।[] অধিকাংশ চণ্ডীমঙ্গল পুথিতে "নরখণ্ড" অংশে দুটি পরস্পর-বিচ্ছিন্ন স্বতন্ত্র কাহিনি সংযোজিত হয়েছে: কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যানটি "আখেটিক খণ্ড" এবং ধনপতি ও তাঁর দুই পত্নী লহনা ও খুল্লনার উপাখ্যানটি "বণিক খণ্ড" নামে পরিচিত। বৃহদ্ধর্ম পুরাণের একটি শ্লোকে (উত্তরখণ্ড, ষোড়শ অধ্যায়) এই দুই কাহিনির উল্লেখ পাওয়া যায়।[]

চণ্ডীমঙ্গলের আখ্যান

[সম্পাদনা]

অন্যান্য সকল মঙ্গলকাব্যে একটিমাত্র আখ্যান থাকলেও চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে আখ্যান রয়েছে দুটি। প্রথম আখ্যানটি ব্যাধ কালকেতুর উপাখ্যান, যেটি "আখেটিক খণ্ড" নামে পরিচিত এবং দ্বিতীয় আখ্যানটি ধনপতি সদাগরের উপাখ্যান, যা পরিচিত "বণিক খণ্ড" নামে।

আখেটিক খণ্ড: কালকেতুর উপাখ্যান

[সম্পাদনা]

আখেটিক খণ্ডে কালকেতুর উপাখ্যানটি নিম্নরূপ: [][] দেবী চণ্ডী ইন্দ্রের পুত্র নীলাম্বরের মাধ্যমে মর্ত্যে নিজের পূজা প্রচার করতে মনস্থ করলেন। তাই শিবকে তিনি অনুরোধ করলেন নীলাম্বরকে শাপ দিয়ে মর্ত্যে প্রেরণের জন্য। কিন্তু শিব বিনা অপরাধে নীলাম্বরকে শাপ দিতে চাইলেন না। তখন চণ্ডী কীটরূপ ধারণ করলেন। নীলাম্বর ইন্দ্রের আদেশে তাঁর শিবপূজার জন্য ফুল তুলছিল। কীটরূপিণী চণ্ডী সেই ফুলের মধ্যেই রইলেন লুকিয়ে। নীলাম্বর সেই ফুল তুলে আনলে ইন্দ্র তা দিয়ে শিবপূজা করলেন। ফুলের মধ্যে থেকে বের হয়ে কীট দংশন করল শিবকে। বিষের জ্বালায় অস্থির হয়ে শিব নীলাম্বরকে শাপ দিলেন যে, সে মর্ত্যে ব্যাধ হয়ে জন্মগ্রহণ করবে। চণ্ডীর অভিপ্রায় সিদ্ধ হল। ধর্মকেতু ব্যাধের গৃহে কালকেতু নাম নিয়ে জন্মগ্রহণ করল নীলাম্বর। তার পত্নী ছায়া স্বামীর অনুগামিনী হয়ে ফুল্লরা নাম নিয়ে অন্য এক ব্যাধের কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করল। কালকেতু ছেলেবেলা থেকেই বলিষ্ঠ, শক্তিশালী ও সাহসী। সে সজারু তাড়া করে ধরত, পাখির দিকে মাটির গোলা ছুঁড়ে মারত, বাঘ-ভাল্লুক নিয়ে খেলা করত। এগারো বছর বয়সে কালকেতু বিয়ে করল ফুল্লরাকে। ফুল্লরা সুন্দরী ও গৃহকর্মে নিপুণা, এক অর্থে কালকেতুর উপযুক্ত গৃহিণী। কালকেতু-ফুল্লরার সংসারে দারিদ্র্য থাকলেও শান্তির অভাব ছিল না। শিকারে সে ছিল বিশেষ পারদর্শী। শিকারই তার একমাত্র জীবিকা। প্রতিদিন সে যা শিকার করত, তা বাজারে বিক্রি করে যা পেত তাতেই কোনও রকমে তার সংসার চলে যেত।

এদিকের বনের পশুরা কালকেতুর অত্যাচারে অস্থির হয়ে চণ্ডীর শরণাপন্ন হলে চণ্ডী তাদের অভয় দিলেন। একদিন চণ্ডী ছলনা করে বনের পশুদের লুকিয়ে রাখলেন। ব্যাধ-দম্পত্তির সেদিন আর অন্ন জুটল না। পরদিন আবার কালকেতু ধনুক নিয়ে বনে যাত্রা করল, পথে অনেক মঙ্গলচিহ্নও দেখতে পেল। কিন্তু হঠাৎ একটি স্বর্ণগোধিকা দেখে তার সকল আশা নির্মূল হয়ে গেল; কারণ, গোধিকা যাত্রার পক্ষে অশুভ। ক্রুদ্ধ কালকেতু গোধিকাটিকে বেঁধে নিল ধনুর্গুণে। ঠিক করল, সেদিন যদি অন্য শিকার না পাওয়া যায়, তবে সেটাকেই পুড়িয়ে খাবে। সমস্ত বন ঘুরে কালকেতু সেদিনও একটি শিকারেরও সন্ধান পেল না। তাই গোধিকাটিকে নিয়েই তাকে ঘরে ফিরতে হল। ফুল্লরা শিকারের আশায় অপেক্ষা করছিল। শূন্য হাতে স্বামীকে ফিরতে দেখে সে কেঁদে ফেলল। কালকেতু গোধিকার ছাল ছাড়িয়ে ফুল্লরাকে রাঁধতে বলল এবং প্রতিবেশিনী বিমলার ঘর থেকে কিছুটা ক্ষুদ ধার করে আনতে বলে নিজে বাসি মাংসের পসরা মাথায় নিয়ে বাজারে চলে গেল। এদিকে গোধিকারূপিণী চণ্ডী সুন্দরী যুবতীর রূপ ধারণ করলেন। ফুল্লরা বিমলার ঘর থেকে ফিরে দেখল, এক অপরূপা সুন্দরী যুবতী তার ঘরের আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছেন। ফুল্লরা তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, কালকেতুই তাঁকে এখানে এনেছে এবং তিনি তাদের কুটিরেই থাকবেন বলে স্থির করেছেন। ফুল্লরার দুঃখের সংসারে স্বামীই একমাত্র সম্বল। যুবতীকে দেখে তার মুখ শুকিয়ে গেল। ফুল্লরা সীতা-সাবিত্রীর দৃষ্টান্ত দেখিয়ে, অনেক নীতিকথা শুনিয়ে, তাঁকে পরগৃহবাস থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করল। তাদের সংসারে কত দারিদ্র্য তাও বলল। কিন্তু যুবতী তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় রইলেন। তখন ফুল্লরা কাঁদতে কাঁদতে ছুটল স্বামীর কাছে। কালকেতু ঘরে এসে চণ্ডীর অপূর্ব সুন্দরী যুবতীরূপ দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল। সেও তাঁকে পরগৃহবাস থেকে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করল। কিন্তু চণ্ডীকে নিরুত্তর দেখে কালকেতুর ক্রোধ বৃদ্ধি পেতে লাগল। যখন কিছুতেই তাঁকে নিবৃত্ত করা গেল না, তখন কালকেতু ধনুকে শরযোজনা করল। এইবার চণ্ডী স্ব-মূর্তি ধারণ করলেন। চণ্ডীর অপূর্ব মূর্তি দেকেহ কালকেতু ও ফুল্লরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেল। চণ্ডী তাদের সাত ঘড়া ধন ও একটি আঙটি দিয়ে নগর পত্তন করতে পরামর্শ দিলেন।

কালকেতু চণ্ডীর আদেশে গুজরাট বন কেটে নগর পত্তন করল। এদিকে ধূর্ত ও পরপীড়ক ভাঁড়ুদত্ত কালকেতুর কাছে মন্ত্রীর পদ প্রার্থনা করে অপমানিত হল। এই আক্রোশে কলিঙ্গাধিপতিকে কালকেতুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্ররোচনা দিল সে। কলিঙ্গাধিপতি কালকেতুর রাজ্য আক্রমণ করলেন। কালকেতু যুদ্ধে পরাস্ত হল। বন্দী হয়ে কারাগারে সে চণ্ডীর স্তব করল। কলিঙ্গাধিপতিকে চণ্ডী স্বপ্নে আদেশ করলেন যে, কালকেতু তাঁর ভক্ত, সুতরাং তাকে মুক্তি দিয়ে তার রাজ্য ফিরিয়ে দিতে হবে। কালকেতু মুক্তিলাভ করল। কলিঙ্গরাজের সাহায্যে সুদৃঢ়ভাবে রাজ্যস্থাপন করে কালকেতু ফুল্লরাকে নিয়ে রাজত্ব করতে লাগল। তারপর একদিন শুভক্ষণে কালকেতু ও ফুল্লরা নীলাম্বর ও ছায়া রূপে স্বর্গে ফিরে গেল।

বণিকখণ্ড

[সম্পাদনা]

বণিকখণ্ডের সূচনায় শিবভক্ত বণিক ধনপতি দেবী পূজায় অস্বীকার করেন। ইন্দ্রের সভার নর্তকী রত্নমালা শাপগ্রস্ত হয়ে ধনপতির প্রথম পত্নী লহনার খুড়তুত বোন খুল্লনারূপে জন্ম নেন। ধনপতি খুল্লনার সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিবাহের অচিরেই বিদেশযাত্রায় রওনা হলে, প্রথম পত্নী লহনা তার দাসী দুর্বলার কুপরামর্শে খুল্লনাকে প্রতিদিন ছাগল চড়াতে যেতে বাধ্য করেন। খুল্লনার অষ্টমঙ্গলার পূজায় দেবী সন্তুষ্ট হয়ে তাকে সমস্ত বিপত্তি থেকে রক্ষা করেন। ধনপতি পুনরায় সিংহলের উদ্দেশে বাণিজ্যযাত্রায় রওনা হন। দেবী ধনপতিকে লাঞ্ছনার মনসায় সিংহলের অনতিদূরে কালিদহে তাকে হস্তীনিধনরত কমলেকামিনী রূপদর্শন করান। কিন্তু দেবীর মায়ায় অন্য কোন নাবিক এই দৃশ্য দেখতে পায় না। সিংহলের রাজার কাছে ধনপতি কমলেকামিনীর বর্ণনা করলে, রাজা বিশ্বাস করেন না। ধনপতি রাজাকে কমলেকামিনী দর্শন করাতে ব্যর্থ হয়ে কারারুদ্ধ হন। পিতার সন্ধানে পুত্র শ্রীপতি(শ্রীমন্ত) সিংহলের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দেবীর মায়ায় তিনিও কমলেকামিনী রূপদর্শন করেন এবং সিংহলের রাজার কাছে বর্ণনা করে একই রকম বিপদে পড়েন। রাজা তাকে প্রাণদন্ড দেন। কিন্তু মশানে দেবীর সৈন্যের কাছে পরাস্ত হয়ে রাজা শ্রীপতিকে মুক্তি দিয়ে কন্যা সুশীলার সঙ্গে তার বিবাহ দেন। পুত্র শ্রীপতির প্রয়াসে সিংহলের কারাগার থেকে উদ্ধার পেয়ে ধনপতিও দেবীর মহিমা স্বীকার করতে বাধ্য হন।[]

চণ্ডীমঙ্গলের কবিগণ

[সম্পাদনা]

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি ছিলেন মাণিক দত্ত। তিনি প্রাচীন গৌড় (অধুনা মালদহ জেলা) অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন এবং প্রাক্‌-চৈতন্য যুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর কাব্যের একটি পুথি আবিষ্কৃত হয়েছে। পুথিটি ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ অনুলিখিত হয়েছিল।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্যান্য কবিদের মধ্যে দ্বিজ মাধব (যিনি মাধবানন্দ বা মাধবাচার্য নামেও পরিচিত) এবং "কবিকঙ্কণ" মুকুন্দ চক্রবর্তীর নাম উল্লেখযোগ্য। এঁরা দুজনেই খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতকে আবির্ভূত এবং চৈতন্য মহাপ্রভু কর্তৃক প্রচারিত বৈষ্ণব দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। দ্বিজ মাধব ১৫০১ শকাব্দ (১৫৭৯ খ্রিস্টাব্দ) নাগাদ তাঁর কাব্যে চণ্ডীমঙ্গল আখ্যানের একটি সুনির্দিষ্ট রূপ প্রদান করেন। বৈষ্ণব পদের আদলে রচিত কয়েকটি পদও তাঁর কাব্যে সংযোজিত হয়েছে। তাঁর কাব্যের সব কটি পুথিই অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নোয়াখালীচট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে পাওয়া গিয়েছে।

অন্যদিকে মুকুন্দ চক্রবর্তীকে আধুনিক গবেষকেরা মঙ্গলকাব্য ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি মনে করেন। তাঁর লেখা কাব্যটি অভয়ামঙ্গল নামাঙ্কিত। এটির রচনাকাল ১৪৬৬ শকাব্দ (১৫৪৪ খ্রিস্টাব্দ)।[] আখেটিক খণ্ডে কালকেতুর আখ্যানে তিনি মানবজীবনের সুখ-দুঃখের চিত্রায়ণে বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলির মধ্যে তিনি এক বিশ্বজনীনতা ও মানবতাবোধের প্রকাশ ঘটানোয় এগুলি জীবনরসে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দ্বিজ রামদেবের অভয়ামঙ্গল কাব্যটিও চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা। তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন এবং উক্ত অঞ্চলে প্রচলিত উপভাষার কিছু প্রভাব তাঁর কাব্যে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর কাব্যে "ফেরাঙ্গী" (ফিরিঙ্গি) শব্দটির প্রয়োগ দৃষ্টে অনুমান করা হয়, দ্বিজ রামদেব খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগে বাংলায় পর্তুগিজদের আগমনের পরবর্তীকালে তাঁর কাব্য রচনা করেছিলেন। তাঁর ছন্দ-রূপায়ণে দ্বিজ মাধবের প্রভাবটিও সুস্পষ্ট।

দ্বিজ হরিরামের অদ্রিজামঙ্গল (আনুমানিক ১৬৭৩-৭৪ খ্রিস্টাব্দ) এবং অকিঞ্চন চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল (১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দ) হল এই কাব্যধারার অপর দুই কাব্য। এঁরা দুজনেই অধুনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার অধিবাসী ছিলেন। এই কাব্যধারায় আরেকটি অধিকতর সাম্প্রতিক সংযোজন দ্বিজ জনার্দনের কাব্যটি।[]

মুকুন্দের চণ্ডীমঙ্গলের সমালোচনা

[সম্পাদনা]

কবির আত্মজীবনী থেকে জানতে পারি মোটামুটি খ্রিঃ-এর মধ্যে তার কাব্য রচিত হয়।[] মুকুন্দের চণ্ডীমঙ্গলের অধিকাংশ ভনিতায় অভয়ামঙ্গল নামে কাব্যটির উল্লেখ পাওয়া যায়। গ্রন্থের ছত্রসংখ্যা প্রায় বিশ হাজার। মুকুন্দের গ্রন্থের এই গ্রন্থের তিনটি খণ্ডঃ দেবখণ্ড, আখেটিকখণ্ড ও বণিকখণ্ড। গ্রন্থটিতে মুকুন্দের "কবিত্বের বিবরণ" অর্থাত আত্মকথা অংশটির দুটি পৃথক রূপ বিভিন্ন পুঁথিতে পাওয়া যায়।

যদি এমন কোন গ্রন্থের নাম করতে হয় যাতে আধুনিক কালের, উপন্যাসের,রস কিছু পরিমাণে মেলে যেমন- নিপুণ পর্যবেক্ষণ, সহৃদয়তা, জীবনে আস্থা, ব্যাপক অভিজ্ঞতা সবই এতে যথোচিত পরিমাণে বর্তমান। মুকুন্দরাম শুদ্ধাচারী বামুন-পণ্ডিতঘরের ছেলে, আজন্ম দেববিগ্রহ সেবক। কিন্তু তার সহানুভূতি থেকে কেউই বঞ্চিত হয়নি - না বনের তুচ্ছতম পশু না জনপদের দুর্গততম মানুষ।সংস্কৃত অলঙ্কার প্রয়োগের পাশাপাশি লোক-ব্যবহার, ছেলেভোলানো, ছেলেখেলা, মেয়েলি ক্রিয়াকাণ্ড, ঘরকন্নার ব্যবস্থা, রান্নাবাড়া ইত্যাদি অনপেক্ষিত সামাজিক ও সাংসারিক ব্যাপারেও বিস্ময়কর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন।[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, ১ম খণ্ড, সুকুমার সেন, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ১৯৯১ সংস্করণ, আইএসবিএন ৮১-৭০৬৬-৯৬৬-৯, পৃ. ৪১২–১৩
  2. 1 2 বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, ১ম খণ্ড, সুকুমার সেন, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ১৯৯১ সংস্করণ, আইএসবিএন ৮১-৭০৬৬-৯৬৬-৯, পৃ. ৪২৩
  3. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, ১ম খণ্ড, সুকুমার সেন, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ১৯৯১ সংস্করণ, আইএসবিএন ৮১-৭০৬৬-৯৬৬-৯, পৃ. ৪১৫
  4. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, ১ম খণ্ড, সুকুমার সেন, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ১৯৯১ সংস্করণ, আইএসবিএন ৮১-৭০৬৬-৯৬৬-৯, পৃ. ৪২৮-৩৫
  5. বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাস, আশুতোষ ভট্টাচার্য, এ. মুখার্জি অ্যান্ড কোং প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ২০০০ সংস্করণ, পৃ. ৩৬৮-৬৯
  6. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; sen নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  7. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, ২য় খণ্ড, সুকুমার সেন, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ১৯৯১ সংস্করণ, ২০০৭ পুনর্মুদ্রণ, আইএসবিএন ৮১-৭২১৫-০২৫-৩, পৃ. ২৫৪-৫৬
  8. মিত্র, সনৎকুমার (জানুয়ারি ২০১২)। সাহিত্য টীকা। কোলকাতা: পুস্তক বিপণি। পৃ. ৮৪।