গোলাপ গ্রাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হাজারি গোলাপ.jpg

গোলাপ গ্রাম সাদুল্লাপুর। একটি পর্যটন আকর্ষণ। পুরো গ্রামটাই নানা রঙের গোলাপ ফুল দিয়ে ঘেরা। এটাকে গোলাপ গ্রাম বলা হলেও এখানে গোলাপ ছাড়াও অনেক ফুল আছে, যেমন- জারভারা, গ্লাডিওলাস। ঢাকার বেশি ভাগ ফুল চাহিদা এখান থেকে মেটানো হয়।[১]

অবস্থান[সম্পাদনা]

মিরপুর বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে অবস্থিত সাদুল্লাহপুর, শ্যামপুর, মোস্তা পাড়া গ্রাম। সাদুল্লাহপুর গ্রামটি ভাওয়াল রাজার অধীনস্থ ছিল। ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ‘গোলাপ গ্রামে’। এই ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুর, শ্যামপুর, মোস্তাপাড়া গ্রামজুড়ে আছে গোলাপের রাজ্য।[২] যতদূর চোখ যায়, শুধু গোলাপ আর গোলাপ। তাই এ গ্রামগুলো এখন ‘গোলাপ গ্রাম’ নামেই বেশি পরিচিত। শুধু সাদুল্লাহপুর নয়, আশপাশের শ্যামপুর, কমলাপুর, বাগ্মীবাড়ি গ্রামের গোলাপের রাজ্যে চোখ আটকে যাবে যে কারও।[৩]

বর্ণনা[সম্পাদনা]

বাণিজ্যিকভাবে এখানে প্রথম গোলাপ চাষ শুরু হয় ১৯৯০ সালে। পথের ধার ঘেঁষে অসংখ্য গোলাপের বাগান। যত দূর চোখ যায় শুধু লাল গোলাপের সমারোহ। মাঝে মাঝে কিছু সাদা গোলাপ, গ্লাডিওলাস, জারবেরার বাগানও চোখে পড়বে। ঢাকার খুব কাছেই সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের তুরাগ নদীর তীরে গোলাপ গ্রাম সাদুল্লাহপুরের অবস্থান। এই গ্রামে ঢুকতেই যেদিকে চোখ যাবে সারি সারি গোলাপ বাগানের দেখা মিলবে। লাল টকটকে গোলাপ মাথা নাড়িয়ে স্বাগত জানাবে তার রাজ্যে। বাতাসে ভেসে আসা ফুলের সৌরভ মন মাতাবে আপনার।[৪]

৪০ জাত গোলাপ[সম্পাদনা]

লাল, নীল, হলুদ, গোলাপী, বেগুনীসহ বিভিন্ন রং আর আকৃতির গোলাপ রয়েছে। আরও রয়েছে শিউলি, জবা, কসমস, ডালিয়া, স্নো-বল, বেলী, গন্ধরাজ, হাস্নাহেনা, কামিনি, রঙ্গন, বাগান বিলাস, টগর, কাঁঠালচাপা, এলামেন্ডা, ফেলেন ডুলা, জিনিয়া, বকুল ও গাঁদা ফুল।[৫]

গোলাপের হাট[সম্পাদনা]

শ্যামপুর গ্রামে প্রতি সন্ধ্যায় বসে গোলাপের হাট। সেখানকার আবুল কাশেম মার্কেটের সামনে সন্ধ্যায়ই শুরু হয় ফুল ব্যবসায়ীদের আনাগোনা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ব্যবসায়ী এসে ভিড় জমান সেখানে। জমতে থাকে বেচাকেনা। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এ ছাড়া মোস্তাপাড়ায় রয়েছে সাবু মার্কেট। এ মার্কেটেও গোলাপ বেচা কেনা হয়। গোলাপের চাহিদা থাকে সব সময়। তাই চাষিরাও সারা বছরই ব্যস্ত থাকেন। বিশেষ উৎসবের দিনগুলোতে চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "গোলাপ ফুলের গ্রাম"দৈনিক প্রথম আলো। ৩ মার্চ ২০১৭। ২৭ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৯ 
  2. "গোলাপ গ্রাম"দৈনিক ইত্তেফাক। ৩ মার্চ ২০১৭। ২৭ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৯ 
  3. সুমনা, শারমিন (১৫ মে ২০১৮)। "গোলাপের রাজ্য সাদুল্লাহপুর"দৈনিক নয়াদিগন্ত। ২৭ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৯ 
  4. শৈলী, লেখা ও ছবি : সুমন্ত গুপ্ত (২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "গোলাপের গ্রামে"দৈনিক সমকাল। ২৭ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৯ 
  5. ভ্রমণ, সোলায়মান হোসেন (২২ জানুয়ারি ২০১৮)। "ঘুরে আসুন নয়নাভিরাম গোলাপ গ্রামে"ইটিভি অনলাইন। ২৭ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৯ 
  6. গোলাপের রাজ্য সাদুল্লাপুর, সাদ্দিফ অভি (৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬)। "একদিনেই ঘুরে আসুন 'গোলাপ গ্রাম' থেকে"বাংলাট্রিবিউন। ২৭ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৯