খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্টিত হয়ে ২০১৫ সালে পঞ্চাশ বর্ষে পদার্পণ করেছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৩৮ সালে নাটোরের মহকুমা প্রশাসক জনাব পানাউল্লাহ আহম্মদ সাহেবের পল্লীমঙ্গল কর্মসূচিতে অনুপ্রানিত হয়ে গ্রামের জনগণ খুবজীপুর গ্রাম্য সমিতি গঠন করেন।

১৯৩৮ সালে ইদিল উদ্দিন সরকার বাড়ির বৈঠকখানায় কয়েকজন ছাত্র নিয়ে একটি স্কুল চালু করেন। এর কয়েক মাস পড়ে গ্রামের জুম্মা ঘরের পাশে নদীর তীরে একটি নিম্ন মাইনর স্কুল স্থাপন করা হয় এবং তাকে শিক্ষক নিযুক্ত করা হয়। তার মাসিক বেতন ছিল পাঁচ টাকা। ১৯৪২ সালে স্কুলটিকে উচ্চ প্রাইমারি স্কুলে উন্নীত করা হয় এবং প্রধান শিক্ষক হিসেবে শ্রীপুর গ্রামের মো: কফিলউদ্দিন সরকার জিটি সাহেবকে নিয়োগ করা হয়। অন্য ৪ জন শিক্ষক ছিলেন- ইদিল উদ্দিন সরকার, মাও: বাহারউদ্দিন সরকার, তারাপদ বিশ্বাস ও এফ.এ.এম মোবারাক আলী মিয়া। এইভাবে কয়েক বছর চলার পর স্কুলটিকে ১৯৪৮ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি এম.ই স্কুলে রূপান্তরিত করা হয় এবং প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান গ্রামের ছেলে জনাব কাজেমুদ্দিন। ১৯৪৮ সালের দিকে যখন ইন্টারমিডিয়েট পাস প্রধান শিক্ষক না থাকায় সরকারি মঞ্জুরি পাওয়া যাচ্ছিল না সেই সময়ে রাজশাহী কলেজে বি.এস.সি পড়ুয়া এম.এ হামিদ সাহেবকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয় এবং স্কুল মঞ্জুরি প্রাপ্ত (০৮/১২/১৯৪৯) হয়। এম.এ হামিদ সাহেবের অবর্তমানে কাজেম উদ্দিন সরকার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। ১৯৫১ সালের ১৪ ডিসেম্বর জনাব কাজেম উদ্দিন ইন্তেকাল করায় তারাপদ বিশ্বাস প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গ্রামের জনগণ এবং এম.এ হামিদ সাহেবের সহযোগিতায় ১৯৬২ সালে এম.ই স্কুলকে জুনিয়র হাইস্কুলে এবং ১৯৬৫ সালে হাইস্কুলে রুপান্তরিত করা হয়। এই স্কুল থেকে ১৯৬৭ সালে ১ম ব্যাচ এস,এস,সি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং সবাই সাফল্যের সাথে পাস করেন।

অবকাঠামো[সম্পাদনা]

১৯৬৯ সালে স্কুলটি বাই লেটারাল হাইস্কুল হিসেবে উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এই কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত অর্থে একটি দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ কর্তৃক মূল ভবন থেকে পূর্ব দিকে ৮০ ফুট x ৩০ ফুট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি অর্থাযনে দ্বিতীয় তলায় আরও তিনটি কক্ষ নির্মাণ করা হয়। ২০০৫ সালে প্রমোট কর্তৃক ১টি কক্ষ নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে কক্ষ সংখ্যা ২০ টি। প্রায় সহস্রাধিক ছেলে-মেয়ে বিদ্যালয়টিতে লেখাপড়া করছে।

শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ

মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে স্কুলে নির্মিত হয়েছে একটি শহীদ মিনার।

লাইব্রেরী

বিদ্যালয়টিতে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী আছে যেখানে বই সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। ছাত্র-ছাত্রীদের বই পড়ায় উৎসাহিত করার জন্য বই পড়ার প্রতিযোগীতাসহ অন্যান্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • সুবর্ণ জয়ন্তী স্মারক-২০১৫; খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়।