বিষয়বস্তুতে চলুন

কেজিএফ: চ্যাপ্টার ওয়ান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কেজিএফ: চ্যাপ্টার ওয়ান
সিনেমা হলে মুক্তির পোস্টার
পরিচালকপ্রশান্ত নীল
প্রযোজকবিজয় কিরগান্ডুর
রচয়িতাসংলাপ:
  • প্রশান্ত নীল
  • চন্দ্রমৌলি এম।
  • বিনয় শিবাঙ্গী
চিত্রনাট্যকারপ্রশান্ত নীল
কাহিনিকারপ্রশান্ত নীল
শ্রেষ্ঠাংশে
বর্ণনাকারীআনন্ত নাগ
সুরকাররাবি বাসরুর
তানিস্ক বাগচী
চিত্রগ্রাহকভূবন গৌড়
সম্পাদকশ্রীকান্ত
প্রযোজনা
কোম্পানি
হম্বাল ফিল্ম
পরিবেশক
মুক্তি
  • ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ (2018-12-20) (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা)
  • ২১ ডিসেম্বর ২০১৮ (2018-12-21) (ভারত)
স্থিতিকাল১৫৫ মিনিট[]
দেশভারত
ভাষাকন্নড়
অন্যান্য ভাষাহিন্দি
তামিল
তেলুগু
মালয়ালম
বাংলা
ভোজপুরি
নির্মাণব্যয়৮০ কোটি[]
আয়প্রা. ২৫০ কোটি[]

কে.জি.এফ: চ্যাপ্টার ওয়ান হলো ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রশান্ত নীল কর্তৃক লিখিত ও পরিচালিত এবং বিজয় কিরাগাঁদুর কর্তৃক পরিচালিত একটি ভারতীয় কন্নড় ভাষার বেশি বাজেটের চলচ্চিত্র। এটি হম্বাল ফিল্মস এর ব্যানারে তৈরি ও পরিবেশিত ঘটনানির্ভর অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র।[][] এটি দুই ভাগে বিভক্ত চলচ্চিত্র ধারাবাহিকের প্রথম কিস্তি। প্রথম কিস্তি অনুসরণ করে কেজিএফ: চ্যাপ্টার টু নির্মিত হয়। ছবিটিতে প্রধান ভূমিকায় যশ, "রকি" হিসেবে এবং খল ভূমিকায় নবাগত রামচন্দ্র রাজু গরুড়া চরিত্রে অভিনয় করেন। অনন্ত নাগ চলচ্চিত্রটির কাহিনী বর্ণনা করে। এর পাশাপাশি শ্রীনিধি শেঠি, বশিষ্ঠ এন সিনহা, অচ্যুত কুমার, অর্চনা জইস, অনন্ত নাগ এবং মালাবিকা অবিনাশ পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন। ৬৬তম জাতীয় চলচ্চিত্র অ্যাওয়ার্ডে, চলচ্চিত্রটি সেরা অ্যাকশন এবং সেরা স্পেশাল ইফেক্টের জন্য ২টি পুরস্কার লাভ করে।

২০১৫ সালের শুরুতে যখন নীল চিত্রটি লেখার শেষ করে তখন চলচ্চিত্রের উন্নয়ন কাজ শুরু হয় । [] তবে, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে, মাত্র দুই বছর পরে চিত্রগ্রহণ শুরু হয়।[]

অভিনয়ে

[সম্পাদনা]

কাহিনী

[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রটি একটি বইকে কেন্দ্র করে এগোতে থাকে, যা লিখছেন সাংবাদিক অনন্ত নাগ। তিনি KGF-এর ভিতরের সত্য ঘটনা ও রকির উত্থানের গল্প তুলে ধরেছেন। সরকার তার বই বন্ধ করতে চায়, কারণ বইটি অত্যন্ত প্রভাবশালী। এই ফ্রেমিংয়ের মধ্যেই মূল গল্প শুরু হয়। রকির (যশ) জন্ম বোম্বের এক দরিদ্র বস্তিতে। তার মা ছিলেন অসহায়, দরিদ্র কিন্তু অত্যন্ত দৃঢ়চেতা। মৃত্যুশয্যায় মা রকিকে বলেন—“তুমি যেন পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষ হও"। মায়ের শেষ কথাকে রকি জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানিয়ে ফেলে। ছেলেবেলায়ই রকি অপরাধ জগতে পা রাখে, নিজের শক্তি ও ভয় দেখানোর ক্ষমতা বাড়াতে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রকি এক দুর্ধর্ষ যোদ্ধায় পরিণত হয়। সে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের বড় বড় গ্যাংয়ের নজরে আসে। রকি তারপর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ খুঁজছিল। এ সময়ই রাজনীতি-ব্যবসা-অপরাধ জগতের রহস্যময় বড় চরিত্র সূর্যমাথা তাকে একটি মিশন দেয়— “KGF-এর ভয়ঙ্কর শাসক গরুড়াকে হত্যা করতে হবে।” KGF হলো এক বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড গোল্ড মাইন, যেখানে হাজার হাজার মানুষ দাসের মতো কাজ করে। শ্রমিকদের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি নেই। অমানবিক কাজ, খাবার না দেয়া, মারধর ও ভয়ের মাধ্যমে শ্রমিকদের বশে রাখা হয়। শক্তিশালী নজরদারির কারণে এই জায়গা থেকে কেউ জীবিত বের হতে পারে না। রকি শ্রমিক সেজে কেজিএফের ভেতরে ঢোকে পড়ে, কিন্তু তার আসল লক্ষ্য: গরুড়াকে হত্যা করা ও শ্রমিকদের মুক্ত করা আর নিজের ক্ষমতার রাজত্ব গড়া। কিন্তু রকি দেখল— শ্রমিকরা এতটাই ভীত যে তারা বিদ্রোহ করতে সাহস পায় না। গরুড়া মাঝে মাঝে শ্রমিকদের এখানে আসলেও তার বাহিনী প্রতিদিন শ্রমিকদের নির্যাতন করে। যারা সামান্য প্রতিবাদ করে, তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। রকি খুব পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের মধ্যে নায়ক হয়ে ওঠে। গোপনে অত্যাচারী প্রহরীদের হত্যা করে ও শ্রমিকদের সাহায্য করে খাবার/পানি পেতে। শ্রমিকরা প্রথমে ভয় পেলেও পরে তার প্রতি সম্মান ও আশা জন্মায়। রকি ধীরে ধীরে বুঝতে পারে এখানে তার মায়ের বলা ‘সবচেয়ে ক্ষমতাবান’ হওয়ার পথ লুকিয়ে আছে। রকি জানতে পারে গরুড়া জন্মদিন উপলক্ষে KGF-এ আসবে। এটা রকির জন্য উপযুক্ত সময়। কিন্তু সমস্যা হলো— গরুড়ার পাহারা এত কঠোর যে কাছে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। তারপরও রকি একটি অসাধারণ পরিকল্পনা করে: শ্রমিকদের বিদ্রোহ উন্মুক্ত করা ও বিশৃঙ্খলার সুযোগে গরুড়ার কাছে যাওয়া। গরুড়া যখন KGF-এ আসে, প্রহরীরা শ্রমিকদের হত্যা করতে শুরু করে ভয় বজায় রাখতে। তখনই রকি এগিয়ে আসে, জনতার সামনে অত্যাচারীদের হত্যা করে। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে! রকি দৌড়ে যায় সেই জায়গার দিকে যেখানে গরুড়া দাঁড়িয়ে ছিল। অবিশ্বাস্য দ্রুত আক্রমণে রকি গরুড়াকে শিরশ্ছেদ করে! একই সঙ্গে KGF-এ প্রথমবার এক নতুন নাম ধ্বনিত হয়— “রকি ভাই” শ্রমিকরা তাকে ত্রাণকর্তা হিসেবে ঘোষণা করে। গরুড়ার মৃত্যুর পর রকি নিজের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে। কিন্তু বাইরে শক্তিশালী রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা এতে অসন্তুষ্ট। KGF এখন রকির। কিন্তু যুদ্ধ কেবল শুরু। চলচ্চিত্র শেষ হয় এই বার্তায়: “রকির গল্প এখানেই শেষ নয়… কেজিএফ চ্যাপ্টার ২-এ তা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।”

সাউন্ডট্র‍্যাক

[সম্পাদনা]

অনুবর্তী সংস্করণ

[সম্পাদনা]

প্রথম পর্বকে অনুসরণ করে কেজিএফ: চ্যাপ্টার টু নির্মিত হয়েছে।

পুরস্কার

[সম্পাদনা]
বছর অনুষ্ঠান বিভাগ প্রাপক ফলাফল সূত্র
২০১৮ ২০১৮

কর্ণাটক রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার

সেরা সঙ্গীত পরিচালক রবি বাসরুর বিজয়ী []
সেরা আর্ট ডিরেক্টর শিব কুমার কে বিজয়ী
২০১৯ জি কন্নড় হেমমেয়া কান্দিগা পুরস্কার সেরা চলচ্চিত্র কে.জি.এফ বিজয়ী []
সেরা পরিচালক প্রশান্ত নীল বিজয়ী
সেরা অভিনেতা যশ বিজয়ী
সেরা সিনেমাটোগ্রাফার ভূবন গৌড় বিজয়ী
সেরা সঙ্গীত পরিচালক রবি বাসরুর বিজয়ী
সেরা খলনায়ক রামচন্দ্র রাজু বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ গীতিকার ভি. নগেন্দ্র প্রসাদ বিজয়ী
বছরের সেরা কণ্ঠস্বর বিজয় প্রকাশ বিজয়ী
৬৬তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সেরা স্পেশাল ইফেক্ট উনিফি মিডিয়া বিজয়ী [১০]
সেরা স্টান্ট কোরিওগ্রাফি বিক্রম, অনবারিভ বিজয়ী
৮তম সীমা পুরস্কার সেরা চলচ্চিত্র কে.জি.এফ বিজয়ী [১১][১২]
সেরা অভিনেতা যশ বিজয়ী
প্যান্টালুন স্টাইল আইকন বছরের সেরা পুরুষ যশ বিজয়ী
সেরা পরিচালক প্রশান্ত নীল বিজয়ী
নেতিবাচক চরিত্রে সেরা অভিনেতা রামচন্দ্র রাজু মনোনীত
সেরা নতুন অভিনেত্রী শ্রীনিধি শেঠি মনোনীত
শ্রেষ্ঠ সহকারী অভিনেত্রী অর্চনা জোইস বিজয়ী
সেরা সিনেমাটোগ্রাফার ভূবন গৌড় বিজয়ী
সেরা সঙ্গীত রবি বাসরুর বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা - পুরুষ অচ্যুত কুমার বিজয়ী
সেরা প্লেব্যাক গায়ক - পুরুষ বিজয় প্রকাশ বিজয়ী
৬৬তম ফিল্মফেয়ার পুরস্কার দক্ষিণ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র - কন্নড় কে.জি.এফ বিজয়ী [১৩]
সেরা পরিচালক - কন্নড় প্রশান্ত নীল মনোনীত
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা - কন্নড় যশ বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক - কন্নড় রবি বাসরুর মনোনীত
সেরা নতুন অভিনেত্রী শ্রীনিধি শেঠি মনোনীত

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Nathan, Archana (২১ ডিসেম্বর ২০১৮)। "'KGF' film review: Lots of style and not enough substance"Scroll.in। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮
  2. "KGF was produced on a reported budget of ₹50 crore"hindustantimes (english ভাষায়)। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮।{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  3. https://www.republicworld.com/amp/entertainment-news/others/kgf-box-office-yash-starrer-becomes-highest-grossing-kannada-film-crosses-rs-100-crore-mark.html%3fv=5.8.21%5B%5D
  4. "The story of KGF is fresh and special for Indian cinema: Yash"The New Indian Express
  5. "Kannada star Yash optimistic about upcoming action-period drama 'KGF'"Devdiscourse। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ৩ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০১৮
  6. "Yash And Radhika Pandit To Pair Up Again In KGF!"Filmibeat (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮
  7. "Yash-starrer KGF starts as per schedule"The New Indian Express। ১৬ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮
  8. "Karnataka State Film Awards 2018: Raghavendra Rajkumar and Meghana Raj bag top honours; check out all winners"Bangalore Mirror। ১০ জানুয়ারি ২০২০।
  9. "Hemmeya Kannadiga Awards 2019 Winners List: A Big Win for Rachitha Ram, Yash and Chikkana - Zee Kannada"। ১৬ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০১৯
  10. "National Film Awards 2019 LIVE Updates: Ayushmann, Vicky, Keerthy are Best Actors"India Today (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ আগস্ট ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০১৯
  11. "SIIMA Awards 2019: Vijay, Yash, Keerthi, KGF win big, here's full winners list"Deccan Chronicle
  12. "SIIMA Awards 2019: KGF star Yash pulls off a suave look in an all blue attire and wins Best Actor Award"www.pinkvilla.com। ৮ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২৩
  13. "Nominations for the 66th Filmfare Awards (South) 2019"Filmfare। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৯

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]