বিষয়বস্তুতে চলুন

কিয়ার স্টারমার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্যার কিয়ার স্টারমার
Sir Keir Starmer
কিয়ার স্টারমারের প্রতিকৃতি চিত্র
জুলাই ২০২৪-এ স্টারমার
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
৫ জুলাই ২০২৪
সার্বভৌম শাসকতৃতীয় চার্লস
ডেপুটিঅ্যাঞ্জেলা রেনার
পূর্বসূরীঋষি সুনাক
বিরোধীদলীয় নেতা
কাজের মেয়াদ
৪ এপ্রিল ২০২০  ৫ জুলাই ২০২৪
সার্বভৌম শাসক
প্রধানমন্ত্রী
ডেপুটিঅ্যাঞ্জেলা রেইনার
পূর্বসূরীজেরেমি করবিন
উত্তরসূরীঋষি সুনাক
লেবার পার্টির নেতা
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
৪ এপ্রিল ২০২০
ডেপুটিঅ্যাঞ্জেলা রেনার
পূর্বসূরীজেরেমি করবিন
ছায়া পোর্টফোলিও
রাজ্য ছায়াসচিব
২০১৬–২০২০ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ প্রকল্প
ছায়ামন্ত্রী
২০১৫–২০১৬অভিবাসন
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
৭ মে ২০১৫
পূর্বসূরীফ্র‍্যাঙ্ক ডবসন
সংখ্যাগরিষ্ঠ১১,৫৭২ (৩০.০%)
পাবলিক প্রসিকিউশন পরিচালক
কাজের মেয়াদ
১ নভেম্বর ২০০৮  ১ নভেম্বর ২০১৩
নিয়োগদাতাপ্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড
পূর্বসূরীকেইন ম্যাকডোনাল্ড
উত্তরসূরীঅ্যালিসন সন্ডার্স
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মকিয়ার রডনি স্টারমার
(1962-09-02) ২ সেপ্টেম্বর ১৯৬২ (বয়স ৬৩)
লন্ডন, ইংল্যান্ড
রাজনৈতিক দললেবার
দাম্পত্য সঙ্গীভিক্টোরিয়া জেন আলেকজান্ডার (বি. ২০০৭)
সন্তান
বাসস্থান
শিক্ষা
পেশা
  • রাজনীতিবিদ
  • ব্যারিস্টার
স্বাক্ষর
ওয়েবসাইটkeirstarmer.com

স্যার কিয়ার রডনি স্টারমার[] (/ˈkɪər/ (শুনুন) KEER; জন্ম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৬২) হলেন একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী যিনি ২০২৪ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং ২০২০ সাল থেকে লেবার পার্টির নেতা হিসেবে দায়িত্বাধীন আছেন। তিনি এর পূর্বে ২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিরোধীদলীয় নেতা ছিলের। তিনি ২০১৫ সাল থেকে হলবর্ন এবং সেইন্ট প্যানক্রাস কাউন্টির সংসদ সদস্য এবং ব্রেক্সিটের ছায়া সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।


প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

[সম্পাদনা]
রিগেট গ্রামার স্কুল (ছবি ২০০৯), যেখানে স্টারমার একজন ছাত্র ছিলেন

কিয়ার রডনি স্টারমার ১৯৬২ সালের ২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের সাউথওয়ার্কে জন্মগ্রহণ করেন।[][] তিনি বেড়ে ওঠেছেন সারের অক্সটেড শহরে।[][][] তিনি মা-বাবার চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন। তার মা জোসেফাইন (জন্ম নাম বেকার) একজন নার্স নার্স ছিলেন এবং বাবা রডনি স্টারমার, একজন হাতিয়ার প্রস্তুতকারকের কাজ করতেন।[][] তার মা স্টিলস রোগে আক্রান্ত ছিলেন।[][] তার মা নিকটবর্তী হার্স্ট গ্রিনের সেন্ট জনস অ্যাংলিকান চার্চে পড়তেন, অন্যদিকে তার বাবা ছিলেন একজন নাস্তিক।[] তিনি নামমাত্র "ইংল্যান্ডের চার্চ" হিসেবে প্রতিপালিত হয়েছিলেন।[] তার বাবা-মা দুজনেই লেবার পার্টির সমর্থক ছিলেন এবং দলের প্রথম সংসদীয় নেতা কায়ার হার্ডির নামে তার নামকরণ করেছিলেন,[১০][১১] যদিও ২০১৫ সালে জিজ্ঞাসা করা হলে স্টারমার এটি নিশ্চিত করেননি।[১২]

স্টারমার ১১ নম্বরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং রিগেট গ্রামার স্কুলে ভর্তি হন, যা তখন একটি স্বেচ্ছাসেবী-সহায়তাপ্রাপ্ত গ্রামার স্কুল ছিল।[১১] ১৯৭৬ সালে তিনি যখন ছাত্র ছিলেন, তখন স্কুলটি একটি স্বাধীন ফি-প্রদানকারী স্কুলে রূপান্তরিত হয়। তার ধর্মান্তরের শর্ত এমন ছিল যে, তার ১৬ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত তার মা-বাবাকে স্কুলের খরচ দিতে হতো না। আর যখন সে ১৬ বছরে পৌঁছায়, তখন সেই স্কুলটি একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এবং তাকে একটি বৃত্তি দেয়, যার ফলে সে কোনো পারিবারিক সাহায্য ছাড়াই পড়াশোনা শেষ করতে পারে।[১৩] [১৪] [১৫] স্কুলে তার শেষ দুই বছরে অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নের জন্য তিনি যে বিষয়গুলি বেছে নিয়েছিলেন তা হল গণিত, সঙ্গীত এবং পদার্থবিদ্যা, যেখানে তিনি বি, বি এবং সি এর এ লেভেল গ্রেড অর্জন করেছিলেন।[১৬] রিগেটে তার সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ নরম্যান কুক, যার কাছে স্টারমার বেহালা পাঠ নিয়েছিলেন; অ্যান্ড্রু কুপার, যিনি পরে একজন রক্ষণশীল সহকর্মী হয়েছিলেন, এবং পরবর্তীতে রক্ষণশীল সাংবাদিক হওয়া অ্যান্ড্রু সুলিভান। স্টারমারের মতে, তিনি এবং সুলিভান "সবকিছুর জন্য লড়াই করেছিলেন... রাজনীতি, ধর্ম.. আপনিই বলুন।"[]

কিশোর বয়সে স্টারমার লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টি ইয়ং সোশ্যালিস্টদের সাথে যোগ দেন।[১৭][] তিনি গিল্ডহল স্কুল অফ মিউজিক অ্যান্ড ড্রামা থেকে একটি জুনিয়র প্রদর্শনী জিতেছিলেন যেখানে তিনি ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁশি, পিয়ানো, রেকর্ডার এবং বেহালা বাজিয়েছিলেন।[১৮] ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে স্টারমার ফরাসি রিভিয়ারায় ছুটি কাটানোর সময় অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করতে গিয়ে বেআইনিভাবে আইসক্রিম বিক্রি করছিলেন। পুলিশ তাকে ধরে ফেললেও, আইসক্রিমগুলো জব্দ করা ছাড়া তার বিরুদ্ধে আর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।[১৯][২০] পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন স্টারমার, তিনি লিডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন যেখানে তিনি ১৯৮৫ সালে প্রথম শ্রেণীর এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেবার ক্লাবের সদস্য হন।[১০][২১] এরপর তিনি ১৯৮৬ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য সেন্ট এডমন্ড হলে ভর্তি হন।[২২][১০]

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

কিয়ার স্টারমার ১৯৮৭ সালে ব্যারিস্টার হন। ম্যাকলিবেল কেসে(১৯৯৭) তিনি ডেভিড মরিস ও হেলেন স্টিলের আইন বিষয়ক উপদেশক ছিলেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কেসটিকে "ডেভিড এবং গোলিয়াথের লড়াই" বলে অভিহিত করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে, ম্যাকডোনাল্ডসের পক্ষে ক্ষুরধার আইনজীবীদের একটি বিশেষ দল কাজ করছিলেন এবং অর্থনৈতিক ভাবেও তারা ব্যাপক শক্তিশালী ছিল। বিপরীতে ডেভ এবং হেলেনের ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক অবস্থান ছিল খুবই দুর্বল। পরবর্তীতে ফ্র‍্যানি আর্মস্ট্রং এবং কেইন লোস, ম্যাকলিবেল কেসটি নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণ করেন যেখানে তিনি একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। ২০০২ সালে তিনি কুইন্স কাউন্সেল হিসেবে নিয়োগ পান।

তিনি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড পুলিশিং বোর্ড এবং অ্যাসোসিয়েশন অব পুলিশ অফিসারসের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বিষয়ক প্যানেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে তিনি বর্ষসেরা কিউ সি নির্বাচিত হন।

ডাইরেক্টর অব পাবলিক প্রসিকিউশনস (ডিপিপি)

[সম্পাদনা]

২০০৮ সালের ২৫শে জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড ঘোষণা করেন কিয়ার স্টারমার, ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সি পি এস) এর পরবর্তী প্রধান হবেন এবং তিনি স্যার ম্যাকডোনাল্ড, কিউ সি এর কাছ থেকে ১লা নভেম্বর দায়িত্ব বুঝে নেবেন। একজন প্রতিরক্ষা আইনজীবী হিসেবে তার পূর্বতন সি পি এস প্রধানও স্টারমারের এই নিয়োগপ্রাপ্তি কে স্বাগত জানান। এই দায়িত্ব পালনকালেই তাকে লেবার পার্টির সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

২০১০ সালের ২২শে জুলাই তিনি ঘোষণা করেন আয়ান টমলিনসনের মৃত্যুর ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তা সাইমন হেরউডের  প্রসিকিউশনে তিনি সম্মত নন। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে তাকে পরবর্তীতে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হতে হয়।

২০১২ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি তারিখে স্টারমার, শক্তি ও আবহাওয়া পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস হুনে এবং তার স্ত্রীকে সুষ্ঠ বিচারের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত করে বিবৃতি দেন। এতে স্টারমার সঠিক প্রমাণিত হন। ফলে হুনে প্রথম কেবিনেট মন্ত্রী যাকে অপরাধ মূলক কার্যক্রমে জড়িত হওয়ার অপরাধে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এই কেসের ব্যাপারে স্টারমার বলেছিলেন "পর্যাপ্ত প্রমাণ হাতে থাকলে আমরা রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে পিছপা হই না।"

২০১২ সালের গ্রীষ্মে নিক কোহেন নামে জনৈক সাংবাদিক অভিযোগ করেন স্টারমার নিজেই পল চেম্বারস এর দীর্ঘমেয়াদি প্রসিকিউশনের জন্য দায়ী। একজন উড়ো জাহাজ যাত্রী যিনি ডনকাস্টার শেফিল্ড বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় যাত্রা শুরুর অপেক্ষায় থেকে বিরক্ত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে একটি বিদ্রুপাত্মক বার্তা প্রকাশ করেন। এই কেসটির নাম ছিল 'টুইটার জোক ট্রায়াল'।

বাক-স্বাধীনতার পক্ষের কর্মীরা এই কেসের বিরুদ্ধে জোর আন্দোলন গড়ে তোলেন। কিন্তু ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস দীর্ঘদিন চেম্বার্স এর আপিলের বিপক্ষে তাদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখে। চেম্বার্স এর পক্ষে যারা ছিলেন তারা বলেন, অন্যান্য অনেক পাবলিক প্রসিকিউটর চেম্বার্সের আপিলের বিরুদ্ধাচরণ করতে অস্বীকার করলেও স্টারমার ক্ষমতা ও বল প্রয়োগ করে তাদেরকে বিপথে চালিত করেন। কেননা তিনি "নিজের ভুল অস্বীকার করে নিজের মান বাঁচাতে চেয়েছিলেন।" যদিও ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস এর পক্ষ থেকে বলা হয় মামলাটিতে স্টারমার কোনো রকম অবৈধ হস্তক্ষেপ করেননি।

২০১৩ সালের ১লা নভেম্বর তিনি ডাইরেক্টর অব পাবলিক প্রসিকিউশন (ডিপিপি) পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং  অ্যালিসন সন্ডার্স তার স্থলাভিষিক্ত হন।

ডিপিপি এর দায়িত্ব ছাড়ার পর

[সম্পাদনা]

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ধর্ষণ ও শিশু নিগ্রহের ভুক্তভোগীদের অধিকতর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোনো আইনি পরিবর্তন বা রদবদলের দরকার আছে কিনা তা অনুসন্ধান করার দায়িত্ব স্টারমারের উপর অর্পণ করা হয়।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরের ২৮ তারিখে স্টারমার বিবিসি নিউজ কে বলেন "আমি পুনরায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস শুরু করেছি। এই অবসর আমি বেশ উপভোগ করছি এবং অন্যান্য অনেক বিষয় বিবেচনার অবকাশও পাচ্ছি।"

রাজনৈতিক জীবন

[সম্পাদনা]

২০১৪ সালের ১৩ ই ডিসেম্বর স্টারমার লেবার পার্টির পক্ষ থেকে হলবর্ন এন্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে ১৭০৪৮ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তিনি নির্বাচিত হন। এড মিলিব্যান্ডের অবসর গ্রহণের পর, লেবার পার্টির ২০১৫ সালের লিডারশিপ ইলেকশনের সময় অনেকানেক কর্মীরা তাকে পার্টির প্রধান হওয়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে পরামর্শ দেন। কিন্তু, 'রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় ঘাটতি আছে' কারণ দর্শিয়ে স্টারমার সেটা করেননি। বরঞ্চ এই ক্যাম্পেইনের সময় তিনি এ্যান্ডি বার্নহ্যামের পক্ষে কাজ করেন।

২০১৫ সালের ১৮ ই সেপ্টেম্বর, জেরেমি করবিন তাকে ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। তদন্তের ক্ষমতা বিষয়ক আইন 'ইনভেস্টিগেটরি পাওয়ার অ্যাক্ট ২০১৬' বা 'স্নুপার্স চার্টার' এর প্রতি অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংবেদনশীলতা কেমন ছিল তা জরিপ করার দায়িত্ব পদাধিকারবলে স্টারমার এর উপর বর্তায়, কিন্তু এটা থেকে লেবার পার্টি নিজেদেরকে দূরে রাখে। ২০১৬ সালের ২৭ শে জুন স্টারমার ছায়া মন্ত্রীর পদে ইস্তফা দেন।

পুনরায় ২০১৬ সালে লেবার পার্টির লিডারশিপ ইলেকশনে ওয়েন স্মিথের পক্ষাবলম্বন করে জেরেমি করবিন কে সরানোর চেষ্টা করেন এবং ব্যর্থ হন।

ছায়া মন্ত্রিসভা

[সম্পাদনা]

২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন ব্রেক্সিটের ছায়া সেক্রেটারি হিসেবে এমিলি থর্নবেরির স্থানে স্টারমারকে বহাল করেন। জিনা মিলারের হয়ে ব্রেক্সিট সেক্রেটারির বিপক্ষে সহায়তা করার জন্য স্টারমার, "মিশকন ডি রেয়া" নামক আইন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হতে নিজেকে প্রত্যাহার করেন। এখানে তিনি মানবাধিকার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিজের ক্ষমতাকে আশ্রয় করে তিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর বাইরে বৃটেনের "লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য" সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং ব্রেক্সিট পরিকল্পনা অবমুক্ত করতে সরকারে আবেদন করেন। ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে নিশ্চিত করেন যে ব্রেক্সিট হবে, যেটা নামান্তরে স্টারমারের বিজয় বলে চিহ্নিত করা হয়।

২০১৬ সালের 'ব্রেক্সিট রেফারেন্ডাম' এ 'ইউরোপ ত্যাগ' জয়যুক্ত হওয়ার পর স্টারমার প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে, "এই ব্রেক্সিট 'হার্ড বা চরম ব্রেক্সিট' (ব্রিটেন ইউরোপ থেকে শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবেই নয় বরং ইউরোপীয় সমন্বিত একক বাজার ব্যবস্থা থেকে আলাদা হবে) হবে কিনা?" তিনি বলেন যে, থেরেসা মে এবং তার সরকারকে যথাসময়ে বহুসংখ্যক প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও সংস্কার করতে সময়ের সাথে প্রতিযোগীতায় নামতে হবে। অথবা কোন চুক্তি ছাড়াই ব্রিটেন যদি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগ করে তাহলে উৎকট আইন-শূন্যতার ফলে ব্রিটেনকে ভবিষ্যতে ভুগতে হতে পারে।

২৫ শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ তে তিনি লিভারপুলের লেবার পার্টির কনফারেন্সে ঘোষণা করেন "(ব্রেক্সিট সম্বন্ধে) একটা পাবলিক ভোটের জন্য পার্টি কে অবশ্যই প্রচারণা চালাতে হবে।"

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

স্টারমার ২০০৭ সালে ভিক্টোরিয়া আলেকজান্ডার নামে একজন সলিসিটর এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যার জনক। তাকে 'স্যার কিয়ার স্টারমার' ডাকা হয়। কারণ তিনি 'আইন ও বিচারের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য' ২০১৪ সালে নাইট উপাধি লাভ করেন। তবে তিনি নিজে এই উপাধি ব্যবহার করেন না। তিনি একটি আঞ্চলিক সংবাদপত্র 'হ্যাম এন্ড হাই' কে বলেন "আমি উপাধি বা খেতাবের প্রতি আকৃষ্ট নই।" তিনি আরো বলেন "ডি পি পি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সবাই আমাকে ডাইরেক্টর বলে সম্বোধন করত কিয়ার আমি বলতাম 'দয়া করে আমাকে ডাইরেক্টর বলবেন না, কিয়ার স্টারমার বলবেন।' এখনো আমাকে এই ধরনের সংগ্রাম করতে হয়।"

সম্মাননা ও পদসমূহ

[সম্পাদনা]
  • ২০০২ সালে স্টারমার কুইন্স কাউন্সেল (কিউ সি) হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
  • আইন ও বিচার এর ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে নাইটহুড লাভ করেন।
  • ২০১৭ সালের ১৯ শে জুলাই তিনি প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
  • তিনি অক্সফোর্ডের সেন্ট এডমন্ড হলের অনারারি ফেলো।

সম্মানসূচক ডিগ্রি সমূহ

[সম্পাদনা]
তারিখ প্রতিষ্ঠান ডিগ্রী
২১ জুলাই ২০১১ এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টরেট[২৩]
২০১২ লিডস বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টর অব 'ল' (এল এল ডি)[২৪]
১৯ নভেম্বর ২০১৩ ইস্ট লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টরেট[২৫]
১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স ডক্টর অব 'ল' (এল এল ডি)[২৬][২৭]
১৪ জুলাই ২০১৪ রিডিং বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টর অব 'ল' (এল এল ডি)[২৮]
১৮ নভেম্বের ২০১৪ ওয়ারচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টরেট[২৯]

প্রণীত পুস্তকসমূহ

[সম্পাদনা]

স্টারমার ফৌজদারি আইন এবং মানবাধিকার বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় অনেকগুলো পুস্তক প্রণয়ন এবং সম্পাদনা করেছেন।

  1. কেসিবি, কিউসি, এমপি

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "Who is Keir Starmer? The grammar school 'superboy' who became Labour's next PM"The Daily Telegraph। London। ৬ জুলাই ২০২৪। ৬ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০২৪
  2. Tsjeng, Zing (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪)। "Keir Starmer Shares His Vision For Britain – And Lets Vogue In On The Person Behind The Policies"British Vogue। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০২৪
  3. Moss, Stephen (৯ এপ্রিল ২০১৬)। "Labour's Keir Starmer: 'If we don't capture the ambitions of a generation, it doesn't matter who is leading the party'"The Guardian। London। ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০২০
  4. "Sir Keir Starmer: 'My mum's health battles have inspired me'"Ham & High। ২৭ মার্চ ২০১৫। ৮ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০২০
  5. 1 2 3 4 Maguire, Patrick (৩১ মার্চ ২০২০)। "Keir Starmer: The sensible radical"New Statesman। London। ৫ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত
  6. Boyden, Katie। "Inside Keir Starmer's family life from wife Victoria to toolmaker dad"Metro UK। ৫ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০২৪
  7. Stewart, Heather (২৭ মার্চ ২০২০)। "Keir Starmer had no enemies. Can he keep it that way?"The Guardian। London। ২৭ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০২০
  8. Goodman, Paul (২১ মে ২০২৪)। "Should Catholics worry about having an atheist prime minister?"Catholic Herald (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৪
  9. Lipshiz, Cnaan (২৯ ডিসেম্বর ২০২০)। "UK Labour leader Starmer opens up about his family's Jewish traditions"Times Israel। সংগ্রহের তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২৪
  10. 1 2 3 Bates, Stephen (১ আগস্ট ২০০৮)। "Profile: Keir Starmer"The Guardian। London। ২৯ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২০
  11. 1 2 Moss, Stephen (২১ সেপ্টেম্বর ২০০৯)। "Keir Starmer: 'I wouldn't characterise myself as a bleeding heart liberal...'"The Guardian। London। ১৬ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত
  12. "Sir Keir Starmer: 'My mum's health battles have inspired me'"Ham & High। London। ২৭ মার্চ ২০১৫। ৫ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০২৪
  13. "Schools (status) 1980"Hansard। Uk Parliament Publications। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২০
  14. Harris, Tom (১২ আগস্ট ২০২১)। "Lord Ashcroft's unauthorised biography of Keir Starmer is as dry as the Labour leader"The Telegraph। London। ১২ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২১
  15. Turner, Camilla (২৮ জানুয়ারি ২০২৩)। "Exclusive: 'Hypocrite' Keir Starmer benefited from private school charity"The Telegraph। ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০২৩
  16. Glancy, Josh (২৩ জুন ২০২৪)। "Keir Starmer up close: my three months with the 'normal bloke' who would be PM"The Sunday Times। London। ১ জুলাই ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০২৪
  17. "Who is Keir Starmer?"BuzzFeed। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৯ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০২০
  18. "Hello: MP Keir Starmer"On The Hill। Primrose Hill Community Association। ২২ নভেম্বর ২০১৫। ২২ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০২০
  19. Stacey, Kiran (২৩ জুন ২০২৩)। "Keir Starmer was caught as a student illegally selling ice-creams on French Riviera"The Guardian। London। ১৭ জুন ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২৪
  20. "Keir Starmer: Labour leader hoping for keys to Downing Street"BBC News। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩। ১৭ জুন ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২৪
  21. "Labour leadership winner: Sir Keir Starmer"BBC News। ৪ এপ্রিল ২০২০। ১০ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২০
  22. "People of Today"। Debretts.com। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুলাই ২০১৬
  23. "University of Essex :: Honorary Graduates :: Honorary Graduates :: Profile: Keir Starmer QC"। Essex.ac.uk। ১৬ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০১৫
  24. O'Rourke, Tanya। "Honorary graduates"www.leeds.ac.uk। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৯
  25. Atwal, Kay। "Keir Starmer QC, awarded honorary doctorate by east London university"Newham Recorder। ১৬ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৯
  26. Bennett, Dan। "LSE Honorary Degrees - Governance and committees - Services and divisions - Staff and students - Home"www.lse.ac.uk। ১৬ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৯
  27. Editor, LSE Web। "Keir Starmer QC awarded an LSE Honorary Degree - 12 - 2013 - News archives - News and media - Website archive - Home"www.lse.ac.uk। ১৬ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৯ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |শেষাংশ= প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য)
  28. "Leading legal figure awarded Honorary Degree"। University of Reading। ১৪ জুলাই ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৯
  29. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১৬ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুলাই ২০১৯

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]