কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদ

কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদ (জন্মঃ ৯ জুন, ১৮৬১ - মৃত্যুঃ ৪ জুলাই, ১৯০৭) একজন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক, সম্পাদক ও লেখক।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

কালীপ্রসন্ন জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার ভবানীপুরের বলরাম বসুর ঘাট রোডের বাড়িতে। পিতার নাম রাখালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ১৮৭৬ সালে লণ্ডন মিশনারি স্কুল থেকে এন্ট্রানস পরীক্ষা পাশ করেন। এফ.এ. (ফার্স্ট আর্টস) পড়বার সময় দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের কাছে বাংলা ও সংস্কৃত শিক্ষা গ্রহণ করেন। ইংরাজিতেও সুশিক্ষিত ছিলেন তিনি। তার লেখা দি কসমোপলিটন, প্রকৃতি, এন্টি খ্রীষ্টিয়ান ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।[১]

সাহিত্যসেবা[সম্পাদনা]

হিতবাদী সাপ্তাহিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে কাজ করতেন তিনি এবং ব্যঙ্গাত্মক লেখালেখির জন্য কালীপ্রসন্ন বিখ্যাত ছিলেন। ফকিরচাঁদ বাবাজি ছদ্মনামে লেখা তির্যক গদ্য-পদ্যে আক্রমণ করেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কেশবচন্দ্র সেন, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এমনকি রাহু ছদ্মনামে ব্যঙ্গাত্মক ছড়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও।[২] ভার্নাকুলার প্রেস আইনের বিরুদ্ধে ও বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন সমর্থনের পক্ষে তিনি লেখা প্রকাশ করেন। তার সম্পাদিত বইগুলির মধ্যে রয়েছে প্রসাদ পদাবলী, বিদ্যাপতি, বংগীয়পদাবলী, স্বদেশী সংগীত। অসুস্থ থাকা অবস্থায় মাদ্রাজে ১৮৯৪ সালে ও লক্ষনৌতে ১৮৯৯ সালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস অধিবেশনে যোগ দেন তিনি। তার রচিত স্বদেশী গান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। ‘রুচি-বিকার’ নামে একটি কবিতা প্রকাশ করায় তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন ব্রাহ্মসমাজের এক বিশিষ্ট নেতা অধ্যাপক হেরম্বচন্দ্র মৈত্র। হেরম্বের অভিযোগ ছিল, ওই কবিতা তাঁর স্ত্রী কুসুমকুমারী মৈত্রকে ব্যঙ্গ করে লেখা। ১৮৯৭ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জেনকিন্স কালীপ্রসন্নকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সম্পাদক কালীপ্রসন্ন পাঁচ মাসের জেল খাটার পরে মুক্তি পান।[৩] তার রচিত বইগুলি হল সভ্যতা-সোপান (১৮৭৮), প্যানেল প্রসঙ্গ (১৯০১), লাঞ্ছিতের সম্মান (১৯০৬)।[৪]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯০৭ সালে জাপান থেকে ফেরার পথে জাহাজের কেবিনে বসে লিখতে লিখতেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার দেহটি বাক্সে পুরে ডুবিয়ে দেওয়া হয় চীন সাগরের জলে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. প্রথম খন্ড, বসু, অঞ্জলি; সেনগুপ্ত, সুবোধচন্দ্র, (নভেম্বর ২০১৩)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ৯০। আইএসবিএন 978-8179551356 
  2. "Prothom Alo | Most popular bangla daily newspaper"archive.prothom-alo.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৯ 
  3. "আনন্দবাজার পত্রিকা - কলকাতা"archives.anandabazar.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৯ 
  4. "কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদ - উইকিসংকলন একটি মুক্ত পাঠাগার"bn.wikisource.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৯