বিষয়বস্তুতে চলুন

কালওয়ার (জাত)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লাহোরের একজন ডিস্টিলার এবং মদ বিক্রেতার প্রতিকৃতি (কালওয়ার, কুল্লাল, কালাল, বা কালার), ১৮৬২-৭২

কালওয়ার, কালাল বা কালার হল একটি ভারতীয় জাতি যারা ঐতিহাসিকভাবে উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তর ও মধ্য ভারতের অন্যান্য অংশে বসবাস করে। জাতিটি ঐতিহ্যগতভাবে মদের পাতন এবং বিক্রয়ের সাথে যুক্ত, কিন্তু ২০ শতকের শুরুতে বিভিন্ন কালওয়ার বর্ণের সংগঠনগুলি সেই ব্যবসা ছেড়ে দিতে এবং সংস্কৃতকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের সম্প্রদায়কে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চেয়েছিল।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

যেহেতু কালওয়ারদের বংশানুক্রমিক পেশা মদের পাতন করা এবং বিক্রি করাকে অবমাননাকর বলে মনে করা হত, তাই দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী বর্ণের শ্রেণিবিন্যাসে তারা খুবই নিম্ন মর্যাদার অধিকারী। ১৮ শতকে কালাল প্রধান জাসা সিং রাজনৈতিক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে এই পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। জাসা সিং তাঁর নিজ গ্রামের নাম অনুসারে নিজেকে আলুওয়ালিয়া হিসাবে শৈলীযুক্ত করেন এবং কাপুরথালা রাজ্যের শাসক রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।[২]

জাসা সিং-এর উত্থানের পর, অন্যান্য শিখ কালওয়াররাও আলুওয়ালিয়াকে তাদের বর্ণের নাম হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাদের ঐতিহ্যগত পেশা ছেড়ে দিতে শুরু করে। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ প্রশাসনের দ্বারা মদ তৈরি ও বিক্রয়ের উপর আরোপিত প্রবিধানগুলি এই প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করেছিল এবং ২০ শতকের প্রথম দিকে, বেশিরভাগ কালওয়ার তাদের ঐতিহ্যগত পেশা ত্যাগ করেছিল। এই সময়ের মধ্যে, তারা তাদের সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর জন্য নিজেদের খত্রী বা রাজপুত বংশোদ্ভূত বলে দাবি করতে শুরু করেছিল।[২]

ব্রিটিশ শাসনের আবির্ভাবের আগে, মুসলিম কালওয়াররাও কাকেজাই পশতুন পরিচয় গ্রহণ ক'রে তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেছিল। এর মধ্যে কিছু কাকেজাই কালওয়ার হয়ে গিয়েছিল, যেমন হোশিয়ারপুর পরিবার যারা ১৮৪০-এর দশকে জলন্ধর দোয়াব শাসন করেছিল, তারা নিজেদের উচ্চ বর্ণের শেখ বলে দাবি করে মর্যাদা আরও বাড়িয়েছিল। শিখ কালওয়াররারাও খত্রী বা রাজপুত বংশোদ্ভূত বলে দাবি করেন।[২]

এলাহাবাদের কালওয়াররা ১৮৯০-এর দশকে নিজেদেরকে ক্ষত্রিয় মর্যাদার বলে দাবি করছিলেন।[১]

ব্রিটিশ শাসনকালে, কালওয়াররারা ব্যবসা, কৃষি, সেনাবাহিনী (বিশেষ করে আলুওয়ালিয়া), সরকারি চাকরি এবং আইন সহ বিভিন্ন পেশা গ্রহণ করেছিল।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bayly, Christopher A. (১৯৭৩)। "Patrons and Politics in Northern India"Locality, Province and Nation: Essays on Indian Politics 1870 to 1940 (Reprinted সংস্করণ)। Cambridge University Press Archive। পৃষ্ঠা 63আইএসবিএন 978-0-52109-811-3 
  2. Donald Anthony Low (১৯৬৮)। Soundings in Modern South Asian History। University of California Press। পৃষ্ঠা 70–71। ওসিএলসি 612533097