করাত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

করাত ফলক, তার অথবা শিকল দ্বারা নির্মিত শক্ত ও তীক্ষ্ণ খাঁজ বিশিষ্ট এক ধরণের যন্ত্র বিশেষ। এটা কোন কিছু কাটার জন্যে ব্যবহৃত হয়, সাধারণত কাঠেই এর ব্যবহার সর্বাধিক। এর কার্যক্রমের পদ্ধতি হচ্ছেঃ ধারাল দাঁত বস্তুটির সংস্পর্শে এনে শক্তি প্রয়োগের সাথে সামনে এগিয়ে নেওয়া এবং আপাত কম জোরে পিছিয়ে পুনরায় সামনে চালনা অথবা বল প্রয়োগের সাথে শুধু সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বল প্রয়োগের মাধ্যম হিসাবে হাত ব্যবহৃত হতে পারে অথবা বাস্প, পানি, বিদ্যুৎ বা অপর কোন শক্তির উৎসও ব্যবহৃত হতে পারে। এছাড়া কিছু ঘূর্ণায়মান ব্লেডযুক্ত করাত আছে যা দ্বারা খুব সহজেই শক্ত ধাতু কাটা যায়।

পরিচিতি[সম্পাদনা]

সামনে থেকে দেখা একটি করাতের ব্লেডের দাঁত। ডায়াগ্রামটি দেখায় যখন একটি করাতের ব্লেডকে কোন বস্তুর ওপর টানা হয় তখন করাতের দাঁত কতটা বাইরের দিকে সরে আসে।
  • ঘর্ষণ দাঁত: এক্ষেত্রে ব্লেডের পপরিবর্তে বিশেষ ধারালো অংশ দ্বারা বস্তু কাটা হয়।
  • প্রতি ইঞ্চিতে বিন্দু (২৫ মিমি): ব্লেডের দাঁতসংখ্যা পরিমাণের এটাই সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। প্রথমে ব্লেডের দাঁতগুলোর মধ্যে শূণ্য বিন্দু নির্ধারণ করা হয়। এরপর এক ইঞ্চি পর্যন্ত স্কেল দিয়ে মাপা হয় এবং দেখা হয় অনূরূপ বিন্দু কয়টি আছে। তবে প্রতিটা ক্ষেত্রে প্রতি ইঞ্চিতে যতটা বিন্দু পরিমাপ করা হয় প্রকৃতপক্ষে তার তুলনায় একটি বিন্দু বেশি থাকে। ধরা যাক এক ইঞ্চিতে অনুরূপ বিন্দু ৬ টি। তাহলে বলা যায় ব্লেডটির প্রতি ইঞ্চিতে বিন্দু সংখ্যা ৭টি। কিছু কিছু করাতে অবশ্য প্রতি ইঞ্চিতে বিন্দু সংখ্যা সমান হয় না। কিন্তু বেশিরভাগেই সমান থাকে। যেসকল করাতের মাথায় পিপিআই বেশি থাকে সেসকল করাত দিয়ে বস্তু কাটতে সুবিধা হয়।[১]
  • কার্ফ: মূলত করাতের কাটার মধ্যকার ফাঁকা অংশ। আর এটি কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করেঃ ব্লেডের প্রস্থ, ব্লেডে দাঁতগুলো কিভাবে বসানো, কাটার সময় কতটা পদার্থ ব্লেডের বাইরে বেরিয়ে আসে। এছাড়া কার্ফ শব্দটি দিয়ে করাতের ব্লেডের সমাকীর্ণতাও বোঝানো হয়।
  • পেছন অংশ: ধারালো অংশের বিপরীত পাশ।
  • ফ্লেম: প্রতিটি দাঁতের উঁচু অংশের কোণ।
  • গুলেট: দুটি দাঁতের মধ্যবর্তী ফাঁকা অংশকে বলা হয় গুলেট।
  • হিল: হাতলের সবচেয়ে কাছের প্রান্ত।
  • দাঁত: করাতের যে পাশ দিয়ে কোন বস্তু কাটা হয় সেখানে অসংখ্য খাঁজকাটা অংশ থাকে তাকে বলা হয় করাতের দাঁত।
  • র‍্যাক: করাতের ব্লেডের সমান্তরালের সাথে ব্লেডের দাঁতের কোণের সম্পর্ককে বলা হয় র‍্যাক। যখন কোন বস্তুকে আড়াআড়ি কাটা হয় তখন দাঁতগুলো কম উঁচুনিচু হয়। অন্যক্ষেত্রে তা বেশি উচুনিচু হয়।
  • প্রতি ইঞ্চিতে দাঁত: এর মাধ্যমে প্রতি ইঞ্চিতে মূলত কয়টি দাঁত আছে তা বোঝানো হয়। একে সংক্ষেপে টিপিআই (TPI) বলা হয়। যেমনঃ করাতটি ১৮টিপিআই- বলতে বোঝায় করাতটির ব্লেডে প্রতি ইঞ্চিতে ১৮ টি দাঁত আছে।
  • শেষপ্রান্ত: হাতলের সবচেয়ে বিপরীত দিককে বলা হয় শেষপ্রান্ত।
  • ধারালো দিক: যে দিকে দাঁত থাকে (কোন কোন করাতে দুদিকেই দাঁত থাকে)।
  • ওয়েব: ছোট ধারালো ব্লেড যা হাত ও যন্ত্র দুটো দ্বারাই ব্যবহার করা যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রায় ৩য় থেকে ৫ম শতকে ব্যবহৃত রোমান করাতের দাঁত

প্রাচীন কালে করাত ছিল মূলত হাঙ্গর মাছের দাঁত, কাঁচের মতো দেখতে অগ্নেয়শিলা, চকমকি পাথরের তৈরি কিছু বস্তু।[২]

প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায়, আনুমানিক ৩১০০-২৬৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রথম করাতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল যেগুলো ছিল সম্পূর্ণ খোলা (কাঠামোহীন)। এগুলো ছিল কপারের তৈরি।[৩][পৃষ্ঠা নম্বর] বেশিরভাগ কপারের তৈরি করাত পাওয়া গিয়েছে ডিজের রাজার শাসনামলের (ডিজের শাসনামল, ৩১তম খ্রিস্টপূর্ব শতক) ৩৪৭১ নম্বর সমাধিতে।[৪]

করাত নানারকম কাজেই ব্যবহার হয়ে এসেছে। এমনকি মানুষ মারা পর্যন্ত। মিশরীয় ইতিহাসে নানা ক্ষেত্রে করাত ব্যবহারের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে গুহায় আঁকা করাতের ছবি দেখে বোঝা যায় যে প্রাচীনকালে করাতের আকার-আকৃতি কেমন ছিল এবং কি কি কাজে এগুলো ব্যবহৃত হতো। মিশরীয় করাতগুলো মূলত কপারের তৈরি। যেগুলো টানার মাধ্যমে এবং আঘাত করার মাধ্যমে কাটা হতো। আস্তে আস্তে উন্নত হয়ে, করাতে সুদৃশ্য খাঁজকাটা অংশ (দাঁত) যুক্ত হল এবং টানার মাধ্যমেই যেগুলো কাজ করে। করাত ব্রোঞ্জ দিয়েও বানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে লোহা দিয়েও করাত তৈরি করা হয়। লোহার যুগে, চিকন ব্লেড তৈরি হয় যা প্রচন্ড চাপে বস্তুতে গেঁথে যায় এবং বস্তু কাটতে সুবিধা হয়।[২]

ব্রোঞ্জ যুগের একটি করাত, খ্রিস্টপূর্ব ১৭শ শতক

চায়নিজ দার্শনিকদের মতে, করাত আবিষ্কৃত হয়েছে লু বান দ্বারা।[৫] গ্রীক পৌরাণিক কাহীনিতে, অভিড বর্ণণা করেছেন[৬], টেলস, ডাইডেলাসের ভাগ্নে, করাত আবিষ্কার করেন। প্রত্নতত্ত্বের বাস্তবতায়, করাতের মতো ব্যবহার্য জিনিসপত্র হাড় দিয়ে বানানো জিনিস থেকেই সৃষ্টি হয় যা আনুমানিক ৪০০০ বছর পূর্বে।[৭]

হাতে তৈরি করাত[সম্পাদনা]

যখন মানুষ লোহার জানল তখন থেকেই লোহা দিয়ে করাত বানানো শুরু করল; এরপর মানুষ জানল কিভাবে ব্লেড ধারাল করতে হয় এবং এর স্থায়িত্ব কিভাবে বৃদ্ধি করতে হয়। ইস্পাতের ব্যবহারের (গরম লোহাকে পানিতে ডুবিয়ে ঠান্ডা করা) মাধ্যমে মানুষ করাত বানাতে শুরু করে ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে।[৮] ১৭ শতকের শেষের দিকে করাত তৈরি করার ইউরোপিয়ান কিছু কারখানা গড়ে উঠেছিল। এগুলো ছিল জার্মানিতে, লন্ডনে এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যখানে। বেশিরভাগ ব্লেডই ছিল ইস্পাত দ্বারা তৈরি।[৯] ১৮শ শতকের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড নামক স্থানে আরো উন্নত মানের ইস্পাতের ব্যবহার শুরু হয়। পরবর্তীতে এই উন্নত মানের ইস্পাতই করাত তৈরির মুখ্য উপাদান হয়ে ওঠে। কারণ এটি ছিল শক্ত, টেকসই এবং সহজেই পালিশের উপযোগী।[১০] করাতের কারখানাগুলোর মধ্যে লন্ডন এবং বার্মিংহামে একটি কারখানা টিকে ছিল অনেকদিন পর্যন্ত। তৎকালীন সময়ে এ শিল্প ততোটা বিস্তৃতি লাভ করেনি। কিন্তু ১৮২০ এর দশকে বার্মিংহামের কারখানাটি যথেষ্ট বিস্তৃতি লাভ করে। এবং এই বিস্তৃতি শেফিল্ডকে কেন্দ্র করেই বাড়তে থাকে। যুক্তরাজ্যের প্রায় ৫০% করাত উৎপাদকরাই তখন শেফিল্ডে তাদের ব্যবসা বিস্তৃত করে।[১১] অবশ্য শেষের দশকগুলোতে যুক্ত্রাষ্ট্র এই করাতের বাজার নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। কারণ তাদের রপ্তানিকৃত করাতগুলো ছিল উন্নত। তাদের প্রযুক্তি, বিশাল আঞ্চলিক বাজার, রপ্তানিতে সুনাম করাতের বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে ভূমিকা রাখে।[১২] এছাড়া জার্মানি এবং ফ্রান্সেও করাতের বাজারের প্রসার ঘটে।

প্রাথমিক ইউরোপিয়ান করাতগুলো তৈরি হতো গরম লোহার পাত বা ইস্পাতের পাত হতে। কয়েকজন শ্রমিক অনরবরত সেই পাতের ওপর পেটাতো যাতে সেটি সঠিক আকার পায়।[১৩] ঠান্ডা করার পর, করাতের দাঁতগুলো তৈরি করা হতো। দাঁতের আকার করাতের আকারের ওপর নির্ভর করতো। আরেকটি বস্তু দিয়ে দাঁতগুলোকে ধাঁর দেওয়া হতো। [১৪] এরপর ১৮০০ শতকে রোলার যন্ত্রের মাধ্যমে করাত তৈরি করা হতো। রোলার যন্ত্রের শক্তির উৎস ছিল পানি। পরে, ১৯ শতকে স্টিম যন্ত্র আবিষ্কারের পর এই যন্ত্র দিয়ে রোলারের সাহায্যে করাত তৈরি করা হতো। করাতের এই বাজারটি এরপর ক্রমেই যান্ত্রিক হয়ে পড়ে।[১৫] করাতে ইস্পাতের ব্যবহার শুরু হয়েছিল করাতকে আরো মজবুত করার জন্য। তাছাড়া ইস্পাত সহজে বাঁকানো যায় এবং পালিশ করা যায়। তাছাড়া ইস্পাতের স্থায়িত্বও বেশি।[১৬] বর্তমানে বেশিরভাগ হাতকুড়াল মানুষের হাতের ছোঁয়া ছাড়াই সম্পূর্ণ যান্ত্রিক উপায়ে তৈরি হয়। ইস্পাতের পাতগুলোকে যন্ত্র খুব কম সময়ে চাপ দিয়ে চিকন বানায় এবং লেজারের মাধ্যমে এতে খাঁজ কাটা হয়। এরপর যান্ত্রিক উপায়েই দাঁতের সুক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়। তবে এখনো অনেক করাত উৎপাদক করাত তৈরি শেষে হাত দ্বারা নিজেরা আবার করাতটি পরীক্ষা করেন এবং এভাবেই তারা উনবিংশ শতাব্দীর করাতের বৈশিষ্ট্যগুলো এখনো টিকিয়ে রেখেছেন।

গর্তের করাত[সম্পাদনা]

গর্তের করাত দিয়ে গাছ কাটা হচ্ছে

একটি গর্তের করাত দুজন মানুষের দ্বারা চালিত করাত। উত্তর আমেরিকাতে শুরুর দিকের উপনিবেশকালে এই করাত বেশি ব্ব্যবহৃত হতো। বিশেষ করে জাহাজ প্রস্তুতের কারখানায় এবং বড় বড় কারখানায়। কারণ তখন পানি চালিত কারখানা উত্তর আমেরিকায় ছিল না। এটার এই অদ্ভুত নামের কারণ এটি গর্তের ওপর কাটা হতো। এই ধরণের করাতে খুব মজবুত ব্লেড ব্যবহৃত হয়। এটি খুব সুন্দরভাবে পালিশ করা হয়। এটি দেখতেও অনেক লম্বা যা ৮ থেকে ১০ ফিট লম্বা হতে পারে।[১৭] গর্ত করাতের দু পাশে যদি হাত দিয়ে ধরার সুবিধা থাকে তাহলে এটিকে হুইপ করাতও বলা হয়।[১৮] এই ধরণের করাত চালাতে ২-৪ জন মানুষের প্রয়োজন হয়। একজন লোক গর্তে দাঁড়ায়, আরেকজন থাকে উপরে। এরপর তারা দুজনে করাতকে সামনে পেছনে ঠেলে বস্তু কাটে।[১৯] উত্তর আমেরিকার উপনিবেশকালে যে সকল শ্রমিকরা গর্ত করাত নিয়ে কাজ করত তাদের পারিশ্রমিক বেশি ছিল।

করাতের ধরণ[সম্পাদনা]

হাতকরাত[সম্পাদনা]

কাঠামোতে বসানো করাত দিয়ে একটি বস্তুকে কাটা হচ্ছে যেটি একটি কাঠের পায়ার ওপর বসানো, ১৪২৫ খ্রিস্টাব্দ

হাতকরাতে তুলনামূলক চিকন ব্লেড ব্যবহার করা হয়। এতে করে কোন বস্তুকে কাটার সময় কাঠিন্য বৃদ্ধি পায় এবং ব্লেড বস্তুকে সহজেই কাটতে পারে।

  • বাচারের করাত: হাড় কাটা হয়। বিভিন্ন ধরণের হয়। আমেরিকায় মাংস কাটার ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহৃত হয়। বেশিরভাগই কাঠামোযুক্ত করাত।;
  • আড়াআড়ি ভাবে কাটার করাত: লম্বালম্বি ভাবে কোন কিছুকে কাটার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।;
  • কৃষকের করাত/খনির করাত: খুব শক্ত করাত। দাতগুলো অমসৃণ এবং ভোঁতা হয়;
  • বরফ করাত: বড় বড় দাঁত থাকে। গরম কালে এগুলো ব্যবহার হয় না। বরফ কাটার কাজে ব্যবহার হয়।;
  • জাপানিজ করাত: চিকন ব্লেডযুক্ত, টানার মাধ্যমে কাটা হয়;
  • হাতল করাত: ছোট এবং চিকন ব্লেডের হাতলযুক্ত করাত;
  • প্যানেল করাত: এটি ২৪ ইঞ্চির থেকেও কম দৈর্ঘ্যের হয়।;
  • প্লাইউড করাত: প্লাইউড কাটার বিশেষ ধরণের করাত;
  • প্রুনিং করাত: এর সবচেয়ে প্রচলিত করাতটি ১২ থেকে ২৪ ইঞ্চি লম্বা। দুটিকেই ব্লেড থাকে। একটি খুব ধারালো হয়। কিন্তু অপরটি হয় ভোঁতা;
  • স্কেলযুক্ত করাত; একতি হাত করাত যাতে একটি স্কেল যুক্ত থাকে।;
  • লবণ করাত: বড় বড় রান্নাঘরে এ ধরণের করাত থাকে। জিংক বা কপারের তৈরি ব্লেড দ্বারা এ করাত তৈরি করা হয়। এ করাত দ্বারা লবণের ব্লক কাটা হয়।;
  • বানর করাত/তুর্কি করাত: ছোট হাত করাত যাতে সমান্তরালে আরেকটি ব্লেড যুক্ত থাকে।;
  • দুমানবী করাত : বড় বড় গাছের গুড়ি কাটার করাত;
  • তারের করাত: তার দ্বারা বিশেষ ভাবে বস্তু কাটা হয়। এক্ষেত্রে তার ব্লেড হিসেবে কাজ করে।

পেছনব্লেডযুক্ত করাত[সম্পাদনা]

"পেছনব্লেডযুক্ত করাত" হল এমন এক ধরণের করাত যেটিতে পেছনে স্টিল বা পিতলের সাথে লাগানো ব্লেড থাকে যা বস্তু কাটার ক্ষেত্রে কাঠিন্য আনে। এই করাতগুলো হাত কুড়ালের একটি উপরূপ। পেছনব্লেডযুক্ত করাতের ব্লেডের দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে অনেক নাম রয়েছে।

  • অলংকার করাত: একটি ছোট পেছনযুক্ত করাত যাতে একটি কাঠের হাতলও থাকে।;
  • ব্লিজ করাত: একটি ছোট পেছনযুক্ত করাত যা কাঠ এবং ধাতু কাটার কাজে ব্যবহার করা হয়।;
  • ইলেক্ট্রিসিয়ানের করাত: ছোট করাত যার ব্যবহার মূলত বিংশ শতাব্দীতে শুরু হয়। এর আবরণ তৈরি হয় কাঠ দিয়ে যাতে ভেতরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত না হয়।;
  • সার্শি করাত: ১৪ থেকে ১৬ ইঞ্চি লম্বা ব্লেডযুক্ত করাত।

ফ্রেম করাত[সম্পাদনা]

এগুলো হল বিশেষ ধরণের করাত যেগুলো একটি ফ্রেম বা কাঠামো দিয়ে তৈরি। এগুলো ছোটও হতে পারে আবার বড়ও হতে পারে। আর কাঠামো কাঠ বা ধাতব হতে পারে। এগুলো প্রায় সকল প্রকার বস্তুই কাটার উপযুক্ত।

  • নতমুখি করাত: একটি কাঠামোতে বসানো করাত। এটির সাধারণ আড়াআড়ি ভাবে কাটার করাত। আগে ইউরোপিয়ান শ্রমিকদের দ্বারা এগুলো বেশি ব্যবহৃত হতো।;
  • নকল করে এমন করাত: খুবই চিকন ব্লেড থাকে। অনূরূপ কাঠ কাটার ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়।;
  • ফ্রেট করাত: খুব চিকন ব্লেড থাকে। ব্লেডটি নিজ অক্ষের সাপেক্ষে ঘুরতে পারতে। অনূরূপ আকৃতির কাঠ কাটতে পারে।;
  • গ্রিডার করাত: খুব বড় খাঁজ যুক্ত ব্লেড থাকে। কাঠামোও বড় হয়;

যন্ত্রচালিত করাত[সম্পাদনা]

বৃত্তাকার করাত[সম্পাদনা]

জাদুঘরে রাখা একটি কাঠকাটার বৃত্তাকার করাত
আরেকটি বিশেষ ধরণের বৃত্তাকার করাত
লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির হাইড্রোলিক করাত
  • বৃত্তাকার করাত: বৃত্তাকার করাতে একটি গোলিয় ব্লেড থাকে যা ঘুরতে পারে। এগুলো বড় হতে পারে। বিশেষ বড় কারখানায় এগুলো ব্যবহৃত হয়। একটি বৃত্তাকার করাতের ব্লেড ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। গোলিয় ব্লেডের আকারও ভিন্ন হতে পারে যাতে ভিন্ন ভিন্ন বস্তু কাটা যায়।
  • টেবিল করাত: এই করাতেও একটি বৃত্তাকার ব্লেড থাকে। তবে এটি টেবিলের সাথে লাগানো থাকে। এটি যেহেতু টেবিলের সাথে লাগানো থাকে তাই একে ওয়ার্কবেঞ্চ করাতও বলা হয়। যদি এটি ইস্পাতের পায়ার ওপর বসানো হয় তাহলে এটিকে বলা হয় "কন্সট্রাক্টর করাত"। এই করাতের আরো উন্নত রূপ রয়েছে। এক্ষেত্রে এতে কয়েকটি বেল্ট লাগানো হয়, এটা দেখতেও ভারি হয়। তখন একে বলা হয় "কেবিনেট" করাত। কন্সট্রাক্টর করাতের আরো একটি উন্নত রূপ রয়েছে। একে বলা হয় "হাইব্রিড করাত"।
  • গোলিয় হাতলযুক্ত করাত: গোলিয় হাতলযুক্ত করাতে গোলিয় ব্লেডটি একটি হাতলের সাথে সংযুক্ত থাকে। এটি আবার একটি কাঠের সাথে সংযুক্ত থাকে যা যন্ত্রের সাথে অনড়ভাবে লাগানো থাকে।
  • ঘূর্নায়মান করাত বা "ক্রমাগত পাক খায় এমন করাত": সঠিক ও সূক্ষ ভাবে কাটা যায় এমন করাত।এটি কাঠের দেয়াল, প্লাইউড এবং চিকন বস্তুসমূহ কাটার কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • গর্ত করাত: এটি সাধারণত ড্রিলের সাথে সংযুক্ত থাকে। খুব সহজেই কোন কাঠ বা অন্য কিছুতে গর্ত সৃষ্টি করা যায়।

নড়া চড়ার মাধ্যমে কাটা হয় এমন ব্লেডযুক্ত করাত[সম্পাদনা]

  • স্যাবার করাত: চিকন ব্লেডযুক্ত, অনিয়মিতভাবে কাটা হয়। (এগুলো স্ক্রল করাতও বলা হয়)
  • পূরক করাত: এগুলো অনেকটা নড়াচড়ার মাধ্যমে কাটা হয় এমন করাতের মতো। তবে এগুলো অপেক্ষাকৃত ভারী ও শক্তিশালী।
  • বক্ষাস্থি করাত: যখন বুকের হাড় কাটা হয় তখন এমন করাত ব্যবহৃত হয়।
  • বরফ করাত: বরফ কাটার ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহৃত হয়।

অনবরত ঘূর্ণণশীল ব্লেড[সম্পাদনা]

  • চাকার তৈরি ব্লেডের করাত: এই করাতে দুটি চাকার সাথে একটি বেল্ট লাগানো থাকে। এই বেল্টে অসংখ্য দাঁত লাগানো থাকে। এই ধরণের করাত সাধারণত বড় বড় কারখানায় ব্যবহৃত হয়।

শিকল করাত[সম্পাদনা]

  • শিকল করাত: এমন এক ধরণের করাত যেটিতে একটি যন্ত্র লাগানো থাকে। এটি অনবরত শিকলের মাধ্যমে লাগানো দাতসমূহকে ঘোরাতে থাকে।
  • কারখানার শিকল করাত: এটি শিকল করাতের অনূরূপ। তবে এতে দু দিকে দুটি যন্ত্র থাকে। হাতলও থাকে দুইটি। এটি দ্বারা বড় গাছের গুড়ি ইত্যাদি কাটা হয়।

ব্লেডের ধরণ এবং কাটার পদ্ধতি[সম্পাদনা]

বেশিরভাগ করাতের দাঁতই তৈরি হয় ইস্পাত দিয়ে বা কার্বাইড দিয়ে। কার্বাইড ইস্পাত থেকে বেশি শক্ত হয় এবং ব্লেডের ধার অনেকদিন পর্যন্ত টিকিয়ে রাখে।

চাকার তৈরি করাতের ব্লেড
এক্ষেত্রে ব্লেডটি একটি বেল্টের মতো হয়। এতে অসংখ্য দাঁত লাগানো থাকে। চাকা ঘোরার সাথে সাথে বেল্টটিও ঘুরতে থাকে। তবে এটি আস্তে আস্তে ঘোরে। অপেক্ষাকৃত কম তাপ উৎপন্ন করে।
আড়াআড়ি কাটা
কাঠ কাটার ক্ষেত্রে লম্বালম্বি ভাবে কাঠ কাটার পদ্ধতি।
সমান্তরালে কাটা
কাঠ কাটার ক্ষেত্রে সমান্তরালভাবে কাঠ কাটা।
প্লাইউড ব্লেড
একটি বৃত্তাকার ব্লেড, যাতে অসংখ্য ছোট ছোট দাঁত থাকে। আর এই ব্লেডের আকৃতির ধরণই হচ্ছে যথাযথভাবে প্লাইউড কাঠ কাটা।
গুড়ি বা নোংরা জিনিস সংরক্ষণ করে এমন বিশেষ ধরণের ব্লেড
একটি বৃত্তাকার ব্লেড যাতে এমন একটি ব্যবস্থা থাকে যা সহজেই কাঠের গুড়ি, ঘাস ইত্যাদি সংরক্ষণ করে যা অন্য কোন করাতে আটকে যেত এবং কোন কিছু কাটার ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি করত।

করাতে ব্যবহৃত পদার্থসমূহ[সম্পাদনা]

কাজের ভিন্নতার ভিত্তিতে করাতে নানারকম পদার্থ ব্যবহৃত হয়। এদের নিজেদের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছেঃ

পিতল
পেছনব্লেডযুক্ত করাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
লোহা
ব্লেড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
জিংক
লবণের ব্লক কাটার ক্ষেত্রে জিংক ব্যবহার করা হয়। রান্নাঘরে এ ধরণের করাত বেশি দেখা যায়।
কপার
এটিও জিংক এর মতো লবণ কাটায় ব্যবহৃত হয়।
ইস্পাত
প্রায় সব করাতেই ইস্পাত ব্যবহার করা হয়। কারণ ইস্পাত খুবই সস্তা, সহজে বাঁকানো যায় এবং মজবুত। করাতের জন্য এটিই উপযুক্ত সংকর ধাতু।
হীরক
ডায়মন্ড করাতের ব্লেডের মাথায় সংযুক্ত করে শক্ত বস্তু কাটা হয়। কারণ ডায়ামন্ড হল সবচেয়ে শক্ত বস্তু। যেমন শক্ত পাথর, কংক্রিট, মূল্যবান পাথর কাটার ক্ষেত্রে ডায়মন্ড যুক্ত করাতের ব্লেড ব্যবহার করা হয়। ব্লেডের মাথায় ডায়মন্ড যুক্ত করার নানা পদ্ধতি আছে এবং ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ডায়মন্ডও ভিন্ন ভাবে যুক্ত করা হয়।
হাই স্পীড স্টিল (এইচ এস এস)
এক্ষেত্রে পুরো ব্লেডটিই হাই স্পীড স্টিল দ্বারা তৈরি করা হয়। হাই স্পিড স্টিল দ্বারা মূলত স্টিল, কপার, অ্যালুমিনিয়াম এবং অনান্য ধাতব বস্তু কাটা হয়। যদি ইস্পাত কাটা হয় সেক্ষেত্রে কবাল্ট এইচ এস এস ব্যবহার করা হয়।
টাংস্টেন কার্বাইড
সাধারণত, দুইরকম উপায়ে টাংস্টেন কার্বাইড দিয়ে একটি করাতের ব্লেড তৈরি করা হয়ঃ
  1. কার্বাইড দিয়ে ঝালাই করা করাতের দাঁত: করাতের দাঁতে ছোট ছোট ঝালাই করা কার্বাইডের টুকরা থাকে। এই ধরণের ব্লেডগুলোকে বলা হয় টিসিটি (টাংস্টেন কার্বাইড টিপেড)। আর এই ব্লেডযুক্ত করাতগুল মূলত ব্যবহার হয় কাঠ, ঘাস, প্লাইউড, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি কাটার ক্ষেত্রে।
  2. নিরেট কার্বাইড যুক্ত করাতের ব্লেড: পুরো ব্লেডটি টাংস্টেন কার্বাইড দিয়ে নির্মিত। হাই স্পীড স্টিলের ব্লেডের তুলনায় এই ব্লেডগুলো উচ্চ তাপমাত্রা সহনীয়। কিন্তু এর কিছু অপকারী দিকও আছে।

ব্যবহার[সম্পাদনা]

একজন মানুষ করাত কাটার শব্দ গ্রহণ করছে সাউন্ড ইফেক্ট হিসেবে ব্যবহারের জন্য, ১৯৩০-এর দশক
  • করাত সাধারণত ব্যবহৃত হয় দৃঢ় বস্তু কাটার ক্ষেত্রে। বিশেষ করে বনে গাছ কাটার ক্ষেত্রে, ভবন নির্মানে, ঔষধ শিল্পে অথবা শিকারের ক্ষেত্রে।
  • বাদ্যযন্ত্রের করাত গানে বাদ্যযন্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
  • চেইনশো স্কার্ভিং হল একটি উন্নয়নশীল আধুনিক শিল্প। তাই এর জন্য বিশেষ করাত ব্যবহৃত হয়।
  • গাছের গুড়ি কাটার ক্ষেত্রে করাত ব্যবহৃত হয়। যেকোন গাছ কাটার পর তাকে কারখানায় নেওয়া হয়। তারপর যান্ত্রিক করাতের সাহায্যে কাটা হয়। কাটার ওপর ভিত্তি করে একে দুই ভাগ করা যায়ঃ

সমতল ভাবে কাটা: এক্ষেত্রে গাছের গুঁড়িকে এমন ভাবে কাটা হয় যাতে এটি একটি সুষম লম্বা আয়তকার ঘনবস্তুতে পরিণিত হয়। ভবন নির্মানে এসকল কাঠ বেশি ব্যবহৃত হয়।

চতুর্থাংশ কাটার পদ্ধতি

চতুর্থাংশ কাটা: এক্ষেত্রে প্রথমে পুরো গাছের গুড়ির মাঝখান বরাবর কাটা হয়। এরপর প্রত্যেক অংশকে এমনভাবে কাটা হয় যেন প্রস্থের দিক তরমুজের কাটা অংশের মতো দেখায়।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Barley, Simon "British Saws and Saw Makers from c1660, 2014
  2. P. d'A. Jones and E. N. Simons, "Story of the Saw" Spear and Jackson Limited 1760-1960
  3. Walter B. Emery Excavations at Saqqara, The Tomb of Hemaka and Hor-Aha, Cairo, Government Press, Bulâq, 1938 (2 vols)
  4. http://www.touregypt.net/featurestories/firstdynastysaqqara.htm The 1st Dynasty Tombs of Saqqara in Egypt by John Watson
  5. Lu Ban and The Invention of the Saw History Anecdote at Cultural China website
  6. Ovid Metamorphoses Bk VIII:236-259: The death of Talos A. S. Kline translation, Electronic Text Center at University of Virginia Library
  7. Richard S. Hartenberg, Joseph A. McGeough Neolithic Hand Tools at Encyclopaedia Britannica Online
  8. Jones & Simons, Story of the Saw, p15
  9. Moxon, J: Mechanick Exercises, p95-99
  10. Barley, Simon, British Saws and Saw Makers from c1660, p7
  11. Barley, ibid p42
  12. Tweedale, G., Sheffield Steel and America, ch 11
  13. Barley ibid p11
  14. Moxon, ibid
  15. Moxon, ibid, p95
  16. Barley ibid pp5–22
  17. Charles W. Upham Salem Witchcraft with an account of Salem Village and a History of Opinions on Witchcraft and Kindred Subjects. Frederick Unger, New York, 1978 (Reprint), 2 vols., vol. 1, p 191
  18. Glossary of Tools at (American) Pilgrim Hall Museum website
  19. Massingham, H. J., and Thomas Hennell. Country relics; an account of some old tools and properties once belonging to English craftsmen and husbandmen saved from destruction and now described with their users and their stories. Cambridge, Eng.: University Press, 1939.reprint 2011 আইএসবিএন ৯৭৮১১০৭৬০০৭০৬ books.google.com/books?id=6_auYCccqoQC&pg

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]