কমলা সোহিনী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কমলা সোহিনী
চিত্র:Kamala Sohonie.jpg
জন্ম১৯১২
মৃত্যু১৯৯৮
জাতীয়তাভারতীয়
কর্মক্ষেত্রBiochemistry
প্রাক্তন ছাত্রBombay University, Mumbai
পরিচিতির কারণwomen scientist
স্ত্রী/স্বামীM.V Sohonie

কমলা সোহিনী একজন প্রাণরসায়নবিদ ছিলেন। তিনি ভারতীয় মেয়েদের মধ্যে বিজ্ঞানে প্রথম পি.এইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করেন।

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

কমলা ছিলেন মুম্বাইয়ের এক বিখ্যাত উচ্চশিক্ষিত বংশের মেয়ে। তার বাবা ও কাকা দুজনেই মুম্বাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়ন শাস্ত্রে অনার্স নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই তারা চাইতেন যেন তাদের মেয়ে একজন মাদাম কুরির মত বড় মাপের বিজ্ঞানী হন। তখন তিনি কমলা ভাগবত। কাজেই নিজেকে যত রকম ভাবে একজন বড় বিজ্ঞানী হতে গেলে তৈরী হতে হয় তার প্রতিটি গুণ কমলা নিজের মধ্যে অর্জন করেছিলেন। পড়াশুনাতে ছিলেন অসম্ভব মনোযোগী। মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেছিলেন। ঠিক সেই সময় স্যার সি ভি রমন বাঙ্গালোর এ ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স প্রতিষ্ঠা করেছেন। ভারতবর্ষের এমন এক প্রতিষ্ঠান যেখানে আধুনিক গবেষনার সমস্ত সুযোগসুবিধা রয়েছে। কাজেই সব বিজ্ঞানী ও ভাবী বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য আই আই এস সি বাঙ্গালোর। কমলা ও তার ব্যাতিক্রমী নন। যেহেতু তিনি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নাম্বার এর অধিকারিণী তাই তার মনে দৃঢ় প্রত্যয় ছিলো তিনি রমন এর কাছে গবেষণা করার সুযোগ পাচ্ছেনই। এ রকম মনোভাব নিয়ে তিনি বাবা ও কাকার সাথে বাঙ্গালোর রওনা হলেন।

রমন এর গবেষণা কেন্দ্রে কমলা[সম্পাদনা]

কমলা এতদিন ছিলেন বাবা মার ছত্রছায়ায়। এবার তার প্রকৃত নারী জীবনের সংগ্রাম শুরু হল। তিনি জানতে পারলেন তিনি নারী, এই অপরাধে তিনি রমন এর গবেষণা কেন্দ্রে ভর্তির অনুপযুক্ত। তার বাবা কাকার শত অনুরোধ,যুক্তি রমন এক কথায় খারিজ করে দিলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন-–“I am a man of single word, I will not allow any girl to admit in my Institution”. তাই হতাশ বাবা কাকার বোধ হয় কমলাকে নিয়ে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। কিন্তূ কমলা ছিলেন অন্য ধাতু দিয়ে গড়া। তিনি রমন এর এই অন্যায় এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন। ভর্তি না করার যুক্তিপূর্ণ কারণ জানতে চেয়ে সত্যাগ্রহ শুরু করলেন। প্রথমদিন অগ্রাহ্য করলেও রমণকে হার মানতে হোলো কমলার জিদ এর কাছে।এটা হয়তো কমলার নৈতিক জয়। কিন্তূ যে সব শর্ত সেদিন রমন কমলার উপর আরোপ করেছিলেন তা ভাবলে আজও সবার মনে প্রশ্ন জাগে নারী জাতি কী আমাদের সমাজে কখনো যোগ্য সম্মান পেয়েছে? কামালকে যে শর্তগুলো রমন দিয়েছিলেন সেগুলো হল- ১) তিনি কখনোই রেগুলার ক্যান্ডিডেট হিসেবে বিবেচিত হবেন না। ২) ল্যবরেটরিতে কাজ করার সময়সীমা তার গাইড এর উপর নির্ভর করবে। ৩) ল্যবরেটরির পরিবেশ তিনি বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।

এই কারণেই হয়তো কমলা কখনোই রমনকে ক্ষমা করতে পারেন নি। তাই আমরা দেখতে পাই ১৯৯৭ সালে মুম্বাই এর ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার এ ইন্ডিয়ান উইমেন সায়েন্টিস্টস অ্যাসোশিয়েশন আয়োজিত এক সম্বর্ধনা সভায় রমন সম্পর্কে কমলার তীব্র বিদ্বেষ ভাব। এই সভায় কমলা বলেছিলেনThough Raman was a great scientist, he was very narrow-minded. I can never forget the way he treated me just because I was a woman, ভর্তির শর্ত হিসেবে যে পূর্ব শর্তগুলো রাখা হয়েছিল তার কোনটাই যে কমলা মন থেকে মেনে নিতে পারেন নি তা আমরা বুঝতে পরি যখন কমলার মুখ থেকে শুনি-``Even then, Raman didn't admit me as a regular student. This was a great insult to me. The bias against women was so bad at that time. What can one expect if even a Nobel laureate behaves in such a way?’’ অর্থাত্‍ খানিকটা বাধ্য হয়েই কমলা শর্ত গুলো মেনে নিয়েছিলেন। একজন গবেষকের মনে এটা কতখানি আঘাতের হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। শুধুমাত্র নারী হবার অপরাধে এমন শাস্তি ভাবায় যায় না। যাই হোক তিনি ভাগ্যবান কারণ এখানে শ্রীনিবাসন এর মত একজন উদারমনের শিক্ষক পেয়েছিলেন।তিনি পড়াশুনার ব্যাপারে যতটাই কঠোর ছিলেন শিক্ষক হিসাবে ছিলেন ততটাই উদার। মূলত তাঁরই উত্‍সাহে তিনি বিভিন্ন প্রোটিন নিয়ে গবেষনার কাজ শুরু করেন।সেই সময় বোধ হয় তিনিই একমাত্র গ্র্যাজুয়েট যিনি প্রোটিন নিয়ে গবেষণা করছিলেন। শ্রীনিবাসন শুধুমাত্র তাকে গবেষনার কাজেই সাহায্য করতেন তা নয় রীতিমত তখনকার যুগের জীববিজ্ঞানীদের সংগে পত্রচার মারফত কী ভাবে যোগাযোগ রাখতে হয় তা শেখাতেন, ফলে কমলা অল্প দিনের মধ্যেই আধুনিক গবেষনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে গেলেন। কমলার প্রোটিন সংক্রান্ত মৌলিক গবেষনার জন্যে মুম্বাই ইউনিভার্সিটি তাঁকে এম এস সি ডিগ্রী প্রদান করল। তার চাইতেও বড় সাফল্য এল যখন তিনি কেম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা করার সুযোগ পেলেন।১৯৩৬ সালে তিনি স্প্রিংগের(SPRINGER) স্কলারশিপ ও মুম্বাই ইউনিভার্সিটির স্যার মঙ্গলদাস নথুভাই স্কলারশিপ পান। প্রথমটি তাঁর কেম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে পড়বার জন্যে আর দ্বিতীয়টির জন্যে তিনি আমেরিকা উইমেন সায়েন্টিস্ট মিটিং এ যোগ দিতে পারেন। যাই হোক কমলার সাফল্য রমন এর চোখ খুলে দেয়, তিনি তার গবেষণা কেন্দ্রের দ্বার মেয়েদের জন্যে উন্মুক্ত করে দেন। তারই প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তীকালে কমলা বলেন-“This incident forced Raman to change his opinion about women and from that year he admitted a few students every year,.আজও যেখানে লিঙ্গ বৈষম্য প্রকট সেখানে এই কথাটি হয়তো অনেক মেয়েদের মনে প্রত্যয় যোগাবে। মুম্বাই ইউনিভার্সিটির উপর কমলার কৃতজ্ঞতা ছিল বিশাল তাই যখন তিনি কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৮ সালে ডেরেক রিখটার এর সাথে তাঁর গবেষণা পত্র প্রকাশ করলেন তাতে পাদটীকাতে উল্লেখ করলেন-“The authors wish to thank Sir Frederick Hopkins and Prof. F. Golla for their interest and Dr G. Fraenkel for a gift of animals. One of us (K. B.) wishes to express her gratitude to the University of Bombay for the award of Springer Research and Sir Mangaldas Nathubhai Scholarships.” কোনও ইউনিভার্সিটির প্রতি এত শ্রদ্ধা দেখানো বোধহয় ভারতীয়দের পক্ষেই সম্ভব।

কেম্ব্রিজ-এ কমলা[সম্পাদনা]

কমলার গবেষণা জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সময় বোধ হয় তার কেম্ব্রিজ এর তিন বত্‍সরের কাছাকাছি সময়কাল। যদিও তার প্রকৃত গবেষনার হাতে খড়ি হয়েছিল শ্রীনিবাসন এর হাত ধরে তবুও তিনি বায়োকেমিস্ট্রির প্রকৃত গবেষণাগার কেম্ব্রিজ এ গিয়েই পান। প্রথমেই কিন্তূ তিনি কেম্ব্রিজ এ পড়ার সুযোগ পান নি। একজনের শূন্য স্থানে তিনি ভর্তি হবার সুযোগ পান। কিন্তূ তার সৌভাগ্য এই যে তিনি প্রোফেসর হপকীন এর অধীন কাজ করার সুযোগ পান। কেম্ব্রিজএ তিনি ডক্টর ডেরেক রিখটার এর কাছে কাজ করতেন। ডেরেক যে টেবিলে রাতের সময় নিজে কাজ করতেন দিনের বেলায় সেটি কমলার জন্যে ছেড়ে দিতেন। যখন ডেরেক কোনও কাজের জন্যে বাইরে যেতেন তখন কমলা দিন রাত সেই টেবিলে কাজ করার সুযোগ পেতেন। এই সময় তার কাজে সহায়তা করতেন ডক্টর রবিন হিল। দুজনের কাজের ধরন ছিল এক। কেবল হিল গাছের কলাতন্ত্র এর উপর কাজ করতেন আর কমলার কাজ ছিল আলুর উপর।দুজনেই জারণে এনজাইম এর ভূমিকা কি জানবার চেষ্টা করছিলেন। কমলা দেখতে পান উদ্ভিদের প্রতিটি কোষে “ সাইক্রোটোম-সি” নামক এক এনজাইম এর উপস্থিতি; যারা কোষের জারণ কাজে প্রধান ভূমিকা পালন করে।এই আবিষ্কার উদ্ভিদ এর কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ।যাই হোক একদিন একটু বেশি রাতে একজন বিদেশিনী গবেষককে ডেরেক এর টেবিলে গবেষণা করতে দেখে হপকীন কৌতুহলবশে তার কাছে আসেন। তিনি জানতে পারেন ডেরেক এর অনুপস্থিতিতে কমলা অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করবার সুযোগ পান। তিনি কমলা কোন বিষয় এর উপর কি কাজ করছেন জানতে চান। কমলার কাছে “ সাইক্রোটোম-সি” এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি অভিভূত হন। কাজটি একান্তই মৌলিক এ কথা জানিয়ে কমলাকে তিনি গবেষণা পত্র জমা দিতে বলেন। অগত্যা কমলা তার নিজের হাতে টাইপ করা মাত্র ৪০( চল্লিশ) পৃষ্ঠার একটি গবেষণা পত্র জমা দেন। তখনকার দিনে প্রায় প্রতিটি গবেষণা পত্রই হোত কয়েক হাজার পৃষ্ঠার। আশ্চর্যের বিষয় এই যে কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এই মৌলিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পি এইচ ডি ডিগ্রীতে ভূষিত করে যা আজ পর্যন্ত রেকর্ড। পৃথিবীর ইতিহাসে এত অল্প পাতার হাতে লেখা থিসিস এর জন্যে আজ পর্যন্ত কেউ পি এইচ ডি ডিগ্রী পানও নি ভবিষ্যতেও পাবেন কি না তাও সন্দেহ।

যাই হোক কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কমলার দিনগুলোভীষণ আনন্দেই কেটেছিল, তার কারণ সেখানের পরিবেশ, গবেষনার অফুরন্ত সুযোগ, সর্বোপরি যে সব মানুষদের সঙ্গে কাজ করতেন তাদের সহযোগিতা তাকে পরিতৃপ্ত করে তুলেছিল। এই প্রসঙ্গে হপকীন ডেরেক রিখটারও রবিন হিল এর কথা আসবেই। সমস্ত ভারতবাসী তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

কেম্ব্রিজের আনন্দময় জীবনও দেশের মাটির টানের কাছে হার মানল। কমলা ফিরে এলেন ভারতে। যোগদান করলেন লেডী হার্ডিং কলেজে। সেখানে তখন সদ্য বায়ো কেমিস্ট্রি বিভাগ তৈরি হয়েছে। তার প্রধান হিসেবে যোগদান করলেন সেখানে। সেটা ছিল ১৯৩৯ সাল। কিন্তূ সহকর্মীদের সকলেই পুরুষ; তিনি ঠিকমত মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। তাছাড়া গবেষনার সুযোগও ছিল অপ্রতুল তাই তিনি এখানের কাজ ছেড়ে যোগদান করলেন কূনূর এর নিউট্রিশন রিসার্চ ল্যবরেটরিতে।

এখানে তিনি সরাসরি সহ অধিকর্তার পদে যোগ দেন। ভিটামিন এর উপর নানান গবেষনার কাজ শুরু করেন। দেশ বিদেশ এর বিভিন্ন জার্নাল এ তার এই গবেষণা পত্রগুলি প্রকাশিত হতে থাকে।কিন্তূ তার মনে কেমন যেন এক হতাশা কাজ করতে থাকে যে মেয়ে বলে এই প্রতিষ্ঠানে তিনি খুব বেশি একটা সাফল্য পাবেন না। ঠিক এই সময় তার কাছে এম ভি সোহনীর সাথে বিবাহের প্রস্তাব আসে। তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং ১৯৪৭ সালে পুরোপুরি ভাবে মুম্বাই চলে যান।

ঠিক সেই সময় মহারাষ্ট্র সরকার রয়াল ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এ বায়ো কেমিস্ট্রি বিভাগ খুলেছেন। এই বিভাগ চালানোর জন্যে উপযুক্ত প্রোফেসর খোজা চলছে। কমলা সেই পদের জন্যে আবেদন জানলেন, এবং বলাই বাহুল্য যে তিনি ওই পদের জন্যে মনোনীত হলেন। এখানে কমলার জীবনের নুতন এক অধ্যায় শুরু হল। তিনি গবেষক থেকে হলেন আদর্শ শিক্ষিকা। তার ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পুষ্টির উপর গবেষণা শুরু করলেন। সেই সময় যা ছিল দেশের পক্ষে খুবই জরুরী। কমলা ও তার ছাত্রছাত্রীরা ডাল, ধান, আটা প্রভৃতির পুষ্টিগুণ নিয়ে নানান উল্লেখযোগ্য কাজ করতে থাকেন। তাদের কাজের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র গবেষণা করা তা ছিল না। দেশের প্র্য়োজন অনুসারে গবেষণা করার জন্য ছাত্র ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করার মত আদর্শ শিক্ষিকা ছিলেন তিনি। এই সময় তার উল্লেখযোগ্য কাজ হল নীরার উপর কাজ। নীরা হল খেজুর গাছ থেকে তৈরি রস। রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ স্বয়ং তাকে এই কাজের জন্য উত্‍সাহ যোগান। কমলা লক্ষ কারেন যেসব আদিবাসী মেয়েরা নীরা পান করেন বিশেষত তারাই কৈশোর অবস্থায় বা গর্ভধারনের সময় অপুষ্টি সংক্রান্ত রোগে কম ভোগেন। তিনি আরও লক্ষ করেন নীরার মধ্যে ভিটামিন সি ও অন্য সব ভিটামিনগুলো বহুদিন দিন পর্যন্ত কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম। কমলা ও তার ছাত্র ছাত্রীরা দীর্ঘ বার বছর ধরে নীরার উপর কাজ করে এসেছেন। অবশেষে এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার দিয়ে সম্মান জানান হয়। এখানে তিনি দুধের প্রোটিন নিয়েও নানা কাজ করেন। ছাত্র ছাত্রী গড়ার পাশাপাশি তিনি তাদের বিভিন্ন রিসার্চ জার্নালএ লেখা পাঠাতেও উত্‍সাহিত করতেন। অবশেষে কর্মজীবনের শেষ চার বছর তিনি ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স এর নির্দেশক হন। আভ্যন্তরীণ রাজনীতি না নারী হবার বাধা কোন বাধা যে তার নির্দেশক হবার পথে অন্তরায় ছিল তা আজও অজানা। অবশ্য কমলা কোথাও এ বিষয়ে কোনও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নি। বরং তার নির্দেশক হবার খবর শুনে ডক্টর ডেরেক রিখটার জানলেন-“made history by being the first lady Director of such a big science institute.”

কমলার অন্য দিক[সম্পাদনা]

১৯৬৬ সালে কমলা সহ নয়জন মহিলা প্রথম Consumer Guidance Society of India সংক্ষেপে সি জি এস আই নামক সংস্থা স্থাপন করেন। ক্রেতা সুরক্ষা মতনবিষয় নিয়েসেই সময় ভাবনা চিন্তা শুরু করেন। এক কথায় তার এই চিন্তা ভাবনা ছিল সেই সময়ের চেয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে। এই সংস্থাটির কাজ ছিল ভেজাল নিয়ে গবেষণা করা। দোকানদারদের সঠিকমানের ওজন বাবহার করতে বাধ্য করা। তাছাড়া কমলা নিজে ক্রেতা সুরক্ষা বিষয়ে নানান প্রবন্ধ লিখতেন সাধারণ মানুষকে অবহিত করানোর জন্য।ছোটদের জন্য মাতৃভাষাতে বিজ্ঞান শিক্ষা দেবের জন্যে মারাঠি ভাষায় কতকগুলি বইও রচনা করেছেন। সি জি এস আই এর তরফথেকে তিনি নিয়মিত কিমত নামে এক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। ক্রেতা সুরক্ষা বিষয়ে নানান পরামর্শ থাকতো এই পত্রিকাটিতে।

কমলার জীবন ছিল বর্ণবহুল। তিনি সর্বদায় নিজেকে সৃষ্টিশীল কাজে নিয়োজিত রাখতেন।

অন্তিম মুহূর্ত[সম্পাদনা]

যাঁরা যে সম্মান পাবার অধিকারি ঈশ্বর বোধ হয় তাদের জন্য সে রকম ব্যবস্থা করে রাখেন। কমলা সারাজীবন নারী শক্তির প্রতীক হিসেবে কাজ করে গেছেন। গবেষক, শিক্ষিকা, সমাজসেবী, লেখিকা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নারী হয়েও সমস্ত বাধা বিপত্তি তুচ্ছ করে মাথা উঁচু করে লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাই তার জীবনের অন্তিম লগ্নটিও ভগবান বোধ হই সেরকম ভাবেই রচনা করে রেখেছিলেন। সালটা ১৯৯৮। ডক্টর জি ভি সত্যাবতী তখন ইন্ডিয়ান কাউনসিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ এর মহানির্দেশক। তিনিই প্রথম মহিলা যিনি এরকম একটি প্রতিষ্ঠান এর মহা নির্দেশক। তাই যখন তিনি কমলার কথা জানতে পারেন তখন তাকে সম্মান জানানোর জন্যে এক বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন কারেন। সেই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চেই কমলা কোমাতে চলে যান। এত গৌরবজনক মৃত্যু আর কার বা হয়?

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]