কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়
অবস্থান
কধুরখীল,আকুবদন্ডী, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম
বাংলাদেশ
তথ্য
ধরনসরকারি
প্রতিষ্ঠাকাল১৯১৭
প্রধান শিক্ষকবিশ্বজিৎ বড়ুয়া
শ্রেণী৬-১০
শিক্ষার্থী সংখ্যা৯২৯ জন।
ক্যাম্পাসের আকার৯০০ শতক

কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয় বোয়ালখালী উপজেলার[১][২][৩][৪][৫] একটি ঐহিত্যবাহী স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ। এটি কধুরখীল ইউনিয়নের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন বিদ্যালয়। জেলায় স্কুল পর্যায়ে বাংলাদেশে ভাষা শহীদের স্মরণে শহীদ মিনার স্থাপনে প্রথম উদ্যোগটি বাস্তাবয়িত হয়েছিলো ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৫[৬] সালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কধুরখীল গ্রামের এই কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯১৭ সালে যখন বিশ্বজুড়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামাম বাজছিল তখন কধুরখীল গ্রামের কিছু সাহসী বিদুৎসাহী ব্যক্তির নিরলস প্রচেষ্টায় ১ জানুয়ারি ১৯১৭ তারিখে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক স্বর্গীয় বিধুভূষণ চৌধুরী মহাশয়ের নেতৃত্বে বর্তমান কধুরখীল শ্রী শ্রী দূর্গাবাড়ী সংলগ্ন পুকুরের দক্ষিণপাড়ে স্থাপিত হয় কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়। ঐ পুকুর পাড়ে দুই কক্ষবিশিষ্ট আকখানা বেড়ার ঘর নির্মাণ করে। ঐ ঘরে ১ জানুয়ারি ১৯১৭ তারিখ থেকে ৭ম ও ৮ম শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। কধুরখীল মধ্য ইংরেজী বিদ্যালয় থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পাশকরা ছাত্রদের ঐ বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হতো। প্রতিষ্ঠা লগ্নে ৭ম শ্রেণিতে ১৫ জন এবং ৮ম শেণিতে ১২ জন ছাত্র ভর্তি হয়। প্রধান শিক্ষক বিধুভূষণ চৌধুরী, ইংরেজী উক্ত মধ্য ইংরেজী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবতী রমন ব্যানার্জী ইতিহাস ও ভূগোল, পন্ডিত রমেশ চন্দ্র দত্ত, বাংলা এবং তাঁরই জ্যেষ্ঠপুত্র যোগেশ চন্দ্র দত্ত সংস্কৃত বিষয়ে পাঠদান করতেন। কয়েক মাস পর বঙ্কিম চন্দ্র আইচ মহোদয় গণিত বিষয়ের শিক্ষক হিসাবে এই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কধুরখীল নিবাসী দানবীর স্বর্গীয় প্রাণকৃষ্ণ চৌধুরীসহ তাঁর পরিবারের আরও চারজন সদস্য স্কুলের জন্য ভূমি দান করার ১৯১৯ সালে পার্বতীচরণ দীঘির পাড়ে স্কুল গৃহ স্থানান্তরিত হয়। বর্তমান স্কুল ভবনের মাটির তৈরী অংশের নির্মাণ কাজ ১৯১৮ সনে শুরু হয়ে সমাপ্ত হয়েছিল ১৯২০ সালে। বিদ্যালয় ১ জানুয়ারি ১৯১৭ তারিখ থেকে ১ম বারের মত কধুরখীল উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয় নামে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক স্বীকৃতি লাভ করে ২০ ডিসেম্বর ১৯১৮ তারিখে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, পরীক্ষার ফলাফল ও পরিচালনা ইত্যাদি বিষয়ে কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ এই বিদ্যালয় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৬ সালে স্থায়ী স্বীকৃতি অর্জনে সমর্থ হয়।[৭]

কৃতি ছাত্র-ছাত্রী[সম্পাদনা]

১। জনাব মঈন উদ্দীন খান বাদল, মাননীয় সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম-০৭ । ২। ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, প্রাক্তন মহা-পরিচালক,বাংলা একাডেমী । ৩। ড. শিশির কুমার দত্ত । ৪। ড. বেণু ভূষন চৌধুরী, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ । ৫। ড.আশিষ চৌধুরী, শৈল্য চিকিৎস । ৬। এস,এম, আশরাফুল ইসলাম,যুগ্ন সচিব, প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয় । ৭। গৌরাঙ্গ বিজয় দত্ত, এডভোকেট । ৮। সৈয়দ জালাল উদ্দীন, সমাজসেবী । ৯। মোসলেম উদ্দিন আহম্মেদ, রাজনীতিবিদ। ১০। আলহাজ্ব মোঃ নুরুল আবছার, প্রাক্তন ডেপুটি চীফ, পরিকল্পনা পরিষদ । ১১। সৈয়দ আবু লায়েস মুস্তাকীম, কূটনতিক । ১২। সৈয়দ নুরুল হুদা, সংগটক । ১৩। ইঞ্জিনিয়ার এস,এম,সাইফুদ্দিন খালেদ, সুপারিনডেন্ট চট্টগ্রাম অঞ্চল । ১৪। প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যৎ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন । ১৫ ।ডাঃ রজত কুমার বিশ্বাস, সিভিল সার্জন, ভোলা ।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী[সম্পাদনা]

১. বিশ্বজিৎ বড়ুয়া- প্রধান শিক্ষক, ২. ফিরোজ আহমদ-সহকারী প্রধান শিক্ষক, ৩. আলপনা পাল-সিনিয়র শিক্ষিকা (গনিত), ৪. মোঃ আমির হোসেন-সিনিয়র শিক্ষক(মরীর চর্চা), ৫. প্রভাকর চক্রবর্তী-সিনিয়র শিক্ষক( হিন্দু ধর্ম), ৬. শাহীন আকতার-সিনিয়র শিক্ষিকা ( কৃষি শিক্ষা), ৭. মোঃ নুরুল আকতার-সিনিয়র শিক্ষক ( কম্পিউটার শিক্ষা), ৮. সুপ্তোত্থিতা মিত্র-সিনিয়র শিক্ষকা ( ব্যবসায় মিক্ষা), ৯. ডেজী সাহা-সিনিয়র শিক্ষিকা (বিজ্ঞান), ১০. মোঃ জমীর উদ্দীন-সিনিয়র শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা), ১১. মোঃ আবদুস ছোবাহান ভুঁঞা-সিনিয়র শিক্ষিকা ( ইংরেজী)

বর্তমান পরিচালনা কমিটির তথ্য[সম্পাদনা]

১. জনাব মঈন উদ্দীন খান বাদল, এ.পি- সভাপতি, ২. বাবু বিশ্বজিৎ বড়ুয়া, প্রধান শিক্ষক- সদস্য সচিব, ৩. জনাব এস.এম ওমর ফারুক - দাতা সদস্য, ৪. জনাব জসিম উদ্দিন - অভিভাবক সদস্য, ৫. জনাব পার্থ াসরথী- অভিভাবক সদস্য, ৬. জনাব স্বপন কুমার শীল- অভিভাবক সদস্য, ৭. জনাব শাহাদাত হোসেন শরীফ অভিভাবক সদস্য, ৮. জনাবা জোবাইদা রুনু (সংরক্ষিত)- অভিভাবক সদস্য, ৯. জনাব মোঃ জমির উদ্দিন- শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য, ১০. জনাব আবদুস ছোবাহান ভূঁঞা- শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য, ১১. জনাবা শাহিন আকতার (সংরক্ষিত)- মহিলা শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য, ১২. জনাব এস.এম জসিম- কো-অপ্ট সদস্য

পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল[সম্পাদনা]

এস.এস.সি পরীক্ষা: ২০১০ সাল-৮৩.৯৫%, ২০১১ সাল- ৯৮.৬৮%, ২০১২ সাল- ৯৬.৭৭%, ২০১৩ সাল- ১০০%, ২০১৪ সাল- ৯৭.২০%, ২০১৫ সাল- ৯৪.৬৬%, ২০১৬ সাল-৮৬%

বিদ্যালয়ের অর্জনসমূহ:[সম্পাদনা]

১। কধুরখীল ইংরেজী বিদ্যালয় নামে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক স্বীকৃতি লাভ করে ২০/১২/১৯৯৮ তারিখে ।

২। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান পরীক্ষার ফলাফল ও পরিচালনা ইত্যাদি বিষয়ে কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ এই বিদ্যালয় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৬ সালে স্থায়ী স্বীকৃতি অর্জন করে ।

৩। ২৩/০৫/২০০৩ বিদ্যালয়ের অনুষ্টানে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিপ্লবী বিনোদ বিহরী চৌধুরীর আগমন ।

৪। ১৯/০২/২০০৪ থেকে ২১/০২/২০০৪ তিন দিন ব্যাপী একুশে মেলায় ভাষা সৈনিক শ্রদ্ধেয় আবদুল মতিন সাহেবের আগমন ।

৫। বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণে গর্বিত শিক্ষা প্রতিষ্টান কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের কালচারাল ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও সদস্যের বিদ্যালয় পরিদর্শন ।

৬। ০২/০২/২০০৯ নেদারল্যান্ডের মাননীয় রাষ্ট্রদূত Mrs. Bea Ten Tusscher এর বিদ্যালয়ের Wash কার্যক্রম পরিদর্শন ।

৭। ডেনমার্ক প্রতিনিধির বিদ্যালয় পরিদর্শন ।

৮। ১৩/০২/২০১০ চট্টগ্রাম-৭ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মঈন উদ্দিন খান বাদল সাহেবের বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন । বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে কোন সংসদ সদস্যের মনোনয়ন অত্র বিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটাই প্রথম।

৯। ০১/০৬/২০১০ বৃক্ষরোপনে জাতীয় পর্যায়ে ১ম স্থান অধিকার করে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার প্রাপ্তি ।

১০। ২০১২ সালে জাতীয় শিশু নাট্য অনুষ্টান প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে ২য় স্থান ও বিভাগীয় পর্যায়ে ৩য় স্থান লাভ ।

১১। আহম্মদউল্লা যতুমা ট্রাস্ট আয়োজিত সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন ।

১২। জাতীয় মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা-২০১৩ সালে ১ জন এবং ২০১৫ সালে তিনজন, ২০১৬ সালে ৪ জন শিক্ষার্থী উপজেলা পর্যায়ে সেরা শিক্ষার্থী নির্বাচন ।

১৩। ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে বোয়ালখালী উপজেলা মঞ্চে অনুষ্ঠানমালা পরিবেশনা।

১৪। বিজয় দিবস, শহিদ দিবস ও স্বাধিনতা দিবসের কুচকাওয়াজ এবং ডিসপ্লে প্রদর্শনীতে বোয়ালখালী উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন।

১৫। ২০১৬ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত।

ভবিষৎ পরিকল্পনা[সম্পাদনা]

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন , জে,এস,সি এবং এস,এস,সি পরীক্ষায় শতভাগ পাসের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা, শতভাগ ভর্তির শতভাগ পাস নিশ্চিত করা, সহ-শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীগুলো সক্রিয় রাখা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ এবং সাফল্য লাভ । বিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে পরিবেশ বান্ধব করা এবং যৌন হয়রানী মুক্ত আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্টান হিসেবে গড়ে তোলা ।

স্কুল পর্যায়ে নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার[সম্পাদনা]

শহীদ মিনার এবং স্মৃতিস্বম্ভ আমাদের ভাষা আন্দোলনের প্রতীক, আমাদের বিপ্লবের প্রতীক, রক্তের স্মৃতিচিহ্ন, ইতিহাস-ঐতিহ্য। পথের ধারে কোন শহীদ মিনার দেখলেই হৃদয়ে মোচড় দিয়ে উঠে। স্বজন হারানো ব্যাথা। পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নাই যারা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে। যদি এমন কোন ট্রাজেডি থেকে থাকে তা কেবল আমাদের। বলা যায়, বাংলা ভাষা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও সর্বস্তরে যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ এই বিরল সম্মান তাদের জন্য এখনো অনেক স্থানে গড়ে উঠেনি শহীদ মিনার। লক্ষণীয় বিষয় হল, বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা হলে ঘরে বাইরে দেখা যায় বিদেশী পতাকা। অথচ সেদিক থেকে জাতীয় দিবসগুলোতে ক্বচিৎ চোখে পড়ে হাতে গোনা চারটি জাতীয় পতাকা, এ বিষয়ে সরকারিভাবেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এ দূর্ভাগ্যও আমাদের যার বাস্তব উদাহরণ বোয়ালখালীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন স্থানে নির্মিত শহীদ মিনারগুলো। সবদিক থেকে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের গর্বিত বিদ্যাপীঠ কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। জানা যায়, ১৯৬৫ সালের ঘটনা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা সৈয়দ জালাল উদ্দিনের পরিকল্পনায় এগিয়ে এলেন ছাত্র ইউনিয়ন বোয়ালখালী থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে জাসদের অন্যতম নেতা সৈয়দুল আলম ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মো. আলী। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনার নির্মাণের সকল প্রস্তুতি সমাপ্ত হল সিদ্ধান্ত মোতাবেক সৈয়দ জালাল উদ্দিনের প্রদত্ত ইট ও তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের জেলা কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান শহীদ মিনার নির্মাণ কাজে পাথর দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। শহীদ মিনার নির্মাণকারী দলের অন্যতম সদস্য মো. আলী বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণ কাজে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতায় ছিলেন তারা হলেন, শাহজাদা সৈয়দ রেজাউল আকবরী, মরহুম আবুল হোসেন, সৈয়দ নুরুল হুদা, মাহাবুব উল আলম, মরহুম ফরিদ উদ্দিন জালাল, পিযুষ চৌধুরী, মিলন নাথ, যোগব্রত বিশ্বাস, আবদুস সাত্তার, দুলাল মজুমদার, আবুল কালাম আজাদ, মো. ওসমান, এস.এম. ইউছুফ, তসলিম উদ্দিন, জাকির হোসেন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন, কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রয়াত শিক্ষক কাজী আব্দুল গণি ছাবেরী। সরেজমিনে দেখা যায়, এই শহীদ মিনারটি দেখতে অনেকটা পিরামিডের মত। মহান ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর ও জাতীয় দিবসগুলোতে এ শহীদ মিনারে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়, প্রত্যাশী পরিচালিত আকাশ লিটল টিউটোরিয়াল হোম, হোমল্যান্ড গ্রামার স্কুল, কধুরখীল উ/বি সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কধুরখীল জগদানন্দ মিশন, আকুবদ-ী নাথপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি, আকুবদ-ী ক্রীড়া সমিতি, আকুবদ-ী গীতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আকুবদ-ী একতা সংঘ। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধ নিবেদনের জন্য সেদিন হতেই সূচনা হয়েছিল সমগ্র বোয়ালখালীতে শহীদ মিনার নির্মাণ।

অতিথি পাখির কুঞ্জনে মুখরিত[সম্পাদনা]

বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদন্ডী গ্রাম। এ গ্রামের শেষ সীমানায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয় ও কধুরখীল জগদানন্দ মিশন সংলগ্ন উপজেলার একমাত্র বড় জলাশয় পার্ব্বতী চরণ দিঘী। এদিকে এখন অতিথি পাখিদের কুঞ্জনে মুখরিত। এই মাঘ মাসের হাড় কাঁপানো শীতে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসা অতিথি পাখির ঝাঁক উড়ছে বোয়ালখালী জুড়ে। সারাদিন অতিথি পাকি দিঘীর স্বচ্ছ পানিতে বিচরণ করছে। গত মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, সবুজ গাছপালা ঘেরা এ দিঘীর পানিতে অতিথি পাখির কিচিরমিচির ডাক, কখনো ডানা মেলে উড়া, আবার কখনো পানিতে ডুব দিয়ে দিঘীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভেসে ওঠা, সাঁতার কাটা, এসব মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখকে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন পাখিপ্রেমীরা। প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে শীতে পাখির আগমনের বিষয়টি সর্বত্র প্রচারিত হয়ে গেছে। এ খবরটি বোয়ালখালীবাসিদের মাঝে এক প্রাণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কারণ অনেকেই এখন সকাল কিংবা বিকালে দল বেঁধে পাখি দেখতে আকুবদ-ী এলাকায় পার্ব্বতী চরণ দিঘীর পাড়ে ভ্রমণে আসছে। কেউ কেউ মুঠোফোনে পাখির সাথে সেলফিও তুলছেন। দিঘীতে আগমনী পাখিরা বিলে-ঝিলে, গাছের ডালে রং বেরংয়ের পাখিদের কিচিরমিচির ডাক শোনা যাচ্ছে। দুই মাস ধরে এ দৃশ্য চোখে পড়ছে এলাকাবাসীসহ শতবর্ষের দ্বারপ্রান্ডে উপনীত ঐতিহ্যবাহী কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত প্রায় নয়শত শিক্ষার্থীদের। প্রায় ৩০০-৪০০টি পাখির কিচিরমিচির রবে চারপাশ মুখর করে রেখেছে। বাসা-বাড়ির ছাদ, বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে সবখানে অতিথি পাখির অবাধ বিচরণ। খাবারের খোঁজে এসব পাখি, বাড়ির জলাশয় বিল ঝিল, পরিত্যক্ত জায়গা ও ডোবায় অনুসন্ধান করছে। পার্ব্বতী চরণ দিঘীর পাশ দিয়ে চলে গেছে আলী আহমদ কমিশনার সড়ক। এ সড়ক দিয়ে চলাচল করার সময় খুব সহজে অতিথি পাখি দেখা যায়। শীত প্রধান দেশ থেকে হরেক রকমের অতিথি পাখি আমাদের দেশে আসে। পরিচিত কয়েকটি পাখির মধ্যে সারলী হাঁস, পানকৌড়ি উল্লেখযোগ্য। প্রতিবছর শীত এলেই এ দেশে এসে বিভিন্ন জলাশয়, যেমন- খালবিল, নদী নালা, পুকুর-ডোবায় চলে অতিথি পাখির বিচরণ। এখন অতিথি পাখি তেমন একটা যায় না। দিন দিন কমে যাচ্ছে অতিথি পাখিসহ দেশীয় পাখি। অতিথি পাখি না আসার কারণ, পাহাড়ে আগুন দেয়া, অবাধে বৃক্ষ নিধন, ইট-ভাঁটার কালো ধোঁয়া ও পানি দূষিত হওয়ার কারণে এ দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। পার্ব্বতী চরণ দিঘি সংলগ্ন মানুষের দিন শুরু হয় পাখির কলকাকলিতে। মানুষের ঘুম ভাঙ্গার অনেক আগেই পাখিগুলোর কর্মব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। দিঘীর পানিতে তাকালে দেখা যায় কর্মব্যস্ত অসংখ্য পাখি। কিছু পাখি খাবার খুঁজতে ব্যস্ত, কিছু পাখি গোসলে ব্যস্ত, কিছু সাঁতার কাটে, কিছু চুপচাপ পানির ওপর ভেসে চলে। আবার কিছু পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে কিচিরমিচির ডাকাডাকি করে ওড়ে যাচ্ছে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে। পার্ব্বতী চরণ দিঘীতে অতিথি পাখির আগমন প্রসঙ্গে কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ বড়–য়া বলেন, তীব্র শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে সাইবেরিয়া থেকে নানা জাতের পাখি উড়ে এসে স্কুল সংলগ্ন পার্ব্বতী চরণ দিঘীতে অস্থায়ী বসতি তৈরী করেছে। নিরাপদ জলাশয় বিধায় বিগত ৫ বছরের ন্যায় এ বছরেও অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "কধুরখীল স্কুলের সাফল্য"www.teachers.gov.bd 
  2. "কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেনমার্ক প্রতিনিধি"www.teachers.gov.bd 
  3. "শহীদ মিনার"www.teachers.gov.b 
  4. "কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভা"। THE DAILY SUPROBHAT BANGLADESH। ১৭ নভেম্বর ২০১৪। [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. "স্মৃতি সত্তার পূনরুদ্ধার বাংলাদেশে স্কুল পর্যায়ে কধুরখীল স্কুলে প্রথম শহীদ মিনার -সৈয়দ নুরুল হুদা"। এম.আলী হোসে। Banglapostbd.com। সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৪।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. মহান একুশে সুবর্ণ জয়ন্তী। অ্যাডর্ন পাবলিকেশন। পৃষ্ঠা ১৭ পর্বের ৯০০ পৃষ্ঠা। 
  7. "কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়"kklhs.bise-ctg.gov.bd। ৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৪