ওজনমাপনী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ওজন সহ তুলা যন্ত্র
একটি সুপারমার্কেটে ফলের ওজন পরিমাপ করতে ব্যবহৃত মাপনী
রান্নাঘরের ডিজিটাল মাপনী
শিশুর ওজন পরিমাপক

একটি ওজনমাপনী হল ওজন বা ভর পরিমাপ করার একটি যন্ত্র।

ঐতিহ্যগতমাপনী একটি আলম্ব থেকে সমান দূরত্বে ঝোলানো দুটি থালা বা বাটি নিয়ে গঠিত। একটি থালায় অজানা ভর (বা ওজনের) একটি বস্তু থাকে, জানা ভর অন্য থালায় রাখা হয় যতক্ষণ না যান্ত্রিক ভারসাম্য আসে এবং থালা দুটি সমান তলে আসে। দুটি থালায় রক্ষিত ভর সমান হলেই এটি হয়। নিখুঁত মাপনী ঠিক মধ্যবিন্দুতে স্থিত হয়। একটি স্প্রিং মাপনীতে ভর (বা ওজন) নির্ধারণ করতে জ্ঞাত দৃঢ়তার একটি স্প্রিং ব্যবহার করা হয়। একটি নির্দিষ্ট ভর ঝোলানো হলে স্প্রিংটির দৃঢ়তার (বা স্প্রিং ধ্রুবক) উপর নির্ভর করে স্প্রিংটি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রসারিত হবে। হুকের সূত্র অনুযায়ী, বস্তুটি যত ভারি হবে, স্প্রিং তত প্রসারিত হবে। বিভিন্ন ভৌত নীতি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের মাপনী তৈরি করা হয়।

কিছু মাপনীতে কিলোগ্রামের মত ভরের এককের পরিবর্তে নিউটনের মত বলের (ওজন) এককে পড়ার জন্য মাপাঙ্কন করা থাকে। মাপনীগুলি ব্যবসায়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, কারণ অনেক পণ্যই ভরের হিসাবে বিক্রি এবং প্যাকেটজাত হয়।

তুলাযন্ত্র[সম্পাদনা]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

তুলাযন্ত্র এমন একটি সাধারণ মাপনী যে এটির ব্যবহারের কোন প্রমাণের প্রয়োজন পড়েনা। পরম ভর নির্ধারণ করার পাথরগুলির জন্য প্রত্নতত্ত্ববিদেরা তুলাযন্ত্রকে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের সঙ্গে সংযুক্ত করেন। তুলাযন্ত্রগুলি পরম ভর পরিমাপের বহু আগে আপেক্ষিক ভর নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হত।[১]

ওজনমাপনীর অস্তিত্বের প্রাচীনতম প্রমাণগুলি আনু. ২৪০০–১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের, সেগুলি সিন্ধু নদীর উপত্যকায় পাওয়া। এর আগে, মাপনীর অভাবে কোনও বেচাকেনা সম্পাদিত হয়নি। প্রাথমিক বসতিগুলিতে পাওয়া সমান আকারের, উজ্জ্বল পাথরের ঘনকগুলি সম্ভবত তুলাযন্ত্রগুলিতে ভর ধার্য করার পাথর হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। যদিও ঘনকগুলিতে কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তাদের ভরগুলি ছিল একটি সাধারণ হরের গুণক। ঘনকগুলি বিভিন্ন ঘনত্ব সহ বিভিন্ন ধরনের পাথরে তৈরি। স্পষ্টতই ঘনকগুলি খোদাই করার একটি কারণ ছিল তাদের ভর, তাদের আকার বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য নয়।[২]

মিশরে, ১৮৭৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মাপনী পাওয়া গেছে, তবে তাদের ব্যবহার সম্ভবত অনেক আগে থেকেই হয়েছে। খোদাই করা পাথর আবিষ্কৃত হয়েছে যেখানে ভরের উল্লেখ করা চিহ্ন এবং মিশরীয় চিত্রলিপিতে সোনার প্রতীক দেওয়া আছে। এর থেকে মনে হয় যে মিশরীয় বণিকরা স্বর্ণের চালান বা খনিতে সোনা উৎপাদনের তালিকা করতে গণ পরিমাপের একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছিল। যদিও এই যুগের কোনও আসল মাপনী এখন আর পাওয়া যায়না, কিন্তু মাপনী পাথরের অনেকগুলি সংগ্রহের পাশাপাশি তুলাযন্ত্র ব্যবহারের চিত্রিত মুরালগুলি থেকে ব্যাপকভাবে মাপনী ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।[২] চীনে, প্রাচীনতম তুলাযন্ত্রটি পাওয়া গেছে চু রাজ্যের একটি সমাধির কাছে খনন করে। এগুলি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় থেকে চতুর্থ শতাব্দী সময়কালীন প্রাচীন চীনের যুদ্ধরত রাজ্য কালের এবং পাওয়া গেছে হুনানের ছাংশার কাছে জুয়েজিয়াগং পাহাড়ে। মাপনীটি কাঠের এবং ভরগুলি ব্রোঞ্জের তৈরি ছিল।[৩][৪]

বিভিন্ন ধরনের মাপনযন্ত্রের মধ্যে আছে সস্তা এবং ভ্রমাত্মক বিসমার (অসম বাহু তুলাযন্ত্র)।[৫] আনুমানিক ৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অনেক ছোট ব্যবসায়ী এবং তাদের গ্রাহকদের মধ্যে এগুলির সাধারণ ব্যবহার দেখা গিয়েছিল। নথিবদ্ধ ইতিহাস জুড়ে প্রদর্শিত হয়েছে তুলাযন্ত্রের বিভিন্নতার আধিক্য, প্রতিটি অন্যটির তুলনায় সুবিধাজনক এবং একে অপরের থেকে উন্নত। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির মতো দুর্দান্ত আবিষ্কারকেরা এগুলিরর বিকাশে ব্যক্তিগতভাবে হাত লাগিয়েছিলেন।[৬]

তুলাযন্ত্রের নকশা এবং বিকাশের সমস্ত অগ্রগতির সাথে, খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত সমস্ত মাপনীই বিভিন্ন ধরনের তুলাযন্ত্র ছিল। ব্যবহৃত ওজনের মান নির্ধারণ – এবং ব্যবসায়ীদের সঠিক ওজন ব্যবহারে নিশ্চিত করা – এই সময় জুড়ে সরকারের এই নিয়ে যথেষ্ট ব্যস্ততা ছিল।

সূক্ষ্মভাবে কারুকাজ করা তুলাযন্ত্র, মানক গ্রাম ভরের সম্ভার সহ

মাপনীর মূল কাঠামোতে থাকে একটি দণ্ড, যার কেন্দ্রে আছে একটি আলম্ব। সর্বোচ্চ নির্ভুলতার জন্য, আলম্বটি একটি ধারালো ভি-আকৃতির ক্ষুদ্র কীলকের মত হয় যেটি একটি অগভীর ভি-আকারের বিয়ারিংয়ে বসানো থাকে। বস্তুর ভর নির্ধারণ করার জন্য, মানক ভরের সমাহার দণ্ডের এক প্রান্তে ঝুলানো হয়, অজানা ভরের বস্তুটি দণ্ডের অন্য প্রান্তে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় (ভারসাম্য এবং স্টিইয়ার্ড ভারসাম্য দেখুন)। নির্ভুল কাজের প্রয়োজনে (যেমন গবেষণামূলক রসায়ন), এই ধরনের তুলাযন্ত্র এখনও উপলব্ধ সবচেয়ে সঠিক প্রযুক্তিগুলির মধ্যে একটি। এগুলি সাধারণত পরীক্ষামূলক ভরের মাপাঙ্কন করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Download – A Short History to Weighing: AWTX Museum Book"। Averyweigh-tronix.com। মার্চ ২, ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৩-০৫ 
  2. Petruso, Karl M (১৯৮১)। "Early Weights and Weighing in Egypt and the Indus Valley"। M Bulletin79: 44–51। জেস্টোর 4171634 
  3. Rossi, Cesare; Russo, Flavio; Russo, Ferruccio (২০০৯)। Ancient Engineers' Inventions: Precursors of the Present (History of Mechanism and Machine Science) (প্রকাশিত হয় মে ১১, ২০০৯)। পৃষ্ঠা 21। আইএসবিএন 978-9048122523 
  4. Yan, Hong-Sen (২০০৭)। Reconstruction Designs of Lost Ancient Chinese Machinery। Springer (প্রকাশিত হয় নভেম্বর ১৮, ২০০৭)। পৃষ্ঠা 53–54। 
  5. "ISASC"। ISASC। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০২-২৬ 
  6. "The History of Weighing"। Averyweigh-tronix.com। ২০১২-০৩-০২। মার্চ ২, ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৩-০৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  •  Airy, Wilfrid (১৯১১)। "Weighing Machines"। চিসাম, হিউ। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ28 (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা 468–477। [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলনের তথ্যসূত্র ছাড়া ১৯১১ সালের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা থেকে উইকিপিডিয়া নিবন্ধসমূহে উদ্ধৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে]] This a comprehensive review of the history and contemporaneous state of weighing machines.
  • চিসাম, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। "Balance"। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ3 (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা 234–235। [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলনের তথ্যসূত্রসহ ১৯১১ সালের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা থেকে উইকিপিডিয়া নিবন্ধসমূহে উদ্ধৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে]]
  • National Conference on Weights and Measures, NIST Handbook 44, Specifications, Tolerances, And Other Technical Requirements for Weighing and Measuring Devices, 2003
  • Analytical Balance article at ChemLab
  • "The Precious Necklace Regarding Weigh Scales" is an 18th-century manuscript by Abd al-Rahman al-Jabarti about the "design and operation" of scales

টেমপ্লেট:Measuring and alignment tools