এটি একটি ভাল নিবন্ধ। আরও তথ্যের জন্য এখানে ক্লিক করুন।

এলজি মোবাইল বিশ্বকাপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিশ্বকাপের ইন্দোনেশীয় অংশের লোগো।

এলজি মোবাইল বিশ্বকাপ, এলজি ইলেকট্রনিকসের আয়োজনে, ১৪ জানুয়ারি, ২০১০-এ অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীরা মোবাইলে বার্তা আদান-প্রদাণে তাদের গতি ও নির্ভুলতার উপর ভিত্তি করে অংশগ্রহণ করেন।[১] এটি নিউ ইয়র্ক শহরের গথাম হল-এ অনুষ্ঠিত হয়।[২][৩] সর্বমোট ১৩০,০০০ ডলার পুরস্কারের এই প্রতিযোগিতায় ১৩টি দল তাঁদের নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে।

ধরণ[সম্পাদনা]

প্রতিযোগিতায় সকল প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করছে।

প্রতি দলে দুজন সদস্য থাকে। দলের একজন প্রতিযোগী কিউডব্লিউইআরটিওয়াই কিবোর্ড (QWERTY) ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং অপর সদস্য সাংখ্যিক কি-প্যাড ব্যবহার করেন।[৪] ২০১০ সালের প্রতিযোগিতায় ১৩টি দল অংশগ্রহণ করে: আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পর্তুগাল, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র[৫]

এর পূর্বে এলজি যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মত দেশে পৃথকভাবে টেক্সটিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।[৪] যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় ২০০৭, ২০০৮ এবং ২০০৯ সালে। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিযোগিতা হয় ২০০৮ এবং ২০০৯ সালে। যদিও ২০১০ সালেই প্রথমবারের মত দেশগুলো একে অপরের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।[১]

বাছাই[সম্পাদনা]

দলগুলো আঞ্চলিক বাছাইপর্বে অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করে। ৬০ লাখের অধিক মানুষ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য নিবন্ধন করেন।[৫] প্রতিটি দল ৫টি পৃথক ইভেন্টে অংশ নেয়: "ব্রেক দ্যা ওয়াল", "মনস্টার পপিং", "মুভিং পিলার", "রানিং রিলে" এবং "রেসিং রিপ্লে"। মূল ভিত্তি ছিল একটি চলন্ত বাক্যকে দ্রুততার সাথে কপি করা। এই প্রক্রিয়ার সময় কোন ভুল করা অনুমোদিত ছিল না। সকল বাক্য ছিল প্রতিযোগীর স্থানীয় ভাষায়, কিন্তু প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য সমান সংখ্যক বর্ণ ব্যবহার করা হয়।[১] এ ছাড়াও সকল প্রতিযোগীকে এলজি এনভি৩, এলজি বিএল২০ অথবা এলজি জিডব্লিউ৫২০ ব্যবহার করতে হয়।[৩]

ফল[সম্পাদনা]

হা মক-মিন এবং বামে ইয়ং-হো।

১৬ বছর বয়সী হা মক-মিন এবং তাঁর দলের সদস্য ১৭ বছর বয়সী বায় ইয়ং-হো প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।[৪] মক-মিন জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেন, এবং তিনি প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ৭.২৫ টি বর্ণ টেক্সট করতে পারতেন। তিনি মলে ছোট একটি শামিয়ানাতে বিনা মূল্যে সিনেমার টিকেট জেতার সুযোগ দেখে প্রতিযোগিতার জন্য নিবন্ধন করেন। মাধ্যমিক থেকে ঝরে পড়া ইয়ং-হো একটি নতুন গাড়ি কেনার টাকা সংগ্রহের জন্য নিবন্ধন করেন। দ্বিতীয় স্থানে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করেন যুক্তরাষ্ট্রের কেট মুর এবং মরগান ডিন্ডা।[৬] আর্জেন্টিনা থেকে আগত দলটি তৃতীয় স্থান লাভ করে।

প্রথম স্থানে থাকা প্রতিটি দলের জন্য ১০০,০০০ মার্কিন ডলার, দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রতিটি দলের জন্য ২০,০০০ মার্কিন ডলার এবং তৃতীয় স্থানে থাকা প্রতিটি দলের জন্য ১০,০০০ মার্কিন ডলার ঠিক করা হয়েছিল।[৭]

রেকর্ডসমূহ[সম্পাদনা]

দ্রুততম টেক্সট বার্তা পাঠানোর গিনেস বিশ্ব রেকর্ড-এর রেকর্ড কে ভাঙতে পারে তা দেখার জন্য একটি পার্শ্ব প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। রেকর্ডটি পর্তুগালের পেদ্রো মাতিয়াস ভাঙ্গেন। তিনি ১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে ২৬৪ বর্ণের টেক্সট বার্তা টাইপ করেন।[৩][৮] সাংখ্যিক কিবোর্ডে প্রতি মিনিটে ৩০৬ বার বোতাম চেপে সবচেয়ে বেশিবার বোতাম চাপার রেকর্ড গড়ে ইন্দোনেশিয়া, অপরদিকে QWERTY কিবোর্ডে ৩৫৭ বার চেপে এ রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ কোরিয়া।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ Razzaq, Laurén (১৩ জানুয়ারি ২০১০)। "Texting Pays Off at LG Mobile World Cup"। Detroit: Fox News। সংগৃহীত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ [অকার্যকর সংযোগ]
  2. Stanglin, Doug (১৪ জানুয়ারি ২০১০)। "World Cup texting championship opens. LOL."। USA Today। সংগৃহীত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ Flatley, Joseph (১৫ জানুয়ারি ২০১০)। "Pedro Matias sets new texting record at LG Mobile World Cup"। Engadget। সংগৃহীত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ Choe, Sang-Hun (২৭ জানুয়ারি ২০১০)। "Rule of Thumbs: Koreans Reign in Texting World"। Seoul: New York Times। সংগৃহীত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  5. ৫.০ ৫.১ "LG Mobile World Cup names the fastest texters in the world"। The Independent। ১৫ জানুয়ারি ২০১০। সংগৃহীত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  6. "Winners Crowned in Texting World Cup Competition"। Fox News। ১৪ জানুয়ারি ২০১০। সংগৃহীত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  7. ৭.০ ৭.১ "Mobile Worldcup Final Result" (LG ভাষায়)। ১৫ জানুয়ারি ২০১০। সংগৃহীত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  8. Belic, Dusan (১৯ জানুয়ারি ২০১০)। "Team Korea wins the LG Mobile World Cup, global texting competition"। Intomobile News। সংগৃহীত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]