এমিকো ইকেদা
| ব্যক্তিগত তথ্য | |||||||||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| স্থানীয় নাম | 池田 英美 子 | ||||||||||||||
| জাতীয় দল | জাপান | ||||||||||||||
| ক্রীড়া | |||||||||||||||
| দেশ | জাপান | ||||||||||||||
| ক্রীড়া | স্কিইং | ||||||||||||||
| অক্ষমতার শ্রেণি | এলডাব্লিউ১০ | ||||||||||||||
| বিভাগ | আলপাইন স্কিইং | ||||||||||||||
পদকের তথ্য
| |||||||||||||||
এমিকো ইকেদা (জাপানি ভাষা: 池田 英美子, Ikeda Emiko) হলেন একজন জাপানি প্যারালিম্পিক আলপাইন স্কিয়ার। তিনি এলডাব্লিউ-১০ শ্রেণিতে (বসে স্কিইং করেন এমন স্কিযারদের শ্রেণি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন এবাং ১৯৮৮ সালের শীতকালীন প্যারালিম্পিক গেমসে (ইন্সব্রুক, অস্ট্রিয়া) জাপানের প্রতিনিধিত্ব করে মহিলাদের জায়ান্ট স্ল্যালোম এলডাব্লিউ-১০ বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন।[১] ইকেদার এই পদকটি জাপানের শীতকালীন প্যারালিম্পিক ইতিহাসের প্রথমদিকের পদকগুলির মধ্যে অন্যতম এবং শীতকালীন প্যারালিম্পিকে জাপানি মহিলাদের প্রথম সাফল্যগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে।
শ্রেণিবিন্যাস
[সম্পাদনা]প্যারালিম্পিক আলপাইন স্কিইংয়ে ক্রীড়াবিদদের শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী আলাদা আলাদা শ্রেণিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। এলডাব্লিউ-১০ (LW10) শ্রেণিতে থাকা স্কিযাররা চেয়ারে বসে স্কি করেন, যাকে সিট-স্কিইং বা বসে স্কিইং বলা হয়। একটি বিশেষ স্কি-চেয়ার (স্কি-স্লেজ) ব্যবহার করে তারা ঢাল বেয়ে নামতে থাকেন এবং সন্তুলন রক্ষার জনে দুটি ছোট ছড়ি (আউটরিগার) ধরে রাখেন। এলডাব্লিউ-১০ শ্রেণি মূলত তাঁদের জন্য যাদের পায়ের উপরিস্থ অংশে (ট্রাঙ্কে) কার্যক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। ইকেদা এই শ্রেণিতে নিজের ক্রীড়াজীবনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
ক্রীড়াজীবন
[সম্পাদনা]এমিকো ইকেদা ১৯৮৮ সালে অস্ট্রিয়ার ইন্সব্রুক শহরে অনুষ্ঠিত শীতকালীন প্যারালিম্পিক গেমসে আলপাইন স্কিইংয়ে জাপানের প্রতিনিধিত্ব করেন।[২] সেই আসরটি ছিল তাঁর একমাত্র প্যারালিম্পিক গেমসের অভিজ্ঞতা। ইন্সব্রুকের প্যারালিম্পিক আসরে জাপানের ক্রীড়াবিদরা আলপাইন স্কিইং ছাড়াও অন্যান্য ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ইকেদা আলপাইন স্কিইং-এর এলডাব্লিউ-১০ শ্রেণির দুটি ইভেন্টে—জায়ান্ট স্ল্যালোম ও স্ল্যালোম—অংশ নেন।
১৯৮৮ শীতকালীন প্যারালিম্পিক: জায়ান্ট স্ল্যালোম
[সম্পাদনা]এই আসরের মহিলাদের জায়ান্ট স্ল্যালোম এলডাব্লিউ-১০ বিভাগে ইকেদা ১ মিনিট ৫২.৩২ সেকেন্ড সময়ে চূড়ান্ত রাউন্ডে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন এবাং ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন।[৩] সেই ইভেন্টে সুইজারল্যান্ডের ফ্রঁসোয়াজ জাকারো ১ মিনিট ১৪.৬৫ সেকেন্ড সময়ে স্বর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মারিলিন হ্যামিল্টন ১ মিনিট ৩৯.৪৮ সেকেন্ড সময়ে রৌপ্য পদক জয় করেন।[৩] ইকেদার সময় পদকজেতা তিন ক্রীড়াবিদের মধ্যে ধীরতম হলেও তাঁর এই সাফল্য ছিল জাপানের শীতকালীন প্যারালিম্পিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত। একই আসরে জাপানের ত্সূতোমু মিনো পুরুষদের জায়ান্ট স্ল্যালোম এলডাব্লিউ-১ বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন এবং ইকেদার ব্রোঞ্জটি সেই আসরে জাপানের আলপাইন স্কিইং থেকে পাওয়া পদকদুটির মধ্যে অন্যতম।[২]
১৯৮৮ শীতকালীন প্যারালিম্পিক: স্ল্যালোম
[সম্পাদনা]সেই একই আসরে ইকেদা মহিলাদের স্ল্যালোম এলডাব্লিউ-১০ বিভাগেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রথম র্যানে তিনি ২ মিনিট ১৯.৭৯ সেকেন্ড সময় করলেও দ্বিতীয় র্যানে অযোগ্য (Disqualified) ঘোষিত হন এবং চূড়ান্ত র্যাঙ্কিংয়ে কোনো স্থান পাননি।[৪] স্ল্যালোম ইভেন্টে জায়ান্ট স্ল্যালোমের তুলনায় বেশি ঘুরনি থাকায় গেটের মধ্য দিয়ে পার হওয়ার ক্ষেত্রে কটির নিয়মকানুন আরও কড়াভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং ইকেদা সেই নিয়মের পরিধির বাইরে চলে যাওয়ায় অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিলেন বলে পরিলক্ষিত হয়।
পদক তালিকা
[সম্পাদনা]| আসর | বিভাগ | ফলাফল | সময় |
|---|---|---|---|
| ইন্সব্রুক ১৯৮৮ | জায়ান্ট স্ল্যালোম এলডাব্লিউ-১০ | ১:৫২.৩২ | |
| ইন্সব্রুক ১৯৮৮ | স্ল্যালোম এলডাব্লিউ-১০ | অযোগ্য (ডিসকোয়ালিফায়েড) | ২:১৯.৭৯ (প্রথম র্যান) |
জাপানি প্যারালিম্পিক ইতিহাসে অবদান
[সম্পাদনা]ইকেদার ১৯৮৮ ইন্সব্রুক ব্রোঞ্জ পদকটি জাপানের শীতকালীন প্যারালিম্পিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। ১৯৮৮ সালের পূর্বে জাপানের শীতকালীন প্যারালিম্পিক দল কোনো পদক লাভ করতে পারেনি এবং তৎকালীন দশকে জাপানি শীতকালীন প্যারালিম্পিক অ্যাথলেটদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদক পাওয়া ছিল বিরল ঘটনা। ইকেদার ব্রোঞ্জ পদক এবং ত্সূতোমু মিনোর ব্রোঞ্জ পদক মিলিয়ে ১৯৮৮ ইন্সব্রুক গেমস ছিল আলপাইন স্কিইং-এ জাপানের প্রথম প্যারালিম্পিক পদক বা সফল আসরগুলির মধ্যে প্রথমটি।[২] পরবর্তী বছরগুলিতে জাপান শীতকালীন প্যারালিম্পিকে আলপাইন স্কিইং, স্নোবোর্ড, স্লেজ হকি ও ক্রস-কান্ট্রি স্কিইংসহ বিভিন্ন বিভাগে অনেক পদক জয় করেছে এবং ইকেদার মতো প্রথম দিকের প্যারালিম্পিক ক্রীড়াবিদরা সেই পথ প্রশস্ত করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Emiko Ikeda"। আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটি। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২৬।
- 1 2 3 "Innsbruck 1988 Paralympic Winter Games"। আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটি। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২৬।
- 1 2 "Alpine Skiing - Women's Giant Slalom LW10"। আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটি। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২৬।
- ↑ "Alpine Skiing - Women's Slalom LW10"। আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটি। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২৬।