একাত্তরের চিঠি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

একাত্তরের চিঠি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লেখা ৮৬টি চিঠির একটি সংকলন।[১] দৈনিক প্রথম আলোগ্রামীণফোনের উদ্যোগে চিঠিগুলো সংগ্রহ করা হয়। সংকলনটি প্রথম প্রকাশিত হয় চৈত্র ১৪১৫, মার্চ ২০০৯ এ। ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সালাউদ্দীন আহমদ ছিলেন সম্পাদনা পরিষদের সভাপতি। এছাড়া সম্পাদনা পরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ হলেন- মেজর জেনারেল (অব.) আমিন আহম্মেদ চৌধুরী, রশীদ হায়দার, সেলিনা হোসেন এবংনাসির উদ্দীন ইউসুফ। কমিটিকে সহায়তা করেন সাজ্জাদ শরিফ, সাইফুল আজিম প্রমুখ। এছাড়া প্রথম একাত্তরের চিঠি সংগ্রহ করার ধারণা পোষণ করেন আমিনুল আকরাম।

একাত্তরের চিঠি গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় প্রথমা প্রকালন থেকে। কাইয়ুম চৌধুরী এর প্রচ্ছদ তৈরি করেন। গ্রন্থটি অলংকরণ করেন অশোক কর্মকার। সম্পাদনা পরিষদের পক্ষে এর ভূমিকা লেখেন সাহিত্যিক রশীদ হায়দার

একাত্তরের চিঠির প্রথম চিঠির লেখক শহীদ কাজী নূরুন্নবী। চিঠি লেখার সময়কাল ও স্থান-২৯শে মার্চ/রাজশাহী '৭১। ১৯৭১ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র এবং কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিব বাহিনীর রাজশাহীর প্রধান ছিলেন। ১ অক্টোবর ১৯৭১ তাঁকে পাকিস্তানি বাহিনী আটক করে শহীদ শামসুজ্জোহা হলে নিয়ে যায়। তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। গ্রন্থটির সর্বশেষ চিঠিটি লেখক মুক্তিযোদ্ধা নিতাইলাল হোড়। চিঠির প্রাপক অ্যাডভোকেট এম এ সামাদ, তিনি ২০০৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁরই ছেলে জয়েনউদ্দিন মাহমুদ চিঠিটি পাঠিয়েছেন।

বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

একাত্তরের চিঠির বেশির ভাগ চিঠি মাকে লেখা। চিঠিগুলো পড়ে মনে হয়, 'মা'র ও 'স্বদেশ' যেন একই শব্দ, সমার্থক।

  • ১ সংখ্যক চিঠিতে চিঠি লেখক শহীদ কাজী নূরুন্নবী তাঁর মাকে চিঠি লিখেছেন বাবলু নামে। এই চিঠিতে রাজ‌শাহীতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধের বর্ণনা রয়েছে, যেখানে মুক্তিবাহিনীর বিপর্যয় তুলে ধরা হয়েছে। তবুও বাংলার দামাল ছেলেরা পরাজয়ের পরিবর্তে গৌরবের মৃত্যুই গ্রহণ করতে চায়।
  • ২ সংখ্যক চিঠিতে মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম মাহবুবুর রহমানের উক্তি: "তবে যেদিন মা-বোনের ইজ্জতের প্রতিশোধ এবং এই মাতৃভূমি সোনার বাংলাকে শত্রুমুক্ত করতে পারবো, সেদিন তোমার ছেলে তোমার কোলে ফিরে আসবে।" এছাড়া এই চিঠিতে ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলের তত্ত্বাবধানে ট্রেনিংএর উল্লেখ আছে।
  • ৩ সংখ্যক চিঠিতে নৌ কমান্ডো জান্নাত আলী খানের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে মাতৃভূমির প্রতি অকুণ্ঠ ভালবাসা। "আপনার সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে যদি আপনার এই নগন্য ছেলের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়, সে রক্ত ইতিহাসের পাতায় সাক্ষ্য দেবে যে বাঙালি এখনো মাতৃভূমি রক্ষা করতে নিজের জীবন পর্যন্ত বুলেটের সামনে পেতে দিতে দ্বিধা বোধ করে না।"

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "প্রেরক–প্রাপকের রক্তে রচিত কথামালা"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২১