ঋত্বিক ভট্টাচার্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ঋত্বিক ভট্টাচার্য
জন্ম (1979-10-14) ১৪ অক্টোবর ১৯৭৯ (বয়স ৪০)
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাস্কোয়াশ খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক
দাম্পত্য সঙ্গীপিয়া ত্রিভেদী
পিতা-মাতারঞ্জন ও রানী

ঋত্বিক ভট্টাচার্য [১] একজন পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড় যিনি ২০০৪ সালে নিউজিল্যান্ড-এ পিএসএ (Professional Squash Association খেতাব জিতেছেন একজন ভারতীয় হিসেবে। ১৯৯৭ থেকে ২0১১ সাল পর্যন্ত পিএসএ ওয়ার্ল্ড ট্যুরে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ভারতীয় জাতীয় স্কোয়াশ সার্কিটে ৫০ টিরও বেশি খেতাব জয় করেছেন তিনি। ৯ বছর ধরে বিশ্ব-র‍্যাঙ্কিং-এ তিনি শীর্ষ ১০০ জনের মধ্যে অন্যতম স্থান ধরে রেখেছিলেন ঋত্বিক। বলা যায়, তার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই ভারতের স্কোয়াশ সার্কিটে অনেক নতুন তারকার জন্ম হয়েছে যেমন সৌরভ ঘোষাল, সুপ্রীত সিং, হারিন্দের পাল সান্ধু, গৌরব নান্দারজগ প্রমুখ। তার সর্বোচ্চ বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ২০০৪ এর নভেম্বর এ ছিল ৩৮ এবং তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি পিএসএ ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং (মে ২006) শীর্ষ 50 এর তালিকায় স্থান পান। তিনি ৯টি পি এস এ খেতাব জয় করেন। এছাড়াও এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ এবং সাফ গেমসে ভারতএর প্রতিনিধিত্ব করেন ঋত্বিক।

প্রাথমিক এবং ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ঋত্বিক-এর বাবা রঞ্জন এবং মা রাণী দুজনেই ক্রীড়াপ্রেমী হওয়ায় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বায়ুসেনার বেস-এ বড় হওয়ার সুবাদে, ছোট থেকেই তিনি বিভিন্ন খেলাধূলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছোটবেলায় স্কোয়াশ নয় বরং টেনিস এবং সাঁতার ছিল তার প্রথম প্রেম আর ফুটবল এবং ক্রিকেট ছিল দ্বিতীয় প্রেম। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত দেহরাদুন-এ রাষ্ট্রীয় ভারতীয় মিলিটারি কলেজ-এ পড়াকালীন তিনি স্কোয়াশের উপর মনোযোগ দিতে শুরু করেন। সেখানে, শিক্ষক এবং কোচেদের সহযোগিতা এবং বিশেষ করে স্কুলের প্রধান কর্নেল ডি এইচ পারবের সহায়তা ও প্রশিক্ষণের সাথে, তার দক্ষতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আমার স্কুল স্কোয়াশ জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় দিন এসেছিল ১৯৯৬ সালে , যখন তিনি কায়রোতে ৯ম বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একজন 16 বছর বয়সী হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এটাি ছিল তার প্রথম বিদেশ ভ্রমণ ভারতীয় জার্সি-তে, এবং তখন থেকেই তিনি প্রথমবার স্কোয়াশ খেলোয়াড় হওয়া সম্বন্ধে সত্যিকারের চিন্তা ভাবনা শুরু করেন। জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন (আন্ডার -19) হয়েছিলেন ১৯৯৭ এবং ১৯৯৮ সালে। তিনি ২000 সালে সেন্ট স্টিফেনের কলেজ, নিউ দিল্লি থেকে স্নাতক হন। ২০১৩ সালে, মডেল পিয়া ত্রিবেদী র সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ঋত্বিক।

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

এর পরের ১৫ বছর তিনি ৭০ টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেন, প্রতি বছর ৩০ টি টুর্নামেন্ট খেলে। ইংল্যান্ডে নীল হারভে র কাছে প্রশিক্ষন নেন তিনি। তিনি পাঁচবার ভারতীয় জাতীয় স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন (১৯৯৮, ২০০০, ২০০১, ২০০৩, ২০০৫)। বিশ্বকাপ ২০০৪ এ ডাবলস বিভাগে সৌরভ ঘোষাল কে সাথে নিয়ে ফাইনালে পৌছেছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড টিম চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ ৮টি টিমের মধ্যে পৌছেছিল ভারতীয় দল তার নেতৃত্বে।

অবসর গ্রহণের পরের জীবন[সম্পাদনা]

স্কোয়াশ থেকে অবসর গ্রহণের পরে তিনি একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন র‍্যিয়েলিটি শো তে অংশ গ্রহণ করেন 'খতরও কি খিলাড়ি' বলে। এই শো ঋত্বিকের জন্য একটি দুর্দান্ত দু:সাহসিক কাজ ছিল। এক মাস ধরে ব্রাজিল এ অবস্থান করে বিভিন্ন দুঃসাহসিক কাজ করতে হয়েছিল এই শো-এর অংশগ্রহণকারীদের। ঋত্বিক এর নিজের কথায় "এটি একটি ঐন্দ্রজালিক অভিজ্ঞতা ছিল। এই টিভি শো আমাকে নিজেকে ভাল বুঝতে এবং আমার নিজের ভয়-এর সঙ্গে মোকাবিলা করতে শিখিয়েছে। আমার মনে হয় না, যাঁদের সাথে আমি অংশ নিয়েছিলাম, তাদের থেকে আরো বেশি কোন মজাদার গ্রুপ আমি চয়ন করতে পারতাম। এই শো থেকে আমি অনেক ভালো বন্ধু পেয়েছি"

এছাড়া বর্তমানে তিনি মূলত তিনটি কাজের সাথে যুক্ত।

  • স্কোয়াশ প্রশিক্ষণ
একজন প্রশিক্ষক হিসাবে তার লক্ষ্য বর্তমান সিস্টেম আপগ্রেড করার পাশাপাশি একটি সঠিক কাঠামো তৈরি করা, বিশেষ করে দেশের জুনিয়র খেলোয়াড়দের জন্য। এছাড়াও যথাযথ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন তিনি যাতে দেশের সেরা খেলোয়াড়রা কোন ঝামেলা ছাড়াই তালিম নিতে পারেন এবং তাদের বিদেশে থাকতে না হয়। সেইসাথে ভবিষ্যতের খেলোয়াড় এবং তাদের পিতা-মাতাদের কাউন্সেলিং করে থাকেন তিনি কিভাবে পেশাদার ক্রীড়াবিদ হয়ে ওঠা যায় সে বিষয়ে।  
  • স্কুল ক্রীড়ার উন্নয়ন

বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রোগ্রাম স্থাপন এবং ফাইন টিউনিং করার চেষ্টা করছেন তিনি যাতে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রী তাদের নিজস্ব যোগ্যতা অনুযায়ী খেলাধুলা উপভোগ করে এবং খেলাধুলার মাধ্যমে মূল্যবান জীবনশিক্ষা শিখতে পারে যা শ্রেণীকক্ষে শেখানো যাবে না।

  • আন্তর্জাতিক স্পোর্টিং ইভেন্ট

তার উদ্দেশ্য ভারতে শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়া অনুষ্ঠান সংগঠিত করা যা কিনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদদের আকর্ষণ করবে । তার মতে আমাদের ভারতে অনেক বেশি ক্রীড়া অনুষ্ঠান প্রয়োজন, তাহলেই ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবে যা তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফলের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৪ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১৮