উষনি শাক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

উষনি শাক
Acmella oleracea
Spilanthes-closeup-large.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Plantae
(শ্রেণীবিহীন): Angiosperms
(শ্রেণীবিহীন): Eudicots
(শ্রেণীবিহীন): Asterids
বর্গ: Asterales
পরিবার: Asteraceae
গণ: Acmella
প্রজাতি: A. oleracea
দ্বিপদী নাম
Acmella oleracea
(L.) R.K.Jansen
প্রতিশব্দ[১]
  • Spilanthes oleracea L.
  • Spilanthes acmella (L.) Murray not (L.) L.
  • Pyrethrum spilanthus Medik.
  • Cotula pyrethraria L.
  • Bidens fixa Hook.f.
  • Bidens fervida Lam.
  • Anacyclus pyrethraria (L.) Spreng.
  • Spilanthes radicans Schrad. ex DC.
  • Bidens fusca Lam.
  • Bidens oleracea (L.) Cav. ex Steud.
  • Bidens acmelloides Berg.
  • Spilanthes oleracea var. fusca (Lam.) DC.
  • Spilanthes fusca hort.par. ex Lam.
  • Spilanthes acmella var. oleracea (L.) C.B.Clarke ex Hook.f.

উষনি শাক হচ্ছে গুল্ম প্রজাতির Asteraceae পরিবারের একটি উদ্ভিদ। এর বোটানিক্যাল নাম Acmella oleracea।বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকায় এই কুড়িয়ে পাওয়া শাকটির তেমন কোনো একক নাম নেই যে নামে সবাই একে চিনতে পারে। দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয়দের ভেতর এই শাকটি উষনি শাক নামে পরিচিত। ময়মনসিংহের হাজং আদিবাসীরা এই শাকটিকে কালানাগুনি, উখলিপাতা নামে ডাকেন।পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমাদের ভেতর অতি প্রিয় এই শাক ওজোন শাক নামে পরিচিত। মৌলভীবাজারের ওঁরাও আদিবাসীদের ভেতর শাকটি দুরুখ বাকু নামে পরিচিত।

বর্ণনা[সম্পাদনা]

উষনি শাক বাড়ীর আশে পাশের পতিত জায়গায়, বাঁশ ঝাড়ের আশেপাশে, স্যাঁতস্যাতে জায়গায়, কলার বাগানের ঝোপ ঝাড়ে পাওয়া যায়। পাহাড়ি এলাকায় জুমের জমিতে এই শাক বেশী দেখা যায়।

উষনি শাক কিছুটা ঝাঁঝালো স্বাদের হয়। বর্ষাকালে গাছের আকার বেশ বড়সড় হয় এবং পাতায় ঝাঁঝালো গন্ধ ও স্বাদ কম থাকে। প্রায় সারা বছরই দেখা যায়। পাহাড়ি এলাকায় জুমে ফসল বোনার পর পরই কচি চারা গুলো গজিয়ে উঠে এবং কচি শাক খেতে ভালো।

উপকারিতা[সম্পাদনা]

সাধারনত শরীরে বিষ ব্যাথা হলে এই শাক খেলে উপকার পাওয়া যায়। এই শাক আতুঁর ঘরে সন্তান প্রসবের পরে মাকে খাওয়ানো হয় শরীরের ব্যাথা কমানোর জন্য। দাঁত ব্যাথা সারাতে এই শাকের ফুলের রস ব্যবহার করা হয়। এটি মূত্রবর্ধক, তাই শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল ও বিষাক্তদ্রব্যাদি দূর করতে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। এর শক্তিশালী প্রদাহবিরোধী(anti-inflammatory) ক্ষমতা বাত ও টিস্যুর প্রদাহ কমাতে দারুন কার্যকরী।  এছাড়া এটি অ্যাজমা, এলার্জি এবং ব্যাথা সারায়। সংক্রমণ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক ধ্বংস করে ফ্লু(flu), যক্ষ্মা, দাদ(ringworm) এসব থেকে রক্ষা করে। এই শাকে অনেক ধরনের ফ্যাটি এসিড আছে যা বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার রোগ, স্ট্রোক এবং এমনকি ক্যান্সার প্রতিরোধী। উষনি শাক রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি (Chronic Fatigue) সারায়। এই উদ্ভিদ তার অ্যান্টিএজিং উপাদানের জন্য প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

গুণাগুন[সম্পাদনা]

এ শাকে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম আছে। এছাড়াও এতে বিভিন্ন ফ্যাটিএসিডের উপস্থিতির পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম প্রভৃতি খনিজ পুষ্টিউপাদান সমূহ থাকে।

সতর্কতা[সম্পাদনা]

কিছু ক্ষেত্রে এলার্জি সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]