ইলিয়াস জাভেদ
এই নিবন্ধটি এমন এক ব্যক্তির সম্বন্ধে যিনি সাম্প্রতিককালে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই ব্যক্তির মৃত্যু এবং তার মৃত্যুকালীন ঘটনার কিছু তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে সেগুলো দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। |
ইলিয়াস জাভেদ | |
|---|---|
| জন্ম | ১৯৪৪ (বয়স ৮১–৮২) |
| মৃত্যু | ২১ জানুয়ারি ২০২৬ উত্তরা, ঢাকা |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| অন্যান্য নাম | জাভেদ |
| পেশা | অভিনেতা, নৃত্য পরিচালক |
| কর্মজীবন | ১৯৬৩-২০২৬ |
ইলিয়াস জাভেদ (জন্ম: ১৯৪৪ সালে - মৃত্যু: ২০২৬) একজন বাংলাদেশী অভিনয়শিল্পী এবং নৃত্য পরিচালক ছিলেন। তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটলেও পরবর্তিতে নায়ক হিসেবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। তিনি তার অনেক কাজের মধ্যে নিশান চলচ্চিত্রের জন্য বেশি পরিচিত। তার অভিনয় জীবনের সেরা সাফল্য আসে নিশান চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে।১৯৬৮ সালে জাভেদ অভিনীত প্রথম উর্দু সিনেমা "পায়েল" সিনেমা মুক্তি পেয়েছিলো। এই সিনেমার মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। পরিচালক মুস্তাফিজ তার নাম জাভেদ দিয়েছিলো। পরে "পায়েল" চলচ্চিত্রটি বাংলাতে "নুপুর" নামে ডাবিং করা হয়।
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি স্বপরিবারে সেখান থেকে পাঞ্জাবে চলে আসেন। তার পিতা রাজা মুহাম্মদ আফজন ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি চাইতেন তার পুত্র ব্যবসা বা কোন চাকরিতে যোগদান করুক। কিন্তু জাভেদ নৃত্যে এবং পরবর্তীকালে অভিনয়েও আগ্রহী হয়ে ওঠেন।[১]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]১৯৬৩ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি পাঞ্জাব থেকে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ঢাকায় চলে আসেন। ষাটের দশকে ঢাকায় বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নিয়মিত উর্দু চলচ্চিত্র নির্মিত হতো। ১৯৬৩ সালের প্রথমদিকে ঢাকাই ছবিতে অভিনয়ে সুযোগ না পেয়ে জাভেদ চলচ্চিত্রে নৃত্য পরিচালনার কাজ শুরু করেন। তিনি চলচ্চিত্রে প্রথম নৃত্য পরিচালনা করেন ১৯৬৪ সালে কায়সার পাশার পরিচালনায় উর্দু ছবি ‘মালান’ এর মাধ্যমে। এর প্রায় তিন বছর পর ১৯৬৭ সালে ‘পুনম কি রাত’ উর্দু ছবিতে পুনরায় নৃত্য পরিচালনা করেন। তারপর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি সত্তর থেকে আশির দশক পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ছবিতে নিয়মিত নৃত্য পরিচালনা করেছেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। নায়ক হিসেবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে। তার অনেক কাজের মধ্যে ‘দোস্ত দুশমন’, ‘অন্ধ প্রেম’, এবং ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ চলচ্চিত্রের জন্য বেশি পরিচিত। তার অভিনয় জীবনের সেরা সাফল্য আসে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে। তৎকালীন সমসাময়িক অনেক নায়িকার সঙ্গেই তিনি জুটিবদ্ধ হয়ে কাজ করেছেন। তবে চিত্রনায়িকা অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে তার জুটি ছিল সে সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয়।[২]
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]ব্যক্তি জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালের ১২ই জানুয়ারি চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন। "চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা (১৯৮৪)" ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে তারা একে অপরের প্রেমে পড়েন। এই প্রেম একসময় বিয়েতে পরিণত হয়। তবে বিয়ের অনেক বছর পার হয়ে গেলেও এই দম্পতি নিঃসন্তান। ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল মূত্রনালির জটিলতায় আক্রান্ত হলে জাভেদের অস্ত্রোপচার করা হয়। তার আগে তিনি দুবার ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তিনি তার স্ত্রীর সাথে ঢাকার উত্তরায় বসবাস করেন।
মৃত্যু
[সম্পাদনা]২১ জানুয়ারি ২০২৬ ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। এই অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। [৩]
চলচ্চিত্রের তালিকা
[সম্পাদনা]চমৎকার
পাপী শত্রু
শুধু তোমারি
নিশান
রক্ত শপথ
সাহেব বিবি গোলাম
কাজল রেখা
আজও ভুলিনি
অনেক দিন আগে
মালকা বানু
বাংলার ২৪ বছর
সতী নারী বিজলী
দিওয়ানা মন (২০১৬)
মা বাবা সন্তান (২০১৫)
ভাইয়া নাম্বার ওয়ান (২০০৮)
কঠোর (২০০৭)
রাঙ্গা বাইদানী (২০০৬)
ডাকু ফুলন (২০০৬)
রসের বাইদানী (২০০৬)
নিশি রাইতে আইসো বন্ধু (২০০২)
বাবার বাবা (১৯৯৯)
রাখাল রাজা (১৯৯৭)
জীবনসঙ্গী (১৯৯৭)
আব্দুল্লাহ (১৯৯৭)
শাহজাদী চন্দ্রবান
নিশান (১৯৭৮)
শাহজাদা
রাজনন্দিনী
আলী বাবা ও চল্লিশ চোর (১৯৮৮)
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Javed wants to return acting"। দ্য ডেইলি নিউ নেশন। ১৬ এপ্রিল ২০১৮। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৮।
- ↑ আফ্রিদী, মিলান (২১ এপ্রিল ২০১৬)। "মনে পড়ে কী জাভেদকে!"। দৈনিক ইত্তেফাক। সংগ্রহের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০১৮।
- ↑ "চিত্রনায়ক জাভেদ মারা গেছেন"। প্রথম আলো। ২১ জানুয়ারি ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২৬।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে ইলিয়াস জাভেদ (ইংরেজি)