ইয়েমেনী সংকট (২০১১-বর্তমান)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ইয়েমেনী সংকট (২০১১-বর্তমান) শুরু হয় ২০১১-১২ সাল থেকে যখন রাষ্ট্রপতি আলী আবদুল্লাহ সালেহ, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় যাবৎ ক্ষমতায় আছেন, তাকে অপসারণের জন্য আন্দোলনের সূচনা হয়।[১][২] ২০১২ সালে প্রারম্ভে ইয়েমেন সরকার ও বিদ্রোহী দলগুলোর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আলোকে সালেহের ক্ষমতা ত্যাগর পর সালেহের প্রাক্তন উপ-রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান মানসুর হাদি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটিতে বিদ্যমান ঘৃণ্য রাজনৈতিক বিভাজনকে একত্রিত করতে এবং আরব উপদ্বীপের আল কায়দা এবং হাউটি জঙ্গি উভয় পক্ষের হুমকিকে মোকাবেলা করতে চেয়েছিল যারা উত্তরে কয়েক বছর ধরে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছিলো।[৩][৪]

পটভূমি[সম্পাদনা]

আরব বসন্ত নামে পরিচিত বিক্ষোভের ঢেউ তিউনিশিয়ায় বিপ্লবের পর ইয়েমেনে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় নেয়নি। ইয়েমেন ছিল একটি দরিদ্র দেশ যার সরকার ব্যাপকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে স্বীকৃত এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র মজুদ রয়েছে এখানে। ২০১১ সালের মধ্যে, দেশটি উত্তরে আল কায়েদার সাথে জড়িত জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এবং দক্ষিণে জায়েদি শিয়া বিদ্রোহীদের কাছ থেকে সশস্ত্র যুদ্ধের সম্মুখীন হয়। ইয়েমেন ১৯৯০ সালে শুধুমাত্র একীভূত হয়েছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ মধ্যে গভীর বিভাজন চলমান রয়েছে।

ইয়েমেন যুদ্ধ (২০১৫)[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে হুথিরা ইয়েমেন দখল করে সানায় নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করে এবং হাদি এডেনে তার সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান নেয় যেটিকে পরবর্তীতে সৌদি আরব সহায়তা করে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব লিগ একটি সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য বোমা হামলা শুরু করে এবং এই অঞ্চলে বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনীকে জোরদার করে।

গৃহযুদ্ধের সূচনা[সম্পাদনা]

১৯ মার্চ এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুদ্ধ শুরু হয়, যখন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আলী আব্দুল্লাহ সালেহের অনুগত বিশেষ বাহিনী বিমানবন্দর দখল করে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেবার প্রাক্কালে এবং তারা হাদি প্রশাসন কর্তৃক নির্দেশিত সেনা ও মিলিশিয়া কর্তৃক পরাজিত হবার আগ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।[৫] পরের দিন, সানায় মসজিদের মধ্যে হুথি সন্ত্রাসীদের সাথে সম্পর্ক যুক্ত একটি দৃশ্যত সম্পর্কহীন ঘটনায় চারটি আত্মঘাতী বোম্বা হামলায় অন্তত ১৪২ জন নিহত হয়। সুন্নিপন্থী ইসলামী গ্রুপ আইএসআইএস'এর ইয়েমেন শাখা এর দায়িত্ব স্বীকার করেছে।[৬][৭]

২১ মার্চ সানা হুথি নিয়ন্ত্রণের অধীনে চলে গেলে হাদি এডেনকে ইয়েমেনের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করে।[৮] পরের দিন, হুথি বাহিনী ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তায়েজের মূল অংশ দখল করে নেয় এবং এডেনের দিকে অগ্রসর হয়।[৯] তারা দক্ষিণের বেশিরভাগ অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এপ্রিলের প্রথম দিকে এডেনের বেশিরভাগ এলাকাও দখল করে নেয়।[১০]

ইয়েমেনের সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন হস্তক্ষেপ[সম্পাদনা]

২৬ মার্চ সৌদি আরব এবং আরও অন্যান্য কিছু দেশ ঘোষণা করে যে তারা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সৌদি আরবের সাথে যুক্তভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে যে, তাদের লক্ষ্য ইয়েমেনে "হুথি আগ্রাসনকে প্রতিরোধ করা"। মিশর, জর্দান, মরোক্কো এবং সুদানও জোটের সদস্য।[১১]

ইয়েমেন জুড়ে লক্ষ্যগুলিতে বিমান হামলা ছাড়াও, ৩০ মার্চ মিশরীয় যুদ্ধজাহাজগুলি একটি হুথি বহরকে প্রতিরোধ করে যেটি এডেনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলো,[১২] সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সীমান্ত জুড়ে সৌদি আর হুথি বাহিনী মর্টার ও রকেটের বিনিময় করছিলো,[১৩] এবং জেনারেল পিপলস কংগ্রেস বহুসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক হতাহতের জন্য এদের দায়ী করেছে।[১৪]

২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর সানা'তে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় কমপক্ষে ১৪০ জন নিহত এবং ৬০০ জনেরও বেশি আহত হয়। এই দুই বছরের যুদ্ধে এটি একটি মাত্র ঘটনায় সর্বাধিক হতাহতের অন্যতম। সৌদি আরবে এবং তার সহযোগীরা যৌথ মূল্যায়ন দল (জেআইএটি)-এর নিজেস্ব পর্যালোচনাটিতে স্বীকার করে নেয়া হয় যে, এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের যৌথবাহিনীর বোমা হামলাটি ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল, যেমন, এটি সশস্ত্র হুথি নেতাদের একটি সমাবেশ ছিল।[১৫][১৬]

কলেরা মহামারী[সম্পাদনা]

গৃহযুদ্ধের সময় ইয়েমেনের গুরুতর ধরনের কলেরার মহামারী শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য সমন্বয়কারী বলেন যে ৩,২০,০০০-এরও বেশি ক্ষেত্রে ঘটনার তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে। তিনি যুদ্ধের কারনেই এই মহামারী বলে দোষারোপ করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাহিনী এটিকে সমর্থন করে বরে জানান।[১৭] ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসের হিসাবে এটি লিপিবদ্ধকৃত ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ কলেরার প্রাদুর্ভাব হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, যাতে ৮,০০,০০০-এরও বেশি ঘটনার তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে।[১৮]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Hendawi, Hamza (১২ অক্টোবর ২০১৪)। "Yemen's crisis reflects arc of Arab Spring revolts"। Yahoo! News। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  2. al-Naggar, Mona (৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "In Yemen, Hard Times Remain a Constant as Rebels Take Charge"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  3. "Meet The Group That Now Rules Yemen"। BuzzFeed। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  4. "Al-Qaeda thrives in Yemen amid weak security, stalled dialogue"। Al Arabiya। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  5. "Battle for Aden Airport Stokes Fears of Wider Conflict in Yemen"। The New York Times। ১৯ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০১৫ 
  6. "BREAKING: Death toll hits 137 from suicide bomb attacks in Yemen mosques"। Albawaba News। ২০ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০১৫ 
  7. "Death toll in Yemen bombing rises to 142"। Al Arabiya। ২০ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০১৫ 
  8. "Yemen's President Hadi declares new 'temporary capital'"। Deutsche Welle। ২১ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০১৫ 
  9. "Rebels Seize Key Parts of Yemen's Third-Largest City, Taiz"। The New York Times। ২২ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৫ 
  10. "The Crisis in Yemen Intensifies as Houthi Fighters Push Deeper Into Aden"। TIME। ৬ এপ্রিল ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৫ 
  11. "Saudi Arabia launches military operation in Yemen - envoy"। BBC News। ২৬ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০১৫ 
  12. "Egyptian warships shell Houthis outside Yemeni city of Aden: Reports"। Ahram Online। ৩০ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৫ 
  13. Bora, Kukil (১ এপ্রিল ২০১৫)। "Yemen Crisis: Saudi Arabia Forces, Houthi Rebels Clash On Border As Yemen Calls For Ground Troops"। International Business Times। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৫ 
  14. "Saudi-led coalition strikes rebels in Yemen, inflaming tensions in region"। CNN। ২৬ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৫ 
  15. Yemen conflict: 'Saudi-led coalition plane' hit funeral (BBC)
  16. "JIAT: Yemen funeral targeted based on wrong information; Coalition accepts findings"। Arab News। ১৫ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০১৬ 
  17. Falk, Pamela (১৩ জুলাই ২০১৭)। "U.N. warned "we should all feel deeply guilty" as Yemenis die"CBS News (English ভাষায়)। CBS News। 
  18. Lyons, Kate (২০১৭-১০-১২)। "Yemen's cholera outbreak now the worst in history as millionth case looms"The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]