ইন্দ্রাণী পালচৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইন্দ্রাণী পালচৌধুরী
জন্ম১৯৮৩
শিক্ষাপ্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় (নৃবিজ্ঞান)
পেশাচলচ্চিত্র পরিচালক, আলোকচিত্রী, লেখক, প্রযোজক, বক্তা

ইন্দ্রাণী পালচৌধুরী একজন ভারতীয়-কানাডিয়ান-ব্রিটিশ পরিচালক এবং ফটোগ্রাফার। তাকে জেজেবেলের, জুলিয়ান ই শেফার্ড একজন "উগ্র নারীবাদী পরিচালক এবং ফ্যাশন ফটোগ্রাফার" হিসাবে বর্ণনা করেছেন।[১] হাফিংটন পোস্ট এর শিঞ্জিনি দাসের মতে, একটি নামেই পরিচিত, ইন্দ্রাণী, "তার বিশেষ কল্পনাপ্রবনতা এবং দূরদর্শী গল্পের জন্য, লেডি গাগা, বুয়োনসে, জেনিফার লোপেজ, অ্যালিসিয়া কী, জে-জেড এবং ক্যানি ওয়েস্টের সাথে সহযোগিতার জন্য বিখ্যাত"।।[২] তাঁর কাজটি উদ্ঘাটিত করেছিলেন ডেভিড বোয়ি, যিনি "হিথেন" এর প্রথম অ্যালবামের প্রচ্ছদটি অনুমোদন করেছিলেন[৩][৪] এবং পরে বোয়ি তাঁর অ্যালবাম দ্য নেক্সট ডে তে, তাঁর "ভ্যালেন্টাইনস ডে" গানের জন্য ইন্দ্রাণীকে দায়িত্ব এবং সুযোগ দেন প্রথম প্রধান মিউজিক ভিডিওতে তাঁর পরিচালক জীবন শুরু করার।[৫] এখন চলচ্চিত্রের একজন তরুণ পরিচালক হিসাবে ২৫ টি পুরস্কার জেতা ইন্দ্রাণী, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মহিলা ক্ষমতায়নের প্রবল ইচ্ছা সহ, "অস্ত্রের মতো তাঁর দূরদর্শী কাজকে পরিচালনা করে ইন্দ্রাণী তাঁর শিল্প ও সংস্থানকে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করছেন।"[৬]

প্রাথমিক জীবন, মডেল/অভিনেতার জীবন[সম্পাদনা]

ইন্দ্রাণী ১৯৮৩ সালে ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি জমিদার পরিবারের ঐতিহাসিক প্রাসাদে বেড়ে ওঠেন এবং তাঁর ব্রিটিশ মায়ের সাথে মাদার টেরিজার স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করেছিলেন।[৭] তার বাবা-মা উভয়েই হিসাবরক্ষক (অ্যাকাউনট্যান্ট) ছিলেন।[৮] তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন "বিধ্বংসী দারিদ্র্য যা তাঁর নিজের শৈশবের তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল", এটি তাঁকে কোনও এক দিন সেই দিশায় পরিবর্তন আনতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।[৮]

বিশ্বজুড়ে শিল্পীদের সাথে আলোকচিত্র এবং চলচ্চিত্র অধ্যয়ন করার জন্য এবং একটি তারকা হয়ে ওঠার জন্য ইন্দ্রাণী ১৪ বছর বয়সে মডেলিং শুরু করেছিলেন।[৯] একজন সফল মডেল / অভিনেত্রী হিসাবে যখন পেশার কারণে তিনি সারা বিশ্ব ঘুরেছেন, তাঁর সেই অভিজ্ঞতা সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি বাতায়নে পরিণত হয়েছিল।[১০] ছোট ছোট মেয়েদের আরও ভাল ভবিষ্যত গড়তে, ১৮ বছর বয়সে ফিরে এসে, তিনি তাঁর পারিবারিক প্রাসাদটি একটি দাতব্য বিদ্যালয়ে পরিণত করেছিলেন।[৮][১১] বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছিল শক্তি ক্ষমতায়ন শিক্ষা এবং বর্তমানে এটি প্রায় ৩০০ জন কিশোর ও কিশোরীকে শিক্ষা দান করে এবং মহিলাদের সাক্ষরতা এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে।[৭]

উচ্চবিদ্যালয়ের পরে, ইন্দ্রাণীর মার্কাস ক্লিনকোর সাথে দেখা হয়েছিল। মার্কাস ছিলেন শাস্ত্রীয় বীণা বাদক, এবং তিনি একজন নিয়মিত সহযোগী হয়েছিলেন। দুজন তাঁদের আলোকচিত্রীর জীবন শুরু করেছিলেন, আলোকচিত্রী যুগল হিসাবে তাঁদের নাম ছিল মারকাস + ইন্দ্রাণী।[১২] ইন্দ্রানী প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পেয়েছিলেন। আলোকচিত্রী হিসাবে তাঁর জীবন এগিয়ে নিয়ে যাবার সময়, তিনি সংস্কৃত অধ্যয়ন পুনর্বার শুরু করেছিলেন, সাউথ এশিয়ান স্টাডিজে একটি প্রোগ্রাম তৈরির জন্য ছাত্র উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানে 'ম্যাগনা কাম লড' (উচ্চ সম্মান সহ) সহ স্নাতক হন।[১৩]

ফাস্ট কোম্পানির মতে, "মার্কাস ক্লিনকো এবং ইন্দ্রাণী পাল-চৌধুরী যখন জুটি বেঁধেছিলেন...তাঁরা ইতিমধ্যে বিখ্যাত ছিলেন--ক্লাসিকাল বীণাবাদক হিসাবে ক্লিঙ্কো এবং ফ্যাশন মডেল হিসাবে ইন্দ্রাণী। এখন তাঁরা তাঁদের চোখ ধাঁধানো ভাবমূর্তির জন্য বিখ্যাত।" [৯]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

  • আরব আমেরিকান যাদুঘর, ২০১৯-এ উপস্থাপন করা, সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ-এ "ম্যাক্স মার্ক-ক্র্যানব্রুক গ্লোবাল পিসমেকার পুরস্কার"।
  • ট্রাইবেকা চলচ্চিত্র উৎসব, ২০১৯ সালে "ডিসরাপ্টর পুরস্কার"।
  • কুইন্সি জোন্স উপস্থাপিত সিএনএন এক্সপোজ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস এর "সেরা চলচ্চিত্র" পুরস্কার।
  • হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৮ গ্লোবাল ফোরামের "ইনস্পিরিক: সার্কেল অফ লাইট" পুরস্কার।
  • লস অ্যাঞ্জেলেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল, ২০১৬ এর "সেরা পরিচালক"।
  • লন্ডন ফ্যাশন ফিল্ম ফেস্টিভাল, ২০১৬ এর "সেরা পরিচালক"।
  • নিউ ইয়র্ক শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল, ২০১৬-এ "নিউইয়র্কের সেরা" পুরস্কার।
  • লস অ্যাঞ্জেলেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল, ২০১৬-এ "সেরা চলচ্চিত্র," "সেরা পরিবেশন নকশা," "সেরা পরিচ্ছদ ডিজাইন" এবং "সেরা ভিজ্যুয়াল এফেক্টস"।
  • লন্ডন ফ্যাশন ফিল্ম ফেস্টিভাল, ২০১৬-এ "সেরা চলচ্চিত্র," "সেরা পরিচালক" এবং "সেরা আনুষাঙ্গিক ডিজাইন"।
  • "সেরা চলচ্চিত্র" এবং লস অ্যাঞ্জেলেস, সিনেমোই, ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে "সেরা পরিচালক" হিসাবে মনোনীত হন।
  • প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম ফেস্টিভাল, ২০১৫ এ "সেরা উৎসবগুলির সেরা"।
  • লস অ্যাঞ্জেলেস শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল, ২০১৫-এ উদ্বোধনে রাত্রিকালীন প্রথম শো।
  • ইতালি, ২০১৫, মিলান ফ্যাশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত।
  • ২০১৫ প্যারিস, সেন্টার পম্পিডু এএসভিএফএফ-এ প্রদর্শিত।
  • ২০১৩ প্যারিস, সেন্টার পম্পিডু এএসভিএফএফ-এ প্রদর্শিত।
  • "সেরা চিত্র," "সেরা পরিচালক," "সেরা পরিচ্ছদ ডিজাইন," "সেরা ভিজ্যুয়াল এফেক্টস" এবং সমসাময়িক আর্ট, সান দিয়েগো, লা জোলা ফ্যাশন ফিল্ম ফেস্টিভালে "রেড এপিক ক্যামেরা অ্যাওয়ার্ড"।
  • দক্ষিণ এশিয়া ম্যাগাজিনের "ব্যতিক্রমী অর্জনের এলিট অ্যাওয়ার্ড"।
  • মার্কাস এবং ইন্দ্রাণী লুসি অ্যাওয়ার্ডস আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি পুরস্কার, ২০০৭-এ "বেস্ট অফ শো" জিতেছিলেন
  • বিয়ন্সের "ডেঞ্জারসলি ইন লাভ" "অ্যালবাম কভার, ২০০৪ এর জন্য অ্যালেক্স পুরস্কার
  • গ্ল্যামার ম্যাগাজিন এর "শীর্ষ ১০ কলেজ মহিলা পুরস্কার" ২০০১

টীকা[সম্পাদনা]


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Watch this Rad Feminist Short Film of Girls Playing Soccer in Jodhpur http://jezebel.com/watch-this-rad-feminist-short-film-of-girls-playing-soc-1639677259
  2. "I Am Girl Rising"The Huffington Post 
  3. ICONS by Markus + Indrani" Running Press © 2012
  4. "Markus and Indrani ICONS book"David Bowie Official Website। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০১৯ 
  5. Wera Engelhardt, "'Ich verdanke ihm meine Karriere': Fotografin nimmt Abschied von ihrem Mentor", Focus, 11 January 2016.
  6. Zee Chang, [১], Soma Magazine, 2017.
  7. Abigail Pesta, "A fashionista’s India dream: Indrani changes the fate of forgotten girls", Daily Beast, 7 October 2012.
  8. Pesta, Abigail (২০১২-০৭-১০)। "A Fashionista's India Dream: Indrani Changes the Fate of Forgotten Girls"The Daily Beast। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-১৭ 
  9. "Contributors"Fast Company 
  10. http://www.somamagazine.com/indrani-pal-chaudhuri/
  11. Eyestrane, "Diwali goddess Indrani ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে", Asiance, 29 September 2011.
  12. http://www.thedailybeast.com/articles/2012/11/25/shooting-the-stars-with-fashion-photographers-markus-and-indrani.html
  13. Wang, Angela (২০১৪-০২-০৫)। "From Beyonce to Bravo: Pal-Chaudhuri balances Hollywood with Socially Minded Art"The Daily Princetonian-date=2017-04-17 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]