আলাপ:রেবন্ত/ভালো নিবন্ধ১

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ভালো নিবন্ধের পর্যালোচনা[সম্পাদনা]

নিবন্ধ (সম্পাদনা | ইতিহাস) • নিবন্ধের আলাপ (সম্পাদনা | ইতিহাস) • নজরতালিকায় রাখুন

পর্যালোচক: --Jonoikobangali (আলাপ) ০৯:৩৩, ৮ মে ২০১৯ (ইউটিসি)

পরিবর্তন প্রয়োজন[সম্পাদনা]

Gnome-edit-redo.svgBang Bang50: নিবন্ধটি মোটামুটি ঠিকঠাকই হয়েছে। তবে কয়েকটি সংশোধনী প্রয়োজন:

  • কয়েকটি ক্ষেত্রে বানান সংশোধন প্রয়োজন। আমি একটি তালিকা করে দিচ্ছি: যোক্ষা>যক্ষ ; গুহকাদের>গুহ্যকদের ; সূর্যদয়>সূর্যোদয় ; সঞ্জা>সংজ্ঞা ; উত্তর কুরু-তে>উত্তর কুরুতে ; শব্দবেশ>ছদ্মবেশ ; লুঠেরা>লুটেরা (পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির বানানবিধি অনুযায়ী, এক্ষেত্রে দু’টি বানানই সঠিক বলে ‘ট’ অক্ষরটির ব্যবহার বিধেয়) ; হয়া-বাহন>হয়-বাহন ; অশ্বশাস্ত্রম>অশ্বশাস্ত্রম্‌ ; বিভ্রান্তিত>বিভ্রান্ত ; লিপিবদ্ধ পাথর>শিলালিপি ; কালাচুরি>কলচুরি এবং রত্নাদেব>রত্নদেব।
  • কয়েকটি জায়গার অনুবাদ একটু অন্যভাবে করতে হবে। কিভাবে হবে তালিকার আকারে দিচ্ছি:
  1. ভূমিকার তৃতীয় লাইন (এটি দু’টি লাইনে ভাঙলে ভালো হয়): রেবন্ত হলেন যক্ষ প্রভৃতি উপদেবতা ও দানবীয় সত্ত্বা গুহ্যকদের প্রধান। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, এই যক্ষেরা হিমালয়ের বনাঞ্চলে বাস করেন।
  2. পরের লাইন: রেবন্তের প্রতিকৃতি ও ভাস্কর্যে প্রায়শই তাঁকে ধনুর্বানধারী অশ্বারোহী এক শিকারী পুরুষের রূপে দেখা যায়।
  3. উৎস অনুচ্ছেদের লাইনটি হওয়া উচিত: রেবন্ত হলেন আরোগ্য, দৃষ্টি, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের যমজ দেবতা অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের ভাই। (এখানে বলি, সম্পর্ক বোঝাতে পিতা/মাতা/ভ্রাতা ইত্যাদির বদলে বাবা/মা/ভাই চলিত বাংলায় বেশি প্রচলিত। তাছাড়া উইকিপিডিয়ার নীতি অনুযায়ী, নিবন্ধের ভাষা সহজ-সরল রাখতে হবে। তবে পুত্র-কন্যা কথ্যভাষাতেও চলে বলে ওটা ব্যবহার করা চলে।)
  4. তুমি দু-একটি জায়গায় “অমুক পুরাণ ও অমুক পুরাণের মতো ধর্মগ্রন্থে”-জাতীয় শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছ। এর চেয়ে “অমুক ও অমুক পুরাণ ইত্যাদি/প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থে” বেশি শ্রুতিমধুর।
  5. ‘সূর্যদেব’, ‘ভগবান সূর্য’, ‘বিষ্ণুদেব’, ‘লক্ষ্মীদেবী’ ইত্যাদি না লিখে লেখো ‘সূর্য’, ‘বিষ্ণু’, ‘লক্ষ্মী’ ইত্যাদি। এই ভগবান, দেব, দেবী – এই শব্দগুলিকে honorific বলে। উইকিপিডিয়ায় honorific ব্যবহার করা নিয়মবিরুদ্ধ।
  6. দেবদেবীদের সর্বনামে ঁ সর্বদা দেবে। যেমন, তাঁদের, তাঁরা ইত্যাদি। এটা honorific-এর নিয়মের মধ্যে পড়ে না।
  7. কিংবদন্তি পরিচ্ছেদের দ্বিতীয় লাইন (এটাও একটি লাইনে না লিখে ভেঙে লেখো): দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার কন্যা সংজ্ঞা ছিলেন সূর্যের পত্নী/স্ত্রী। তিনি সূর্যের অনুগ্রহ লাভে বঞ্চিত হয়ে নিজের প্রতিচ্ছায়া ছায়াকে সূর্যের কাছে রেখে বনে গিয়ে এক ঘোটকীর রূপ ধারণ করে কঠোর তপস্যায় রত হন। ছায়া যে সংজ্ঞা নন, সে কথা বুঝতে পেরে সূর্য সংজ্ঞাকে খুঁজতে বের হন এবং উত্তর কুরুতে তাঁর সাক্ষাৎ পান। তারপর তিনি ঘোড়ার ছদ্মবেশে তাঁর সঙ্গে মিলিত হন এবং তাঁদের মিলনের ফলে...”
  8. কয়েকটি জায়গায় বইয়ের নামের পরে , চিহ্ন দিয়ে বইয়ের বক্তব্য উল্লেখ করেছ। ওভাবে লিখবে না। লেখো, “অমুক পুরাণে/বইয়ে বলা হয়েছে” বা “অমুক পুরাণে/বইয়ে আছে”।
  9. কিংপদন্তি পরিচ্ছেদের তৃতীয় প্যারাগ্রাফ: প্রথম লাইনটি এইভাবে লেখো – “দেবীভাগবতেও একটি স্থানে ছোটো করে রেবন্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।” এখানে বলে রাখি, ভাগবত পুরাণ ও দেবীভাগবত পুরাণের নামের ক্ষেত্রে সব সময় পুরাণ শব্দটি উল্লেখ না করলেও চলে। বাজারে যে অনুবাদগুলি বিক্রি হয়, সেগুলিতে দেখবে অনেক জায়গায় ‘শ্রীমদ্ভাগবতম্‌’ বা ‘শ্রীমদ্দেবীভাগবতম্‌’ নামে প্রকাশিত হয়। ইচ্ছে করলে ব্যবহার করতে পারো অবশ্য।
  10. অশ্বার পরিবর্তী ঘোটকী ব্যবহার করাই ভালো। যদিও চলিত বাংলায় ‘মাদী ঘোড়া’ বলা হয়। তবে পৌরাণিক চরিত্রের ক্ষেত্রে ওই শব্দটি শ্রুতিকটু হবে। তবে অশ্বা পুরোপুরি সংস্কৃত শব্দ, বাংলায় তার প্রয়োগ নেই বললেই চলে। তবু সাধু বাংলায় ‘ঘোটকী’ চলে।
  11. মূর্তিতত্ত্ব অনুচ্ছেদের প্রথম প্যারাগ্রাফে: প্রথম দুই লাইন এইভাবে লেখো – “মার্কণ্ডেয় পুরাণে রেবন্তের বর্ণনায় পাওয়া যায়, তিনি “বর্মপরিহিত, তরবারি, তূণীর, তির ও ধনুর্ধারী এক অশ্বারোহী। কালিকা পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ডান হাতে তরবারি ও বাঁ হাতে চাবুক নিয়ে সাদা ঘোড়ার পিঠে সওয়ার।
  12. তৃতীয় লাইনে ‘হয়বাহন’ কথাটির পাশে বন্ধনীতে লেখো ‘অশ্বারোহী’।
  13. শেষ লাইনটি এইভাবে লেখো – “বরাহমিহির তাঁকে বর্ণনা করেছেন সপার্ষদ শিকারী পুরুষ হিসেবে।”
  14. পরবর্তী প্যারাগ্রাফটির আমূল সংস্কার প্রয়োজন। আমি একটা নমুনা দিচ্ছি:
    ভাস্কর্যে রেবন্তকে দেখা যায় তাঁর অনুচর গুহ্যকদের সঙ্গে শিকাররত অবস্থায়। ধনুক, তরবারি ইত্যাদি গ্রন্থে বর্ণিত অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াও কোনও কোনও ভাস্কর্যে তাঁর হাতে মদ্যপাত্রও/মদের পাত্রও দেখা যায়। অনেক মূর্তিতেই দেখা যায়, রেবন্ত পায়ের গুল্‌ফ পর্যন্ত বুটজুতার মতো পাদুকা পরিধান করেছেন। এখানে উল্লেখ্য, সূর্য ছাড়া অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীদের সাধারণত নগ্নপদ মূর্তিই নির্মিত হয়ে থাকে। কোনও কোনও মূর্তিতে দেখা যায়, অশ্বারহী রেবন্তের সহচর একটি শিকারী কুকুর। রেবন্তের অনুচরদের হাতে বর্শা ও তরবারির মতো শিকারের নানান ধরনের অস্ত্র দেখা যায়। কয়েক জন অনুচর শঙ্খবাদনরত অবস্থায় রয়েছেন অথবা ঢাক-ঢোল বাজাচ্ছেন অথবা তাদের প্রভুর মাথায় ছাতা ধরে রয়েছেন। এই ছাতাটি রাজপদের প্রতীক। এছাড়াও তাদের কারও কারও চিত্র অঙ্কিত হয়েছে উড়ন্ত অবস্থায় অথবা মদ বা জলের পাত্র হাতে ধরা অবস্থায়। কোনও কোনোও মূর্তিতে দেখা যায়, রেবন্তের এক অনুচর কাঁধে করে একটি মৃত বন্য বরাহ নিয়ে যাচ্ছে অবথা পূর্বোক্ত শিকারী কুকুরটি একটি বন্য শূকরকে ধাওয়া করেছে।
  15. পূজা পরিচ্ছেদ: এই পরিচ্ছেদে তুমি যা লিখেছি, তাতেই একটু কলম চালিয়ে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছি -

রেবন্তকে যোদ্ধা ও অশ্বের রক্ষক, অরণ্যের বিপদে ত্রাণকর্তা ও শিকারীদের রক্ষাকর্তা হিসেবে পূজা করা হত। তাঁর পূজার সঙ্গে সূর্যোপাসক সৌর সম্প্রদায়ের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল। বিষ্ণুধর্মোত্তর ও কালিকাপুরাণের মতো কয়েকটি গ্রন্থে সূর্যের সঙ্গে রেবন্তের অথবা সূর্যপূজার বিধি অনুযায়ী রেবন্তের পূজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভাকল্পদ্রুম গ্রন্থের বিবরণ থেকে জানা যায়, আশ্বিন মাসে যোদ্ধারা সূর্যপূজার পর রেবন্তের পূজা করতেন। চতুর্থ পাণ্ডব নকুলকে ঘোড়া-বিষয়ক অশ্বশাস্ত্রম্‌ গ্রন্থের রচয়িতা বলে মনে করা হয়। তিনি ভূতেদের হাত থেকে ঘোড়াদের রক্ষা করার জন্য রেবন্ত পূজার বিধান দিয়েছিলেন।

মধ্যযুগের প্রথম পর্বে, বিশেষত রাজস্থানে, রেবন্তের পূজা বিশেষ জনপ্রিয় ছিল।... [এই প্যারার বাকি অংশ যা আছে বানান-সংশোধন করে নিলে, একই থাকবে।] --Jonoikobangali (আলাপ) ০৯:৩৩, ৮ মে ২০১৯ (ইউটিসি)