আবিদা সুলতানা
আবিদা সুলতানা | |
|---|---|
| জন্ম | |
| পেশা | সঙ্গীতশিল্পী |
| দাম্পত্য সঙ্গী | রফিকুল আলম (বি. ১৯৭৮) |
| সন্তান | ১ |
| আত্মীয় | শওকত আলী ইমন (ভাই) |
| সঙ্গীত কর্মজীবন | |
| ধরন |
|
| বাদ্যযন্ত্র | কণ্ঠ |
আবিদা সুলতানা বাংলাদেশের অন্যতম কণ্ঠশিল্পী । তিনি আধুনিক গান এবং চলচ্চিত্র প্লেব্যাক এর জন্য বিখ্যাত।[১] ১৯৭২ সালে তিনি নিমাই সন্ন্যাসী চলচ্চিত্রে সর্বপ্রথম প্লেব্যাক করেন। আবিদা আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩), সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭), ছুটির ঘণ্টা (১৯৮০), উজানভাটি (১৯৮২), নান্টু ঘটক (১৯৮২), পুরস্কার (১৯৮৩), রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত (১৯৮৭)-সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]আবিদা পঞ্চগড় জেলায় একটি সাংষ্কৃতিকমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলায়। তার পিতা আবদুস সালাম ও মাতা মুসলিমা বেগম। তারা পাঁচ বোন ও দুই ভাই। তার বাকি চার বোন হলেন গায়িকা রেবেকা সুলতানা, রেহেনা সুলতানা, চিত্রা সুলতানা ও সালমা সুলতানা এবং তার দুই ভাই সঙ্গীত পরিচালক শওকত আলী ইমন ও মোহাম্মদ আলী সুমন।[২] সাংষ্কৃতিকমনা পরিবার হওয়ায় শৈশব থেকেই আবিদা গান, নাটক, নাচসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল। ছোটবেলায় গানের চেয়েও নাচের প্রতি আবিদার বেশি ঝোঁক ছিল। আবিদা সুলতানা বাবু রাম গোপাল মহন্ত, ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ, আখতার সাদমানী, বারীণ মজুমদার, ওস্তাদ নারু এবং ওস্তাদ সগীরউদ্দীন খান থেকে গানের তালিম নিয়েছেন। আবিদার সঙ্গীত জীবনে এই প্রখ্যাত ওস্তাদদের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়।
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং নজরুল সঙ্গীত এই দুইটির উপর আবিদা তালিম নিলেও আধুনিক গানেই তিনি বেশি মনোযোগী। পূর্ব পাকিস্তানের একটি সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় (পরবর্তীতে তা ফুলকড়িঁ নামে বেশি পরিচিতি লাভ করে) বিজয়ী হন। ১৯৬৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতার এর সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তখন থেকেই তিনি এই দুই মাধ্যমে নিয়মিত গান পরিবেশন করে আসছেন।[৩]
আবিদা চলচ্চিত্রে প্রথম নেপথ্য সঙ্গীতে কণ্ঠ দেন ১৯৭২ সালে সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া পরিচালিত নিমাই সন্ন্যাসী চলচ্চিত্রে। এই চলচ্চিত্রে আনোয়ার কবীরের সুরে "রাগ করোনা বিষ্ণুপ্রিয়া" ছিল তার গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান। ১৯৭৩ সালে তিনি ইয়ে করে বিয়ে চলচ্চিত্রে "ভালোবাসার মূল্য যে কি" গানে কণ্ঠ দেন। আমির আলীর সুরে তার গাওয়া এই গানটি বেতারে অসংখ্যবার প্রচারে মাধ্যমে সারাদেশে জনপ্রিয়তা লাভ করে। একই বছর তিনি সিবি জামান পরিচালিত ঝড়ের পাখি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন। খান আতাউর রহমানের সুরে "কখন গোপনে নিলে ঠাঁই নয়নে" গানটি তরুণী শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। গান দুটিতে তার নিজস্ব স্বকীয়তা রয়েছে। তাকে আরও জনপ্রিয়তা এনে দেয় খান আতার আবার তোরা মানুষ হ চলচ্চিত্রের "তুমি চেয়েছিলে ওগো জানতে" গানটি। তেজগাঁওয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং হয়। গানটি সম্পর্কে আবিদা বলেন, "গানের কথা, সুর আর দুর্দান্ত চিত্রায়নের কারণে গানটি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে"।[৪]
১৯৭৪ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগ্রাম চলচ্চিত্রে খন্দকার নুরুল আলমের সুরে অজিত রায়ের কোরাস গান "বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা" গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৭৫ সালে তিনি সুবল দাসের সুরে প্রথম গান রেকর্ড করেন। আলো তুমি আলেয়া চলচ্চিত্রের "আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে" গানটির রেকর্ড হয় ১৯৭৪ সালে এফডিসির স্টুডিওতে। প্রথমে গানটি পুরুষ কণ্ঠে রেকর্ড হয়। গানটির পুরষ সংস্করণে কণ্ঠ দেন মাহমুদুন্নবী।[৫] ১৯৭৭ সালে আলমগীর কবির পরিচালিত সীমানা পেরিয়ে চলচ্চিত্রে ভূপেন হাজারিকার সুরে তার গাওয়া "বিমূর্ত এই রাত্রি আমার" গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।[৪] পরের বছর তিনি গোলাম হোসেন লাডোর সুরে বাজিমাত (১৯৭৮)-এ "যদি একটু আগে পেতাম তোমায়" গানে কণ্ঠ দেন।[৪]
১৯৮০ সালের শুরুতে তিনি মনসুর আহমেদের সুরে তাজ ও তালোয়ার (১৯৮০)-এর "নয়নে রেখে নয়ন" ও সত্য সাহার সুরে ছুটির ঘণ্টা (১৯৮০)-এর "আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী" গানে কণ্ঠ দেন। একই বছর শেখ সাদী খান ইপসা রেকডিং স্টুডিতে আবিদার কণ্ঠে এখনই সময় (১৯৮০)-এর "একটা দোলনা যদি পেতাম" রেকর্ড করেন। এই চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে শেখ সাদী খান চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।[৪] এরপর তিনি উজানভাটি (১৯৮২) চলচ্চিত্রের কয়েকটি গানে কণ্ঠ দেন, তন্মধ্যে "দিনের কথা দিনে ভালো রাতের কথা রাতে" ও রফিকুল আলমের সাথে জুটিবদ্ধ হয়ে "এক নদীরই উজানভাটি আমরা দুটি ধারা" গান দুটি জনপ্রিয়তা অর্জন করে। চলচ্চিত্রটির পরিচালক সিবি জামান বলেন যে সুরকার সত্য সাহা, গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও তিনি মিলেই আবিদাকে দিয়ে গান গাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।[৪] একই বছর মাজহারুল আনোয়ারের গীত ও সুরে এন্ড্রু কিশোরের সাথে নান্টু ঘটক চলচ্চিত্রে "চলে আমার সাইকেল হাওয়ার বেগে" গানে কণ্ঠ দেন।[৪] ১৯৮৩ সালে আবিদা শিশুতোষ চলচ্চিত্র পুরস্কার-এ সত্য সাহার সুরে "হারজিত চিরদিন থাকবেই" গানে কণ্ঠ দেন। চলচ্চিত্রে স্কুলের মাঠে চার কিশোরের ঠোঁটে পরিবেশিত গানটি শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে।[৬]
এরপর তার গাওয়া শেখ সাদী খানের সুরে ফেরারী বসন্ত (১৯৮৩)-এর "হৃদয়ের অচেনা দুটি নদী", আলাউদ্দিন আলীর সুরে মান অভিমান (১৯৮৪)-এর "আমি জোতিষীর কাছে যাব", নিশানা (১৯৮৬)-এর "এমনি করেই একদিন প্রেম হয়ে যায়" ও রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত (১৯৮৭)-এ সুবীর নন্দীর সাথে "লাগলাম নাতো কারো পূজাতে" এবং আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুরে রাধাকৃষ্ণ (১৯৮৫)-এর "এ মধু জোছনায়" গানসমূহ জনপ্রিয়তা লাভ করে।[৪] ১৯৮৬ সালে সুবল দাসের সুরে তালুকদার চলচ্চিত্রে তার গাওয়া "এ কী বাঁধনে বলো জড়ালে আমায়" গানটি এর অনবদ্য সুরের মুর্ছনার জন্য শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়।[৫]
২০২৪ সালের শেষভাগে চ্যানেল আইয়ে শুরু হওয়া এই গান সেই গান[৭] অনুষ্ঠানের জন্য তিনি ১১টি গান রেকর্ড করেন, তন্মধ্যে রজনীকান্তের একটি গান, শাম্মী আখতারের গাওয়া একটি গান ও তার গাওয়া ৯টি গান ছিল।[৮] ২০২৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠান গীতি আলাপন-এর জন্য ১৯৮৩ সালে মুক্তি পাওয়া পুরস্কার চলচ্চিত্রের "হারজিত চিরদিন থাকবেই" গানটি পুনরায় রেকর্ড করেন। পুরস্কার চলচ্চিত্রের চার কিশোরের একজন আদনান বাবু, যিনি এ সময়ে সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক, তার সাথে এই গানে কণ্ঠ মেলান। সঙ্গীতশিল্পী রবি চৌধুরীর স্টুডিওতে গানটি নতুন করে রেকর্ডিং করা হয়।[৬]
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]১৯৭৩ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম) এক সঙ্গীত সম্মেলনে সুরকার লাকী আখান্দের মাধ্যমে সঙ্গীতশিল্পী রফিকুল আলমের সাথে আবিদার পরিচয় হয় ও তারা একে অপরের প্রেমে পড়েন। ১৯৭৮ সালের ১৪ এপ্রিল তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।[৯] তাদের একমাত্র পুত্র ফারশিয়াদ আলম সঙ্গীতের সাথে জড়িত ও টেলিভিশনে উপস্থাপনাও করেন।[৩]
টেলিভিশন
[সম্পাদনা]- গানের উৎসব সরাসরি (২০১৬, রেবেকা সুলতানার সাথে)[১০]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Abida Sultana on Gtv's biography programme"। Maynal Hossain Chowdhur। daily-sun।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "THROUGH THE EYES OF ABIDA SULTANA"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫।
- 1 2 তারেক, মোহাম্মদ (২৭ অক্টোবর ২০১৯)। "আমি একটু বদমেজাজী!-আবিদা সুলতানা"। আনন্দ আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২৫।
- 1 2 3 4 5 6 7 রহমান, জাহিদ (৪ সেপ্টেম্বর ২০২২)। "সিনেমার গানে চিরসবুজ গায়িকা আবিদা সুলতানা"। চ্যানেল আই অনলাইন। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২৫।
- 1 2 রহমান, জাহিদ (১৭ আগস্ট ২০২৫)। "সুবল দাসের সুরের দুটি গান এবং আবিদা সুলতানা"। চ্যানেল আই অনলাইন। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২৫।
- 1 2 "চার দশক পর আবিদার কণ্ঠে সেই গান, সহশিল্পী কে জানেন?"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ মার্চ ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ অনলাইন, চ্যানেল আই (২৬ নভেম্বর ২০২৪)। "চ্যানেল আইতে 'এই গান সেই গান'"। চ্যানেল আই অনলাইন। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ মিজান, এ (২৭ নভেম্বর ২০২৪)। "আজ আবিদা সুলতানা ও বেবি নাজনীনের জন্মদিন"। বার্তা ২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ বকুল, কবির (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪)। "৪৬ বছরের সুখী দাম্পত্যে কেউ কাউকে ভালোবাসি বলেননি"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ "Renowned singers Rebeca Sultana and Abida Sultana"। দ্য ডেইলি অবজারভার (ইংরেজি ভাষায়)। ৩১ জুলাই ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২৫।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে আবিদা সুলতানা (ইংরেজি)