আখিম ম্যুলার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আখিম ম্যুলার
Achim Müller
Prof-a-mueller.jpg
জন্ম১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৮
ডেটমল্ড, জার্মানি,
জাতীয়তাজার্মান
কর্মক্ষেত্ররসায়ন
প্রতিষ্ঠানবিলেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাক্তন ছাত্রগটিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়

আখিম ম্যুলার (জার্মান: Achim Müller; জন্ম: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৮, জার্মানির ডেটমল্ড শহরে) একজন বিশিষ্ট জার্মান বিজ্ঞানী। বর্তমানে তিনি বিলেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে গবেষণারত আছেন।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

আখিম ম্যুলার গটিংগেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন ও পদার্থবিদ্যায় পড়াশনা করেন এবং সেখান থেকেই পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী (১৯৬৫) ও হ্যাবিলিটেশনে (১৯৬৭) সম্মানিত হন। ১৯৭১ সালে তিনি ডর্টমুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদে যোগ দেন। ১৯৭৭ সাল থেকে তিনি বিলেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অজৈব রসায়ন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এবং বর্তমানে সেখানেই গবেষণারত। তার গবেষণার মুখ্য বিষয়গুলো হল সন্ধিগত মৌলের (ট্রানজিশন মৌল) সংশ্লেষণের রসায়ন, বর্ণালিবীক্ষণ (স্পেকট্রোস্কোপি) এবং ন্যানোরসায়ন[১][২] (এছাড়াও তথ্যসূত্র [৮-১৩]) সম্পর্কিত তাত্ত্বিক গবেষণা। এছাড়াও তার গবেষণার ব্যাপ্তি নানান বিষয় জুড়ে; যেমন বায়ো-অজৈব রসায়ন ও জৈবিক নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ (বায়োলজিক্যাল নাইট্রোজেন ফিক্সেশন)[৩], আণবিক চুম্বক (মলিকুলার ম্যাগণেট)[৪][৫], আণবিক পদার্থবিদ্যা এবং বিজ্ঞানের ইতিহাস ও দর্শন।[৬] এখনো পর্যন্ত তিনি ১০০টিরও বেশি গবেষণা সাময়িকীতে প্রায় ৯০০টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ৪০টিরও বেশি 'রিভিউ' প্রবন্ধ প্রকাশ ও ১৪টি বই সম্পাদনা করেছেন (বহিঃসংযোগে বিস্তারিত)। অধ্যাপক ম্যুলার নানান জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক আকাদেমির (গবেষণা সংঘ) সদস্য; যেমন, লিওপলডিনা স্যোসাইটি[৭], পোলিশ বিজ্ঞান আকাদেমি এবং ভারতীয় জাতীয় বিজ্ঞান আকাদেমি। তিনি নানান পদ ও পুরস্কারে সম্মানিত, যেমন, সাম্মানিক ডক্টরেট, অধ্যাপক পদ ও সদস্য পদ। পুরষ্কারগুলোর মধ্যে উল্লেখ্য, আলফ্রেড স্টক স্মৃতি পুরস্কার (২০০০), প্রি গে লুসাক/ হুমবোল্ট পুরস্কার (২০০১), স্যার জিওফ্রে উইলকিন্সন পুরস্কার (২০০১), সেন্টেনারি লেকচার অফ দ্য রয়্যাল স্যোসাইটি অফ কেমিস্ট্রি (২০০৮/০৯, লন্ডন)[৮] ২০১২ সালে ইউরোপিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল[৯] তাকে সম্মানসূচক 'আডভান্সড গ্রান্ট' প্রদান করে (প্রাপ্ত সম্মানের সূত্র বহিঃসংযোগে)।

গবেষণা[সম্পাদনা]

ন্যানো আকৃতির ছিদ্রালু গোলাকার পলি অক্সো মলিবডেট গঠিত ক্যাপস্যুল: ক্রাউন-ইথার সমন্বিত পর্যায়ক্রমে আবদ্ধ ২০ টি ছিদ্র গুয়ানিডিয়াম ক্যাটায়ন/গেস্ট দ্বারা পূর্ণ

বর্তমানে তার মুখ্য গবেষণার বিষয়টি হল পর্যায়ক্রমে সাজানো ছিদ্রালু ন্যানোক্লাস্টার এবং তার বহুমুখি প্রয়োগ (উদাহরণস্বরূপ, তথ্যসূত্র[১])
এই গবেষণার মুখ্য ভাগগুলো হল,

  • অণুঘটন এবং অন্যান্য পদ্ধতিতে আবদ্ধ অবস্থায় ধাপে ধাপে বদ্ধ ছিদ্র সমন্বিত ক্যাপস্যুল ও তাদের নিয়ন্ত্রিত অন্ত-রূপান্তর
  • ন্যানোপাত্রের মধ্যস্থ জলবিকর্ষণ নিয়ন্ত্রণ (যেমন এনক্যাপস্যুলেটেড জল সম্পর্কিত জ্ঞান)
  • ন্যানোবস্তুর রাসায়নিক অভিযোজন
  • গোলকের পৃষ্ঠে মাল্টি-সুপ্রা-মলিক্যুলার রসায়নের প্রয়োগ
  • পর্দার মধ্যে দিয়ে ক্যাটায়ন চলাচল ও ছোট জায়গার মধ্যে তাদের পৃথকীকরণ
  • অজৈব আয়নের ভেসিক্যল তৈরির ফলে সৃষ্ট নতুন দ্রবণের বিশ্লেষণ
  • আবদ্ধীকরণ রসায়ন এবং ছোট জায়গায় তাদের নানারকম সাধারণ বিক্রিয়া
  • বিভিন্ন অবস্থায় ন্যানোক্লাস্টারের সংযোজন বৈচিত্র্য (যেমন, ফিল্ম, একক আস্তরন (মনো-লেয়ার) এবং গ্যাসীয় অবস্থা)
  • সুপ্রামলিক্যুলার/ রাসায়নিক ডারউইনবাদের উদাহরণ
  • অভূতপূর্ব অণুচুম্বক


বৃহদাকার গোলক অণু (কেপলারেট), যেমন Mo১৩২ (ব্যাস প্রায় ৩ ন্যানোমিটার) ও সংশ্লিষ্ট অণু[১০], চাকার মত Mo১৫৪ ক্লাস্টার(তথ্যসূত্র ১ এবং [১১]) এবং ছোট শজারু আকৃতির Mo৩৬৮ (ব্যাস প্রায় ৬ ন্যানোমিটার)- অধ্যাপক ম্যুলারের এসমস্ত আবিষ্কারগুলো ন্যানবস্তুর জগৎে এক বিপ্লবের সূত্রপাত করে। অণুগুলোর গঠনের সাথে সাথে রসায়নের নানান ক্ষেত্রে তাদের অনন্য প্রয়োগ এ বিষয়ে সমান উল্লেখযোগ্য। এসমস্ত অণুগুলোর বৃহদাকার গঠন পরিমাপ করা যায় অক্সিজেন অণুর (দৈর্ঘ্য ০.১২ ন্যানোমিটার) সাথে তুলনায়, যাতে বোঝা যায় Mo৩৬৮ অক্সিজেন অণুর তুলনায় ৫০ গুণ বড়। এছাড়াও অধ্যাপক ম্যুলারের অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে আয়ন পরিবহনের মত আন্তঃকোষীয় ভৌত পদ্ধতিগুলির গোলাকার ছিদ্রালু ক্যাপস্যুলে[১২][১৩] মডেলিং। এইসমস্ত ক্লাস্টারগুলিকে একত্রে শ্রেনিবদ্ধকরণ করা হয়েছে যাদের পলিঅক্সোমলিবডেট বলা হয় এবং কিছু বিশেষ ক্লাস্টারকে মলিবডেনাম-ব্লু[১৪][১৫] পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রধানত বস্তুর রসায়ন (মেটেরিয়াল সায়েন্স) সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সমাধান খোঁজার জন্য সারা পৃথিবীর বিভিন্ন গবেষণাগারগুলিতে গবেষকেরা এই যৌগগুলি নিয়ে গবেষণারত আছেন (তথ্যসূত্র ১)।

ব্যক্তিজীবন[সম্পাদনা]

অধ্যাপক ম্যুলার ব্যক্তিজীবনে গ্রীকদর্শন, পাশ্চাত্য শাস্ত্রীয়সঙ্গীত এবং পর্বত আরোহণ করতে পছন্দ করেন। শৈশবকাল থেকেই বাবার অণুপ্রেরণায় বনের পাখিদের প্রতি তার শখ্যতা ও ভালবাসা গড়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. From linking of metal-oxide building blocks in a dynamic library to giant clusters with unique properties and towards adaptive chemistry; A. Müller, P. Gouzerh, Chem. Soc. Rev., 2012, 41, 7431.
  2. Molecular growth from a Mo176 to a Mo248 cluster, A. Müller, S. Q. N. Shah, H. Bögge, M. Schmidtmann, Nature, 1999, 397, 48.
  3. a) Iron-only nitrogenase: exceptional catalytic, structural and spectroscopic features, in: Catalysts for Nitrogen Fixation: Nitrogenases, Relevant Chemical Models, and Commercial Processes, K. Schneider, A. Müller (Eds.: B. E. Smith, R. L. Richards, W. E. Newton), Kluwer, Dordrecht (2004), p. 281; b) Towards Biological Supramolecular Chemistry: A Variety of Pocket-Templated, Individual Metal Oxide Cluster Nucleations in the Cavity of a Mo/W-Storage Protein, J. Schemberg, K. Schneider, U. Demmer, E. Warkentin, A. Müller, U. Ermler, Angew. Chem. Int. Ed., 2007, 46, 2408; corrigendum: 2007, 46, 2970.
  4. Structure-related frustrated magnetism of nanosized polyoxometalates: aesthetics and properties in harmony, P. Kögerler, B. Tsukerblat, A. Müller, Dalton Trans., 2010, (Perspective Article) 39, 21.
  5. Quantum oscillations in a molecular magnet, S. Bertaina, S. Gambarelli, T. Mitra, B. Tsukerblat, A. Müller, B. Barbara, Nature, 2008, 453, 203; corrigendum: Nature, 2010, 466, 1006.
  6. For example: a) Die inhärente Potentialität materieller (chemischer) Systeme, A. Müller, Philosophia naturalis, 1998, Bd. 35, Heft 2, 333; b) Naturgesetzlichkeiten – Chemie lediglich ein Bereich zwischen Physik und biologischen Gesetzen ?, A. Müller, Philosophia naturalis, 2000, Bd. 37, Heft 2, 351; c) Chemie und Ästhetik - die Formenvielfalt der Natur als Ausdruck ihrer Kreativität, A. Müller, ZiF (Zentrum für interdisziplinäre Forschung der Universität Bielefeld), Mitteilungen, 1999, 4, 7; d) Science, Society, and Hopes of a Renaissance Utopist, A. Müller, Science & Society, 2000, 1, 23.
  7. http://www.leopoldina.org/en/members/list-of-members/member/548/Nationale[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] Akademie der Wissenschaften Leopoldina
  8. http://www.rsc.org/ScienceAndTechnology/Awards/CentenaryPrizes/Prevwinner1.asp Centenary Lecture of the Royal Society of Chemistry
  9. Homepage, see link CV: http://www.uni-bielefeld.de/chemie/ac1/
  10. Picking up 30 CO2 Molecules by a Porous Metal Oxide Capsule Based on the Same Number of Receptors, S. Garai, E. T. K. Haupt, H. Bögge, A. Merca, A. Müller, Angew. Chem. Int. Ed., 2012, 51, 10528.
  11. Self-assembly in aqueous solution of wheel-shaped Mo154 oxide clusters into vesicles, T. Liu, E. Diemann, H. Li, A. W. M. Dress, A. Müller, Nature, 426, 2003, 59-62.
  12. Multifunctional metal oxide based nanoobjects: spherical porous capsules/artificial cells and wheel-shaped species with unprecedented materials properties, A. Müller, S. Roy, J. Mater. Chem., 2005, 15, 4673.
  13. Mimicking Biological Cation-Transport Based on Sphere-Surface Supramolecular Chemistry: Simultaneous Interaction of Porous Capsules with Molecular Plugs and Passing Cations, A. Merca, E.T.K. Haupt, T. Mitra, H. Bögge, D. Rehder, A. Müller, Chem. Eur. J., 2007, 13, 7650.
  14. A Nanosized Molybdenum Oxide Wheel with a Unique Electronic-Necklace Structure: STM Study with Submolecular Resolution, D. Zhong, F. L. Sousa, A. Müller, L. Chi, H. Fuchs, Angew. Chem. Int. Ed., 2011, 50, 7018.
  15. Soluble Molybdenum blue-"des Pudels Kern", A. Müller, C. Serain, Acc. Chem. Res., 2000, 33, 2.

আরোও দেখুন[সম্পাদনা]

  • From Scheele and Berzelius to Müller: polyoxometalates (POMs) revisited and the "missing link" between the bottom up and top down approaches, P. Gouzerh, M. Che, l’actualité chimique , 2006, June Issue, No. 298, 9.
  • Inorganic Molecular Capsules: From Structure to Function, L. Cronin, Angew. Chem. Int. Ed., 2006, 45, 3576.
  • Bringing inorganic chemistry to life, N. Hall, Chem. Commun., 2003, 803 (Focus Article).

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]