বিষয়বস্তুতে চলুন

অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পুরস্কার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পুরস্কার হলো একধরনের অনন্য পুরস্কার যা যুক্তরাজ্যে সেরা মানবাধিকার সাংবাদিকতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন স্বরূপ প্রদান করা হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যের পরিচালক, কেট অ্যালেন বলেছেন যে পুরস্কারগুলি "জনমতকে অবহিতকরণ এবং গঠনে যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম শিল্পের মুখ্য ভূমিকার" স্বীকৃতি দেয় এবং তাদের "প্রায় বিপজ্জনক কাজের" প্রতি শ্রদ্ধা জানায়৷ পুরস্কারগুলো সৃজনশীলতা, দক্ষতা এবং নিছক সংকল্পকে স্বীকৃতি দেয় যা একটি শিক্ষামূলক এবং আকর্ষক উপায়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয়।

বিশেষ করে, এই পুরস্কারগুলি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং গণমাধ্যমের মধ্যে বিদ্যমান অনন্য সম্পর্ককে তুলে ধরে। স্যার ট্রেভর ম্যাকডোনাল্ড এই সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত প্রকৃতির ব্যাখ্যা করেছেন: "সাংবাদিকতা যেখানে বন্ধ হয়ে যায় সেখানে অ্যামনেস্টি টিকে থাকে। আমরা এই বিষয়গুলি প্রত্যক্ষ করে এগিয়ে যাই। অ্যামনেস্টিতে গল্পের সাথে লেগে থাকা এবং সত্য উদ্ঘাটন ও নিশ্চিত করার গুণ রয়েছে।"

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সবসময়ই মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রকাশে গণমাধ্যমের গুরুত্বকে সমর্থন করে। অ্যামনেস্টি নিজেই একটি গণমাধ্যম গল্প হিসাবে শুরু হয়েছিল। ১৯৬১ সালে, দুই পর্তুগিজ ছাত্রকে আন্তোনিও ডি অলিভেইরা সালাজারের স্বৈরাচারী শাসনামলে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল‌ বলে অ্যামনেস্টির প্রতিষ্ঠাতা পিটার বেনেনসন এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন যে তিনি দ্য অবজার্ভারকে একটি চিঠি লিখেছিলেন।

তার "অ্যামনেস্টির জন্য আপিল" চিঠিতে সারা বিশ্বের ছয়জন রাজনৈতিক বন্দীর জন্য মুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছিলো। চিঠিটি এভাবে শুরু হয়েছিলো: "সপ্তাহের যেকোনো দিন - আপনি সংবাদপত্র খুলুন - আপনি দেখতে পাবেন একটি প্রতিবেদনে বিশ্বের কোন প্রান্তের কাউকে বন্দী করা হয়েছে, কাউকে নির্যাতন করা হয়েছে বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে কারণ তার মতবাদ বা ধর্ম তার সরকারের কাছে অগ্রহণযোগ্য। সংবাদপত্রের পাঠকরা অসহায়ত্বের দুঃখানুভূতি অনুভব করেন। তবুও যদি সারা বিশ্বে এই ঘৃণার অনুভূতিগুলিকে সাধারণ কাজে একত্রিত করা যায় তবে কার্যকর কিছু করা যেতে পারে।"

গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি অনুভূতির মধ্য দিয়ে অ্যামনেস্টির যাত্রা শুরু হয়েছিলো এবং গণমাধ্যম শিল্পের সাথে অ্যামনেস্টির অনন্য সম্পর্ক উদযাপন ভাগাভাগি করতে, ১৯৯২ সালে অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পুরস্কার চালু করা হয়।

পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্য

[সম্পাদনা]

অ্যামনেস্টি বিশ্বাস করে যে মানবাধিকার সাংবাদিকতায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হলে, সাংবাদিক এবং ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গরা তাদের মানবাধিকার সম্পর্কিত কাজের মান এবং পরিমাণ বাড়াতে উত্সাহিত হবে। ভালো মানের গণমাধ্যম অনুসন্ধানী কাজ যে গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝা যায় ২০১১ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বার্মার গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির ক্ষেত্রে, এর কারণ-"গণমাধ্যমের দ্বারা বাকি জানতে পায় যে আমাদের কি সহ্য করতে হবে"।

সাংবাদিকদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি, চ্যানেল ৪ নিউজের আন্তর্জাতিক সম্পাদক লিন্ডসে হিলসুম, যিনি ২০১৪ পুরস্কারের স্বাগতিক ছিলেন, তিনি জোর দিয়েছিলেন যে অ্যামনেস্টি অ্যাওয়ার্ড সাংবাদিকদের আরও অস্পষ্ট গল্পগুলো অনুসন্ধানী কাজ করার জন্য সম্পাদকদের উত্সাহিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা মূল্যবান। তিনি বলেছিলেন যে যখন: "আপনি উল্লেখ করেছেন যে আপনি কয়েক বছর আগে একই ধরনের গল্পের জন্য অ্যামনেস্টি পুরস্কার জিতেছিলেন। এটি সম্পাদকদের ভাবায় যে তারা হয়তো এটা থেকে কিছু প্রশংসা পাবে এবং এটি শিল্পের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি মনে করি এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি মনে করি যে অ্যামনেস্টি আমাদের এই পুরস্কারগুলো দিয়ে একটি অসাধারণ কাজ করছে যাতে আমরা যেন বলতে পারি যে: 'হ্যাঁ, আমাদের মানবাধিকার প্রতিবেদন চালিয়ে যেতে হবে, এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ'।"

যাইহোক, অ্যামি ম্যাকিনন যেন আরও নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যিনি ২০১২ সালের ছাত্র পুরস্কার বিজয়ী এবং একজন বর্তমান সাংবাদিক:অ্যামনেস্টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইউকে পুরস্কার একটি হৃদয়গ্রাহী অনুস্মারক যে, ডান হাতে, সাংবাদিকতা ভালো কাজের জন্য শক্তির উৎস হতে পারে।

পুরস্কার

[সম্পাদনা]

বিভাগ

[সম্পাদনা]

২০১৩ সালের পুরস্কারের বিভাগগুলো:

  • টিভি সংবাদ
  • ডিজিটাল
  • ফিচার
  • চিত্রসাংবাদিকতা
  • জাতীয় সংবাদপত্র
  • রেডিও
  • জাতি ও অঞ্চল
  • গ্যাবি রাডো মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড
  • তথ্যচিত্র
  • ছাত্র মানবাধিকার প্রতিবেদক

গ্যাবি রাডো মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড

[সম্পাদনা]

গ্যাবি রাডো মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড, সর্বপ্রথম ২০০৪ সালের মে মাসে প্রদান করা হয়, যা এমন একজন সাংবাদিককে স্বীকৃতি দেয় যিনি পাঁচ বছরেরও কম সময় ধরে সম্প্রচার বা প্রিন্ট মিডিয়াতে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের গল্প কভার করছেন।[][]

২০০৩ সালে ইরাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া সাংবাদিক গ্যাবি রাডোর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীদের সহায়তায় এই পুরস্কারটি প্রবর্তিত হয়েছিল। তিনি তিনটি অ্যামনেস্টি মিডিয়া পুরস্কারের প্রাপক ছিলেন: ১৯৯৬ সালে বসনিয়া/স্রেব্রেনিকার উপর ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য, ১৯৯৮ সালে উত্তর-পশ্চিম চীনের মুসলিম সংখ্যালঘু উইঘুরদের কভারেজের জন্য এবং ২০০২ সালে "বলকান যুদ্ধে নৃশংসতার মানবিক মূল্যের চলমান বিবরণের জন্য।"[]

স্টুডেন্ট হিউম্যান রাইটস রিপোর্টার অ্যাওয়ার্ড

[সম্পাদনা]

স্টুডেন্ট হিউম্যান রাইটস রিপোর্টার অ্যাওয়ার্ড ২০১০ প্রবর্তিত হয় এবং ২০১১ সালে প্রথম দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে পুরস্কারটি এনইউএস (ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ স্টুডেন্টস) এবং দ্য মিরর সংবাদপত্রের সাথে পরিচালিত হয়েছিল।[] পুরস্কারটি এখন এনইউএস এবং দ্য অবজার্ভার- এর সাথে একযোগে পরিচালিত হয়।[]

পুরস্কারটি উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত, এবং পুরস্কারটি তাদের দুই সপ্তাহের জন্য বাস্তব-বিশ্ব প্রতিবেদন এবং লেখার অভিজ্ঞতা বিকাশের জন্য পৃষ্ঠপোষকদের সাথে কাজ করার উৎসাহ দেয়। ২০১৩ সালে শীর্ষ পুরস্কারটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংকট প্রতিবেদনের জন্য পুলিৎজার সেন্টারের সাথে একটি ফেলোশিপ এবং একটি পছন্দের কম-প্রতিবেদন করা বিষয় কভার করার জন্য $২,০০০ ভ্রমণ অনুদান।[]

মানদণ্ড

[সম্পাদনা]

প্রতি বছর অ্যামনেস্টির মিশন দ্বারা বেষ্টিত মানবাধিকার কাজের ক্ষেত্রগুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, যা হল "যেখানে ন্যায়, ন্যায্যতা, স্বাধীনতা এবং সত্যকে অস্বীকার করা হয় ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করা হয়"।[][][]

কাজগুলো অবশ্যই শেষের সময়সীমার আগের বছরে প্রকাশিত বা সম্প্রচারিত হতে হবে। অ্যামনেস্টিকে অ্যাওয়ার্ড পরিচালনার খরচ বহন করতে সাহায্য করার জন্য একটি এন্ট্রি ফি রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে ওয়েবসাইটের মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড বিভাগে সম্পূর্ণ মানদণ্ড বিদ্যমান রয়েছে,[] এবং অনুষ্ঠানের চার মাস আগে প্রতি বছর পাঠানো এন্ট্রি ফর্মের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

অনুষ্ঠান

[সম্পাদনা]

অনুষ্ঠানটি প্রতি বছর কেন্দ্রীয় লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে প্রায় ৪০০ জন অতিথি অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে রাজনীতিবিদ, কীর্তি ব্যক্তিবর্গ এবং যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম শিল্পের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকে। সাধারণত যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমের একজন উচ্চ-পদস্ত সদস্য স্বাগতিক হিসেবে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং বিচারক দলের প্রত্যেক প্রতিনিধিদের দ্বারা বিভিন্ন পুরস্কার উপস্থাপন করা হয়। অতীতের স্বাগতিকদের মধ্যে সাংবাদিক এবং সম্প্রচারক নিক ক্লার্ক, সাংবাদিক এবং সংবাদ পাঠক ময়রা স্টুয়ার্ট, চ্যানেল ৪ নিউজের আন্তর্জাতিক সম্পাদক লিন্ডসে হিলসাম এবং বিবিসির লাইসে ডুসেট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০১৫ পুরস্কারের স্বাগতিক ছিলেন ব্রিটিশ রেডিও এবং টেলিভিশন উপস্থাপক এবং সাংবাদিক অনিতা আনন্দ। পুরস্কার উপস্থাপনকারী কৃতি অতিথিদের মধ্যে বব গেল্ডফ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যিনি "হিউম্যান রাইটস্ জার্নালিজম্ আন্ডার থ্রেট" ২০০৪ এর জন্য বিশেষ পুরস্কার প্রদান করেন, যা জিতেছিলেন ইথিওপিয়ান ফ্রি প্রেস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কিফল মুলাত।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Gaby Rado Award"। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে (এআইইউকে)। ২০০৪। ১৭ আগস্ট ২০০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  2. Byrne, Ciar (২৭ মে ২০০৩)। "Amnesty creates award in honour of Rado"দ্য গার্ডিয়ান। ২৬ আগস্ট ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত
  3. "Tribute to Gaby Rado 17 January 1955–30 March 2003"। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে (এআইইউকে)। ২০০৩। ২২ জুন ২০০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  4. "Student Human Rights Reporter of the Year Award launched"। এনইউএস নিউজ। ৫ অক্টোবর ২০১০। ২ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  5. 1 2 "Final call for entries: Student human rights reporter award a week to go"প্রেস রিলিজ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে (এআইইউকে)। ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  6. "অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ম্যাগাজিন"। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  7. "Walker Books and Amnesty International"ওয়াল্কার বুকস্। ১৩ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  8. "Our Work"। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে (এআইইউকে)। ১৫ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  9. "Time To Enter"। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে (এআইইউকে)। ২০১৩। ১২ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]