বিষয়বস্তুতে চলুন

অ্যাপল ওয়াচ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অ্যাপল ওয়াচ
নির্মাতাঅ্যাপল ইংক.
প্রস্তুতকারককোয়ান্টা কম্পিউটার[]
(চুক্তিবদ্ধ প্রস্তুতকারী)
ধরনস্মার্টওয়াচ
প্রজন্মদ্বিতীয় প্রজন্ম
মুক্তির তারিখঅরিজিনাল: ২৪ এপ্রিল ২০১৫; ১১ বছর আগে (2015-04-24)
সিরিজ ১ ও সিরিজ ২: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬; ৯ বছর আগে (2016-09-16)
সিরিজ ৩: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭; ৮ বছর আগে (2017-09-22)
সিরিজ ৪:২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮; ৭ বছর আগে (2018-09-21)
অপারেটিং সিস্টেমকাস্টম, ওয়াচওএস হিসেবে বাজারজাতকৃত, আইওএস ভিত্তিক
গ্রাফিক্সপাওয়ারভিআর এসজিএক্স৫৪৩ []
অনগ্রসর সামঞ্জস্যওয়াচওএস ১, ২, এবং ৩:আইফোন ৫ ও পরের

ওয়াচওএস ৪:আইফোন ৫এস অথবা পরের

সিরিজ ৩ (জিপিএস+সেলুলার):আউফোন ৬ অথবা পরের
ওয়েবসাইটwww.apple.com/watch

অ্যাপল ওয়াচ[] (ইংরেজি: Apple Watch) অ্যাপল ইংক. নির্মিত ও বাজারজাতকৃত স্মার্টওয়াচের একটি সিরিজ। আইওএস ও অ্যাপলের অন্যান্য পণ্য ও সেবার সাথে এটি ফিটনেস ট্র‍্যাকিং ও স্বাস্থ্য-ভিত্তিক সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করে। অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীদের জীবনকে আরও স্মার্ট এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটি ঘুমের মান পর্যবেক্ষণ করে এবং ব্যবহারকারীকে আরও ভাল অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে। বিভিন্ন স্পোর্টস ওয়ার্কআউট ট্র্যাক করার সুবিধাও এতে রয়েছে। অ্যাপল ওয়াচের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায়। ফলে, এটি শুধুমাত্র একটি ঘড়ি নয়, বরং স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাজেট হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভ্যারিয়েন্ট

[সম্পাদনা]

প্রতিটি সিরিজ প্রথমে একাধিক ভ্যারিয়েন্টে বিক্রি করা হয়েছে, যা নির্ধারিত হয়েছে ঘড়ির কেসিংয়ের উপাদান, রঙ এবং আকার দ্বারা (শুধুমাত্র সিরিজ 1 এবং এসই ছিল অ্যালুমিনিয়ামে; আর আল্ট্রা কেবল ৪৯ মিমি টাইটানিয়ামে উপলব্ধ ছিল)। সিরিজ ৩ থেকে অ্যালুমিনিয়াম মডেলে এলটিই (LTE) কানেক্টিভিটি যুক্ত হয়, যা অন্যান্য উপকরণে আগে থেকেই মানসম্মত বৈশিষ্ট্য হিসেবে থাকে। ঘড়ির সাথে আসা ব্যান্ড অ্যাপল থেকে আলাদাভাবে বেছে নেওয়া যায়। অ্যালুমিনিয়ামের ভ্যারিয়েন্টে নাইকি এবং স্টেইনলেস স্টিল ভ্যারিয়েন্টে হার্মেস এর সাথে কো-ব্র্যান্ডেড মডেলও দেওয়া হয়, যাতে থাকে এক্সক্লুসিভ ব্যান্ড, রঙ এবং ডিজিটাল ওয়াচ ফেস।

অ্যাপল ওয়াচ[] ব্যবহারকারীর আইফোন এর সাথে কাজ করে বিভিন্ন কনফিগারেশন ও ডেটা সিঙ্কের জন্য, তবে এটি আলাদাভাবে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কেও যুক্ত হতে পারে অ্যাপ ব্যবহার, যোগাযোগ বা অডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য। এলটিই যুক্ত মডেলগুলো এই সুবিধাগুলো মোবাইল নেটওয়ার্কেও করতে পারে, এমনকি কাছাকাছি আইফোন না থাকলেও বা বন্ধ থাকলেও কল করা ও রিসিভ করা সম্ভব। কোন মডেলের আইফোন এর সাথে অ্যাপল ওয়াচ যুক্ত হবে, তা নির্ভর করে ডিভাইসে চলমান ওয়াচওএসআইওএস সংস্করণের উপর। সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে নতুন অ্যাপল ওয়াচে watchOS 11 প্রি-ইনস্টল থাকে এবং এটি চালাতে হলে আইওএস ১৮ যুক্ত আইফোন এক্সআর, আইফোন এক্সএস বা পরবর্তী মডেল প্রয়োজন। ভবিষ্যতে watchOS 26 এর জন্য কমপক্ষে আইফোন 11 প্রয়োজন হবে, যেখানে আইওএস ২৬ চলবে।

অ্যাপল ওয়াচ হলো একমাত্র স্মার্টওয়াচ যা আইফোন এর জন্য পুরোপুরি সমর্থিত, কারণ অ্যাপল অন্য স্মার্টওয়াচের জন্য এপিআই সীমাবদ্ধ রাখে। ফলে অন্য স্মার্টওয়াচগুলোতে সবসময়ই কম সুবিধা পাওয়া যায়।

উন্নয়ন

[সম্পাদনা]

অ্যাপল এর ডিজাইন প্রধান জনি আইভ স্টিভ জবস এর মৃত্যু (অক্টোবর ২০১১) এর কিছুদিন পর একটি ঘড়ি বানানোর ব্যাপারে আগ্রহী হন। সে বছরের ডিসেম্বর মাসে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, অ্যাপল বিভিন্ন ধারণা যাচাই করছে, যেমন "কার্ভড-গ্লাস আইপড, যা কব্জিতে পেঁচিয়ে রাখা যাবে" এবং এতে সিরি ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করা যাবে, যা আবার আইফোন এ তথ্য পাঠাতে সক্ষম হবে। ফেব্রুয়ারি ২০১৩-তে আবারও দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসদ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নিশ্চিত করে যে, অ্যাপল কার্ভড ডিসপ্লে যুক্ত একটি স্মার্টওয়াচ নিয়ে কাজ করছে। একই সময়ে ব্লুমবার্গ নিউজ জানায়, প্রায় ১০০ ডিজাইনার এই টিমে কাজ করছে।

মার্চ ২০১৩-তে অ্যাপল, প্রাক্তন অ্যাডোবি প্রযুক্তি কর্মকর্তা কেভিন লিঞ্চ কে প্রজেক্ট প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়, যিনি বব ম্যান্সফিল্ড এর অধীনে কাজ করছিলেন। এই প্রজেক্ট ছিল স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর অ্যাপলের প্রথম বড় প্রোডাক্ট। অ্যাপল প্রকল্প শুরু করে কোনো নির্দিষ্ট ব্যবহার-কেস ছাড়াই। অ্যালান ডাই, যিনি ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইনের দায়িত্বে ছিলেন, বলেছিলেন প্রযুক্তি এক সময় শরীরে চলে আসবে। লিঞ্চের মতে, মানুষ ফোনে অনেক সময় ব্যয় করে এবং বারবার নোটিফিকেশনে বিরক্ত হয়; ঘড়ি সেই এনগেজমেন্টকে আরও মানবিকভাবে ও সরাসরি দেবে।

জুলাই ২০১৩-তে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায় যে অ্যাপল স্মার্টওয়াচের জন্য আরও কর্মী নিয়োগ করছে এবং ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে। সফটওয়্যার হার্ডওয়্যারের চেয়ে দ্রুত এগোয়। টিম প্রথম প্রোটোটাইপ তৈরি করে ভেলক্রো দিয়ে হাতে বাঁধা একটি আইফোন, যাতে আসল মাপে অ্যাপল ওয়াচ সফটওয়্যার চালানো হয়। প্রথম দিকে এর ইউজার ইন্টারফেস ছিল আইফোন দ্বারা অনুপ্রাণিত, কিন্তু তা অত্যন্ত জটিল হওয়ায় তিনবার পুনঃনকশা করা হয়। নোটিফিকেশন ভাইব্রেশন ও সাউন্ড নিয়ে তারা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পরীক্ষা চালায়। পরে ডিসপ্লে গভীরভাবে চাপলে কনটেক্সট মেনু খোলার ফিচার ফোর্স টাচ যুক্ত করা হয়। অন্য পণ্যের তুলনায় এখানে ব্যবহারকারীর ফ্যাশন রুচি অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যান্ড, মডেল (যেমন সোনার মোড়ানো "অ্যাপল ওয়াচ এডিশন") ও ওয়াচ ফেস দেওয়া হয়।

উন্মোচন

[সম্পাদনা]

এপ্রিল ২০১৪-তে অ্যাপল এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে বলেন যে, এ বছর নতুন প্রোডাক্ট আসবে, তবে কোনো বিশদ জানাননি। জুন ২০১৪-তে রয়টার্স জানায় যে, জুলাইয়ে উৎপাদন শুরু হবে এবং অক্টোবর মাসে রিলিজ করা হবে। সেপ্টেম্বরে আইফোন 6 এর সাথে অ্যাপল ওয়াচ টিম কুকের বিখ্যাত "one more thing" অংশে উন্মোচিত হয়।

প্রথম দিকে অ্যাপল এটি ফ্যাশন অ্যাকসেসরি হিসেবে বাজারজাত করে, কিন্তু পরে স্বাস্থ্যফিটনেস বৈশিষ্ট্যের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। watchOS 3হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীর জন্য ফিটনেস ট্র্যাকিং, সামাজিক শেয়ারিং এবং Breathe অ্যাপ যুক্ত হয়।

এই ডিভাইসের নাম "iWatch" রাখা হয়নি, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে "iWatch" নামটি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। ইইউ-তে এটি ছিল Probendi নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেডমার্ক। জুলাই ২০১৫-তে Probendi, গুগল বিজ্ঞাপনের কারণে অ্যাপল এর বিরুদ্ধে মামলা করে।

প্রকাশ ও বিক্রি

[সম্পাদনা]

অ্যাপল ওয়াচের প্রি-অর্ডার শুরু হয় ১০ এপ্রিল ২০১৫ এবং ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসে।[] প্রথমে অ্যাপল স্টোর এ সরাসরি বিক্রি না করে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে কাস্টমারদের ট্রাই করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং অনলাইনে অর্ডার করতে হতো। প্রথমবার অ্যাপল ওয়াচ প্রদর্শিত হয় প্যারিসের কোলেট স্টোরে। পরে সীমিত সংখ্যক বিলাসবহুল বুটিক ও অনুমোদিত রিসেলারদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।

৪ জুন ২০১৫ থেকে অ্যাপল রিটেল স্টোর গুলোতে স্টক রাখা শুরু হয়। আগস্টে বেস্ট বাই ঘোষণা করে যে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ তাদের স্টোরেও অ্যাপল ওয়াচ বিক্রি হবে। একই সময়ে টি-মোবাইল ইউএস এবং স্প্রিন্টও বিক্রি শুরু করার ঘোষণা দেয়।

সেপ্টেম্বর ২০১৫-তে হারমেস এর সাথে যৌথভাবে স্টেইনলেস স্টিল বডি ও লেদার ব্যান্ডযুক্ত নতুন ভ্যারিয়েন্ট বাজারে আসে। পরের বছর নাইকি এর সাথে যৌথভাবে Apple Watch Nike+ বাজারে আসে। নভেম্বর ২০১৫-তে ভারতে অ্যাপল ওয়াচ বিক্রি শুরু হয় এবং একই সময়ে চিলি, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াদক্ষিণ আফ্রিকাতেও এটি চালু হয়।

হার্ডওয়্যার

[সম্পাদনা]

অ্যাপল ওয়াচের ডিজাইন তৈরি করা হয়েছিল অ্যাপল ইনক.-এর প্রধান ডিজাইনার জনি আইভ এবং অন্যান্য দলের মাধ্যমে। এতে বৃত্তাকার প্রান্তসহ একটি আয়তাকার স্ক্রিন থাকে এবং বিভিন্ন উপাদান যেমন অ্যালুমিনিয়াম, স্টেইনলেস স্টিল, টাইটানিয়াম ও সিরামিক ব্যবহার করা হয়েছে। ঘড়ির সামনের দিকের ডিসপ্লে সুরক্ষার জন্য আয়ন-এক্স গ্লাস অথবা স্যাফায়ার ক্রিস্টাল ব্যবহার করা হয়।

অ্যাপল ওয়াচের প্রাথমিক মডেলগুলো দুই সাইজে উন্মোচিত হয়েছিল—৩৮ মিমি এবং ৪২ মিমি। পরবর্তীতে এটি ৪০ মিমি ও ৪৪ মিমি, তারপর ৪১ মিমি ও ৪৫ মিমিতে পরিবর্তিত হয়। এছাড়া অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা মডেলটি ৪৯ মিমি সাইজে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

ইনপুট ও সেন্সর

[সম্পাদনা]

অ্যাপল ওয়াচে মাল্টি-টাচ ডিসপ্লে, সাইডে একটি ডিজিটাল ক্রাউন, বোতাম এবং হ্যাপটিক ফিডব্যাক রয়েছে। এতে বিল্ট-ইন হার্ট রেট সেন্সর, অ্যাক্সেলোমিটার, জাইরোস্কোপ, জিপিএস, ইসিজি সেন্সর এবং ব্লাড অক্সিজেন সেন্সর রয়েছে। এছাড়া নতুন মডেলগুলোতে তাপমাত্রা সেন্সরডুয়াল-ফ্রিকোয়েন্সি জিপিএস যুক্ত হয়েছে।

ব্যাটারি

[সম্পাদনা]

অ্যাপল ওয়াচে একটি পুনরায় চার্জযোগ্য লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাথমিক মডেলগুলোতে ১৮ ঘণ্টা ব্যাটারি লাইফ পাওয়া যেত। পরবর্তী মডেলগুলোতে ব্যাটারির ক্ষমতা ও চার্জিং প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে। ম্যাগনেটিক চার্জিং কেবল এবং পরবর্তী সময়ে ম্যাগসেফ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।[]

ব্যান্ড

[সম্পাদনা]

অ্যাপল বিভিন্ন ধরনের ঘড়ির স্ট্র্যাপ (ব্যান্ড) তৈরি করেছে—স্পোর্টস ব্যান্ড, লেদার ব্যান্ড, স্টেইনলেস স্টিল লিংক ব্রেসলেট এবং মিলানিজ লুপ। পরবর্তীতে নাইকি ও হারমেস সহযোগিতায় বিশেষ সংস্করণের ব্যান্ড প্রকাশিত হয়েছে।

অ্যাপল ওয়াচের একাধিক সংস্করণ রয়েছে:[]


  • অ্যাপল ওয়াচ (প্রথম প্রজন্ম)
  • অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১
  • অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ২
  • অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৩
  • অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৪
  • অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৫
  • অ্যাপল ওয়াচ এসই
  • অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৬
  • অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৭
  • অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৮
  • অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা
  • অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৯
  • অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ২
  • অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১০

সিরিজ ১০

[সম্পাদনা]

অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১০, যা অ্যাপল ওয়াচ এক্স নামেও পরিচিত, প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালে। এটি অ্যাপল ওয়াচের ১০ম বার্ষিকী উপলক্ষে তৈরি একটি বিশেষ সংস্করণ। এই মডেলে পাতলা নকশা, নতুন প্রজন্মের অ্যাপল সিলিকন চিপ, উন্নত ডিসপ্লে প্রযুক্তি এবং নতুন ব্যান্ড সংযোগ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এটি সিরিজ ৯-এর তুলনায় আরো হালকা ও কার্যকরী এবং watchOS 11[] অপারেটিং সিস্টেম চালিত।

সফটওয়্যার

[সম্পাদনা]

অ্যাপল ওয়াচ একটি বিশেষ অপারেটিং সিস্টেমে চলে, যার নাম watchOS। এটি মূলত iOS-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি, তবে ঘড়ির ছোট স্ক্রিন ও কব্জিতে ব্যবহারের জন্য আলাদাভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।

বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]
  • সময় প্রদর্শন: বিভিন্ন ধরনের ওয়াচ ফেস বেছে নিয়ে সময় দেখা যায়।
  • নোটিফিকেশন: সরাসরি আইফোন থেকে নোটিফিকেশন দেখা ও উত্তর দেওয়া যায়।
  • স্বাস্থ্য ও ফিটনেস: হার্ট রেট মাপা, ব্যায়াম প্রোগ্রাম, অ্যাক্টিভিটি রিংস সহ নানা স্বাস্থ্য সুবিধা।
  • অ্যাপ: ফিটনেস, যোগাযোগ, সংবাদসহ বিভিন্ন অ্যাপ ডাউনলোড ও ব্যবহার করা যায়।
  • আইফোনের সাথে সমন্বয়: কল করা, টেক্সট পাঠানো, অ্যাপল পে ব্যবহার, এমনকি আইফোন আনলক করা যায়।
  • আপডেট: নিয়মিত আপডেটে নতুন ফিচার, বাগ ফিক্স ও নিরাপত্তা উন্নয়ন আসে। watchOS 6 বা পরবর্তী সংস্করণে সরাসরি ঘড়ি থেকেও আপডেট করা যায়।

অ্যাপল ওয়াচের ইন্টারফেস একটি হোম স্ক্রিনকে ঘিরে, যেখানে বৃত্তাকার আইকন থাকে। সেটিংসে চাইলে তালিকা আকারেও দেখা যায়। ব্যবহার করা যায় টাচস্ক্রিন বা সাইড ক্রাউন দিয়ে। প্রথম প্রজন্মের অ্যাপল ওয়াচের জন্য অন্তত আইফোন ৫ এবং iOS 8.2 দরকার ছিল। iOS 8.2-তেই "অ্যাপল ওয়াচ" অ্যাপ যোগ হয়েছিল, যা দিয়ে ঘড়ি পেয়ার করা, সেটিংস কাস্টমাইজ করা এবং অ্যাপ ইনস্টল করা যেত।

অ্যাপল ওয়াচে সিরি, অ্যাপল পে, কল/মেসেজ গ্রহণ, হ্যান্ডঅফ সাপোর্ট, এমনকি আইফোন ক্যামেরার ভিউফাইন্ডার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। প্রাথমিক সংস্করণে "Glances" নামক ফিচার ছিল, যা পরবর্তীতে কন্ট্রোল সেন্টারে রূপান্তরিত হয়।

ডিফল্ট অ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে—মেইল, ফোন, ক্যালেন্ডার, ম্যাপস, মেসেজেস, মিউজিক, ফটোস, রিমাইন্ডারস, রিমোট (আইটিউনসঅ্যাপল টিভি নিয়ন্ত্রণের জন্য), স্টকস এবং ওয়ালেট। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ডেটা হেলথকিট-এর মাধ্যমে আইফোনের হেলথ অ্যাপে সিঙ্ক হয়। watchOS 3-এ রিমাইন্ডারস, হোম, ফাইন্ড মাই ফ্রেন্ডস, হার্ট রেট ও "ব্রিদ" অ্যাপ যোগ হয়েছিল।

সংস্করণ ইতিহাস

[সম্পাদনা]

watchOS 2 ঘোষণা করা হয়েছিল WWDC ২০১৫-তে এবং সেপ্টেম্বর ২০১৫-তে প্রকাশিত হয়। এতে নতুন ডেভেলপমেন্ট কিট, নতুন ওয়াচ ফেস ও ইমেইলে উত্তর দেওয়ার সুবিধা যোগ হয়। watchOS 3 ঘোষণা হয় ২০১৬-তে। এতে অ্যাপ দ্রুত খোলার সুবিধা, নতুন ডক, কন্ট্রোল সেন্টার, মেসেজ রিপ্লাই অপশন, SOS, অ্যাক্টিভিটি শেয়ারিং ও "ব্রিদ" অ্যাপ যুক্ত হয়। সেপ্টেম্বর ২০১৬-তে মুক্তি পায়। watchOS 4 আসে সেপ্টেম্বর ২০১৭-তে। এতে সিরি ওয়াচ ফেস, পার্সোনালাইজড কোচিং, নতুন মিউজিক অ্যাপ ও অ্যাপল জিমকিট যুক্ত হয়। watchOS 5 প্রকাশিত হয় সেপ্টেম্বর ২০১৮-তে। এতে ওয়াকি-টকি মোড, পডকাস্টস অ্যাপ, ওয়েবকিট সাপোর্ট ও নতুন ওয়ার্কআউট ফিচার যোগ হয়। watchOS 6 সেপ্টেম্বর ২০১৯-এ মুক্তি পায়। এতে ভয়েস মেমো, ক্যালকুলেটর, আলাদা অ্যাপ স্টোর, নয়েজ অ্যাপ, মেনস্ট্রুয়াল ট্র্যাকিং ও নতুন ওয়াচ ফেস যুক্ত হয়। watchOS 7 আসে সেপ্টেম্বর ২০২০-তে। এতে স্লিপ ট্র্যাকিং, হ্যান্ডওয়াশ ডিটেকশন, নতুন ওয়ার্কআউটস এবং অতিরিক্ত ওয়াচ ফেস যুক্ত হয়। watchOS 8 প্রকাশিত হয় সেপ্টেম্বর ২০২১-এ। এতে "Breathe" অ্যাপের পরিবর্তে "Mindfulness", ফোকাস মোড, পোর্ট্রেট ওয়াচ ফেস, আপডেটেড মেসেজেস ও হোম অ্যাপ যুক্ত হয়। watchOS 9 সেপ্টেম্বর ২০২২-এ প্রকাশিত হয়। এতে ওয়ার্কআউট ডিসপ্লেতে নতুন মেট্রিক্স, উন্নত স্লিপ ট্র্যাকিং ও অতিরিক্ত ওয়াচ ফেস যুক্ত হয়। watchOS 10 সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ মুক্তি পায়। এতে প্রায় সব অ্যাপ নতুনভাবে ডিজাইন করা হয়, সাইক্লিং মেট্রিক্স উন্নত হয় এবং "স্মার্ট স্ট্যাকস" নামক উইজেট স্ট্যাক ফিচার যুক্ত হয়। watchOS 11 ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং watchOS 26 উন্নয়নের অধীনে রয়েছে, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ

[সম্পাদনা]

প্রথম watchOS-এ থার্ড-পার্টি অ্যাপস আসলে আইফোনে চলত এবং শুধু ইন্টারফেস ঘড়িতে প্রদর্শিত হত। watchOS 2 থেকে নেটিভ অ্যাপ চালানো সম্ভব হয়, ফলে থার্ড-পার্টি অ্যাপ দ্রুত কাজ করতে থাকে।

watchOS 5 বা তার আগে পর্যন্ত অ্যাপগুলো আইফোনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু watchOS 6 থেকে স্বাধীনভাবে অ্যাপ ইনস্টল করা যায়, কারণ আলাদা অ্যাপ স্টোর সরাসরি ঘড়িতেই যুক্ত হয়েছে। এর ফলে অনেক অ্যাপ আইফোন ছাড়াই ঘড়িতে ব্যবহার করা সম্ভব।

গ্রহণযোগ্যতা

[সম্পাদনা]

অ্যাপল ওয়াচ উন্মোচনের পর প্রযুক্তি ও ঘড়ি শিল্পের সমালোচকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। অনেকেই এর "ডিজাইন, সম্ভাব্য ক্ষমতা এবং ব্যবহারযোগ্যতা"র প্রশংসা করেন, আবার কেউ কেউ এই বিষয়গুলোর সমালোচনাও করেন। মার্ক অ্যান্ড্রিসেন বলেন তিনি "অপেক্ষা করতে পারছেন না" এটি চেষ্টা করার জন্য, আর ওয়াল্টার আইজাকসন একে "অত্যন্ত চমৎকার" বলে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন।

২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে টাইম ম্যাগাজিন অ্যাপল ওয়াচকে "২৫টি সেরা আবিষ্কার"-এর একটি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

প্রথম রিভিউগুলো সাধারণত ইতিবাচক ছিল, তবে কিছু সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা হয়েছিল। ডিজাইন ও দৈনন্দিন জীবনের সাথে একীভূত হওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করা হলেও, গতি ও মূল্য নিয়ে সমালোচনা করা হয়। অনেকে একে কার্যকর ও সুবিধাজনক বলেছেন, তবে স্মার্টফোনের তুলনায় কম ফিচার অফার করার কথা উল্লেখ করেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর ফরহাদ মাঞ্জু জানান, watchOS 1 ব্যবহার শিখতে তার কয়েকদিন লেগেছিল, তবে পরে তিনি এটি পছন্দ করেন।

রিভিউয়ারদের মধ্যে ব্যাটারি লাইফ নিয়ে মিশ্র মতামত ছিল। কেউ বলেছেন এটি প্রতিদিনের ব্যবহার সামলে নিতে পারে, তবে কষ্টে। অন্যরা এটি স্যামসাং গিয়ার ২-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার ব্যাটারি একটানা তিন দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

ব্যবহারকারীদের মধ্যে কেউ কেউ ট্যাটুর কারণে হার্ট রেট সেন্সর সঠিকভাবে কাজ না করার অভিযোগ করেছেন, কারণ অ্যাপল ওয়াচে ব্যবহৃত ফটোপ্লিথিসমোগ্রাফি (PPG) সবসময় আলো শোষণ সঠিকভাবে পরিমাপ করতে পারে না। এছাড়া কিছু ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন যে স্পেস গ্রে স্পোর্ট মডেলের পেছনের লোগো ও টেক্সট সহজেই মুছে যায়।

বিক্রি

[সম্পাদনা]

অ্যাপল ওয়াচের প্রি-অর্ডার শুরু হয় ১০ এপ্রিল ২০১৫-তে, তবে পর্যাপ্ত উপাদান না থাকায় শিপমেন্ট দেরি হয়। প্রথম ছয় ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক মিলিয়ন ইউনিট প্রি-অর্ডার করা হয়েছিল। তবে রিলিজের পর মাত্র ২২ শতাংশ ডেলিভারি হয়।

একজন বিশ্লেষকের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম বছরেই অ্যাপল ওয়াচ ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হয়।

অ্যাপল কখনো অফিসিয়াল বিক্রির সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে আইডিসির অনুমান অনুযায়ী ২০১৫ সালে ১২ মিলিয়নের বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছিল। ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ২০ মিলিয়ন ঘড়ি বিক্রি হয় এবং বাজারে প্রায় ৫০ শতাংশ শেয়ার দখল করে। অনুমান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১৮ মিলিয়ন, ২০১৯ সালে ৩১ মিলিয়ন এবং ২০২০ সালে ৩৪ মিলিয়ন ইউনিট বিক্রি হয়। ২০২১ সালে বিশ্লেষকরা জানান, বিশ্বব্যাপী ১০০ মিলিয়নের বেশি অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহৃত হচ্ছে।

২০২০ সালে অ্যাপল পুরো সুইস ঘড়ি শিল্পর তুলনায় বেশি ঘড়ি বিক্রি করে, যার মধ্যে সোয়াচট্যাগ হিউয়ার-এর মতো ব্র্যান্ড অন্তর্ভুক্ত।

বিতর্ক

[সম্পাদনা]

অক্টোবর ২০২৪-এ অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১০ ইন্দোনেশিয়ায় বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে, যা আইফোন ১৬-এর বিক্রি নিষিদ্ধের সম্প্রসারণ ছিল। ইন্দোনেশিয়ার সরকার ৪০% স্থানীয় উপাদান ব্যবহারের নিয়ম চালু করেছিল, যা অ্যাপল পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।

মেধাস্বত্ব বিরোধ

[সম্পাদনা]

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে জোসেফ উইসেল, নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কার্ডিওলজিস্ট, অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, অ্যাপল ওয়াচ তার পেটেন্টকৃত এট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

সিরিজ ৭ উন্মোচনের পর আরেকটি সফটওয়্যার কোম্পানি অ্যাপলের বিরুদ্ধে কিবোর্ড ফাংশনালিটি কপি করার অভিযোগ তোলে।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশন (ITC) রায় দেয় যে অ্যাপল ওয়াচে মাসিমো নামক মেডিকেল প্রযুক্তি কোম্পানির পেটেন্ট লঙ্ঘন হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়। অ্যাপল অভিযোগ অস্বীকার করে এবং মাসিমোকে প্রতিযোগিতা ঠেকানোর চেষ্টা করার অভিযোগ তোলে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৯অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ২ বিক্রি বন্ধ করে। তবে পরবর্তীতে আদালতের স্থগিতাদেশে বিক্রি পুনরায় শুরু হয়।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া নতুন সিরিজ ৯ ও আল্ট্রা ২ মডেলে ব্লাড অক্সিজেন ফিচার সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে ১৪ আগস্ট ২০২৫-এ অ্যাপল ঘোষণা করে যে এই ফিচার নতুনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এবার সেন্সর ডেটা ঘড়িতে সংগ্রহ করে প্রসেসিং হবে আইফোনে। একই দিনে iOS 18.6.1watchOS 11.6.1 প্রকাশিত হয়। এর পর ১৯ আগস্ট ২০২৫-এ iOS 26watchOS 26-এও এই পরিবর্তন যুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Eva Dou (২০ জুন ২০১৪)। "Who Is Apple's Watch Maker?"The Wall Street Journal। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  2. "Apple Watch runs 'most' of iOS 8.2, may use A5-equivalent processor"AppleInsider। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০১৫
  3. "Apple Watch"Apple Official Website। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২৫
  4. "Apple Watch updates 2025: New watchOS features you should try"DevicesFinder। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  5. "All Apple Watch Release Dates in Order"IGN। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  6. "Check battery health and usage on Apple Watch"Apple Support। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  7. "All Apple Watch Release Dates in Order"IGN। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  8. "About watchOS 11 Updates"Apple Support। ১৪ আগস্ট ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫