অরুণ সোম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

অরুণ সোম একজন বাঙালি অনুবাদক। তিনি বহু বই মূল রুশ থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন।

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

অরুণ সোমের আদিবাড়ি অধুনা বাংলাদেশে। তার ছোটবেলা কেটেছে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে। পঞ্চাশের দাঙ্গার পর তার পিতা সপরিবারে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসেন।[১] ষাটের দশকের গোড়ার দিকে যখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন তখন তিনি রুশ ভাষা শেখার বিষয়ে আগ্রহী হন। তার রাশিয়ান ভাষা শেখার বিষয়টি কিছুটা রাজনৈতিকও ছিল। তিনি মাক্সিম গোর্কির রচিত মা এবং আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসগুলির মাধ্যমে রাশিয়ান সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হন।[২]

রাশিয়ান ভাষা শেখার পর তিনি তুর্গেনেভ ও তলস্তয়ের কয়েকটি গল্প অনুবাদ করেন। এরপর তিনি মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে একটি স্কলারশিপ পেয়ে যান।[২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

অরুণ সোম অনুবাদকের চাকরি নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন যান। তিনি ১৯৭৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মস্কোতে অনুবাদক হিসাবে কাজ করেন।[৩] এই সময় তিনি ৪০টিরও বেশি বই রাশিয়ান থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।[২] সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর তিনি রাশিয়ান স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে ভারতের কলকাতায় চলে আসেন। তারপর থেকে তিনি কলকাতা থেকেই তার অনুবাদের কাজ করতেন।[২]

অনূদিত বইয়ের তালিকা[২][সম্পাদনা]

গল্প উপন্যাস[সম্পাদনা]

  • চেঙ্গিজ খান-ভাসিলি ইয়ান, প্রগতি প্রকাশন (১৯৮৭)
  • গিরগিজার ছোটগল্প, প্রগতি প্রকাশন (১৯৮১)
  • পাহাড় ও স্তেপের আখ্যান-চেঙ্গিজ আইৎমাতভ, প্রগতি (১৯৮৯)
  • আমার জীবন- সের্গেই কনিয়নক, প্রগতি প্রকাশন (১৯৮০)
  • গারিনের মারণরশ্মি- আলেক্সেই তলস্তয়, রাদুগা (১৯৮৮)
  • জীবিত ও মৃত – কনস্তানতিন সিমনভ, রাদুগা (১৯৮৭)
  • নিকলাই গোগল রচনা সপ্তক, রাদুগা(১৯৮৬)
  • তিনজনা- মাক্সিম গর্কি, প্রগতি (১৯৮০)
  • পিতা ও পুত্র-তুর্গেনেভ, রাদুগা(১৯৮৭)
  • প্রশান্ত দন(১-৪খন্ড)- মিখাইল শালোখভ, রাদুগা -১৯৯০
  • অপরাধ ও শাস্তি- ফিওদর দস্তইয়েভস্কি, সাহিত্য আকাদেমি (২০০০-২০০৫)
  • যুদ্ধ ও শান্তি- লেভ তলস্তয়, সাহিত্য আকাদেমি-যন্ত্রস্থ
  • কারামাজভ ভাইয়েরা- ফিওদও দস্তইয়েভস্কি, সাহিত্য আকাদেমি যন্ত্রস্থ
  • ইডিয়ট- ফিওদর দস্তইয়েভস্কি

q

সমাজবিদ্যা[সম্পাদনা]

  • কার্ল মার্ক্স জীবনী- স্তেপানভা, প্রগতি
  • সমাজবিদ্যা, প্রগতি
  • লোকে কেন শহরে যায়- মইসেনকু ও মুকুমেল, প্রগতি ১৯৮২
  • শিক্ষা আমার ব্রত- সুখমলিনিস্কি, প্রগতি ১৯৮২
  • রিখার্ড জরগে- কলেসনিকভ ও কলেসকিভা, প্রগতি ১৯৮২
  • পীত দানবের পুরি- মাক্সিম গোর্কি, রাদুগা ১৯৮৭

শিশু ও কিশোর সাহিত্য[সম্পাদনা]

  • টেলিস্কোপ কী বলে- পাভেল ক্লুসানসেট, রাদুগা ১৯৮৬
  • দাদুর চশমা- গেওর্গি ইউরমিন, রাদুগা
  • জাহাজ ভাসে সাগরজলে- সভিয়াতস্লাভ সাখারনভ, রাদুগা ১৯৮৫
  • ছবিতে গ্রহ নক্ষত্র-ভরিস লেভিন ও লিদিয়া রাদলভ, রাদুগা ১৯৭৮
  • ছবিতে সেকালের জন্তু জানোয়ার-ইরিস ইয়াভলেভা, রাদুগা
  • আনাড়ির কান্ডকারখানা- নিকলাই নোসভ ১-১৭, রাদুগা ১৯৮৪-১৯৯০
  • আলতাজবা- সের্গেই আকসাকভ, রাদুগা ১৯৮৬
  • গল্প ও রূপকথা- কনস্তান্তিন উসিনস্কি, রাদুগা
  • পাখনায় গান গায়- ভাসিলি সোকমলিনস্কি
  • রাঙাপাল- আলেক্সান্দও গ্রীন, রাদুগা
  • পৃথিবী কি গোল- আনাতোলি এমিলিন
  • শিকারিবাজ- লতিফ মাহমুদুভ
  • উস্কুখুস্কু চড়াই- কনস্তান্তিন পাউস্তুপস্কি
  • মহাবিশ্বের কথা- ফেলিক্স ক্সিভিন
  • রুশ ইতিহাসের কথা ও কাহিনী- সের্গেই আলেক্সেয়েভ
  • তলিয়া ক্লুখভিনের এ্যডভেঞ্জার- নিকলাই নোসভ
  • সার্কাসের ছেলে ও অন্যান্য গল্প-(কুপ্রিন, দস্তইয়েভস্কি, তলস্তয়ের গল্প)
  • মানুষ কী করে বড় হলো-ইলিন ও সেগাল
  • ওরাও কথা বলে- ইউরি দমিত্রিয়েভ
  • কালোখাতা ও সামব্রানিয়া- লেভ কাস্সিল
  • নাম ছিল তার ইভান- ভ্লাদিমির ভাসলভ
  • ধলা কুকুর ও শ্যামলা কান- গাব্রিয়েল ক্রয়েপালস্কি
  • কোন সে দেশের কোন সাগরের পাওে (রুশি লেখকের লেখা রূপকথা)
  • সাগরতীরে- নিকলাই দ্যুভোপ
  • দুই ইয়ারের যতকাণ্ড-সিয়েভলদ নেস্তাইকো
  • চিড়িক পিড়িক চড়ুই- মাক্সিম গোর্কি

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "একজন অমল মানুষ"। ১৪ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ 
  2. "অরুণ সোমের সঙ্গে সাহিত্য-সংলাপ" 
  3. "Lost glory... and a lost childhood - A bookshop mirrors the withering of a great power and its intellectual links with Bengal - telegraphindia.com" 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]