এটি একটি ভাল নিবন্ধ। আরও তথ্যের জন্য এখানে ক্লিক করুন।

অন দ্য ইন্টারনেট, নোবডি নোস ইউ আর অ্যা ডগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দ্য নিউ ইয়র্কার সাময়িকীতে প্রকাশিত পিটার স্টেইনারের আঁকা ব্যঙ্গচিত্র

"অন দ্য ইন্টারনেট, নোবডি নোস ইউ আর অ্যা ডগ" (ইংরেজি: On the Internet, nobody knows you're a dog যার আক্ষরিক অর্থ: "ইন্টারনেটে কেউ জানে না আপনি একটি কুকুর") হল একটি প্রবচন যা পিটার স্টেইনারের একটি ব্যঙ্গচিত্রের ক্যাপশন হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল জুলাই ৫, ১৯৯৩ সালে দ্য নিউ ইয়র্কার সাময়িকীতে।[১][২] ব্যঙ্গচিত্রটিতে দেখা যায় একটি কুকুর কম্পিউটারের সামনে চেয়ারে বসে মেঝেতে বসে থাকা অন্য একটি কুকুরকে উদ্দেশ্য করে ক্যাপশনে লেখা প্রবচনটি বলছে।[৩] ২০১১ সালে স্টেইনারের এই ব্যঙ্গচিত্র নিউ ইয়র্কার পেনেলের হিসেব মতে অজস্রবার পুনঃমুদ্রিত হয়েছিল, যার ফলে স্টেইনারের আয় ৫০,০০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়।[১][৪][৫]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

পিটার স্টেইনার ১৯৭৯ সাল থেকে দ্য নিউ ইয়র্কার সাময়িকীর কার্টুনিস্ট ও প্রদায়ক হিসেবে কাজ করেন।[৬] তিনি বলেন, শুরুর দিকে ব্যঙ্গচিত্রটি তেমন সাড়া ফেলেনি, কিন্তু সময়ের সাথে এটি বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠে, যার কারণে তিনি "স্মাইলি ফেস" কার্টুনের আঁকিয়ের মতোন বোধ করেছিলেন।[১] প্রকৃতপক্ষে, স্টেইনারের একটি অনলাইন অ্যাকাউন্ট ছিল বটে কিন্তু তিনি ইন্টারনেটের প্রতি সেভাবে আসক্ত ছিলেন না যখন তিনি ব্যঙ্গচিত্রটি এঁকেছিলেন। এছাড়া তিনি কবুল করেন যে, এই ব্যঙ্গচিত্রটি বিশেষ কোন উপলব্ধি থেকে আঁকা হয়নি, বরং ক্যাপশনের ভাবটিকে চিত্ররূপ দেয়ার জন্যই তিনি তা এঁকেছিলেন।[১] ব্যঙ্গচিত্রটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভের পর স্টেইনার বলেছেন, আমি নিজেও কখনো কল্পনা করিনি এটি এতটা পরিচিতি এবং স্বীকৃতি লাভ করবে[১]

প্রসঙ্গ[সম্পাদনা]

ইন্টারনেটের ইতিহাসে এই ব্যঙ্গচিত্রটি একটি অনন্য ঘটনা। এক সময় ইন্টারনেট ছিল শুধুমাত্র সরকারি আমলা, প্রকৌশলী আর জ্ঞানতাত্ত্বিকদের কাজের ক্ষেত্র, বর্তমানে এটি যে জনসাধারণের অন্যতম আগ্রহের বিষয় তা দ্য নিউ ইয়র্কার সাময়িকীর আলোচনা থেকে অনুমেয়। লোটাস সফটওয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও অগ্রগণ্য ইন্টারনেট কর্মী মিচ কাপুরের উদ্ধৃতি দিয়ে ১৯৯৩ সালে টাইম সাময়িকী একটি নিবন্ধে বর্ণনা করে যে, দুইটি কুকুরের কথোপকথনের এই ব্যঙ্গচিত্রটি নিউ ইয়র্কারে প্রকাশের পর একটি বিষয় আরও স্পষ্ট হল যে, জনপ্রিয়তা ছাড়িয়ে বিষয়টি এখন গণমানুষের আগ্রহের বিষয় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।[৭]

ব্যঙ্গচিত্রটি ইন্টারনেটে প্রকৃত পরিচয় গোপন করে বার্তা আদান-প্রদান করার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর যে ক্ষমতা সে-সংক্রান্ত ইন্টারনেটের গোপনীয়তা বোঝার ক্ষেত্রে প্রতীক হিসেবে কাজ করে। লরেন্স লেসিগ বলেন "নো ওয়ান নোস" অর্থাৎ ইন্টারনেট প্রোটোকল কখনো ব্যবহারকারীকে তার প্রকৃত পরিচয় প্রদানে বাধ্য করে না। এটা ঠিক যে স্থানীয় এক্সেস পয়েন্টে ব্যবহারকারীর ব্যক্তি পরিচয় সংক্রান্ত নথিপত্র থাকতে পারে কিন্তু তা ইন্টারনেট বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে নয় বরং নিজেদের গ্রাহক সনাক্তকরণের প্রয়োজনেই রাখা হয়।[৮]

২০০০ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ইন্টারনেট ব্যবহার বিষয়ে মোরহান-মার্টিন এবং শুমেকার-এর এক গবেষণায় প্রতিভাত হয়েছে যে, কম্পিউটারের পর্দার আড়ালে অবস্থান করে আত্ম-উপস্থাপনের যে সুযোগ তা ব্যবহারকারীকে অনলাইন-এ রাখছে।[৯] ইউজনেট ইতিহাসের অন্যতম কর্মী জন গিলমোর তার ১৯৯৬ সালের এক ভাষ্যে এই শব্দগুচ্ছের সম্পর্কে পুনরুক্তি করেন এই বলে যে, "এটি নির্দেশ করে যে, সাইবার জগৎ হবে মুক্ত কেননা এখানে লিঙ্গ, জাতি, বয়স, চেহারা এমনকি 'ডগনেস'-এর মতো বিষয়সমুহ কার্যত অনুপস্থিত বা পরোক্ষভাবে অসত্য বা অতিরঞ্জিত থাকে যাচাইহীন ক্রিয়েটিভ লাইসেন্সের আওতায় নানাবিদ বৈধ ও অবৈধ উদ্দেশ্যে"।[১০] এই শব্দগুচ্ছ আরও নির্দেশ করে কম্পিউটারের ক্রস ড্রেসিং ধারণার প্রয়োগ এবং এক ব্যক্তির নিজেকে ভিন্ন লিঙ্গ, জাতি আর বয়সের করে উপস্থাপনের সুযোগ।[১১] ভিন্ন আঙ্গিকে একে, "এক ধরনের স্বাধীনতা নির্দেশ করছে, যার ফলে কুকুরও নিজেকে এর সাথে যুক্ত করার সুযোগ গ্রহণ করছে, বা একে সামাজিক বিজ্ঞানের ভাষ্যমতে 'উত্তরণ' বলা চলে, যেখানে ব্যক্তি তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার বাইরে যেতে চায়, যেমন মানুষ কম্পিউটারের ব্যবহারকারী হয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করছে"।[১১][১২]

দ্য নিউ ইয়র্কার সাময়িকীর ব্যঙ্গচিত্রটি সম্পাদক বব ম্যানকফ এর মতে, "এই ব্যঙ্গচিত্রটি মুখোশধারীদের সম্পর্কে আমাদের শঙ্কাকে অনুরণিত করে, যাকে এইচটিএমএল-এর প্রারম্ভিক জ্ঞান দিয়ে ছুড়ে ফেলা যায়।"[১৩]

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে[সম্পাদনা]

ব্যঙ্গচিত্রটি ছিল এ্যালান ডেবিড পারকিন্সের নোবডি নোস আই এম অ্যা ডগ নাটক লিখনের অনুপ্রেরণা যাতে দেখা যায় সমাজে কার্যকরী যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ এমন ছয় জন মানুষ নিজেদের ছদ্ম পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে ইন্টারনেটে সম্পর্ক গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছিল।[১]

ব্যঙ্গচিত্রটি প্রকাশিত হওয়ার পর অ্যাপল তাদের একটি ইন্টারনেট সুইটের নামকরণ করেছিল সাইবারডগ[১৪]

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৫-এ দ্য নিউ ইয়র্কার সাময়িকী, কামরান হাফিজের একই ধারণার একটি ব্যঙ্গচিত্রটি ছাঁপে যেখানে আগেরকার মতো এক-জোড়া কুকুর তাদের মালিককে চেয়ারে বসা অবস্থায় দেখে, একে অন্যকে বলছে, রিমেম্বার হোয়েন, অন দ্য ইন্টারনেট, নোবডি নিউ হু ইউ অয়া্র?"[১৫]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Fleishman, Glenn (ডিসেম্বর ১৪, ২০০০)। "Cartoon Captures Spirit of the Internet"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। জানুয়ারি ২০, ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ১, ২০০৭ 
  2. Aikat, Debashis "Deb" (১৯৯৩)। "On the Internet, nobody knows you're a dog" (ইংরেজি ভাষায়)। University of North Carolina at Chapel Hill। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২, ২০০৭ 
  3. EURSOC (২০০৭)। "New Privacy Concerns" (ইংরেজি ভাষায়)। EURSOC। সংগ্রহের তারিখ জানুয়ারি ২৬, ২০০৯ 
  4. Glenn Fleishman (অক্টোবর ২৯, ১৯৯৮)। "New Yorker Cartoons to Go on Line"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২, ২০০৭ 
  5. January 2011 Brown's Guide Cover | Brown's Guide to Georgia
  6. January 2011, Brown's Guide to Georgia
  7. Elmer-DeWitt, Philip; Jackson, David S. & King, Wendy (ডিসেম্বর ৬, ১৯৯৩)। "First Nation in Cyberspace"Time (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০০৯ 
  8. Lessig, Lawrence (২০০৬)। Code: Version 2.0 (ইংরেজি ভাষায়)। New York: Basic Books। পৃষ্ঠা 35। আইএসবিএন 0-465-03914-6 
  9. Taylor, Maxwell; Quayle, Ethel (২০০৩)। Child Pornography: An Internet Crime (ইংরেজি ভাষায়)। New York: Psychology Press। পৃষ্ঠা 97। আইএসবিএন 1-58391-244-4 
  10. Jordan, Tim (১৯৯৯)। "The Virtual Individual"। Cyberpower: The Culture and Politics of Cyberspace and the Internet (ইংরেজি ভাষায়)। New York: Routledge। পৃষ্ঠা 66। আইএসবিএন 0-415-17078-8 
  11. Trend, David (২০০১)। Reading Digital Culture (ইংরেজি ভাষায়)। Malden, MA: Blackwell Publishing। পৃষ্ঠা 226–7। আইএসবিএন 0-631-22302-9 
  12. Singel, Ryan (সেপ্টেম্বর ৬, ২০০৭)। "Fraudster Who Impersonated a Lawyer to Steal Domain Names Pleads Guilty to Wire Fraud"Wired (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২, ২০০৭ 
  13. Cavna, Michael (জুলাই ৩১, ২০১৩)। "'NOBODY KNOWS YOU'RE A DOG': As iconic Internet cartoon turns 20, creator Peter Steiner knows the joke rings as relevant as ever"Washington Post (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০১৫ 
  14. Ticktin, Neil (ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬)। "Save Cyberdog!"MacTech (ইংরেজি ভাষায়)। 12 (2)। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ৩, ২০১১ 
  15. "A cartoon by Kaamran Hafeez, from this week's issue of the magazine."newyorker.com (ইংরেজি ভাষায়)। newyorker। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ২১, ২০১৫ 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Jones, Christopher R. (২০০৪)। "Nobody knows you're a dog"। Land, Ray & Bayne, Siân। Education in Cyberspace (ইংরেজি ভাষায়)। New York: Routledge। 105 pages। আইএসবিএন 0-415-32882-9 
  • Nielsen, Jakob (১৯৯৫)। Multimedia and Hypertext: The Internet and Beyond (ইংরেজি ভাষায়)। San Diego: AP Professional। 172 pages। আইএসবিএন 978-0-12-518408-3 
  • Nakamura, Lisa (২০০২)। Cybertypes: Race, Ethnicity, and Identity on the Internet (ইংরেজি ভাষায়)। New York: Routledge। 35 pages। আইএসবিএন 0-415-93837-6 
  • Schneider, Edgar (২০০৩)। Living the Good Life With Autism (ইংরেজি ভাষায়)। London: Jessica Kingsley Publishers। 44 pages। আইএসবিএন 1-84310-712-0 
  • Turkle, Sherry (১৯৯৭)। Life on the Screen: Identity in the Age of the Internet। New York: Simon & Schuster। 352 pages। আইএসবিএন 0-68483-348-4 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]