অন্ধকারে ভয়

অন্ধকারের ভয় বা নিক্টোফোবিয়া হলো অন্ধকারের প্রতি এক ধরনের চরম বা অতিমাত্রার ভয়। 'নিক্টোফোবিয়া' শব্দটি একটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ রাত বা অন্ধকার। সাধারণত শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অন্ধকারের প্রতি এই তীব্র ভয়কেই নিক্টোফোবিয়া বলা হয়। অন্ধকারের ভয় বলতে সবসময় কেবল আলোহীন পরিবেশের ভয়কে বোঝায় না; এটি অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা সম্ভাব্য বা কাল্পনিক বিপদের ভয়ও হতে পারে। [১] অন্ধকারের প্রতি কিছুটা ভয় থাকা স্বাভাবিক, বিশেষ করে শিশুর বিকাশের একটি পর্যায় হিসেবে এটি দেখা যায়। [২] বেশিরভাগ গবেষকের মতে, দুই বছর বয়সের আগে শিশুদের মধ্যে অন্ধকারের ভয় খুব একটা দেখা যায়না। [৩] তবে অন্ধকারের এই ভয় যখন অতিরিক্ত মাত্রায় পৌঁছে যায় এবং রোগলক্ষণ বা প্যাথলজিক্যাল হিসেবে বিবেচিত হয়, তখন একে 'স্কোটোফোবিয়া' (গ্রিক শব্দ σκότος বা "অন্ধকার" থেকে) বা 'লাইগোফোবিয়া' (λυγή বা "গোধূলি" থেকে) বলা হয়।
সিগমুন্ড ফ্রয়েডসহ অনেক গবেষকই অন্ধকারের ভয়কে বিচ্ছেদজনিত উদ্বেগ ব্যাধির একটি প্রকাশ বলে মনে করেন। [৪]
১৯৬০-এর দশকে বিজ্ঞানীরা স্মৃতির জন্য দায়ী অণুগুলোর সন্ধানে গবেষণা করার সময় একটি বিকল্প তত্ত্ব দাঁড় করান। একটি পরীক্ষায় নিশাচর প্রাণী ইঁদুরকে অন্ধকারকে ভয় পাওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর ইঁদুরের মস্তিষ্ক থেকে "স্কোটোফোবিন" নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ নিষ্কাশন করা হয়। দাবি করা হয় যে, এই পদার্থটিই নিক্টোফোবিয়া বা অন্ধকারের ভয়ের জন্য দায়ী। তবে পরবর্তীকালে এই গবেষণার ফলাফলগুলো ভুল প্রমাণিত হয়। [৫]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ William Lyons (১৯৮৫)। Emotion। পৃ. ৭৫। আইএসবিএন ০-৫২১-৩১৬৩৯-১।
- ↑ Adele Pillitteri (১৯৯৫)। Maternal and Child Health Nursing। আইএসবিএন ০-৩৯৭-৫৫১১৩-৪।
- ↑ Jersild, Arthur T. (২০০৭)। Children's Fears। Read Books। পৃ. ১৭৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৬৭-৫৮২৭-৬। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৭।
- ↑ Sigmund Freud (১৯১৬)। Vorlesungen zur Einführung in die Psychoanalyse [Introduction to Psychoanalysis]।
I once heard a child who was afraid of the darkness call out: 'Auntie, talk to me, I'm frightened.' 'But what good will that do? You can't see me?' To which the child replied: 'If someone talks, it gets lighter.'
- ↑ Irwin, Louis Neal (অক্টোবর ২০০৬)। Scotophobin: Darkness at the Dawn of the Search for Memory Molecules। Hamilton Books। আইএসবিএন ০-৭৬১৮-৩৫৮০-৬। ১১ মে ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (paperback) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৭।