বিষয়বস্তুতে চলুন

অন্ত্রীয় স্নায়ুতন্ত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অন্ত্রীয় স্নায়ুতন্ত্র
অন্ত্রীয় স্নায়ুতন্ত্র পরিপাকতন্ত্রের আবরণী কলার নিচে বিন্যস্ত থাকে।
শনাক্তকারী
আদ্যক্ষরাENS
মে-এসএইচD017615
এফএমএFMA:66070
শারীরস্থান পরিভাষা

অন্ত্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (ইংরেজি: Enteric nervous system)(ENS) হলো স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অন্যতম প্রধান বিভাজন এবং জালের মতো বিস্তৃত নিউরন নিয়ে গঠিত যা পরিপাকন্ত্রের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। [] এটি সিম্প্যাথেটিক ও প্যারাসিম্প্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, যদিও এটি তাদের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। এটি দ্বিতীয় মস্তিষ্ক নামেও পরিচিত। এটি সম্পূর্ণরূপে অন্ত্রের প্রাচীরে অবস্থিত, যা অন্ননালি থেকে শুরু হয়ে মলদ্বার পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্ত্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে নিউরন সংখ্যা প্রায় ১০ কোটিরও বেশি যা প্রায় সমগ্র সুষুম্না কাণ্ডের নিউরন সংখ্যার চেয়ে বেশি। এই অতি উন্নত স্নায়ুতন্ত্র মূলত পাকস্থলী ও অন্ত্রের সঞ্চালন ও ক্ষরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।[][] এটি নিউরাল ক্রেস্ট কোষ থেকে উদ্ভূত।[][] অন্ত্রীয় স্নায়ুতন্ত্র মস্তিষ্ক ও সুষুম্না কাণ্ডের প্রভাব ছাড়ায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম,[] কিন্তু স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভেগাস স্নায়ু ও কশেরুকাপূর্ব গ্যাংলিয়ার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে উদ্দীপনা পাওয়ার উপর নির্ভরশীল। তবে গবেষণায় দেখা গেছে ভেগাস স্নায়ু ছিন্ন করার পরেও এই ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে।[] অন্ত্রীয় স্নায়ুতন্ত্র প্রধানত দুই ধরনের জালক নিয়ে গঠিত, (১) অনুদৈর্ঘ্য ও বৃত্তাকার পেশিস্তরের মধ্যে অবস্থিত বহিস্থ জালক যা মায়েন্টেরিক জালক নামে পরিচিত, এবং (২) একটি অভ্যন্তরীণ জালক বা উপশ্লৈষ্মিক জালক যা উপশ্লৈষ্মিক ঝিল্লিতে অবস্থিত। মায়েন্টেরিক জালক প্রধানত পাকস্থলী ও অন্ত্রীয় অঙ্গ সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে। অপরদিকে উপশ্লৈষ্মিক জালক প্রধানত পাকস্থলী ও অন্ত্রীয় ক্ষরণ ও স্থানীয় রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।[][][১০]

মানুষের ক্ষেত্রে অন্ত্রীয় স্নায়ুতন্ত্র প্রায় ৫০ কোটি নিউরন নিয়ে গঠিত,[১১] এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ডোজিয়েল কোষও রয়েছে।[][১২] এই নিউরন সংখ্যা মস্তিষ্কের নিউরন সংখ্যার ০.৫%, মানব সুষুম্না কাণ্ডের নিউরনের প্রায় পাঁচগুণ।[১৩] অন্ত্রীয় স্নায়ুতন্ত্র পরিপাকতন্ত্রের গাত্রের অভ্যন্তরে সুগঠিত অবস্থায় থাকে যা অন্ননালি থেকে শুরু হয়ে মলদ্বার পর্যন্ত বিস্তৃত।[১৩] পুরো অন্ত্রে জালের মতো ছড়িয়ে থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা সঞ্চারণ করে। দুই ধরনের জালক নিয়ে অন্ত্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত: মায়েন্টেরিক জালক বা অয়ারব্যাকের জালক এবং উপশ্লৈষ্মিক জালক বা মিসনারের জালক।[১৪] মায়েন্টেরিক জালক মাসকুলারিস এক্সটার্নার বহিস্থ ও অভ্যন্তরীণ স্তরের মধ্যে অবস্থিত, অপরদিকে উপশ্লৈষ্মিক জালকটি উপশ্লৈষ্মিক ঝিল্লিতে অবস্থিত।

মায়েন্টেরিক জালক

[সম্পাদনা]

এটি অয়ারব্যাকের জালক নামেও পরিচিত। মায়েলিন আবরণ বিহীন তন্তু ও গ্যাংলিয়ন পরবর্তী স্বয়ংক্রিয় কোষদেহ নিয়ে গঠিত যা অন্ত্রের মাস্কুলারিস এক্সটার্নার বৃত্তাকার ও অনুদৈর্ঘ্য স্তরের মধ্যে অবস্থিত। জার্মান নিউরোপ্যাথলজিস্ট লিওপল্ড অয়ারব্যাক এটি আবিষ্কার করেন। এই নিউরনগুলো মাস্কুলারিস এক্সটার্নার উভয় স্তরে মোটর ইনপুট প্রদান করে থাকে এবং সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক উভয় ইনপুটও দিয়ে থাকে। জালকটির অ্যানাটমি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অ্যানাটমির অনুরূপ। জালকটিতে সংবেদী রিসেপ্টরও রয়েছে।

উপশ্লৈষ্মিক জালক

[সম্পাদনা]

এটি মিসনারের জালক নামেও পরিচিত। এটি অন্ত্রীয় পথের উপশ্লৈষ্মিক স্তরে পাওয়া যায়।[১৫] জার্মান ফিজিওলজিস্ট Georg Meissner এটি আবিষ্কার করেন। এটি অন্ত্রপ্রাচীরের শ্লৈষ্মিক স্তরে স্নায়ু উদ্দীপনা প্রদানের কাজ করে।

অতিরিক্ত চিত্র

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Furness, John Barton (১৫ এপ্রিল ২০০৮)। The Enteric Nervous System। John Wiley & Sons। পৃ. ৩৫–৩৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৫১-৭৩৪৪-৫
  2. Dorland's (২০১২)। Dorland's Illustrated Medical Dictionary (32nd সংস্করণ)। Elsevier Saunders। পৃ. ১৮৬২। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪১৬০-৬২৫৭-৮
  3. Pocock, G & Richards, C (২০০৬)। Human Physiology The Basis of Medicine (Third সংস্করণ)। Oxford University Press। পৃ. ৬৩আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৮৫৬৮৭৮-০
  4. Barlow AJ, Wallace AS, Thapar N, Burns AJ (মে ২০০৮)। "Critical numbers of neural crest cells are required in the pathways from the neural tube to the foregut to ensure complete enteric nervous system formation"Development১৩৫ (9): ১৬৮১–৯১। ডিওআই:10.1242/dev.017418পিএমআইডি 18385256
  5. Burns AJ, Thapar N (অক্টোবর ২০০৬)। "Advances in ontogeny of the enteric nervous system"Neurogastroenterol. Motil.১৮ (10): ৮৭৬–৮৭। ডিওআই:10.1111/j.1365-2982.2006.00806.xপিএমআইডি 16961690
  6. Gershon, Michael (১৯৯৮)। The Second Brain। New York: HarperCollins। পৃ. ২–৭আইএসবিএন ০-০৬-০১৮২৫২-০
  7. Li,Ying; Owyang,Chung (সেপ্টেম্বর ২০০৩)। "Musings on the Wanderer: What's New in Our Understanding of Vago-Vagal Reflexes? V. Remodeling of vagus and enteric neural circuitry after vagal injury"। American Journal of Physiology. Gastrointestinal and Liver Physiology২৮৫ (3): G৪৬১-৯। ডিওআই:10.1152/ajpgi.00119.2003পিএমআইডি 12909562
  8. Pasricha, Pankaj Jay। "Stanford Hospital: Brain in the Gut - Your Health"
  9. Martinucci, I; এবং অন্যান্য (২০১৫)। "Genetics and pharmacogenetics of aminergic transmitter pathways in functional gastrointestinal disorders"। Pharmacogenomics১৬ (5): ৫২৩–৩৯। ডিওআই:10.2217/pgs.15.12পিএমআইডি 25916523
  10. Smitka, K; এবং অন্যান্য (২০১৩)। "The role of "mixed" orexigenic and anorexigenic signals and autoantibodies reacting with appetite-regulating neuropeptides and peptides of the adipose tissue-gut-brain axis: relevance to food intake and nutritional status in patients with anorexia nervosa and bulimia nervosa"Int J Endocrinol২০১৩: ৪৮৩১৪৫। ডিওআই:10.1155/2013/483145পিএমসি 3782835পিএমআইডি 24106499{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: পতাকাভুক্ত নয় এমন বিনামূল্যে ডিওআই (লিঙ্ক)
  11. Young, Emma। "Gut Instincts: The secrets of your second brain"New Scientist। New Scientist। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০১৫ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |archive-date= এর জন্য |archive-url= প্রয়োজন (সাহায্য); alternate source at website: "NeuroScienceStuff"। ৪ মে ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  12. 1 2 Hall, John E. (২০১১)। "General Principles of Gastrointestinal Function"। Guyton and Hal Textbook of Medical Physiology (12th সংস্করণ)। Saunders Elsevier। পৃ. ৭৫৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১৪১৬০৪৫৭৪৮
  13. "The Enteric Nervous System"। ২০ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০০৮
  14. Ross, Michael H, and Wojciech Pawlina. Histology: A Text and Atlas with Correlated Cell and Molecular Biology. Baltimore, MD: Lippincott Williams & Wilkins, 2006

আরও তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]