অঁরি লুই ল্য শাতলিয়ে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অঁরি লুই ল্য শাতলিয়ে
Lechatelier.jpg
অঁরি লুই ল্য শাতলিয়ে
জন্ম(১৮৫০-১০-০৮)৮ অক্টোবর ১৮৫০
মৃত্যু১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৬(১৯৩৬-০৯-১৭)
জাতীয়তাফরাসি
কর্মক্ষেত্ররসায়ন
প্রতিষ্ঠানএকল পোলিতেকনিক
প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়
পরিচিতির কারণল্য শাতলিয়ে-র নীতি

অঁরি লুই ল্য শাতলিয়ে (৮ই অক্টোবর, ১৮৫০ – ১৭ই সেপ্টেম্বর, ১৯৩৬) ১৯শ শতক ও ২০শ শতকের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ফরাসি রসায়নবিদরাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রদানের মাধ্যমে তিনি সমগ্র বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে আছেন। এই নীতিকে বলা হয় ল্য শাতলিয়ে-র নীতি। তিনি ও তার বন্ধু জাসপের রসি মিলে এই নীতিটি প্রদান করেছিলেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

ল্য শাতলিয়ে ১৯৫০ সালের ৮ই অক্টোবর তারিখে ফ্রান্সের প্যারিসে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা লুই ল্য শাতলিয়ে ছিলেন একজন উপাদান প্রকৌশলী। তাঁর পিতা ফ্রান্সের শিল্পক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম বিপ্লবের অন্যতম অগ্রদূত ছিলেন। ল্য শাতলিয়ে-র পিতা বাল্যকাল থেকেই তার ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। ল্য শাতলিয়ে-র এক বোন (মেরি) এবং চার ভাই ছিল। বাল্যকাল থেকেই লাল্য শাতলিয়েকে অনেক কঠোর নিয়মনীতির মধ্যে দিয়ে জীবন যাপন করতে হয়। তার মা লুই দোনাল তাঁর বাচ্চাদের শক্ত শৃঙ্খলায় বেধে রেখেছিলেন। যার জন্যই তিনি ভবিষ্যতে বড় বিজ্ঞানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন।

শৈশবে তিনি প্যারিস শহরের কলেজ রোলাঁ নামক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছিলেন। ১৯ বছর বয়সে প্রকৌশলশাস্ত্রে উত্তীর্ণ হবার পর তিনি প্যারিসের আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান একল পোলিতেকনিকে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। প্রকৌশল বিভাগে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সের সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট পদে যোগদান করেন।

ল্য শাতলিয়ে তার বান্ধবী জঁভিয়েভ নিকোলা-র সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের চার মেয়ে এবং তিন ছেলেসহ সাত জন সন্তান ছিল। এদের মধ্যে পাঁচ জন বিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণা করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক হবার পর তিনি এই বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। কিন্তু রসায়ন তাকে বারবার আকৃষ্ট করে। শিল্প বিপ্লবের ঐ সময়টাতে কারখানার রসায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা বারবার তাকে ভাবিয়ে তুলতো। তাই তিনি প্রকৌশলী পেশা ছেড়ে একজন রসায়নবিদ হিসেবেই নিজের জীবন গড়ে তুলেন। ১৯৮৭ সালে তিনি প্যারিসের একোল দে মিন নামক প্রতিষ্ঠানে রসায়ন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এছাড়াও তিনি ১৮৮৪ ও ১৮৯৭ সালে প্যারিসের আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান একোল পোলিতেকনিকে (পলিটেকনিক স্কুলে) শিক্ষক হিসেবে যোগদানের জন্য চেষ্টা করেন, কিন্তু সফল হননি।

তারপর তিনি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯০৭ সালে তিনি রসায়নে নোবেল পুরস্কার প্রদান প্রতিষ্ঠান রাজকীয় সুয়েডীয় বিজ্ঞান একাডেমির সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

তখনকার সময় এটা সাধারণ ছিল যে, বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীদের ব্যবসা বা শিল্প সম্পর্কে বেশ ভালো একটা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা। লা র‍্যভ্যু দ্য মেতাল্যুর্জি নামক গবেষণা সাময়িকীর প্রথম সংখ্যায় ল্য শাতলিয়ে ফ্রেডরিক উইনস্লো টেলরের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা তত্ত্ব নিয়ে তাঁর মতামতের বর্ণনা দিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ১৯২৮ সালে টেলরবাদ সম্পর্কিত একটি বই প্রকাশ করেছিলেন।

ল্য শাতলিয়ে রাজনৈতিকভাবে রক্ষণশীল মনোভাবের ছিলেন।র‍্যভু একোনোমিক আঁতেরনাসিওনাল দ্য ব্রুসেল-এ সাপ্তাহিক চল্লিশ ঘণ্টা কাজ করার আইনের বিষয়ে ১৯৩৪ সালে মতামত প্রকাশ করেছিলেন। তবে কিছু সংসদ-বিরোধী দোষ থাকা সত্ত্বেও, তিনি যেকোন উগ্রবাদী বা মৌলবাদী আন্দোলন থেকে দূরে থাকতেন।

বিজ্ঞানে অবদান[সম্পাদনা]

রসায়নে তিনি তাঁর নীতির (ল্য শাতলিয়ে-র নীতি) জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তিনি ১৮৮৪ সাল থেকে ১৯১৪ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন ধাপে ধাপে তার নীতির ব্যাখ্যা প্রদান করেন। এর জন্য তিনি ৩০টিরও অধিক নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর এই নীতি রসায়নের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন কলকারখানার উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তার এই নীতিটি সবচেয়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

নির্বাচিত গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • কুর দ্য শিমি আঁদ্যুস্ত্রিয়েল (Cours de chimie industrielle "শিল্প রসায়নের পাঠ"; ১৮৯৬; ২য় প্রকাশ, ১৯০২)
  • High Temperature Measurements, translated by G. K. Burgess (1901; second edition, 1902)
  • Recherches expérimentales sur la constitution des mortiers hydrauliques (1904; English translation, 1905)
  • Leçons sur le carbone (1908)
  • Introduction à l'étude de la métallurge (1912)
  • La silice et les silicates (1914)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]