হোমো এরগ্যাস্টার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হোমো এরগ্যাস্টার
সময়গত রেঞ্জ: প্লাইস্টোসিন, 1.8–1.3 Ma
KNM-ER 3733 নামক খুলি, ১৯৭৫ সালে কেনিয়ার Bernard Ngeneo আবিষ্কার করেন
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Animalia
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Mammalia
বর্গ: Primates
পরিবার: Hominidae
গণ: Homo
প্রজাতি: H. ergaster
দ্বিপদী নাম
Homo ergaster
কলিন গ্রোভস ও Vratislav Mazák, ১৯৭৫

হোমো এরগ্যাস্টার (ইংরেজি: Homo ergaster) হোমো গণের একটি বিলুপ্ত ক্রমপ্রজাতি (ক্রোনোস্পিসিস) যার সদস্যরা প্লাইস্টোসিন যুগের শুরুর দিকে অর্থাৎ আনুমানিক ১৮ থেকে ১৩ লক্ষ বছর পূর্ব পর্যন্ত আফ্রিকার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে বাস করতো।[১] এটি হোমো গণের প্রাচীনতম সদস্যদের একটি। এই প্রজাতির সদস্যদেরকে অনেক এরগ্যাস্ট নামে ডাকা হয়।

এরগ্যাস্টদের শ্রেণীবিন্যাস, বংশানুক্রম এবং প্রাণবৃক্ষে তাদের অবস্থান নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়ে গেছে। অবশ্য অধিকাংশ বিজ্ঞানী বর্তমানে এশিয়ায় পাওয়া হোমো ইরেক্টাসের বদলে এরগ্যাস্টদেরকেই পরবর্তী কালের হোমিনিড প্রজাতিগুলোর (যেমন, হোমো হাইডেলবার্গেনসিস, হোমো স্যাপিয়েন্স এবং হোমো নিয়ানডার্টালেনসিস) সরাসরি পূর্বপুরুষ বিবেচনা করে থাকেন।[২] হোমো ইরেক্টাস প্রজাতির সদস্যদেরকে অনেক সময় ইরেক্ট ডাকা হয়। এরগ্যাস্ট এবং ইরেক্টদের বৈশিষ্ট্য অনেকটা একই রকম, পার্থক্য কেবল তাদের বাবস্থানে, এরগ্যাস্টদের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে আফ্রিকাতে যেখানে ইরেক্টদের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে এশিয়ায়। মানুষের প্রকৃত পূর্বপুরুষরা আফ্রিকাতেই বাস করতো এবং ইরেক্টরা তাদের পূর্বপুরুষ হোমো হ্যাবিলিস ও উত্তরপুরুষ হোমো স্যাপিয়েন্সদের তুলনায় কোন অংশেই বেশি ইরেক্ট (সোজা হয়ে দুই পায়ে হাঁটার ক্ষমতা) ছিল না বিধায় অনেকে এরগ্যাস্ট ও ইরেক্ট উভয়কে শুধু এরগ্যাস্ট নামে ডাকেন।[৩] কেউ কেউ আবার উভয়কে কেবল ইরেক্ট নামেও ডাকেন।[৪] ইরেক্টাস যদি হ্যাবিলিসের সমসাময়িক হয় তাহলে এরগ্যাস্ট ইরেক্টদের বংশধর হতে পারে, আবার এরগ্যাস্ট ও ইরেক্ট একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকেও আলাদা আলাদা পথে বিবর্তিত হতে পারে।[৫]

এই প্রজাতির দ্বিপদী নামটি প্রস্তাব করেছিলেন কলিন গ্রোভস এবং Vratislav Mazák, ১৯৭৫ সালে। ergaster শব্দটি চয়ন করা হয়েছে গ্রিক শব্দ ἐργαστήρ থেকে যার অর্থ "শ্রমিক" বা ওয়ার্কম্যান। এরগ্যাস্টরা বেশ উন্নত পাথরের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পেরেছিল বলেই তাদের শ্রমকে গুরুত্ব দিতে এমন নাম রাখা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Hazarika, Manji (16–30 June 2007)। "Homo erectus/ergaster and Out of Africa: Recent Developments in Paleoanthropology and Prehistoric Archaeology"। 
  2. G. Philip Rightmire (1998)। "Human Evolution in the Middle Pleistocene: The Role of Homo heidelbergensis"। Evolutionary Anthropology 
  3. রিচার্ড ডকিন্স, "The Ancestor's Tale", Weidenfeld & Nicolson, পৃ. ৫৯
  4. Homo erectus, Smithsonian National Museum of Natural History
  5. F. Spoor, M. G. Leakey, P. N. Gathogo, F. H. Brown, S. C. Antón, I. McDougall, C. Kiarie, F. K. Manthi & L. N. Leakey (9 August 2007)। "Implications of new early Homo fossils from Ileret, east of Lake Turkana, Kenya"। Nature 448 (7154): 688–691। ডিওআই:10.1038/nature05986পিএমআইডি 17687323