শাহাবুদ্দীন নাগরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কবি ও গীতিকার শাহাবুদ্দিন নাগরী। ঢাকা, ২০১০।

শাহাবুদ্দীন নাগরী (জন্ম অক্টোবর ৬, ১৯৫৫) (ইংরেজি : Shahabuddin Nagari) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক। তিনি একজন আধুনিক রোম্যান্টিক কবি যিনি ১৯৭০ দশকের কবি হিসেবে চিহ্নিত। তিনি শিশুসাহিত্যিক হিসেবে সমধিক সমাদৃত। তাঁর রচিত ছড়া ১৯৭০-এর দশকের মধ্যভাগ থেকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। একই সঙ্গে তিনি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, গীতিকার, সুরকার, গায়ক এবং নাট্যকার হিসেবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখে বৃহত্তর পাঠকগোষ্ঠীর কাছে সমাদর লাভ করেন। তিনি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেছেন। জীবিকাসূত্রে তিনি সরকারী চাকুরীজীবি। ২০০৮-এ কোলকাতায় অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর এক খণ্ড জমি প্রদর্শিত হয়।[১] দীর্ঘকাল শিশু সাহিত্যিক হিসাবে প্রখ্যাত হলেও একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে তিনি প্রধানত কবি এবং গায়ক এই দুই পরিচয়ে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন।

জন্ম, পরিবার, শিক্ষা[সম্পাদনা]

১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৬ই অক্টোবর তাঁর জন্ম হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবনগরে। তিনি পিতা মহম্মদ সাবিরউদ্দিন এবং মাতা সায়েমা খাতুনের জ্যেষ্ঠ্য সন্তান। পরিণয়সূত্রে তিনি ডা: এ, এন, মাকসুদার জীবনসঙ্গী। তাঁর জন্ম দেশের উত্তরাঞ্চলে হলেও তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম এবং ঢাকা শহরের বাসিন্দা। নাজনীন হাই স্কুল, তেজগাঁও, ঢাকা থেকে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে। অত:পর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা অধ্যয়ন করেন। ঐ বিশ্ববিদ্যারয় থেকে ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রী অর্জন করেন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নের সময় তাঁর বিষয় ছিল কীটতত্ত্ব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিশেষ কৃতিত্বের স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।[২]

জীবিকা[সম্পাদনা]

১৯৮০-তেই তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রণিবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮২-তে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।

লেখালেখি[সম্পাদনা]

স্কুল জীবনেই লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন শাহাবুদ্দিন নাগরী। ১৯৭১-এ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দৈনিক ইত্তেফাক-এর "কচিকাঁচার আসর", দৈনিক বাংলা পত্রিকার "সাত ভাই চম্পা" প্রভৃতি জাতীয় দৈনিকের সাময়িকীতে ছড়া প্রকাশ শুরু করেন। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে সাপ্তাহিক কিশোর বাংলা প্রকাশ হলে তিনি এর নিয়মিত ছড়াকার হিসেবে অবদান রাখতে থাকেন। একই সঙ্গে তিনি ছোটগল্প লেখা শুরু করেন। সত্তর দশকের শেষভাগে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন এবং অচিরেই একজন রোম্যান্টিক কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯০ দশকে তিনি গান লেখা শুরু করেন। এ সময় তিনি টেলিভিশনের জন্য নাটক রচনাও করেন।

গান[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের আধুনিক গানের জগতে শাহাবুদ্দিন নাগরী একটি সুপরিচিত নাম। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক। এ পর্যন্ত তাঁর ১২টি গানের এলবাম প্রকাশিত হয়েছে। গায়ক হিসেবে উদাত্ত কণ্ঠ এবং হৃদয়স্পর্শী তানের জন্য প্রসিদ্ধ।

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

২০০৯ অবধি তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশটির ওপর। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প সংকলন, শিশুতোষ ছড়া, সংগ্রন্থিত পত্রিকা কলাম, প্রবন্ধ ও সাহিত্য সমালোচনা, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি। তাঁর শতাধিক কবিতার ইংরেজি অনুবাদ ২০০৫-এ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। নিচে কয়েকটি প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকা দেয়া হলো:

কবিতা[সম্পাদনা]

  • দরজায় দাঁড়িয়ে আছি (২০০৪)

ছড়া[সম্পাদনা]

  • ছড়ার ঘুড়ি উড়োউড়ি (১৯৭৭)
  • নীল পাহাড়ের ছড়া (১৯৭৮)
  • প্রতিদিনের ছড়া (১৯৮৯)
  • ছড়ার হাট (১৯৯০)
  • নকশীকাটা ছড়া (১৯৯৯)
  • ছড়ার জন্য লড়তি (২০০২)
  • ছড়ার পালকি (২০০২)

উপন্যাস[সম্পাদনা]

ছোটগল্প[সম্পাদনা]

প্রবন্ধ-নিবন্ধ[সম্পাদনা]

ভ্রমণকাহিনী[সম্পাদনা]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

২০০৫ এ তিনি শ্রেষ্ঠ টিভি নাট্যকার হিসেবে কালচারাল জার্নালিস্ট এসোসিয়েসন অব বাংলাদেশ কর্তৃক পুরস্কৃত হন।[৩] ২০১১ এ তিনি কবিতালাপ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১২ এ তিনি "কবিতাপুর" বইয়ের জন্য সিটি-আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Festival of Bangla films begins in Kolkata from April 18
  2. বাংলা একাডেমী লেখক অভিধান, বাংলা একাডেমী, সেপ্টেম্বর ২০০৮, ঢাকা। পৃষ্ঠা: ২৮৪
  3. CJFB awards distributed

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]