মিরিক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মিরিক
Skyline of মিরিক, India.
মিরিক শহর ও সুমেন্দু লেক
রাজ্য
 - জেলা
পশ্চিমবঙ্গ
 - দার্জিলিং
ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক 26.9° N 88.17° E
এলাকা
 - উচ্চতা
 km²
 - ১৪৯৫ m (৪৯০৪ ft)
সময় অঞ্চল IST (UTC+5:30)
জনসংখ্যা (2001)
 - ঘনত্ব
৯১৭৯
 - /km²

মিরিক (ইংরেজি: Mirik; নেপালী: मिरिक ) ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত ছবির মত সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্র । মিরিক নামটি এসেছে লেপচা কথা মির-ইওক থেকে যার অর্থ "আগুনে পোড়া জায়গা" ।

মিরিক ভ্রমণপিপাসুদের মানচিত্রে নিজের জায়গা করে নিয়েছে তার আবহাওয়া, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং যাতায়াতের সুব্যবস্থার জন্য । সুমেন্দু লেক এখানকার প্রধান আকর্ষণ যার একদিক বাগান এবং অন্যদিক পাইন জঙ্গল দিয়ে ঘেরা । এই দুটিকে একসঙ্গে যুক্ত করছে পায়ে হাঁটা খিলান সাঁকো ইন্দ্রেনি পুল । লেকটিকে ঘিরে থাকা সাড়ে তিন কিমি লম্বা রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে সূদূর দিগন্তে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ ভ্রমণার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় । লেকের জলে নৌকাবিহার এবং টাট্টু ঘোড়ায় চেপে লেকের চারপাশ প্রদক্ষিণ করায় আছে এক অনাবিল আনন্দ ।

পরিচ্ছেদসমূহ

[সম্পাদনা] ভৌগোলিক তথ্য

শহরটির অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হল 26.9° N 88.17° E[১]সমূদ্র সমতল থেকে মিরিকের গড় উচ্চতা ১৪৯৫ মিটার (৪৯০৫ ফুট)। এখানকার উচ্চতম স্থান বোকার গোম্ফার উচ্চতা প্রায় ১৭৬৮ মিটার (৫৮০১ ফুট) । নিম্নতম স্থান মিরিক লেক ১৪৯৪ মিটার (৪৯০২ ফুট) উচ্চতায় অবস্হিত ।

মিরিকের দূরত্ব শিলিগুড়ি থেকে উত্তর-পশ্চিমে ৫২ কিমি (৩২ মাইল) এবং দার্জিলিং থেকে ৪৯ কিমি (৩০ মাইল) দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে ।

[সম্পাদনা] জলবায়ু

এখানকার জলবায়ু সারাবছরই মনোরম থাকে । গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০° সেলসিয়াস এবং শীতে সর্বোনিম্ন ১° সেলসিয়াস ।

[সম্পাদনা] জনসংখ্যার তথ্য

ভারতের ২০০১ সালের আদম শুমারি অনুসারে মিরিক শহরের জনসংখ্যা হল ৯১৭৯ জন।[২] এর মধ্যে পুরুষ ৫০%, এবং নারী ৫০%।

এখানে সাক্ষরতার হার ৭৪%, । পুরুষদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮২%, এবং নারীদের মধ্যে এই হার ৬৫%। সারা ভারতের সাক্ষরতার হার ৫৯.৫%, তার চাইতে মিরিক এর সাক্ষরতার হার বেশি।

এই শহরের জনসংখ্যার ৯% হল ৬ বছর বা তার কম বয়সী।

[সম্পাদনা] প্রশাসন ও স্বাস্থ্য পরিসেবা

মিরিক, দার্জিলিং জেলার কার্সিয়াং মহকুমার একটি সামাজিক উন্নয়ন বিভাগ । শহর ব্যবস্থা দেখাশোনা করে মূলত ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গড়ে ওঠা পৌরসভা যদিও প্রান্তিক গ্রামগুলি দেখাশোনা করে ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত । ছেংগা পানিঘাটা, পাহিলাগাঁও স্কুল দারা - I, পাহিলাগাঁও স্কুল দারা - II, সৌরেনি - I, সৌরেনি - II এবং ডুপতিন । অনেকদিন ধরেই মিরিককে দার্জিলিং জেলার একটি পৃথক মহকুমা হিসাবে দাবি করা হচ্ছে । এখানে একটি তালুক আদালত আছে যা একজন দেওয়ানি বিচারক ও বিচারবিভাগীয় আধিকরণিক দ্বারা পরিচালিত ।

মিরিকে একটি সরকারি হাসপাতাল আছে যেখানে ছয় জন সাধারণ এবং এক জন দাঁতের ডাক্তার কর্তব্যরত আছেন । যদিও এখানে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই তবে চোখের জন্য একজন অপ্টোমেট্রিশিয়ান আছেন । এখানে, কৃষ্ণনগরে দুটি ওষুধের দোকান এবং একটি রোগনিদান পরীক্ষাগার তথা চশমার দোকান আছে । মিরিক বাজারে আরো কয়েকটি ওষুধের দোকান আছে ।

[সম্পাদনা] পরিবহন ব্যবস্থা

মিরিকের সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর বাগডোগরার দূরত্ব ৫২ কিমি(৩০ মাইল) এবং শিলিগুড়ি সন্নিহিত নিউ জলপাইগুড়ি- সবচেয়ে কাছের রেলওয়ে স্টেশন ।

মিরিক থেকে অল্পসংখ্যক বাস শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং যাতায়াত করে । মিরিক থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত শেয়ার টাক্সি চালু আছে যার ভাড়া যাত্রীপ্রতি ৬০ টাকা । ব্যক্তিগতভাবে টাক্সি ভাড়া করা যায় ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে । দার্জিলিং মোটর স্টান্ড থেকে মিরিকের কৃষ্ণনগর(মিরিক লেকের ঠিক পাশেই) পর্যন্ত শেয়ার টাক্সি চালু আছে (ভাড়া একই) । এটি মিরিক ট্যুর ও ট্রাভেলস দ্বারা পরিচালিত । মিরিকের মধ্যেও ভ্রমণ করার জন্য শেয়ার টাক্সি চালু আছে মিরিক লেক থেকে মিরিক বাজার পর্যন্ত যার ভাড়া যাত্রী প্রতি ৫ টাকা ।

[সম্পাদনা] স্বাচ্ছন্দ্যবিধান

মিরিকের কয়েকটি সাধারণ এলাকা হচ্ছে মিরিক বাজার, থানা লাইন, কৃষ্ণনগর, দেওসিদারা, থুরবো, মিরিক বস্তি এবং ব্যাপারি গোলা । যদিও, বেশির ভাগ হোটেল ও রেস্টুরান্ট কৃষ্ণনগর এলাকায় আছে । ডিজিএইচসি (একটি সরকারি সংস্থা) পরিচালিত, আলায় হেলিপাডের কাছে একটি মোটেল এবং লেকের কাছে একটি টুরিস্ট লজ আছে । এছাড়াও অনেকগুলি ভালো হোটেল আছে কৃষ্ণনগরে যেমন জগজিৎ, সদভাবনা, রত্নাগিরি, মেহলুং, দ্য পার্ক হোটেল, ভিরাস, পারিজাত এবং ব্লু লেগুন । মিরিক বাজারে আছে বৌদির হোটেল ও হোটেল পায়েল । নিঘা, আশীর্বাদ ও বুদ্ধ - এর মত লজ ও প্রাইভেট গেস্ট হাউসও আছে এখানে । মিরিকে একটি সুন্দর বনবাংলো আছে যেটি কার্সিয়াং জেলা বনদপ্তর থেকে বুক করতে হয় । লেকের কাছে একটি পি ডব্লু ডি (পাবলিক ওয়র্কস ডিপার্টমেন্ট) ইন্সপেক্সন বাংলো আছে যেটি বুক করতে হয় শিলিগুড়ি পি ডব্লু ডি অফিস থেকে । রংভং হোমস্টে - মিরিক উপত্যকার প্রথম হোমস্টে এবং এখানে থাকার অভিজ্ঞতাও অনন্য ।

এখানে ভিন্ন ভিন্ন রসনার বিভিন্ন খাবার দোকান আছে। কোলকাতা হোটেল পরিবেশন করে বিশুদ্ধ বাঙালী খাবার । টি প্লাস একটি আদর্শ ফাস্ট ফুড কেন্দ্র । এছাড়াও অন্য রেস্তোঁরাগুলি হল গীতাঞ্জলি নেপালী হোটেল ও হিলস্‌ রেস্তোঁরা । মিরিকে কয়েকটি বিদেশি পানীয়ের দোকান ও বার আছে । হোটেল লোহিত সাগর এবং তেজশ্বী ফাস্ট ফুড বিশুদ্ধ নিরামিশ খাবার পরিবেশন করে যার মধ্যে দক্ষিণ ভারতীয় খাবারও আছে । আহার্য সামগ্রী ও নরম পানীয়ের জন্য মিরিক পেট্রল পাম্পের সাথেই একটি বিভাগীয় সমবায় বিপণি আছে । মিরিক লেকের কাছেই অনেকগুলি খাবারের দোকান আছে যারা সূর্য ডোবার আগে অবধি গরমগরম ফাস্ট ফুড পরিবেশন করে ।

[সম্পাদনা] দর্শণীয় স্থান

[সম্পাদনা] ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

[সম্পাদনা] উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র

  1. Mirik. Falling Rain Genomics, Inc. http://www.fallingrain.com/world/IN/28/Mirik.html। সংগৃহীত হয়েছে: অক্টোবর ১৫. 
  2. ভারতের ২০০১ সালের আদম শুমারি. http://web.archive.org/web/20040616075334/www.censusindia.net/results/town.php?stad=A&state5=999। সংগৃহীত হয়েছে: অক্টোবর ১৫. 


নিজস্ব হাতিয়ারসমূহ
নামস্থান

বিকল্পসমূহ
কার্যক্রম
পরিভ্রমন
মুদ্রণ/এক্সপোর্ট
সরঞ্জাম
অন্যান্য ভাষাসমূহ