ভারতে সমকামিতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সন্ন্যাসী সাধারণ নাগরিককে আদর করছেন, বিশ্বনাথ মন্দির, খাজুরাহো, মধ্যভারত, খ্রিষ্টীয় দশম শতাব্দী

সমকামিতা সাধারণত ভারতীয় নাগরিক সমাজ ও সরকারের কাছে একটি নিষিদ্ধ বিষয়। ভারতে সমকামিতা নিয়ে সাধারণ আলোচনার সুযোগ কম। তার কারণ যৌনতা সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়েই ভারতে খোলামেলা আলোচনা হয় না। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সমকামিতার প্রতি ভারতীয়দের মনোভাবে কিছু পরিবর্তন লক্ষিত হয়েছে। বিশেষত, ভারতের সংবাদমাধ্যম[১][২][৩]বলিউডে [৪] সমকামিতার প্রদর্শন ও আলোচনার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালের ২ জুলাই, দিল্লি হাইকোর্টের একটি রায়ে স্পষ্টত জানানো হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্মতিক্রমে সমকামিতার আচরণ অপরাধের আওতায় পড়ে না। এই রায়ে আরো বলা হয়েছে যে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার রক্ষা নীতির পরিপন্থী।[৫]

ভারতে প্রথা ও রীতিনীতির ক্ষেত্রে ধর্মের ভূমিকা অপরিসীম। ভারতের বৃহত্তম ধর্ম হিন্দুধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থগুলিতে সমকামিতার সুস্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও, ধর্মগ্রন্থের কোনো কোনো ব্যাখ্যাকে সমকামিতার বিরোধী মনে করা হয়।[৬] তবে ভারতের প্রধান ধর্মবিশ্বাসে সমকামিতার অবস্থান কোথায়, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে দ্বিমত আছে। কেউ কেউ মনে করেন প্রাচীন হিন্দু সমাজে সমকামিতা শুধু প্রাসঙ্গিকই ছিল না, বরং তা গ্রহণীয়ও ছিল।[৭]

ভারতে সমকামিতার উপর থেকে অপরাধ আরোপত্ব অপনয়নে যেসকল সংস্থা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন করে সেগুলি হল ন্যাজ ফাউন্ডেশন (ভারত), জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রক সংস্থা, [৮] ভারতের আইন কমিশন, [৯] ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক, [১০] জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, [১১] ও ভারতের পরিকল্পনা কমিশন।[১২] এই সকল সংস্থা স্ত্রী সমকামী (লেসবিয়ান), পুরুষ সমকামী (গে), উভকামীরূপান্তরকামী মানুষদের প্রতি সহিষ্ণুতা ও সামাজিক ঐক্যের কথা বলে। অন্যদিকে ভারত সেই সকল দেশের একটি যার অন্যতম সামাজিক বৈষিষ্ট্য হলেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা।

পরিচ্ছেদসমূহ

পাদটীকা [সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]

আরও পড়ুন [সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]