টুভালুর ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
টুভালুর মানচিত্র

স্পেনদেশীয় বনিক আলভারো ডি মেন্ডানা ওয়াই নেইরা ১৫৬৮ সালে প্রথম টুভালুর অন্তর্গত নুই নামক একটি ছোট দ্বীপ আবিষ্কার করেন। টেরা অস্ট্রালিস নামক একটি পৌরাণিক ভূমি আবিষ্কারের অভিযানে বের হয়েছিলেন তিনি। ১৮১৯ সালে ক্যাপ্টেন আরেন ডি পেইস্টার ভালপারাইসো থেকে ভারতে আসার পথে ফুনাফুটি আবিষ্কার করেন যেখানে এখন টুভালুর রাজধানী অবস্থিত। ফুনাফুটি প্রায় ১৪টি ছোট ছোট দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। ডি পেইস্টার বৃটিশ আইনসভার সদস্য এডওয়ার্ড এলিসের নামে এই দ্বীপসমষ্টির নামকরণ করেন এলিসেস গ্রুপ। এলিসই ডি পেইস্টারকে জাহাজ জোগাড় করে দিয়েছিলেন যার নাম ছিল রেবেকা। পরেরদিন সকালে পেইস্টার ফুনাফুটি থেকে ৪৩ মাইল দূরে ১৭টি ছোট ছোট দ্বীপের আরেকটি গুচ্ছ আবিষ্কার করেন এবং এর নামকরণ করেন ডি পেইস্টার্‌স আইল্যান্ড বা ডি পেইস্টারের দ্বীপ। এটি ছিল প্রথম প্রদত্ত নাম যা সমগ্র অঞ্চলের জনগণ কর্তৃক স্থায়ীভাবে ব্যবহৃত হয়।

১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযাত্রী দলের প্রধান চার্লস উইলকিস টুভালুর তিনটি দ্বীপে ভ্রমণ করেন এবং সেখানকার আগ্রহী পর্যটকদের স্বাগতম জানান। এরপর অনেকদিন পর্যন্তই টুভালুর সাথে বহির্বিশ্বের অন্য কোন দেশের তেমন যোগাযোগ হয়নি। ১৮৬৩ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ থেকে প্রায় ১০০ জন ব্যক্তি আটক হয়। এরা সবাই দাস হিসেবে একটি জাহাজে করে বিদেশে পাচার হচ্ছিল। তবে তাদের বলা হয়েছিলো যে তাদেরকে খৃস্টধর্ম সম্বন্ধে শিক্ষা দেয়া হবে। টুভালুর এই দাসদেরকে পরবর্তীকালে পেরুর অন্তবর্তী গুয়ানো নামক একটি খনিতে জোরপূর্বক কাজে নিয়োগ করা হয়।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে যখন প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে বিভিন্ন দেশের অধিকারগত বিভাজন আসে তখন স্বাভাবিকভাবেই টুভালু ও পার্শ্ববর্তী দ্বীপাঞ্চলসমূহ যুক্তরাজ্যের অধিকারে আসে। ইংরেজরা ১৮৯২ সাল থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত এলিস দ্বীপপুঞ্জকে একটি প্রোটেক্টোরেট হিসেবে শাসন করে এবং এর পরে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত এটি ছিল গিলবার্ট এবং এলিস দ্বীপপুঞ্জ কলোনির একটি অংশ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই দ্বীপগুলোতে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য মোতায়েন করা ছিলো। ১৯৪২ সালের অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে মার্কিন বাহিনী ফুনাফুটি, নানুমিয়া এবং নুকুফেটাউ নামক দ্বীপগুলোতে বিমান ঘাঁটি স্থাপন করে। দ্বীপের সাধারণ জনগণের সাথে মার্কিন বাহিনীর সম্পর্ক বন্ধুত্বসুলভ ছিল। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কর্‌পস্‌ এবং নৌবাহিনীর সীবি ব্যাটালিয়নের সৈনিকদের সাথে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক ছিল সবচেয়ে গভীর। তখন মার্কিন বাহিনী ফুনাফুটিতে যে বিমান ঘাঁটিটি স্থাপন করেছিলো তা টুভালুতে এখনও ব্যবহৃত হয়। এটি বর্তমানে অ্যামেরিকান প্যাসেজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

১৯৭৪ সালে টুভালুর অধিবাসীরা ইংরেজদের অধীনে একটি পৃথক রাষ্ট্রের সম্মানলাভের জন্য ভোট দেয়। তাদের দাবী ছিল গিলবার্ট দ্বীপপুঞ্জ, যা স্বাধীনতা পাবার পর কিরিবাতি নামে পরিচিত হয়ে আসছিল, থেকে টুভালুকে পৃথক করে একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠন করা হোক। এই পৃথকীকরণ শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়েছিলো। কিন্তু টুভালু পূর্ণ স্বাধীনতা পায় ১৯৭৮ সালে। ১৯৭৯ সালে টুভালু যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরুপ একটি চুক্তি সম্পাদন করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র তার নিয়ন্ত্রণে থাকা ৪টি দ্বীপ টুভালুর অধীনে ছেড়ে দেয় এবং সেগুলোর উপর টুভালুর প্রকৃত অধীকার মেনে নেয়।

২০০২ সালের জুলাই মাসে টুভালুতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং মুক্তভাবে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই ১৫ জন আইনসভার সদস্য হন যাদের মধ্যে ৫জনই ছিলেন সম্পূর্ণ নতুন। একই বছরের আগস্ট মাসে সাউফাটু সোপোআংগা দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন যিনি পূর্বে একজন বেসামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। বর্তমানে টুভালুতে একটি মুক্ত বাণিজ্যিক ব্যবস্থা বিরাজমান রয়েছে।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]