চংলং জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চংলং জেলা জেলা
অরুণাচল প্রদেশ জেলা
অরুণাচল প্রদেশ চংলং জেলা-এর জেলার অবস্থান
দেশ  ভারত
রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ
সদর দপ্তর চংলং
আয়তন
 • মোট
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট [১]
জনতাত্ত্বিক
 • সাক্ষরতা ৬১.৯%[১]
 • লিঙ্গানুপাত ৯১৪[১]
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
চংলং জেলার তুতসা নর্তক-নর্তকী

চংলং জেলা হল ভারতের অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যের একটি জেলা। এই জেলা লোহিত জেলার দক্ষিণে ও তিরপ জেলার উত্তরে অবস্থিত। ১৯৮৭ সালের ১৪ নভেম্বর তিরপ জেলাকে দ্বিখণ্ডিত করে এই জেলা গঠিত হয়েছিল।[২] ২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে, এই জেলা অরুণাচল প্রদেশের ১৬টি জেলার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল জেলা (পাপুম পারে জেলার পরেই)।[১]

ভূগোল[সম্পাদনা]

চংলং জেলার আয়তন ৪,৬৬২ বর্গকিলোমিটার (১,৮০০ মা),[৩] এই আয়তন ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপের প্রায় সমান।[৪]

চংলং জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি। এই অঞ্চলে প্রচুর বন্যপ্রাণী দেখা যায়। জেলায় সমতল ও উচ্চভূমি দুইই আছে। সমতলের বেশিরভাগই দিহিং উপত্যকার অংশ। এখানে মাঝেমধ্যেই বন্যা হয়। নামদাফা জাতীয় উদ্যান এই জেলায় অবস্থিত।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

দিহিং শহর জেলার প্রধান মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র। তিনসুকিয়া, দুমদুমা, ডিগবইডিব্রুগড় শহরে এখানকার মিষ্টি জলের মাছের যথেষ্ট চাহিদা আছে।

প্রশাসনিক বিভাগ[সম্পাদনা]

অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভার ৫টি আসন এই জেলায় অবস্থিত: বরদুমসা, মিয়াও, নামপং, চংলং দক্ষিণ ও চংলং উত্তর। এগুলি সবই অরুণাচল পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের অংশ।[৫]

চংলং জেলা চারটি মহকুমায় বিভক্ত: চংলং, মিয়াও, জয়রামপুর ও বরদুমসা।

পরিবহণ[সম্পাদনা]

এই জেলার রাস্তাঘাটের অবস্থা ভাল নয়। অয়েল ইন্ডিয়া নির্মিত রাস্তাটিই এখানকার প্রধান সড়কপথ।

জনপরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে, চংলং জেলার জনসংখ্যা ১৪৭,৯৫১।[১] roughly equal to the nation of Saint Lucia.[৬] জনসংখ্যার হিসেবে এই জেলার স্থান ভারতের ৬৪০টি জেলার মধ্যে ৫৯৮তম।[১] জেলার জনঘনত্ব ৩২ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার (৮৩ জন/বর্গমাইল)।[১] ২০০১-২০১১ দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৭.৯৬%।[১] জেলার লিঙ্গানুপাতের হার প্রতি ১০০০ জন পুরুষে ৯১৪ জন নারী।[১] জেলার সাক্ষরতার হার ৬১.৯%।[১]

তুতসা, তাংসা, নোকট, চাকমা, সিংফো ও লিসু উপজাতির মানুষেরা এই জেলার প্রধান অধিবাসী। এছাড়া কিছু তিব্বতি জাতির মানুষও বাস করেন।[৭][৮] হাজং ও বোড়ো উপজাতির মানুষও এখানে দেখা যায়।

ভাষা[সম্পাদনা]

জেলার প্রায় ৩০,০০০ মানুষ বিপন্ন সিনো-তিব্বতীয় ভাষায় কথা বলেন। এঁরা মূলত জেলার দক্ষি-পূর্বাঞ্চলে বাস করেন।[৯]

পর্যটন[সম্পাদনা]

জয়রামপুরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কবরখানা এবং ভারত-মায়ানমার সীমান্তের সীমান্তশহর নামপংপাংসাউ গিরিপথ জেলার প্রধান দ্রষ্টব্য স্থল। এছাড়া বরদুমসার তিয়াস ও সিংফো উপজাতির সংস্কৃতিও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। মিয়াও শহরের কাছে নামদাফা ব্যাঘ্র প্রকল্প রয়েছে।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ ১.৪ ১.৫ ১.৬ ১.৭ ১.৮ ১.৯ "District Census 2011"। Census2011.co.in। 
  2. Law, Gwillim (25 September 2011)। "Districts of India"Statoids। সংগৃহীত 2011-10-11 
  3. Srivastava, Dayawanti et al. (ed.) (2010)। "States and Union Territories: Arunachal Pradesh: Government"। India 2010: A Reference Annual (54th সংস্করণ)। New Delhi, India: Additional Director General, Publications Division, Ministry of Information and Broadcasting (India), Government of India। পৃ: 1113। আইএসবিএন 978-81-230-1617-7 
  4. "Island Directory Tables: Islands by Land Area"United Nations Environment Program। 18 February 1998। সংগৃহীত 2011-10-11। "Lombok 4,625km2" 
  5. "Assembly Constituencies allocation w.r.t District and Parliamentary Constituencies"। Chief Electoral Officer, Arunachal Pradesh website। সংগৃহীত 21 March 2011 
  6. US Directorate of Intelligence। "Country Comparison:Population"। সংগৃহীত 2011-10-01। "Saint Lucia 161,557 July 2011 est." 
  7. Tibetans in Miao Elect Settlement Officer. Tibet.net (24 October 2003).
  8. Religion & CultureReligion & Culture
  9. M. Paul Lewis, সম্পাদক (2009)। "Galo: A language of India"Ethnologue: Languages of the World (16th edition সংস্করণ)। Dallas, Texas: SIL International। সংগৃহীত 2011-09-28 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

স্থানাঙ্ক: ২৭°০৭′৪৮″ উত্তর ৯৫°৪৪′২৪″ পূর্ব / ২৭.১৩০০০° উত্তর ৯৫.৭৪০০০° পূর্ব / 27.13000; 95.74000