আরাকান রাজ্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আরাকান রাজ্য[সম্পাদনা]

সাবেক আরাকান রাজ্যটি বর্তমানে রাখাইন নামে পরিচিত। মায়ানমারের ( বার্মা ) পশিাচমাঞ্চলে উপকূলীয় এলাকায় প্রদেশটির অবস্থান। উত্তরে: চীন, উত্তর- পশ্চিমে বাংলাদেশের চট্রগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলা ও নাফ নদী, পূর্বেদিকে মিয়ানমারের মেগওয়ে, বাগো ও আইয়েয়ারদী এলাকাসমূহ অবস্থিত। আরাকান পর্বতমালা রাখাইন অঞ্চলকে মূল বার্মা থেকে পৃথক করে রেখেছে। এর সব্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্হের নাম হচ্ছে ভিক্টোরিয়া।

আরাকানের মুসলিম শাসন[সম্পাদনা]

আরাকানে মুসলমানদের আগমন প্রায় দুই হাজার বছর আগে। অষ্টম ও নবম শতাব্দীতে চন্দ্রবংশীয় রাজা মহত্-ইঙ্গ চন্দ্রের (৭৮৮-৮১০ খ্রিস্টাব্দ) রাজত্বকালে আরবীয় বণিকেরা বাণিজ্যিক নৌবহর নিয়ে আরাকানের ‘কিয়ক্ত প্রু’ গিয়ে শ্বেতপাথরের ব্যবসা করত (বার্মিজ শব্দ কিয়ক্ত প্রু অর্থ শ্বেতপাথর)। এরকম ব্যবসা করার একপর্যায়ে আরাকান উপকূলের রামব্রি দ্বীপের (Ramree Island) কাছে বাণিজ্যিক জাহাজের বহর সাগরে ডুবে গেলে অনেক বণিক মারা যায়। আর কিছু বণিক স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রক্ষা পায়। জাহাজডুবির সময় আরবীয় বণিকেরা স্থানীয় জনগণের সাহায্য চেয়ে ‘রহম’, ‘রহম’ (দয়া) শব্দ করে আর্তচিত্কার করেছিল বলেই এই ‘রহম’ শব্দ থেকে ‘রহমি’ ‘রোহমি’ এবং সর্বশেষ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দের উত্পত্তি এবং ‘রোহাঙ্গ’ নামের দেশের পত্তন বলে গবেষকরা মনে করেন। এক কথায় হাজার হাজার বছরের প্রাচীন জনপদ আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমানদের কথিত রাজ্য ‘রোহাঙ্গ’ (Rohong or Rohang)। [১]

আরাকানের মুসলিম শাসকদের তালিকা[সম্পাদনা]

আরাকানে প্রায় সোয়া দুইশ’ বছর ইসলামের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিরাজমান ছিল। আরাকানের যে ১৬ জন গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম রাজা ক্রমান্বয়ে রাজ্যশাসন করেছেন তাদের নাম ও শাসনকালের সময় নিম্নরূপ— ১. সোলাইমান শাহ —নরমিখলা (Narameikhal) ১৪৩০-১৪৩৩ খ্রি. ২. আলী খান —মেঙ খারি (Meng Khari) ১৪৩৩-১৪৫৯ খ্রি. ৩. কলিমা শাহ —বাসা উপিউ (Ba Saw Pya) ১৪৫৯-১৪৮২ খ্রি. ৪. মাতু শাহ —মেঙডৌলায়া (Doulya) ১৪৮২-১৪৯২ খ্রি. ৫. মোহাম্মদ শাহ —বা সু নাউ (Ba Saw Nyo) ১৪৯২-১৪৯৪ খ্রি. ৬. নূরি শাহ —মেঙ রনাউ (Ran Aung) ১৪৯৪-১৪৯৪ খ্রি. ৭. শেখ মোহাম্মদ শাহ —সলিঙ্গা থো (Salingathu) ১৪৯৪-১৫০১ খ্রি. ৮. ইলিয়াছ শাহ —মেঙ রাজ (Meag Raza ) ১৫০১-১৫১৩ খ্রি. ৯. জলা শাহ —কাসাবাদি (Kasabadi) ১৫১৩-১৫১৫ খ্রি. ১০. জালাল শাহ —মেঙ সু উ (Meng Saw Oo) ১৫২৫ খ্রি. ১১. আলী শাহ —থাটাসা (Thatasa) ১৫১৫-১৫২১ খ্রি. ১২. জাবুক শাহ —মিন বিন (Min Bing) ১৫৩১-১৫৫৩ খ্রি. ১৩. সিকান্দর শাহ —মেঙ পালং (Meng Palong) ১৫৭১-১৫৯৩ খ্রি. ১৪. সলিম শাহ —মেঙরাজাগ্রী (Meng RazaGree) ১৫৯৩-১৬১২ খ্রি. ১৫. হুসাইন শাহ —মেঙ খা মং (Meng Khamaung) ১৬১২-১৬২২ খ্রি. ১৬. দ্বিতীয় সেলিম শাহ —থ্রি থুর্ধ্মা (Thiri Thudamma) ১৬২২-১৬৩৮ খ্রি.[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ মুহাম্মদ নূরূল ইসলাম, দৈনিক আমার দেশ, ১৩ নভেম্বর, ঢাকা, বাংলাদেশ