আত্মহত্যার দর্শন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইংরেজ বালককবি টমাস চ্যাটার্টনের আত্মহত্যা; উল্লেখ্য, ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনার পশ্চাতে রবীন্দ্রনাথের অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিলেন এই চ্যাটার্টন

দর্শনের বিভিন্ন শাখায়, বিশেষ করে নীতিবিদ্যায়, আত্মহত্যা বেশ কিছু কঠিন প্রশ্ন উত্থাপন করে, যার উত্তর বিভিন্ন দার্শনিক বিভিন্নভাবে দিয়েছেন। যখন কেউ রাষ্ট্রীয় আইনে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হন, অথবা দুর্ভাগ্যবশত জীবন ধারণে অপারগ হন, অথবা অনিবর্তনীয় অপমানে জর্জরিত হন, তখন দার্শনিক প্লেটো'র মতে আত্মহত্যা করা অনৈতিক নয়। তবে, প্লেটো বিশ্বাস করতেন, যদি কেউ নিস্ক্রীয়তা বা কাপুরুষতার জন্য আত্মহত্যা করেন, তবে সেটা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।[১]

আত্মহত্যার প্রতিযুক্তি[সম্পাদনা]

অনেক দার্শনিক বিতর্কের সারবক্তব্য হলো, আত্মহত্যা একটি অনৈতিক ক্রিয়া। এ প্রসঙ্গে একটি জনপ্রিয় যুক্তি হলো- আত্মহত্যা যেসব কারণে সংঘটিত হয়, যেমন- বিষণ্নতা, মানসিক বেদনা বা অর্থনৈতিক দারিদ্র্য ইত্যাদি সমস্যা সাময়িক এবং এসব কারণের অনেকগুলোই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য প্রচলিত মতবাদটিকে এই প্রবচনের মাধ্যমে এককথায় এভাবে প্রকাশ করা যায়: "আত্মহত্যা হচ্ছে সাময়িক সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান"। তবে আত্মহত্যার বিপক্ষে এই যুক্তির প্রতিযুক্তিও আছে। যদিও অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে মানসিক বেদনার বিষয়টি সাময়িক, তবুও কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানসিক বেদনা এতটাই তীব্র হয় যে, সেটা সহ্য করা ক্ষেত্রবিশেষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানসিক বেদনা নিরসনে আন্তরিক পরামর্শও কোনো কাজে আসে না। কিছু ক্ষেত্রে এমন সমস্যা দেখা দেয় যা সমাধানের অতীত। এধরনের কিছু সমস্যার উদাহরণ হলো, অনারোগ্য রোগভোগ অথবা আজীবন মানসিক সমস্যায় ভোগা।[২]

উদ্ভটত্ববাদ[সম্পাদনা]

ফরাসী-আলজেরীয় উদ্ভটত্ববাদী দার্শনিক আলবেয়ার কামু, "ঈশ্বরহীন মহাবিশ্বে আত্মহত্যা একটি প্রয়োজনীয় কাজ"- এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করাকেই উদ্ভটত্ববাদের লক্ষ্য হিসেবে দেখেছেন। কামুর কাছে আত্মহত্যা করার মানে হলো স্বাধীনতাকে প্রত্যাখ্যান করা। তাঁর মতে, বাস্তবতার উদ্ভটত্ব অনুধাবনের পর তার থেকে কুহকে বা ধর্মে বা মৃত্যুতে পালিয়ে যাওয়াই একমাত্র সমাধান নয়। জীবনের উদ্ভট অর্থহীনতা বোঝার পর পালিয়ে না গিয়ে তা থেকে উদ্দীপনা নিয়ে জীবন আলিঙ্গন করতে হবে।

অস্তিত্ববাদী দার্শনিক সাত্রে কামুর "দি আউটসাইডার" উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মিউরসালুট, যাঁকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছিল, তাঁকে বর্ণনা করেছেন এভাবেই-

উদ্ভট লোকটি আত্মহত্যা করবে না, সে বাঁচতে চায়, তার কোন ধরনের নিশ্চয়তা বর্জন না করে, কোন ভবিষ্যৎ ছাড়া, কোন আশা ছাড়া, কোন কুহক ছাড়া ... এবং কোন কিছু থেকে ইস্তফা দেয়া ছাড়াই । সে মৃত্যুকে দেখছে অনুরাগপূর্ণ মনযোগের সাথে এবং সেই অনুরাগপ্রসূত মুগ্ধতা তাকে মুক্তি দিচ্ছে । সে, দন্ডাদেশপ্রাপ্ত লোকটি, একধরনের "স্বর্গীয় দায়িত্বহীনতা" অনুভব করছে।[৩]

খ্রিষ্টধর্মানুপ্রাণিত দর্শন[সম্পাদনা]

জি. কে. চেস্টারটন, আত্মহত্যাকে অভিহিত করেছেন "চূড়ান্ত ও পরম শয়তান, অস্তিত্বের প্রতি আগ্রহ প্রত্যাখ্যান" হিসেবে। তাঁর মতে, যে লোকটি নিজেকে খুন করছে, সে আসলে পুরো একটি ব্রহ্মাণ্ড ধ্বংস করছে।

ধ্রুপদী স্বাধীনতাবাদ[সম্পাদনা]

জন স্টুয়ার্ট মিল তাঁর প্রভাবশালী প্রবন্ধ "স্বাধীনতা প্রসঙ্গে"-তে আত্মহত্যা প্রতিরোধের স্বপক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, যেহেতু স্বাধীনতার পূর্বশর্তই হচ্ছে একজন ব্যক্তির মুক্ত ইচ্ছা ধারণ করা ও সে অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দেয়া, সেহেতু যেধরনের মুক্ত ইচ্ছা সেই ব্যক্তিকে পরবর্তীতে অন্য যেকোনো বিষয়ে মুক্ত ইচ্ছা চরিতার্থ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবে, সেধরনের মুক্ত ইচ্ছাকে প্রতিহত করা উচিত। একই যুক্তিতে স্বেচ্ছায় দাসত্ববরণকেও প্রতিরোধ করা উচিত বলে মিল মনে করেন।

তবে একই সাথে মিল বিশ্বাস করতেন যে, একজন ব্যক্তি তার স্বাধীন ইচ্ছার শ্রেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক। একজন ব্যক্তি একটি ভাংগা ব্রীজ পার হতে চাচ্ছে, এরকম উদাহরণ ব্যবহার করে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন এভাবে-

আমরা লোকটিকে বাধা দিতে পারি এবং বোঝাতে পারি যে, এই ভাঙ্গা ব্রীজ পার হওয়াটা বিপজ্জনক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ব্রীজটি পার হতে সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত করতে পারি না, কারণ সেই শুধু জানে তার জীবনের মূল্য, ভাঙ্গা ব্রীজ পার হবার বিপদের সাথে কতোটা তুলনীয়!

কর্তব্যবাদ[সম্পাদনা]

ইমানুয়েল কান্ট তাঁর নৈতিক অধিবিদ্যার মূলনীতি বইয়ে আত্মহত্যার বিপক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। তার বিশদ অনুজ্ঞার সাথে সাযুজ্য রেখে কান্ট যুক্তি দেখিয়েছেন এভাবে- "যে আত্মহত্যা করার কথা ভাবছে সে যেন নিজেকে জিজ্ঞেস করে তার এই হারিয়ে যাওয়া মানবজাতির উদ্দেশ্যের সাথে কতোটা সামাঞ্জস্যপূর্ণ?"

কান্ট আত্মহত্যাকে অনৈতিক বলেছেন। তাঁর মতে, "যে আত্মহত্যা করলো, সে নিজেকে ব্যবহার করে নিজের ইচ্ছা পূরণ করলো। কিন্তু একজন মানুষ ব্যবহৃত হতে পারে না..." কান্টের তত্ত্ব শুধু কর্মের প্রতি দৃষ্টিপাত করে, কর্মের পরিণতির প্রতি করে না। নিজের কর্মকে সাধারণীকরণ করা যাবে কিনা অর্থাৎ একজন ব্যক্তি নিজে যে কর্ম করছেন, তা সবার করা উচিত কিনা- এধরনের প্রশ্ন প্রতিটি ব্যক্তির প্রতিটি কর্মের বৈধতা নির্ধারণ করবে।

সামাজিক চুক্তি[সম্পাদনা]

জাঁ জ্যাক রুশো-এর মতে, একটি সমাজের সাথে একজন মানুষের চুক্তি হলো- প্রতিটি মানুষের নিজের জীবন রক্ষাকল্পে জীবনের ঝুঁকি নেবার অধিকার আছে। হোবেস তাঁর লেভিথান নামক গ্রন্থে বলেছেন, "নিজের জীবন ধ্বংসকারী যেকোনো ক্রিয়াই প্রকৃতিকভাবে নিষিদ্ধ। এই প্রাকৃতিক নিয়ম ভঙ্গ করা অযৌক্তিক এবং অনৈতিক। মানুষের জন্য যৌক্তিক হলো সে মৃত্যুকে ভয় পাবে এবং সে সুখের প্রত্যাশায় থাকবে।

নিরপেক্ষ ও পরিস্থিতিগত অবস্থান[সম্পাদনা]

সম্মান[সম্পাদনা]

জাপানে সামুরাই যোদ্ধারা সেপ্পেকো নামক একধরনের আত্মহত্যা করে থাকেন, যাকে অপমান ও ব্যক্তিগত পরাজয় থেকে পরিত্রাণ পাবার একধরনের সম্মানজনক উপায় বলে ধরে নেয়া হয়। এধরণের আত্মহত্যাকে ভীরুতাপূর্ণ ও ভুল কাজ বলে ধরা হয়না, বরং একে সাহসী ও সঠিক কাজ বলে ধরা হয়।

নাস্তিবাদ[সম্পাদনা]

নাস্তিবাদী চিন্তাবিদগণ ব্যক্তিবিশেষের অর্থবহতা তৈরির ক্ষমতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করাকে বাতিল করেছেন এবং এটা স্বীকার করে নেন যে, অন্য সবকিছুর মতো আত্মহত্যাও একই রকম অর্থহীন।

উপযোগবাদীতা[সম্পাদনা]

উপযোগবাদী ভাবনায় আত্মহত্যার ক্রিয়া একই সাথে সমর্থিত ও অসমর্থিত হয়। যদিও মৃত্যু একজন দুঃখী মানুষের দুঃখের ইতি ঘটাবে, তার আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুরা দুঃখিত হয়ে উঠতে পারে।

অন্যান্য যুক্তিসমূহ[সম্পাদনা]

ডেভিড হিউম-এর মৃত্যুর পর আত্মহত্যা বিষয়ে তাঁর একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।[৪] এই প্রবন্ধে হিউম আত্মহত্যার কর্মকে, ঈশ্বরকে অপমান করার একটি প্রচেষ্টা বলে অভিমত দিয়েছেন। আত্মহত্যা হলো ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। তবে আত্মহত্যা যে নিজের প্রতি বা অন্যের প্রতি দায়িত্ব পালনের প্রতি অবজ্ঞাপ্রসূত অপমান, সে সম্পর্কে খুব কমই আলোকপাত করেছেন। হিউম-এর মতে, আত্মহত্যাকে পরিবার ও সমাজ পরিত্যাগ করে সন্ন্যাসব্রত পালনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে, যা অনৈতিক নয়। কিন্তু আত্মহত্যাকারীর নির্ভরশীলরা এতে দূর্বল হয়ে পড়ে। যদিও হিউম স্বীকার করেছেন যে, কখনো কখনো আত্মহত্যা-স্পৃহা জাগতে পারে, তবে সম্ভবপর অন্য সকল উপায় বিবেচনা করার আগে আত্মহত্যার চিন্তা বিবেচনা করা হাস্যকর।

আত্মহত্যার স্বপক্ষে যারা যুক্তি দেখান, তাদের মতে কিছু কিছু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেমন- অনারোগ্য রোগভোগ, বার্ধক্যজনিত দূর্বলতা ইত্যাদি অবস্থায় আত্মহত্যা অধিকারের পর্যায়ে পড়ে। যদিও জীবন সাধারণত ভালো, তবুও যারা অনিবর্তনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তাদের দুর্ভোগ বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই।

আত্মহত্যার স্বপক্ষের যুক্তিসমূহ[সম্পাদনা]

একজন ব্যক্তিকে জীবন ও আত্মহত্যার মধ্যে বেছে নিতে দেয়ার স্বপক্ষে কিছু যুক্তি আছে। আত্মহত্যাকে ব্যক্তির ইচ্ছার উপর উপর ছেড়ে দেয়া উচিত বলে যারা যুক্তি দেখান, তাদের মতে আত্মহত্যা সবসময় অযৌক্তিক নয়, কখনো কখনো বাস্তব সমস্যার সঠিক সমাধান। যেখানে বিকল্প সকল উপায় আত্মহত্যার চেয়ে খারাপ বলে মনে হবে, তখন আত্মহত্যা একটি বৈধ কাজ।

আদর্শবাদ[সম্পাদনা]

কিছু চিন্তাবিদের আত্মহত্যার প্রতি সমর্থনপুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গী ছিল। গোথ এবং স্কোপেনহাওয়ার আত্মহত্যাকে জীবনের সবচেয়ে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখেছেন। স্কোপেন হাওয়ার এর মতে - "আত্মহত্যাকে তারা ভীরুতাপূর্ণ কাজ বলে জ্ঞান করে ... তারা বলে, আত্মহত্যা ভুল কাজ; অথচ পৃথিবীতে মানুষের নিজের জীবনই তার জন্য সবচেয়ে অনাক্রম্য ব্যাপার।" স্কোপেনহাওয়ার আত্মহত্যাকে অনৈতিক বলে মনে করেন না, আত্মহত্যাকে একজন ব্যক্তির অধিকার বলে মনে করেন। আত্মহত্যার সমর্থনে চমৎকার একটি রূপক ব্যবহার করেছেন স্কোপেনহাওয়ার। আত্মহত্যার মাধ্যমে মৃত্যুকে দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকা একজন ঘুমন্ত মানুষের ঘুম ভেঙ্গে বাস্তবে ফেরার সাথে তুলনা করেছেন স্কোপেনহাওয়ার।

স্বাধীনতাবাদ[সম্পাদনা]

স্বাধীনতাবাদ দাবী করে যে মানুষের জীবন শুধু তারই, দ্বিতীয় কোন ব্যক্তির কোন অধিকার নেই কোন প্রকার আদর্শ তার উপর আরোপ করার। বরং সবধরনের সিদ্ধন্ত শুধুমাত্র ব্যক্তির উপরই নির্ভরশীল এবং নিজের জন্য নেয়া ব্যক্তির যেকোন সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করা উচিত।

দার্শনিক ও মনঃস্তত্ববিদ থমাস জাস্জ আরেক প্রস্থ এগিয়ে বলছেন যে, আত্মহত্যার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর একটি। যদি স্বাধীনতার মানে হয় নিজস্বতার মালিকানা, নিজের জীবন ও শরীরের উপর মালিকানা, তবে একজন মানুষের নিজের জীবন ত্যাগ করার অধিকার তার সবচেয়ে বড় মৌলিক অধিকারগুলোর একটি। যদি অন্য কেউ একজন মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য বাধ্য করে, তবে মানুষটি তার নিজের জীবনের মালিক নয়, তার জীবন অন্যের কাছে বন্দী।

উনিশ ও বিশ শতকের আত্মহত্যা সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তার জিজ্ঞাসাক্ষেত্র, অনেক ক্ষেত্রেই "আত্মহত্যা করা হলো মুক্তিইচ্ছা পালনের স্বাধীনতা", এই দৃষ্টিভঙ্গীকেও ছাড়িয়ে গেছে। এ সময়ের চিন্তায়, "আত্মহত্যা কেন করবো?" এটা কোন প্রশ্ন নয়, "আত্মহত্যা কেন করবোনা?", এটিই প্রশ্ন। অনেক অস্তিত্ববাদী দার্শনিক, "জীবন নৈর্বক্তিকভাবে অর্থহীন" - এই প্রতিজ্ঞা সত্য ধরেই জীবন সম্পর্কিত দার্শনিক আলোচনা শুরু করেন, এবং "কেন একজন মানুষ আত্মহত্যা করবে না?" এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়ান তাদের আলোচনায়। অতঃপর, তারা যে উত্তর খুঁজে পান, তা হলো - একজন মানুষের নিজের জীবন অর্থময় করে তোলার ক্ষমতা সেই ব্যক্তি মানুষের আছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.erudit.org/revue/LTP/1993/v49/n3/400796ar.pdf
  2. Paterson, Craig. Assisted Suicide and Euthanasia. Ashgate, 2008.
  3. Sartre analysis of Mersault, in Literary and Philosophical Essays, 1943
  4. "Essays on Suicide and the Immortality of the Soul: The Complete 1783 Edition"। সংগৃহীত 2008-09-22 

Depresja

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]